আ: রাজ্জাক শেখ:
খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে যানজটমুক্ত, জলাবদ্ধতা নিরসন, দুর্নীতিমুক্ত নগর ভবন গড়াসহ ৪০ টি প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন খুলনা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক।
নগরবাসীর জীবনমানেরও উন্নতি বিষয়ে তিনি বলেন, আমার প্রধান লক্ষ্য এই নগরীকে কেবল বসবাস উপযোগী নয়, বরং নগরবাসীর জীবনমানেরও উন্নতি সাধন করা।
খুলনাকে পরিকল্পিত পরিচ্ছন্ন স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে ৪০ দফা নির্বাচন ইশতেহার ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়ের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক।
বিগত পাঁচ বছরে বাস্তবায়ন করা উন্নয়ন প্রকল্পের বর্ণনা দেন বিদায়ী মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।
তিনি বলেন বৈশ্বিক মহামারী কমিট উনিশ সংক্রমণের কারণে দেশের সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে যা প্রায় তিন বছর স্থায়ী ছিল
সে কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যত যথাসময়ে বিশাল ও কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে নগরবাসীকে হয়তো কিছুটা দুর্ভাগ্যতা পোহাতে হয়েছে।
অনিচ্ছাকৃত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিলম্বের জন্য নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছেন।
তবে চলমান উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হলে খুলনা আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্মিলিত একটি স্বাস্থ্যকর নগরীতে পরিণত হবে ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন আগামী ১২ জন খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে আমি নতুন প্রতিশ্রুতি অঙ্গীকার নিয়ে আমার নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরছি। কেসিসিকে ঘিরে আমার নতুন চিন্তা ভাবনা ও পরিকল্পনা আপনারা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করবেন বলে আশা করছি।
তালুকদার আব্দুল খালেক এর ৪০ দফা ইফতারের প্রথমেই রয়েছে পরিচ্ছন্ন সবুজ পরিবেশবান্ধব খুলনা। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন রাস্তাঘাট বাসা বাড়ি নির্মাণ নগর পরিকল্পনায় সবুজকে প্রার্থনা দেয়া হবে সবুজ খুলনা গড়ে তুলতে এলাকাভিত্তিক পরিকল্পিত বনায়ন করা হবে বাড়ি ভিত্তিক সবুজ আইন উৎসাহিত করা হবে।
নগর পরিকল্পনায় পরিবেশকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে।
নগরায়ন হবে পরিবেশবান্ধব জমি বায়ু শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থা নেয়া হবে।
ইশতেহারের দ্বিতীয় দফায় নগরীতে পার্ক উদ্যান নির্মাণ ও বনায়ন সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন তালুকদার আব্দুল খালেক।
তিনি বলেন বর্তমানে নগরীতে বিদ্যমান পার্ক ও উদ্যান গুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে এছাড়া উন্মুক্ত সুবিধা জনক স্থানে একটি বড় পার্ক লেডিস পার্ক দুটি শিশু পথ নির্মাণ উদ্যোগ নেয়া হবে এবং নদীর সংলগ্ন স্থানে ভ্রমণের জন্য ওয়ার্ক ওয়ে নির্মাণ করা হবে।
৪০ দফার মধ্যে রয়েছে পরিচ্ছন্ন সবুজ ও পরিবেশ বান্ধব খুলনা গড়ে তোলা, পার্ক উদ্যান নির্মাণ বনায়ন সৃষ্টি, জলবদ্ধতা দূর করনে বিশেষ ব্যবস্থা পদ্ধতিতে ট্রেন পুরস্কার, আধুনিক বজ্র ব্যবস্থাপনা বৃক্ষ পরিচর্যা ও সংরক্ষন স্বাস্থ্যসেবার মনোনয়ন ও নিরাপদ স্বাস্থ্যকর, খুলনা সুলভ মূল্যে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা, সূর্যোদয়ের আগেই পরিচ্ছন্ন করা, মাদক মুক্ত নগর গড়ে তোলা, সড়কে প্রজাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, ফুটপাত মানবিক উন্নয়নের খুলনা,
সিভিক সেন্টার গড়ে তোলা,অনুদান তহবিল চালু, মিডিয়া সেন্টার চালু ও সেরা সংবাদ পুরস্কার প্রবর্তন, কবরস্থান ও শশানঘাট এর উন্নয়ন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর প্রতিযোগিতার আয়োজন, স্মার্ট ডিজিটাল খুলনা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মানচিত্র প্রদর্শন, অংশগ্রহণমূলক ও সুস্বাস্থিত খুলনা ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস্থাপন হট লাইন, নগর তথ্য কেন্দ্র চালু, পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ কমিটি গঠন, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটানো,
জলাশয় ও পুকুরগুলো সংরক্ষণ শিশুদের সাঁতার শেখানোর বিশেষ উদ্যোগ, নগরীর বাজার গুলো আধুনিকায়ন, হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়িয়ে সেবার মান বৃদ্ধি,মুক্তিযুদ্ধ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে রাস্তার নামকরণ, বদ্ধভূমি গুলোর স্মৃতি সংরক্ষণ যাতায়াত ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন,নারী উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা প্রদান, সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ, কুয়াশা কমিউনিকেশন ও বিদ্যুৎ পরিষেবা উন্নয়ন, উন্নয়ন কেসিসিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বুলেটিন প্রকাশ এবং খুলনা মহানগরীর সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ।
মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও এস এম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কেন্দ্রীয় পারভিন জাহান কল্পনা, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক কাজী আমিনুল হক,জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুনুর রশিদ, জেলাআওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজানহ নেতৃবৃন্দ।

