পলাশ চন্দ্র দাসঃ বরিশাল //
বরিশালের উজিরপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধ আঙ্গুল দেখিয়ে একটি অসহায় পরিবারের রেকর্ডিও দখলী জমির দোকান বসতঘর ভাংচু ও জোর পূর্বক অবৈধ ভাবে বালু ভরাট করার পায়তারা করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী জয়নাল হাওলাদার গংদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায় বানারীপাড়া উপজেলার হারতা গ্রামের মৃত মন্নান আকনের ছেলে মাহাবুব আকনের সাথে পার্শ্ববর্তী এলাকার বাওয়ালিয়া গ্রামের মৃত হোসেন হাওলাদারের ছেলে জয়নাল হাওলাদার গংদের সাথে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। মাহাবুব আলম জানায় ১৬নং হারতা মৌজায় এস,এ খতিয়ান-১১৬ তথা এস,এ সৃজিত খতিয়ান নং ৭৬৫ এবং এস,এ দাগ নং-১১১৫, বিএস খতিয়ান নং-৩০১৩, বি.এস.দাগ নং-২৩৯৫ এর মধ্যে ৫ শতাংশ জমির উপর দোকান ঘর করে গরুর মাংশ বিক্রি করছিলেন।
গত (৬মার্চ) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জয়দেব চক্রবর্তী সরকারি অধিগ্রহনকৃত জমিতে মাহাবুব হোসেন আকনের মাংসের দোকান ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি নোটিশ প্রধান করেন। উক্ত নোটিশে উল্লেখ্য, স্মারক নাম্বর ২৮৪। এতদ্বারা আপনাকে জানানো যাচ্ছে যে,উজিরপুর উপজেলার হারতা বাজারের ব্রীজ সংলগ্ন রাস্তার পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত সরকারি সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।এর ফলে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকগনের ব্যবহার্য জমি থেকে যাতায়াত ব্যহত হচ্ছে।
এমতাবস্থায় আগামী ১৩-০৩-২০২২ তারিখের মধ্যে সরকারি জমি থেকে নির্মিত স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। ভুক্তভোগী পরিবার জানান,আমার মালিকানাধীন ও রেকর্ডী সম্পত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জয়দেব চক্রবর্তী কোনো কিছু না বলে নোটিশ প্রধান করেন। এবিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জয়দেব চক্রবর্তীকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়।
এরপর রাতেই বাওয়ালিয়া গ্রামের প্রভাবশালী জয়নাল হাওলাদার, রফিক হাওলাদার, রাজু হাওলাদার, মোস্তফা হাওলাদার মিলে সুযোগ নিয়ে ঐ জমি দখল করার জন্য তড়িঘড়ি করে বালিভরাট কার্যক্রম শুরু করে।ভুক্তভোগী পরিবার থেকে বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে তাৎক্ষণিক ভাবে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বালি ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। গত(৩১ মার্চ) মাহাবুব আকন ওই জমি নিয়ে বরিশাল আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় জয়নাল হাওলাদার গংদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং ৮৭/২০২২। (১ এপ্রিল) বিকেলে উজিরপুর মডেল থানার এ.এস.আই উজ্জ্বল কুমার পাল উভয় পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে একটি নোটিশ প্রদান করেন বিবাদীদের কাছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মাহাবুব আকন জানান, পুলিশ বিকেলে উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়ার পরেই ওই রাতে জয়নাল হাওলাদার গংরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পূর্নরায় আমার জমিতে বালি ভরাট করে দখলের পায়তারা চালায়। আমি অসহায় হওয়ায় আমার ভোগ দখলীয় জমি জোর পূর্বক দখল করে নেবে বলে হুমকি দেয় ওই প্রভাবশালীরা। এছাড়াও তিনি আরও বলেন, রাতের আঁধারে আমার জমিতে বালু ভরাট করার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করার সময়,আমার ছেলে ও স্ত্রীকে মারধর করে মোবাইল টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায় কিছু মহিলারা, যা এখানে কিছু ভিডিও ক্লিক আমাদের কাছে আছে। অন্যের জমি দখল করা তাদের নেশা ও পেশা।
এলাকায় একাধিকবার শালিস মিমাংসা হলেও তা মানছে না তারা। উল্টো আমাদের পরিবারকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি অব্যাহত রেখেছে। অভিযুক্তরা বিষয়টি এড়িয়ে যায়। ওই প্রভাবশালীদের কবল থেকে জমি দখলমুক্ত রাখার দাবী জানিয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন অসহায় পরিবার।
আমতলী-তালতলী সড়ক খুঁড়ে কাজ বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে জনগণ

