ফকিরহাটে নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতা || মুসাল্লিদের বেদম-মারপিট- রক্তাক্ত- জখমের ঘটনায় মামলা

//এম মুরশীদ আলী//

বাগেরহাট জেলায় দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন গত ২১ মে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষপাত সমর্থক থাকার অপরাধের জেরধরে ভোট গ্রহন পরবর্তী সময় গত ২৪ মে, মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসাল্লিদের পিছ থেকে অতর্কিত হঠাৎ হামলা বেদম-মারপিট শুরু করে সন্ত্রাসী একটি দল। তাতে কয়েকজন নামাজরত মুসাল্লি মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। এ ঘটনায় জড়িত ১০/১২ জন সহ অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে ফকিরহাট থানায় মামলা হয়েছে।

এজাহার ও ভুক্তভোগী মুসল্লিরা জানায়, স্বপন দাস বিগত আমলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি পুনরায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহন করেছেন। তাঁর (আনারস) প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করার অপরাধে তাদের জিততে নাকি অনেক কষ্ট হয়েছে। এই কষ্টের প্রতিশোধ নিতে সন্ত্রাসবাহিনী দ্বারা এহেন জঘন্য ঘটনা ঘটিয়ে ত্রাস সৃস্টির মাধ্যমে জিম্মি করে রাখতে আমাদের উপর হামলা। আমরা সাধারণ মানুষ মৌভোগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় মৌভোগ বাগে জান্নাত জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসাল্লি ছিলাম। এ সময় সন্ত্রাসী একটি দল অতর্কিত হঠাৎ হামলা বেদম-মারপিট শুরু করে দেয়। তাতে কয়েকজন মুসাল্লি মারাত্মক রক্তাক্ত জখমের শিকার হয়। তারা হলেন- কাঞ্চন শিকদারের ছেলে মো. মিরাজুল শিকদার (২৫), নুরুজ্জামান ময়নার ছেলে ফজলে করিম শিকদার (২৮), মৃত আবু বক্কার শিকদারের ছেলে নুরুজ্জামান ময়না (৬৫)। এদের প্রত্যেকের মুখে ও মাথা কাটা-ফোলা রক্তাক্ত অবস্থায় ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ডাক্তার তাৎক্ষনিক সময়িক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এ ঘটনার আসামিরা হলেন- ফকিরহাট উপজেলার নলধা- মৌভোগ ইউনিয়নের মৌভোগ পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত নিয়ামত শিকদারের ছেলেরা যথাক্রমে- ১। মো. ইব্রাহিম শিকদার, ২। মো. হযরত শিকদার, ৩। মো. আফসার সিকদার, ৪। মো. টুকু শিকদার, ৫। মো. কওসার শিকদার, ৬। মো. আবিদ শেখ, ৭। মো. শাকিল সিকদার, ৮। ইমদাদুল সিকদার, ৯। মো. আমিনুর ইসলাম (বড় মিঞা), ১০। হোসেন শেখ, ১১। নুর ইসলাম শেখ, ১২। মো. মুনসুর শিকদার। তারা এ জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। এদের বিরুদ্ধে মো. কাঞ্চন শিকদার বাদী হয়ে ফকিরহাট মডেল থানায় গত ২৪ মে মামলা দায়ের করেন।

ওয়ার্ড মেম্বর শেখ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন- মুসলিমরা জুমার নামাজ আদায় করছে, এমন সময় মনে হচ্ছে ইহুদিরা হামলা করে সব তছনছ করে দিলো। পিছ থেকে মাথায় পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম হয়ে মসজিদে লুটিয়ে পড়লো একের পর এক। কিছু বুঝে উঠার আগেই নিমিষে রক্তাক্ত করে যাওয়ার সময় বলে এটানাকি নির্বাচনী বিরোধী করার প্রতিফল। এলাকার মানুষ ভয়ে দিন কাটাচ্ছে।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মুক্তি বলেন- নির্বাচন শেষ হতে না হতেই এই নলধা মৌভোগ ইউনিয়নে চোরা গুপ্ত হামলা শুরু হয়েছে। একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ এবং শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ার মূহুর্তে অর্তকৃত মারপিট করে মারাত্মক জখম করে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আমি উভয়কে শান্ত থাকতে বলেছি।

এ ব্যাপারে ফকিরহাট মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক, ভারপ্রাপ্ত ওসি বিপুল চন্দ্র দাস বলেন- জুমার নামাজের সময় মসজিদে যারা এহেন জঘন্য ঘটনার অপরাধী, তারা যেই হোক, কোনপ্রকার ছাড় পাবে না। আমরা পুলিশ বাহিনী সব সময় অপরাধিকে অপরাধের দৃষ্টিতে দেখি বলেই আজ ঘটনার পরপরই আমরা একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি দুষ্কৃত আসামিদের অতি দ্রুত আটক পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *