//এম মুরশীদ আলী, রূপসা, খুলনা//
তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয় অধীনে সাংবাদিকদের জন্য বেসিক জার্নালিজম ট্রেনিং (আবাসিক) গত ২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত, ঢাকা প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এ ট্রেনিং এ অংশগ্রহণ করে খুলনা জেলার রূপসা, ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার কর্মরত ২৮ জন সাংবাদিক।
প্রশিক্ষণ সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- ভূমি মন্ত্রণালয় মন্ত্রী, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (এমপি)। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রর চতুর্থ স্তম্ভ বর্ণনা করে উপস্থিত সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল কলম সৈনিক হিসেবে কাজ করার আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সমাজের অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরে সমাজের ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে। সাংবাদিকদের কাছ থেকে স্বচ্ছ- সংবাদ, সকলে আমরা আশা করি। সংবাদ মাধ্যম ছাড়া একদিনও দেশ চলতে পারে না। সাংবাদিকের মান সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে হবে। সাংবাদিকদের সুনাম রক্ষার্থে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার সাংবাদিক বান্ধব সরকার বলে মন্ত্রী এ সময় মতামত ব্যক্ত করেন। পরে মন্ত্রী সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।
এ সময় সভাপ্রধান ছিলেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ। তিনি সভা প্রধানের বক্তব্যে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সাংবাদিকদের গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একারণে সরকার পিআইবি’র মাধ্যমে দেশের সকল সাংবাদিকদের বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলছে। পিআইবি আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বেসিক জার্নালিজম ট্রেনিং (আবাসিক)’ সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিক বান্ধব ব্যক্তিত্ব। এজন্য তিনি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণ হচ্ছে- বেশি ব্যবহারে ভোতা হওয়া অস্ত্রকে শান দেয়ার মতো। পিআইবি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ঝিঁমুনি দূর করার চেষ্টা করছে- অভিজ্ঞতা শেয়ার করছে। পিআইবি ইতোমধ্যে ডেটা সাংবাদিকতার বিষয়ে কাজ শুরু করেছে, দ্রুতই তা মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া হবে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিআইবি পরিচালক, (অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ) (চলতি দায়িত্ব) শেখ মজলিশ ফুয়াদ।
প্রথম দিন ট্রেনিং এ প্রশিক্ষক ছিলেন- বিআইবি প্রশিক্ষক- পারভীন সুলতানা রাব্বী। জিটিভি, নির্বাহী প্রযোজক- মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। বাংলাভিশন, সিনিয়র বার্তা সম্পাদক- রুহুল আমিন রুশদ।
দ্বিতীয় দিন ছিলেন- চ্যানেল আই, সিনিয়র নিউজ এডিটর- মীর মাশরুর জামান। পিআইবি প্রশিক্ষক- মোহাম্মদ শাহ আলম সৈকত।
সমাপনী দিন প্রশিক্ষক ছিলেন- বৈশাখী টেলিভিশন স্ট্রিংগার, নিউইয়কর্ টাইমস পরিকল্পনা পরামর্শক- জুলফিকার আলী মাণিক। পিআইবি সহকারী প্রশিক্ষক- জিলহাজ নিপুণ।
রূপসা থেকে প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকরা ছিলেন ১৮জন। তাঁরা হলেন- দৈনিক বিশ্ব ও দৈনিক ফলাফল পত্রিকার ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি- এম মুরশীদ আলী। দৈনিক প্রবর্তন পত্রিকার ফ,ম আইয়ুব আলী। দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার ষ্টাফ রিপোর্টার এম এ আজিম। দৈনিক মুক্তির লড়াই পত্রিকার খুলনা প্রতিনিধি নাহিদ জামান। দৈনিক রাজপথের দাবী পত্রিকার আব্দুল মজিদ শেখ। দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকার শাহরিয়ার মানিক। দৈনিক খুলনা পত্রিকার বি.এম শহিদুল ইসলাম। বৈশাখী টেলিভিশ এর খুলনা প্রতিনিধি সুদীপ দাস। ডেলি নিউজ টুডে পত্রিকার ইউশা মোল্লা। রূপসাঞ্চল পত্রিকার মুন্সি রায়হান। আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার নাজিম সরদার। ইবি-নিউজ এর মাসুম সরদার। নব বানী পত্রিকার মিলন মোল্লা। আশ্রয় প্রতিদিন পত্রিকার মো. আজিজুল ইসলাম। দৈনিক বাংলার দূত পত্রিকার জাহাঙ্গীর মোল্লা। দৈনিক গণতদন্ত পত্রিকার আ: মান্নান শেখ। দৈনিক আজকের সারাদেশ পত্রিকার জাফরিন মোড়ল প্রমূখ।
ফুলতলা থেকে ৫ জন। তারা হলেন- দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার প্রতিনিধি- শিক্ষক তাপস কুমার বিশ্বাস। দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকার শেখ মনিরুজ্জামান। দৈনিক সময়ের খবর পত্রিকার মো. নেছার উদ্দিন। সমকাল পত্রিকার শামসুল আলম খোকন। দৈনিক ভোরের পাতা পত্রিকার আনন্দ কুমার প্রমূখ।
ডুমুরিয়া থেকে ৫ জন। তারা হলেন- দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার আব্দুল লতিফ মোড়ল। দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার সুজিত মল্লিক। দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার এস রফিকুল ইসলাম। দৈনিক পূর্বাঞ্চল ও দৈনিক বিশ্ব পত্রিকার জাহিদুর রহমান বিপ্লব। দৈনিক মানব জমিন পত্রিকার সুমন ব্রক্ষ্ম প্রমূখ।
সাংবাদিক- বুদ্ধদেব হালদার জুয়েল ও প্রবাসী- আ: জব্বার শেখের সার্বিক তত্বাবধায়নে ঢাকায় বিআইবি প্রশিক্ষনে যায় এ সকল সাংবাদিকরা। তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জানান।

