//এম মুরশীদ আলী//
জ্যৈষ্ঠ মাসে তাপদাহ গরমে, দেশের মানুষসহ গবাদি পশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্তে জীবন-যাত্রা থমকে পড়ছে। তাপদাহর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে শ্রমিক ও দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ।
গরমের কারণে- ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি মিলছে না। আবার মাঝে মধ্যেই বন্ধ হচ্ছে বিদ্যুৎ। এতে অতিষ্ঠ ক্ষোভ প্রকাশ সকলের। এই গরমের রোদে রাস্তায় বের হলে গায়ে লাগছে আগুনের তাপদাহ। ফলে অস্থির হচ্ছে মানুষ, তারপরও কষ্টকে সহ্য করে প্রয়োজনীয় কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে বাইরে বের হতে হচ্ছে। কেউ-কেউ তীব্র গরম তাপদাহ শরীরে সইতে না পেরে ক্লান্ত দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবে একটু বৃষ্টিতে পাই যদি স্বস্তি? তাতেও মেঘের দেখা মিলছে না। একটু প্রশান্তি পেতে ঘর ছেড়ে অনেকেই গাছের নিচে। অন্য দিকে রিকশা-ভ্যানচালকরা রাস্তার পাশে গাছতলায় একটু জিরিয়ে নিচ্ছ। চলছে তীব্র ভ্যাপসা গরম, তার ওপর নিয়ম করে চলছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। বিদ্যুৎ গেলে ১ ঘন্টার মধ্যে না আসার ফলে ধৈর্য্্য হয় অসহ্য। বিদ্যুৎ এসে কিছুক্ষণ স্বস্তি দিয়ে, আবার চলে যায় অস্বস্তিতে ফেলে। বিদ্যুৎ থাকলে রাত যায় নীমিশেষে, আর লোডশেডিংয়ের ফলে নির্ঘুম রাত যায় দীর্ঘ সময়ে। শরীর অসুস্থ লাগলেও একটু বাতাসের দেখা নেই। গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে যে দুর্ভোগ হয় তীব্রতর, সে দৃষ্টান্ত এ বছর।
(কোভিড-১৯) করোনাকালীন সময়ে মহামারি ও মরণব্যাধী ভাইরাসে আক্রান্ত বিশ্বের মানুষ। তখন বিপর্যয়ে মুখে থমকে পড়ে বাংলাদেশ। এদেশের কৃষকরা তখনও থেমে ছিল না। দেশে খাদ্য ঘাটতি ও অর্থ সংকটের মুখে পড়তে দেয়নি তারাই। দেশের অভাব পূরণে ঘুরে দাঁড়ায় কৃষি ফসলদ্বারা। তাদেরই প্রচেষ্টায় দেশ এখন অর্থে স্বাবলম্বীর পথে এগোচ্ছে। এমন সময় এ বছর দেখাদিল প্রচন্ড গরম তাপদাহ। বিগত ২০ বছরে এমন তাপদাহ দেখা মেলেনি বলছেন অনেকে। কৃষকের মর্ম বুঝেছে আওয়ামীলীগ, তারাই কাটে মাঠ-ঘাটের ধান।
একাধিক কৃষক জানান, এ সময় ঘের মেরামত শেষে মাছের পোনা ছাড়ার সময়। সামন্য পানি থাকলেও তাও অত্যাধিক রোদে পানির নিচে মাটি ফেড়ে যাচ্ছে। এতে মাছের পোনা ছাড়লে না বাঁচার সম্ভাবনা বেশী।
তা ছাড়া এখন বিভিন্ন বীজ রোপণের সময়। এমনকি আগাম ফসলও ফলাই থাকি আমরা। এ সময় প্রখড় তাপদাহ ফলে, খেত-খামারে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। সবচেয়ে বড় বিপাকে চাষিরা। তাদের মিলছে না শীতল বাতাসের দেখা। এ কারণে দিনমজুরেরা ফসলের খেতে কাজ করতে চায় না। অন্যান্য বছরে সারাদিন কাজ করেও ক্লান্ত হয়নি, অথচ এ বছর ২/৩ ঘন্টা কাজের মধ্যেই হাঁপিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছি, তা বুঝাবো কিভাবে। তারপরও কিছু কৃষককে রুখতে পারছে না প্রচন্ড গরম তাপদাহে। কারণ তাদের পরিবার ও ছেলে-মেয়ের শিক্ষার খরচসহ জোগাতে হয় বৃদ্ধ পিতা-মাতারও ঔষধের খরচ।
এ ব্যাপারে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বলেন, প্রচন্ড গরম, তাপদাহর ফলে মানুষ অতিরিক্ত ঘেমে শরীরে পানি শুন্যতা হয়ে পড়ছে। যার ফলে এ সময় দেখা যাচ্ছে ফুটপয়জিনং/ডায়রিয়া, হিটষ্টোকজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী। তাই গরমে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। বাচ্চাদের দিকে বিশেষ নজর রাখার মাধ্যমে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে। তারা রোদে যেন বেশী ঘেমে না যায়। যারা ক্ষনিকের স্বস্তি পেতে বাহির থেকে শরবত খাচ্ছে। তারাই ফুটপয়জিনং/ডায়রিয়া রোগে আক্রন্ত হতে পারে। হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে। এ ধরণের রোগী আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে। তাই- ডা: পিকিং সিকদার প্রত্যেককে সচেতন হওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার মজুমদার বলেন, এই গরম-তাপদাহ কারণে খামারীদের দুধ উৎপাদন কমে যাচ্ছে। খাবার খাওয়া অরুচি এবং পাতলা-পায়খানা দেখা যাচ্ছে। খামারিরা ভীত না হয়ে বরং গরু একাধিকবার গোসল, তাছাড়া গোয়াল ঘরের চাল/ছাউনির উপরে চটদিয়ে তার উপর পানি ছিটিয়ে ঠান্ডা সৃষ্টির পরামর্শ প্রদান করেন। অন্যদিকে হাঁস-মুরগীরও ছায়াযুক্ত ঠান্ডা ঠান্ডা স্থানে ঘর বানিয়ে রাখার পরামর্শ প্রদান করেন।
উপজেলা মৎস্য সিনিয়র কর্মকর্তা বাপ্পী কুমার দাস বলেন, প্রচন্ড গরমে পানির নিচে তাপদাহ সৃষ্টির ফলে ঘেরের পানি কম থাকায় অক্সিজেন ঘাটতিতে মাছ মারা যেতে পারে। এমনকি মাছের ক্ষতি হয় এমন রোগ দেখা দিতে পারে। এ জন্য ঘের চাষিরা- ঘের ক্যানেলের পানিতে ছায়া সৃষ্টির জন্য চাল/ছাউনি তৈরীর ফলে পানির নিচে তাপদাহর হাত থেকে মাছ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

