//এম মুরশীদ আলী //
রূপসায় প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে ঘোষণা করেন ৩নং নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী আলহাজ্ব মো. মহিউদ্দিন শেখ। তিনি জাতীয়তাবাদী দলের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে গত ২৯ অক্টোবর সকালে বাগমারা গ্ৰামে নিজ বাড়িতে এ প্রেস ব্রিফিং এর আয়োজন করেন।
এসময় তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন- “করব কাজ, গড়বে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। “মাদক নয়, শিক্ষা চাই, সুন্দর সমাজ গড়তে চাই”। এ শ্লোগান সঙ্গে নিয়ে প্রেস ব্রিফিংএ রূপসার সকল গণমাধ্যমকর্মীর সম্মুখে বলেন, আমি গত শুক্রবার পিতা-মাতার কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা কাজ শুরু করেছি।
আমার রাজনৈতিক জীবনে- বিএনপির দুঃসময়ে দীর্ঘ নানা প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগের শিকার হয়েছি। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির সময় তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন। রাজনৈতিক জীবনে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ সালে হত্যা মামলায় ১নং আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৪ সালে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগ এবং ২০২৩ সালে একই ধরনের অভিযোগে আরও দুটি নাশকতার মামলার মুখোমুখি হন তিনি। মহিউদ্দীন শেখকে ১৯৯৩ সালে গুলি ও বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে প্রায় ১৭ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে তিনি সরে দাঁড়াননি বলে জানান। এ ত্যাগি নেতা আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে নৈহাটী ইউনিয়নকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত ও জনকল্যাণমুখী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তিনি আরো বলেন- দল মত ধর্ম ও শ্রেণি পেশার ভেদাভেদ ভুলে সব মানুষের সেবা, শিক্ষার প্রসার, তরুণ প্রজন্মের ইতিবাচক বিকাশ, মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইউনিয়নের রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে চান। ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনগণের সহযোগিতা পেলে শান্তি, সম্প্রীতি, শিক্ষা ও উন্নয়নের আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মহিউদ্দীন শেখ বলেন, আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির রাজনীতি করি। দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নিয়ে কাজ করব। রূপসা ঘাটে জনদুর্ভোগ নিরসনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘাটকেন্দ্রিক মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব। বিশেষ করে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় মানুষের চলাচল সহজ করতে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য কাজ করব। গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকাকে তিনি দায়িত্ব মনে করেন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পেলে দল-মত নির্বিশেষে অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসবেন এবং তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করবেন। সরকারি ভাতা বণ্টনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত দরিদ্র, অসহায় ও যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে সরকারি সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের সুযোগ না রেখে যোগ্যতার ভিত্তিতে সুবিধাভোগী নির্বাচনের পক্ষে তিনি। এ ছাড়া মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলের বিষয়ে তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নৈহাটী ইউনিয়নে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করতে চান। এসময় তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের সেবা করার লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেলে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে নৈহাটী ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখব।
প্রেস ব্রিফিংএ উপস্থিত ছিলেন- মো. আলেক মিয়া, মো. আব্দুস সালাম, মারুফ হোসেন, মো. হানিফ, সাংবাদিক এসএম মাহবুবুর রহমান, আবদুল্লাহ শেখ, মাঈনুল হাসান, বশির উদ্দিন সুজা, মো. জাহিদ শেখ, রেজাউল ইসলাম, আবুজার বাবু, নাজমুল হুসাইন, কবির গাজী, মো. সাঈদ শেখ, ওহিদ শেখ প্রমুখ।

