রূপসায় পাকা ধানে ‘মই’ দিয়ে গেল জাওয়াদের বৃষ্টি

রূপসায় পাকা ধানে ‘মই’ দিয়ে গেল জাওয়াদের বৃষ্টি

চার দিন ধরে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে মাঝারি বৃষ্টি ও দমকা বাতাস চলছে রূপসাসহ খুলনার বিভিন্ন জেলায়। সূর্যের দেখা নেই তিন দিন ধরে। বৃষ্টি আর দমকা বাতাস যেনো পাকা ধানে মই দিয়ে গেছে আমনের মাঠে। হাজার হাজার বিঘা কাচা-পাকা আমন ধান শুয়ে পড়েছে। কাটা ধানও মাঠে রয়েছে কৃষকের।

আবহাওয়ার এমন বৈরীতায় মাঠের ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ১৪ হাজার চাষি। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পযন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমনের মাঠ ঘুরে চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টি ও বাতাসে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার বিঘা জমির ধানের গাছ পড়ে গেছে। পানিতে ডুবে থাকা কিছু কিছু ধানে এরই মধ্যে পচন ধরেছে। তবে, কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, উন্নত ফলনশীল ও স্থানীয় জাত মিলিয়ে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে এ বছর ৩৮৯০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় জাতের ও উফশী জাতের ধান স্বাভাবিক অবস্থায় আছে।

শুধুমাত্র স্থানীয় জাতের মরিচ চাল ও ব্রী ধান-২৩ পাকা আমন বাতাসে নুয়ে পড়েছে। এর পরিমাণ ২০ ভাগ হতে পারে। আবহাওয়া যদি এভাবে থাকে তাহলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, মুসুরী ডাল ০.৫ হেক্টর ক্ষতি হবে সম্ভাবনা রয়েছে।

টিএসবি ইউনিয়নের গোয়ালবাথান গ্রামের চাষি নাজিম শেখ জানান, তিনি ৪বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। তার মধ্যে ২ বিঘার পাকা ধান একেবারে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। সাতক্ষীরা থেকে ধান কাটতে এসে বিপাকে পড়েছেন পরবসীরা (কৃষি শ্রমিক)। সাতদিন আগে প্রায় শতাধিক লোক এসেছেন ।

গত শুক্রবার দুর্যোগ শুরুর আগ পর্যন্ত ১০বিঘা জমির ধান কেটেছেন তারা। সেই কাটা ধানের বেশিরভাগই মাঠে পড়ে আছে। শ্রমিকের দলনেতা ইকতিয়ার জানান, মণপ্রতি ৫ কেজি করে ধান পান তারা। মালিক একবেলা খেরাকি (খাবার) দেন। বাকি দুই বেলা তাদের খচরে খান। আবহাওয়ার এই অবস্থায় এখন তাদের বসে বসে খেতে হচ্ছে বলে হতাশা প্রকাশ করেন।

রূপসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদুজ্জামান জানান, দুর্যোগের পূর্বাভাষ পেয়ে চাষিদের আগেই শতর্ক করা হয়েছে। উপজেলায় আশি ভাগ মাঠের কাটা ধান ঘরে তুলেছে কৃষক। পানি না জমলে ধান ও ডালের তেমন ক্ষতি হবে না। তবে, এই বৃষ্টি শীতকালীন শাক-সবজির উপকার হবে।

এখনো সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া না গেলেও প্রাথমিকভাবে শতকারা ২০ ভাগ জমির ধান নুয়ে পড়ার খবর জানা গেছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নে আমনের মাঠের অবস্থা জানতে আমাদের সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জরিপ শুরু করেছেন।

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

রাণীশংকৈলে সড়ক দূর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *