এম মুরশীদ আলী :
বর্তমান সরকার উন্নয়নশীল সরকার; থাকা স্বত্বেও সরকারী সহয়তা আসেনি গ্রামে। তাই গ্রামবাসীর উদ্যোগে ১৬০০ ফুট কাঁচা রাস্তা ইটের সলিং বসিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়া পেতে চলেছে গ্রামটি। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বর থেকেও এ গ্রাম পায়নি সরকারি সহায়তা, ভাবতেই অবাক লাগে! অবশেষে গ্রামের মানুষের কষ্টের সাথী কেউ হলো না।
নির্বীক অবহেলিত গ্রাম ! রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন, ৫নং ওয়ার্ড বাঁধাল গ্রামটি। গ্রামের পূর্ব-পশ্চিম বৈয়ে যাওয়া বাসুয়ার বড় খাল। তার উত্তর পাড়ে বাসুয়া খালি বিল। এ বিলটি আবার ভৌগলিক দিক থেকে দেশের তৃতীয় নম্বর বড় বিল। যা পাশ্ববর্তী তেরখাদা উপজেলার মধ্যে পড়েছে। এ বিলে যাতায়াতের জন্য খালের উপর ব্রীজ করা হলেও রাস্তার কোন উন্নয়ন আজও ঘটাই-নি রূপসা উপজেলা প্রশাসন।
বাসুয়া খালি নদী থেকে একটি ছোট খাল, গ্রামের মধ্যদিয়ে লম্বা উত্তর-দক্ষিন যাওয়ায় খালের পশ্চিম পাড় ও পূর্বপাড় এ দু’অংশেই বাঁধাল গ্রামবাসীর বসবাস। কিন্তু গ্রামের এ পাশের লোক ওপাশে যেতে বাঁশের সাঁকো ও কাঠেরপুল ব্যবহার করে। এক সময়ে মানুষ বিলে বা হাট-ঘাটে যেতে খালটি ছিল একমাত্র পথ। ঐ খালে এখন মাটি ভরাটের ফলে স্বল্পপানিতে ছোট নৌকা চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। এ কারণে ১৪/১৫ বছর আগে খালের পশ্চিম পাড়ে প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা ইটের সলিং দিয়েছিলেন তৎকালীন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। তারপর থেকে আর কোন উন্নয়ন এ গ্রামে আসেনি। গ্রামের ১৬০০ ফুট রাস্তার মধ্যে একটি জামে মসজিদ ও একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়েছে। তাছাড়া- একই গ্রাম খালের পূর্বপাড়ে/মোড়ল পাড়ায় প্রায় ২/৩ বছর আগে গ্রামবাসীর নিজ খরচ ও শ্রম দিয়ে ইটের সলিং বসিয়ে রাস্তায় চলাচলের উপযোগী করে নেয়।
চাষীরা : বাসুয়া খালি বিলে যেতে, বাসুয়া খালি বড় খাল পার হয়ে অর্থাৎ নদীর উত্তর পাড়ের এ বিলে চাষাবাদ করেন রূপসার ১২টি গ্রামের মানুষ।
এ গ্রামগুলি হলো- বাধাল, মৈশাগুনি, জোয়ার, দূর্জনিমহল, শীরগাতী, যুগিহাটী, খানমোহম্মাদপুর, আইচগাতী, মোছাবাদপুর, নন্দনপুর, শ্রীফলতলা, হোসেনপুর। এই গ্রামগুলির মানুষ কৃষি ও মাছ চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের জন্য এ বিলে তাঁরা ধান, মাছ ও তরি-তরকারী সহ নানাবিদ চাষাবাদ করে থাকেন। এ অঞ্চলের মানুষের আয়ের একমাত্র বিল হচ্ছে বাসুয়া খালি বিল।
ভুক্তভোগীরা : গ্রামে বসবাসরত, প্রভাষক আহম্মাদ মল্লিক জানান, আমরা বাধাল গ্রামবাসীরা নিজ খরচে ৮ফুট চওড়া করে ১৬শ ফুট রাস্তা আপাতত ইট বসিয়ে চলাচলের উপযোগী করে নিচ্ছি। কারণ এই রাস্তাটি প্রায় ১৬/১৭ বছর আগে তৎকালীন শ্রীফলতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার উপর ইটের সলিং করে দিয়ে ছিলেন। তারপর থেকে অধ্যবদি ১৬/১৭ বছর আগের রাস্তা যাতায়াতের ফলে, অনেক স্থানে ইট ডেবে ও ভেঙ্গে উঁচু-নিচু হওয়াতে বাইসাইকেলও চলতে পারতো না। তাছাড়া খাল ঘেষে রাস্তাটি হওয়ায় দিন দিন খালের ভিতর ভেঙ্গে চলে যাচ্ছে।
এমতাবস্থায় জরুরী সময়ে- অসুস্থ রোগী নিয়ে দ্রুত বের হওয়ার উপায় ছিল না। তাছাড়া স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে, চাকুরিজীবি সহ ১২টি গ্রামের লোকজন ঐবিলে চাষাবাদের জন্য আসা-যাওয়ার দারুন ভোগান্তির স্বীকার প্রতিনিয়ত হতে হত। অনেকেই এই রাস্তায় পিচলে পড়ে মারাত্মক অসুস্থ; পঙ্গুত্বের মত বিছানাই পড়ে আছে।
গ্রামে রাস্তার মহোতী উদ্যোগ নেয় : মো. মনির ইজারাদার ও মো. ইশরাফ সেখ এবং আলাইপুর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আহম্মাদ মল্লিক। এনারা ৩জন সমুদ্বয় গ্রামবাসীর চলাচলের দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে নিজেরাই রাস্তার কাজ করার উদ্যোগে শুরু করেন। তাদের আরো দেড় থেকে ২ কি: মি: বাকি থাকছে। এভাবেই সম্পূর্ন রাস্তার কাজ সম্পন্ন করবেন বলে গ্রামবাসী জানান।
উল্লেখিত- ৫নং ওয়ার্ড, বাধাল গ্রামেই পুরুষ মেম্বর ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর বাড়ী। তারপরও কেন-যেন গ্রামের রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা ভোগ করছি জানি না? ভোট আসলে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির কথা বলে ভোট নেয়, আর ভোট চলে গেলে তাদের কাছে আমরা অভিশাপ হয়ে পড়ি।
অতিব: দুখের সাথে বলতে পারি : বর্তমান সরকার উন্নয়নশীল সরকার; থাকা স্বত্বেও গ্রামের রাস্তা এভাবেই আমাদেরই করে নিতে হবে ! ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বর থেকেও এ গ্রাম পায়নি সরকারি সহায়তা, ভাবতেই অবাক লাগে! অবশেষে গ্রামের মানুষের কষ্টের সাথী কেউ হলো না।
বাধাল ৫নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, এই গ্রাম থেকে প্রতিবারই নৌকা প্রতীক জয়ী হয়ে থাকে।
অথচ গ্রামের মধ্যদিয়ে শত শত মানুষের চলাফেরার ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করতে এখন নিজেরাই শ্রম দিয়ে ইটের সলিং করা হচ্ছে। এই গ্রামের বেশীরভাগই মানুষ কৃষক ও দীনমজুর। এ বিবেচনা করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও ইট এবং টাকা দিয়ে সহায়তা করেছেন। তাছাড়া গ্রামের লোক এলাকার বাহিরে চাকুরী, ব্যবসা ও বিদেশগামীদের আপ্রাণ চেষ্টায় অসম্ভবকে-সম্ভব করে যাচ্ছি। সম্পূর্ন গ্রামের রাস্তাটি প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার।
রাস্তার ব্যাপারে বক্তব্য রাখেন :
উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম হাবিব বলেন, আমি বাধাল পূর্ব পাড়ায় বসবাস করি। কিন্তু পশ্চিমপাড়ার সম্পর্কে এমপি আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেছেন- তোমাদের পশ্চিমপাড়ায় গ্রামের মানুষের জনদূর্ভোগ দেখ। এরপর উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে যেয়ে দেখি রাস্তাটির এখনও আইডি নম্বর পড়েনি। তখন গ্রামের রাস্তা ২টি সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে আইডি নম্বর ফেলার অনুরোধ করে আসি। তারপর থেকে প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ রেখেছি, যাতে দ্রুত রাস্তাটি সরকারীভাবে করানো যায়। তাছাড়া প্রকৌশলী আশ্বাস দিয়েছেন অল্প সময়ের মধ্যে জনদূর্ভোগ বাধাল গ্রামের কাজ করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী এসএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন- ঐ গ্রামের রাস্তাটির আইডি নম্বর পড়েছে এবং ইষ্ট্রিমেটও তৈরী করে পাঠিয়েছি। বাজেট পাশ হয়ে আসার পর যথাযথ কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি বাসুয়া খালি বড় খাল ব্রীজটিও সংস্কার এবং গ্রামের মধ্যে ছোট খালের উপর ছোটআকারে ব্রীজের বিল পাশ করানোর ব্যবস্থা চলছে।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব ইসহাক সরদার বলেন, আমি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার এর সাথে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কাঁচা রাস্তাটি খালে ধসে যায়। এ কারনে মেরামত করে রাস্তা ঠেকানো যাবে না। এ খালের দুইপাশে ঢালাই পায়েলিং করার পর পরিপূর্ন রাস্তার কাজ করা হবে। এ জন্য এলজিইডির মাধ্যমে পাশ করার কাজ চলছে। তার আগেই গ্রামবাসী রাস্তা মেরামত করছেন। এতে আমার পক্ষ থেকে তাদের ইট দিয়ে সহয়তা করেছি।

