অভয়নগরে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ছে চিকিৎসালয়-হাতুড়ে ডাক্তার।। স্বাস্থ্যসেবা চরম হুমকির মুখে

অভয়নগরে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ছে চিকিৎসালয়-হাতুড়ে ডাক্তার।। স্বাস্থ্যসেবা চরম হুমকির মুখে

যশোরের অভয়নগর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসী ও হাতুড়ে ডাক্তার ব্যাঙের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠেছে ,শহর-বন্দর ,গ্রাম-গঞ্জের অলিতে গলিতে নেই  কোনো ড্রাগ লাইসেন্স, ফার্মাসিষ্ট, যেকোন মেডিকেলের কোর্স সনদপত্র ৷

নামে মাত্র ডাক্তার সেজে  বিএমডিসি আইন (২০১০) লঙ্ঘন করে এখনো অনেক পল্লী চিকিৎসক নামে  রোগী দেখছেন ৷ যার ফলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা চরম হুমকির মুখে পড়েছে ও অসহায় হত-দরিদ্র সহজ-সরল মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নামে অপচিকিৎসার মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ৷

সরেজমিনে বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ পল্লী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় ৷ তাদের পক্ষে শহরে এসে এমবি.বিএস বা বিশেজ্ঞ ডাক্তারদের চিকিৎসা সেবা নেওয়া সম্ভব হয়না ,আর্থিক সংকট কিংবা বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হয় অনেক ৷

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স অর্থাৎ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সমূহের অনেক চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীগণ অধিকাংশই প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্যে রোগীদের উৎসাহ করে ৷ ফলে বিত্তবানদের অধিকাংশই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান সমূহ থেকে সেবা নিচ্ছে  অন্যদিকে মধ্যবিত্ত ও নিন্ম আয়ের মানুষেরা পল্লী চিকিৎসকের শরনাপন্ন হচ্ছে ৷

এছাড়া বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালে সেবা না পাওয়ায় মানুষের একমাত্র ভরসা গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার ৷ পল্লী চিকিৎসকদের যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা অবাক করার মত ৷ অনেকের কোন প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার সনদ নেই অথচ দিনের পরদিন ডাক্তার পরিচয় দিয়ে নিরীহ লোকদের সাথে প্রতারণা করে আসছে ৷ অনেক ভূঁয়া ডাক্তারের ভুল তথ্য ও ওষুধসেবনে শতশত মানুষের জীবন হুমকির মুখে ৷

চোখে পড়া বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থানে নাম ও বিজ্ঞাপণ দিয়ে গ্রাম-গঞ্জের মানুষকে সেবার নামে হয়রানিও প্রতারণা করে যাচ্ছে ৷অনেক পল্লী চিকিৎসক তার ব্যবস্থাপত্রে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করছেন এবং আরএমপি লিখছেন ৷ কোথায় থেকে আরএমপি (RMP) করছেন এমন প্রশ্নে অনেক গ্রাম্য/পল্লী চিকিৎসক বলতে পারেনা ৷

অন্যদিকে উপজেলার রাজঘাট এলাকার  বাসিন্দা কাজী রবিউল ইসলাম(শিক্ষক) বলেন, জীবন রক্ষাকারী ওষূধ যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া প্রকাশ্যে বিক্রির জন্য এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়ী ৷ এ ব্যাপারে উপজেলা গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাফিয়া খানম বলেন,আমরা ইতিমধ্যে সরকারি ভাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সকল আরএমপি ডাক্তারদের তালিকা তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি ৷

শুধুমাত্র সরকারি ভাবে সিভিলসার্জন কার্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স বা উপ-পরিচালক পরিবার-পরিকল্পনার এর কার্যালয় থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার উপর যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারাই হলো রুরাল মেডিকেল প্রাকটিশনার সংক্ষেপে আরএমপি চিকিৎসক ৷ তবে বিএমডিসি (২০১০)এর আইন অনুসারে আমাদের সংগঠনের সকল সদস্যদের ডাক্তার না লিখে গ্রাম ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিতে বলা হয়েছে ৷ কারন আমরা মহামান্য বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে গ্রাম ডাক্তার লিখে প্রাকটিস করার জন্য আইনি সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি ৷

এসুযোগে অনেক ভূঁয়া পল্লী চিকিৎসক, প্রতারক, ঠকবাজরা আরএমপি (RMP)  ব্যবহার করছে নিজেকে বাঁচানোর জন্য ৷

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্যোগ গ্রহন করলে ভূঁয়া ডাক্তার পরিচয় যারা দিবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায় ৷  এবিষয়ে যশোর সিভিল সার্জন আবু শাহিন বলেন, আমি ইতিপূর্বে এই সকল চিকিৎসক সম্পর্কে অবগত হয়েছি, দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

ভোলায় বিশেষ অভিযানে গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *