চট্টগ্রামের কর্ণফুলী পেপার মিল: শ্রমিকদের দুই মাসের বেতন বকেয়া

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী পেপার মিল: শ্রমিকদের দুই মাসের বেতন বকেয়া

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী পেপার মিল : এশিয়ার বিখ্যাত চট্টগ্রামের কর্নফুলী পেপার মিলে টাকার অভাবে গত দুই মাস ধরে শ্রমিক, কর্মচারীদের বেতন বকেয়া রয়েছে। চলতি জুন মাসের বেতনও পরিশোধ করতে পারবে কিনা সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অথচ এ মিলের অভ্যন্তরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার কাগজ অবিক্রিত আবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ কাগজ বিক্রি করা হলে শ্রমিক কর্মাচারীদের বেতন প্রদানসহ অন্যান্য সকল খরচাদি মেটানো সম্ভব হত। মিলে উৎপাদিত কাগজ অবিক্রিত থাকার কারনে সক্ষমতা থাকা সত্তেও বর্তমানে সীমিত পরিসরে কাগজ উৎপাদন করা হচ্ছে। এ নিয়ে মিলের শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। টানা দৃই মাসের বেতন বকেয়া থাকার কারনে মিলে কর্মরত শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদেরকে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

পাবর্ত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত কর্নফুলী পেপার মিল (কেপিএম) সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, বর্তমানে মিলের গুদাম গুলো রীম কাগজে পরিপূর্ন, কাগজ ছাড়া কোথাও এতটুকু জায়গা খালি নেই। গুদামে কাগজ রাখার জায়গা না থাকায় মেশিন হাউজের বিভিন্ন স্থানেও স্তুপ করে কাগজ রাখা হয়েছে।

কেপিএম কর্তপক্ষ জানান, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মূলত কেপিএমে উৎপাদিত কাগজের মূল ক্রেতা ছিল। সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে যে পাঠ্যবই বিনা মূল্যে প্রদান করছে, সে বইয়ের ছাপানো কাগজ এনসিটিবিকে কর্ণফুলী পেপার মিল (কেপিএম) সরবরাহ করতো। কিন্ত বর্তমানে অজানা কারনে এনসিটিবি কেপিএম থেকে কাগজ নিচ্ছে না। যার কারনে কেপিএম গুদামে কাগজের স্তুপ জমতে জমতে পাহাড় পরিমান হয়ে গেছে।

জানা গেছে, এনসিটিবি বর্তমানে বেসরকারী পেপার মিল থেকে উচ্চ মূল্যে পাঠ্য পুস্তক ছাপানো কাগজ কিনে তাদের চাহিদা মেটাচ্ছে। অন্য দিকে উৎপাদিত কাগজ বিক্রি করতে না পেরে কর্ণফুলী পেপার মিল (কেপিএম) টাকার অভাবে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারীদের গত দুই মাস ধরে বেতন দিতে পারছে না। ফলে বেতন না পাওয়ার কারনে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারীরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

কেপিএম সূত্র জানায়, সর্বশেষে গত মার্চ মাসে কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করে কেপিএম কতৃপক্ষ। এর পর থেকে এখনো পর্যন্ত বেতন পরিশোধ করা হয়নি। যতদ্রুত সম্ভব বেতন পরিশোধ করবে বলে সান্তনা প্রদান করছে কতৃপক্ষ কিন্ত কবে প্রদান করা হবে তার কোন নিদিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। ফলে কর্মরতরা বেতন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কেপিএম এর এক কর্মকর্তা  দৈনিক বিশ্ব এর চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান আবুল হাসেমকে জানান, কাগজ উৎপাদনের মন্ড কেপিএম নগদ মূল্যে বিদেশ থেকে আমদানী করে থাকে। পাশাপাশি অন্যান্য কাঁচামালও নগদ মূল্যে ক্রয় করা হয়। এনসিটিবি যদি কেপিএম থেকে কাগজ ক্রয় অব্যাহত রাখত তা হলে কেপিএমে এভাবে কাগজের পাহাড় জমত না এবং আর্থিক ভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হত না।

কেপিএম শ্যমিক নেতারা জানান, সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা এক শ্রেনির অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যে কেপিএম থেকে কাগজ না কিনে বেসরকারী মিল থেকে কাগজ ক্রয় করে কেপিএমকে বন্ধ করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা এ সকল ষড়যন্ত্রকারীদের বিরোদ্ধে সজাগ থাকার আহবান জানান।

সে সাথে কেপিএম থেকে কাগজ ক্রয় করে ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষিন এশিয়ার বৃহত্তম এ মিলটি রক্ষার দাবী জানান।

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

যশোরে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে উপস্থিত ৩টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *