আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম :
ঢাকার বাড়ী থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামে চলে আসে ছয় কিশোর কিশোরী। তাদের মধ্যে দুই জনের পরিকল্পনা ছিল বিয়ে করে সুখের সংসার করা। বাকীরা ঐ দুই জনের সহযাত্রী। পরিকল্পনা মতে ট্রেন থেকে চট্টগ্রামে নেমে নগরীর রেয়াজ উদ্দিন বাজারে গিয়ে বিয়ের কেনাকাটা করে তারা। তারপর ফিরে আসে চট্টগ্রাম রেল ষ্টেশনে। কিন্ত বেরসিক পুলিশ তাদের পরিকল্পনা ভন্ডুল করে দেয়। আগে থেকে পুলিশ খবর পেয়ে তাদেরকে নগরীর কোতোয়ালী থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পুলিশ তাদের প্রশ্ন করলে মুল রহস্য বেরিয়ে আসে। পরে সমাজ সেবা অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রসাশনের জিম্মায় ঐ কিশোর কিশোরীদের ঢাকায় নিজ বাড়ীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আজ (শনিবার) চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানা এলাকায় এ বেরসিক ঘটনা ঘটে।
আজ (শনিবার) সকালে কোতোয়ালী থানা হেফাজতে থাকা কিশোর কিশোরীদের চট্টগ্রাম সমাজ সেবা অধিদপ্তরের পরিচালক, পাঁচ জন কিশোর কিশোরীর অবিভাবক ও একজন প্রতিনিধির জিম্মায় তাদেরকে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়। ছয় জনের মধ্যে তিন জন কিশোর, তিনজন কিশোরী। কিশোরী তিন জনের দুইজন ৬ষ্ট শ্রেনীর এবং একজন পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্খী । তিন জন কিশোরে মধ্যে দুই জন নবম এবং এক জন অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্খী।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) নোবেল চাকমা জানান, যে মেয়ের বিয়ের পরিকল্পনা ছিল তার বয়স ১২ বছর। সে ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী। ছেলেটির বয়স ১৫/১৬ বছর। সে লেখাপড়া করেনা তাদের সাথে আসা আরো দুই ছেলে দুই মেয়ে। তাদের মধ্যে তিন জনের বয়সই ১২ থেকে ১৫ বছর। একটি ছেলের বয়স সামান্য বেশি, ১৭/১৮ বছর হবে। সকল কিশোর কিশোরীর বাড়ী ঢাকা জেলা ধামরাই উপজেলায়। এসি নোবেল চাকমা আরো জানান, ঐ কিশোর কিশোরীরা গত শুক্রবার দুপুরে বাড়ী থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামে আসে।যে দুই জনের বিয়ে করার কথা ছিল তাদের জন্য কাপড়ও কেনা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাদেরকে রেল ষ্টেশন থেকে থানায় নিয়ে আসে। তারপরই তাদের অভিভাবকদের খবর দেয়া হয়। শনিবার সকালে কিশোর কিশোরীদের পাঁচ জনের অভিভাবক কোতোয়ালী থানায় আসলে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের পরিচালক ও একজন প্রতিনিধির জিম্মায় তাদের নিজ বাড়ীতে ফেরত পাঠানো হয়।

