//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি//
সাগর পাড়ে বেড়াতে গিয়ে পরিচয়, টিকটকের মাধ্যমে উপার্জনের প্রলোভনে ঘনিষ্ঠতা অতপরঃ প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেও ক্লান্ত হননি সর্বশেষে পবিত্র রমজান মাসের ইফতারে কাবারের মাধ্যমে বিষ খাইয়ে হত্যার অপচেষ্টা করেছেন স্বামী রূপী প্রতারক ফজলুল করিম ওরফে সুমন। ঘটনার শিকার হতভাগ্য যুবতী পিতৃহারা পিংকি রানী দে ওরফে ইসরাত জাহান তোহা। সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়ে সুমনের সাথে পিংকি রানীর পরিচয়। সুমর তাকে টিকটকের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের প্রস্তাব দিলে রাজী হয়ে যায়। তাতেই শুরু—।
সুমন পিংকিকে প্রেমের অফার দিলে পিংকিও তার প্রতি দূর্বল হতে থাকে। এক পর্যায়ে সুমনের প্রস্তাবে ধর্মান্তরিত হয়ে পিংকি রানী দে নতুন নামধারণ করে হয় ইসরাত জাহান তোহা। বিয়ে হয় ফজলুল করিম ওরফে সুমনের সাথে। ভাড়া বাসায় চলে সুমন- তোহার সংসারের সুচনা। বদলে যায় সুমন। সামান্য কথাতেই তোহাকে নির্যাতন শুরু করে সুমন। এরই মধ্যে তোহা জেনে যায় সুমনের একাধিক স্ত্রী বর্তমান থাকার কথা। সাথে সাথে বাড়তে স্বামী রূপী সুমনের নির্যাতনের মাত্রা। সর্বশেষে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে ইফতারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ইসরাত জাহান তোহাকে হত্যা চেষ্টাও করে স্বামী সুমন। এ ঘটনায় টিকটকার স্বামী ও তার ২য় স্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তোহা। গত বুধবার (২৭ এপ্রিল) তোহার পক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মোহাম্মদ অলি উল্লাহর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে বায়েজিদ থানার ওসিকে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার আসামিরা হলো- টিকটকার ফজলুল করিম সুমন, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পক্ষের সালা আজাদ মিয়া ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মা হোসনে আরা বেগম।
মামলা প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, টিকটক করতে গিয়ে সমাজে যেসব অনাচার হচ্ছে এই ঘটনা তারই নিকৃষ্ট একটি উদাহরণ। সহজ-সরল নারীদের টিকটকের নামে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের নামে নির্যাতনের এমন চিত্র আরও অনেক আছে। একজন নারীকে পবিত্র রমজানের দিনে ইফতারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যাচেষ্টার বিষয়টি ভুক্তভোগী নারীর মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতের নজরে আনা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নারী এ রকম প্রতারণার ফাঁদে না পড়েন।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকার পিতৃহীন যুবতী পিংকি রানী দে। সাগরপাড়ে ঘুরতে গিয়ে পরিচয় হয় ফজলুল করিম সুমন নামে ওই যুবকের সঙ্গে। ওই যুবক পিংকির চেহারার বর্ণনা দিয়ে টিকটক করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের প্রস্তাব দেয়। সেই থেকে পরিচয়, তারপর ধীরে ধীরে প্রেমের প্রলোভনে ফেলে পিংকিকে ধর্মান্তরিত হওয়ার প্রস্তাব দেন সুমন। পিংকিও সরল বিশ্বাসে সুমনের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। এভাবেই এক সময় ধর্মান্তরিত হয়ে তোহা। তবে সুমনের সঙ্গে বিবাহের পর বের হয়ে আসতে শুরু করে টিকটকার সুমনের আসল রূপ। তোহা ধীরে ধীরে জানতে পারেন তিনি আসলে সুমনের ৪র্থ স্ত্রী। চারটি স্ত্রী ছাড়া টিকটকার সুমনের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন নারীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে।
এসব নিয়ে সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর থেকেই তোহার ওপর দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন চালায় সুমন।
সুমনকে সুপথে ফিরিয়ে আনতে রমজানে রোজা রাখতে শুরু করেন তোহা। আর তোহাকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বামী সুমনের কাছে আবদার জানাতে থাকেন বারবার। এটাই তোহার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায়। সুমনের অন্য স্ত্রীরা ততদিনে জেনে যান তোহা নামধারী পিংকির সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়েছে। তোহাকে জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সুমনের সঙ্গে চক্রান্তে যোগ দেন তার ২য় স্ত্রীর ভাই ও মা। বেছে নেওয়া হয় পবিত্র রমজানের ইফতারের সময়কে। সুমনসহ তার ২য় স্ত্রীর বাড়ির লোকজন সম্প্রতি ইফতারের সময় শরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তোহাকে হত্যার চেষ্টা করলে তোহা বিষপানে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। সুমন এসময় তার সঙ্গীদের নিয়ে স্ত্রী তোহাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সহায়তায় তোহাকে হাসপাতালে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে রেখে চিকিৎসা করানো হয় বলে জানান অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ। গোলাম মাওলা মুরাদ আরো জানান, সুমনের প্রলোভনে পিংকির ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে তোহা সমাজচ্যুত হয়ে অনেকটা একঘরে হয়ে যান। ফলে সুমনকে তিনি চাপ দিতে থাকেন তাকে শ্বশুড় বাড়িতে নিয়ে তোলার জন্য। তোহার কথায় সুমন জঙ্গি শাহ মাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তোহাকে তুলে দিয়ে রাতেই পালিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুজির পর নগরীর বায়েজিদ এলাকার মোহাম্মদনগর বাস্তুহারা কলোনীতে সুমনকে খুঁজে পান তোহা। সেখানে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় তোহাকে অবশেষে আরেক স্ত্রীর ভাড়াঘরে তুললেও কথায় কথায় তার ওপর নেমে আসতো নির্যাতন। এভাবে অসহায় তোহার জীবনে অমানিশার অন্ধকার নেমে আসে। শুরু হয়, মানসিক নির্যাতন।
এরই ধারাবাহিকতায় অবশেষে হত্যাপ্রচেষ্টা। সর্বশেষে থানায় মামলা না নেওয়ায় আদালতে আশ্রয় নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
ইফতার মাহফিলে হট্টগোল, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের দুই কর্মকর্তা সাময়িক বহিষ্কার

