//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নেতৃত্বদানকারী নুরুলল আজিম রনি পালানোর সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপকমিটির সদস্য। হাটহাজারী উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে অস্ত্রসহ ধরা পড়ে ছাত্রলীগের পদ থেকে বহিস্কার হন রনি।
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে রনি ঢাকা যান। সেখান থেকে বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। রনির দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা বা আয়ের উৎস না থাকলেও দলের প্রভাব খাটিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে প্রচুর অর্থের মালিক হওয়ার অভিযোগ খোদ তার দলের নেতাকর্মীদের।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে গুলি করেছিল রনির বন্ধু। গুলি করার আগে ষোলশহর রেল স্টেশনে অস্ত্রধারীরা রনির সঙ্গে ছিল। যা দেশের সবকটি গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে। ঐ ঘটনার পর রনি সাতক্ষিরা সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিল বলে জানায় ঘনিষ্টজনরা। প্রথম দফা কারফিউ জারি করে আন্দোলন সাময়িক নিয়ন্ত্রণ করলে সদ্য পদচ্যুত শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তাকে ঢাকায় ফেরান। দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে চট্টগ্রামে আন্দোলন দমাতে গিয়ে আহত অপর দুইজনকে দেখতে হাসপাতালে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসপাতালে রনির সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সময়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরকেও দেখা যায়। সহিংসতায় জড়িত এ দুজনই সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী।
গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশনে সমাবেশের ডাক দেয় শিক্ষার্থীরা। একই দিনে একই স্থানে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আজিম রনি। ঐদিন সকাল থেকে ষোলশহর রেলস্টেশনে দলবল এবং অস্ত্রধারীদের নিয়ে অবস্থান নেন রনি। এক পর্যায়ে বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর বাবর ও জাফর নামে আরেক অস্ত্রধারী সেখানে যান। সংঘাত এড়াতে শিক্ষার্থীরা পরে মুরাদপুর এলাকায় সমাবেশ করেন। এরপর রনি ও বাবর একদল অস্ত্রধারী নিয়ে ষোলশহর থেকে মুরাদপুর গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ লিপ্ত হন। ঐ সময় অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করেন যুবলীগের জাফর, ফিরোজ, মিঠু ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দেলোয়ার। বাবরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জাফর প্রাইভেটকার নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র বিলি করেন। সেদিন গুলিতে প্রাণ হারান চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র ওয়াসিম আকরাম, মুরাদপুরের ফার্নিচার দোকানের কর্মী মোহাম্মদ ফারুক ও কলেজছাত্র ফয়সাল আহমদ শান্ত। অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সিএমপি কমিশনার সাইফুলের নীরবতায় ক্ষুব্ধ ছিলেন অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে সিএমপির একাধিক অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি করা সন্ত্রাসীদের আমরা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে গ্রেপ্তার করতে পারিনি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা কাউকে ছাড়বো না।

