উদ্যোক্তা – ফারহানা ইয়াসমিন
যশোর শহরে ফারহানা ইয়াসমিনের বেড়ে ওঠা। প্রকৃতির সাথে সান্নিধ্য তার। নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা ভাবতে উপস্থাপন করতে চান। অদম্য মনোভাব। মন খারাপ হলে চলে যান কপোতাক্ষের পাড়ে। যশোর এমএম কলেজে বি এ পাস করেন তিনি। হঠাৎ করে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল।বিয়ে করেন মাগুরার মহম্মদপুরে উমেদপুর গ্রামে। সংসার নামক সুতোয় বাঁধা পড়েন তিনি।
তবুও বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যান। কিন্তু চাকরির জন্য দৌড়াদৌড়ি আর ভালো লাগে না। ভাবলেন নিজে কিছু করবেন। সেই ভাবনা থেকেই কৃষি চাষের পরিকল্পনা।
২০১২ সালে শুরু করেন ছাদে কৃষি বাগান। মাত্র আড়াই লাখ টাকা নিয়ে শুরু করেন তার ব্যবসা। যশোরে প্রথম নারী কৃষি চাষী হিসেবে গড়ে তোলেন নিজেকে। নাম দিলেন ফারহানা ফ্রুটস অফ ফ্লোয়ার গার্ডেন।
যশোরের বিভিন্ন স্থানে তার ফলের চাহিদা বাড়তে থাকে। নিজেও সময় দেন সেখানে। তবে যশোরে চারা না পাওয়ায় তাকে বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করতে হয়। গাজীপুরের কৃষি ইনস্টিটিউট কেন্দ্র থেকেও চারা সংগ্রহ করেন। বিভিন্ন সংস্থায় তিনি আলোচিত হন। প্রচুর পরিশ্রমী ফারহানা ইয়াসমিন নিজেকে অনেক উঁচু স্থানে দেখতে চান।
জয়িতা ফারহানা ইয়াসমিন দৈনিক বিশ্ব কে বলেন, প্রতিদিন হিসেবে বিক্রি করেন। করোনার থাবায় আমার ব্যবসায় ধ্বস নামে। বিক্রি কমে যাওয়ায় ঘরেই নষ্ট হলো অনেক টাকার মালটা কমলা পেয়ারা ইত্যাদি। তবুও আমি থেকে থাকিনি। ঘরে বসে আচার বানানো শুরু করলাম। ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচার করে চাহিদা বাড়াতে থাকলাম।
কৃষির পাশাপাশি ফারহানার রান্নাঘরেও মিলল সাড়া। নানান ধরনের মুখরোচক আচারে মুগ্ধ আচার প্রিয়রা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখন অর্ডার আসা শুরু করেছে।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূ জয়িতা ফারহানা ইয়াসমিন পেয়েছেন ২০১৮ বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক । প্রশিক্ষণ নিয়েছেন নিজ শহর যশোর ঢাকার গাজীপুর সহ দেশের অনেক জেলাতে তার চাওয়া দেশের মেয়েরা ঘরের কাজের পাশাপাশি যে কোনো কাজের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে পারেন।
চাকরির পেছনে না দৌড়ে যদি নিজে উদ্যোক্তা হতে পারেন তাহলে পরিবারের স্বচ্ছলতার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
//শ্যামল বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা//
বাগেরহাটের রামপালে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেফতার: র্যাব-৬

