যশোর জেলার অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর উপজেলার ৮০ টির অধিক গ্রাম গতমাসের কয়েক দফা বৃষ্টির জন্য তলিয়ে গেছে।পানি অপসারণের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় উক্ত এলাকার বিস্তৃর্ণ জনপদে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
আর এই স্থায়ী জলাবদ্ধতার জন্য জলভাসী শিশু কিশোর নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সকলেই অমানবিক জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। চারিদিকে জলাবদ্ধ থাকায় পানিতে পড়ে ঘটছে নানা রকম দুর্ঘটনাসহ অপমৃত্যু।
গত ৫ অক্টোবর -২০২১ ভবদহ এলাকার মনিরামপুর থানার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের পাঁচকাটিয়া গ্রামের কৃষক পলাশ রায়ের স্ত্রী স্বরসতী রায় (২৩) নিজ বাড়ির উঠানে স্থাপিত টিউবওয়েল থেকে জল আনতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে মারা যান।
ঠিক তার একদিন পরে ৬ অক্টোবর -২০২১ রোজ বুধবার আবারও ভবদহের দহনে মনিরামপুর উপজেলার নেবুগাতি গ্রামের যমুনা বাইন(৮৮),স্বামী- মৃত নিলু বাইনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সকাল ১০ টার সময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের পিছনে যান এবং ঘরের পিছনে যাওয়ার সময় পা পিছলে জলের ভিতর পড়ে যান। জলের ভিতর পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আশেপাশে কেউ না থাকায় বিষয়টি কারো দৃষ্টি গোচর না হওয়ায় পানির ভিতরেই মৃত্যু বরণ করেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য প্রনব কুমার বিশ্বাস বলেন, বয়সের ভারে মহিলা শারীরিক দিক দিয়ে অনেকটাই দুর্বল হওয়ায় উপুড় হয়ে পানিতে পড়ার পর আর উঠতে পারেননি।পরবর্তীতে বৃদ্ধাকে কিছু সময় যাবত ঘরে দেখতে না পাওয়ায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং বাড়ির পিছনে পানিতে পড়ে থাকতে দেখে ধরাধরি করে উঠিয়ে আনেন কিন্তু ততক্ষণে বৃদ্ধা পৃথিবীর সকল জ্বালা যন্ত্রণা,দুঃখকষ্টের উর্দ্ধে চলে গেছেন।আর ভবদহের জলাবদ্ধতার বলি হয়ে প্রমাণ করে গেছেন যে জন্মই তার আজন্মের পাপ ছিল ।
আশির দশকে শুরু হওয়া এই সমস্যার কারণে জানা আজানা আরও কতজন যে এই ভবদহের জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছেন তার কোন ইতিহাস হয়তো পাওয়া যাবে না।কিন্তু স্বজন হারানোর এই সকল লোক সারাজীবন বয়ে বেড়াবে স্বজন হারানোর দুঃখ কষ্ট আর জ্বালা যন্ত্রণা। ভবদহের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান না হওয়ার জন্য হারানো স্বজন ও মৃতের আত্মা হয়তো ভবদহ সমস্যার সমাধান জিইয়ে রাখা ব্যক্তি এবং বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে কিছুতেই ক্ষমা করবেনা।
//নিজস্ব প্রতিনিধি//
পটুয়াখালী নিউমার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

