//সুজন মাহমুদ, মাগুরা//
নির্মাণে ব্যয় ৫০ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত টোল আদায় হয়েছে ১৪৭ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরে ‘গড়াই সেতু’ নির্মাণ ব্যয়ের তিন গুণ উত্তোলনের পরও টোল আদায় করছে ইজারাদাররা। নির্মাণে ২৮ বছরেও টোল আদায়কে যাত্রী ভোগান্তি ও অন্যায় বলে মনে করছেন সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারি যানবাহন চালকরা। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং যানবাহনের চালকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সড়ক বিভাগ বলছে, সেতুর নির্মাণ খরচ উঠে গেলে টোল তুলে নেওয়ার কোন নির্দেশনা তাতে কাছে নেই। বরং তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর করে।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ৪৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪০ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের জন্য এ সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব পেয়েছে ‘মেসার্স মোস্তফা’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তিন দফায় ফরিদপুর সড়ক বিভাগকে এ টাকা পরিশোধ করার কথা। যা ইতোমধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরিদপুর সড়ক বিভাগ।
ফরিদপুর সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার কামারখালীতে গড়াই নদীর উপর নির্মিত গড়াই সেতুর দৈর্ঘ্য ৬২২ মিটার। ১৯৯১ সালের ১৬ জুলাই সেতুটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তখন এর নির্মাণে ব্যয় হয়ে ছিল ৫০ কোটি টাকা। সর্বশেষ ইজারার ১৮ কোটি টাকাসহ এ পর্যন্ত সেতু থেকে টোল আদায় হয়েছে ১৪৭ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
এদিকে সব মিলিয়ে গড়াই সেতু নির্মাণ ব্যয়ের প্রায় তিন গুণ টাকা উঠে এলেও টোলমুক্ত করার কোন উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। এ নিয়ে সেতু ওপর দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালকের সঙ্গে তর্কে জড়াতে দেখাতে গেছে টোল আদায়কারীদের সঙ্গে। জেলার বাস ও ট্রাক মালিক এবং শ্রমিক সমিতিও ক্ষোভ জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টেইলার (১২ চাকা বিশিষ্ট যানবাহন, যা মূলত ভারি জিনিসপত্র পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়) থেকে শুরু করে ঠেলা গাড়ি পর্যন্ত এ সেতু পার হতে ৫৬৫ টাকা থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত টোল দিতে হয়। এই সেতুতে টোল আদায়কারী ‘মেসার্স মোস্তফা’ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে টোল আদায়ের কাজে নিয়োজিত ব্যবস্থাপক কার্তিক দত্ত জানান, প্রতিদিন গড়ে এ সেতু দিয়ে বিভিন্ন ধরনের তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার যানবাহন চলাচল করে। একই দায়িত্বে নিয়োজিত ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অপর ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান বলেন, এ টোল ঘর থেকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা টোল আদায় করা হয়।
ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী মাগুরার ড্রাম ট্রাক চালক নাসির হোসেন মোল্লা জানান, তার ট্রাকটি মূলত বালু আনা নেওয়ার কাজ করে। এ কাজে প্রতিদিন ১০ বার ওই সেতুটি অতিক্রম করলে ১০ বারই টোল দিতে হয়। যা একটি বিরক্তিকর বিষয়।
ওই পথে চলাচলকারী ফরিদপুর সদরের মুন্সি বাজার এলাকার মাইক্রোবাস চালক মো. আয়নাল হোসেন বলেন, গত ২৮ বছর ধরে আমাদের এ সেতু পারাপারের জন্য টোল দিতে হচ্ছে। জানি না টোল দেওয়ার এ অবস্থা থেকে আমরা কবে মুক্তি পাবো?
ফরিদপুর বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আলম ভূইয়া বলেন, এ সড়কে প্রতিদিন অন্তত দুই হাজার বাস চলাচল করে। প্রতিদিন আসা ও যাওয়ার পথে আমাদের টোল দিতে হচ্ছে। টোলের এ টাকা আমার মালিকরা নিজেদের পকেট থেকে দেয় না, যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করি। এ টোল দেওয়া বন্ধ হলে আমাদের চলাচলে সময় বাঁচবে। পাশাপাশি উপকৃত হবেন যাত্রী সাধারণ।
ফরিদপুর ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক মো. দুলাল হোসেন বলেন, ওই সেতু দিয়ে প্রতিবার যাতায়াতের জন্য টাকা দিতে হচ্ছে। একটি ট্রাক দিনে ১০ বার আসা যাওয়া করলে ১০ বারই টাকা দিতে হচ্ছে। সেতুর নির্মাণ ব্যায় উঠে গেলে টোল তুলে দেওয়া উচিত।
জেলার মধুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আজিজার রহমান মোল্লা বলেন, আমরা আর কত বছর টোল দিবো? এর একটা শেষ থাকা দরকার।
এ বিষয়ে ফরিদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ ম রকিবুল বারি বলেন, সড়ক বিভাগের উদ্যোগে গড়াই সেতুর টোল তোলা হলেও এ টাকা জমা হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সরকারের আয়ের যে কয়টি উৎস আছে সেতুর টোল তার মধ্যে একটি। সেতুর নির্মাণ খরচ উঠে গেলে টোল তুলে নেওয়া হবে এ জাতীয় কোন নির্দেশনা নেই। টোল তোলা না-তোলা বিষয়টি নির্ভর করে মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি তুলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জানালে পর্যায়ক্রমে তার একটা ফল পাওয়া যেতে পারে।
বাঁশখালীতে রিসসো কোসাই কাই এর উদ্যোগে ফ্রি চিকিৎসা সেবা সম্পন্ন

