খুলনায় বিএনপি সভাপতির অফিসের নিচে গু-লি-র ঘটনায় জামায়াত নেতার ছেলে গ্রেপ্তার

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

খুলনার বসুপাড়ায় সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতির অফিসের নিচে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় মোস্তাফিজুর রহমান খান তুষার নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাতে তাকে সোনাডাঙ্গা থানার সবুজবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত যুবক ওই এলাকার সাবেক জামায়াতের নেতা ও জামায়াত সমর্থিত খুলনা সিটির করপোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মুনসুর আলীর ছেলে। এর আগে ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান তুষারের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তুষারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই বলেন, বুধবার রাতে বসুপাড়া এলাকার ফার্মেসী মলিক আতিকুর রহমান বাদী হয়ে তুষারসহ আরও কয়েকজনের নামে হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন। রাতে পৌনে ৩ টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানার সবুজবাগ এলাকা থেকে তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। হামলার ঘটনা ব্যাপারে জানতে তুষারকে পরবর্তীতে রিমান্ডে নেওয়া হবে।

তবে এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা জানতে চাইলে তুষার এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য বুধবার রাত ৯ টার দিকে বসুপাড়া কবরখানা গেট সংলগ্ন একটি ফার্মেসীকে লক্ষ্য করে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট্র হয়ে রেক ভেঙ্গে দেওয়াল ছিদ্র হয়ে যায়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে ওই দিন রাতে বেচে যান ফার্মেসী মালিক আতিকুর রহমান। এ ঘটনার পরপর ওই এলাকায় উপস্থিত জনতা গুলির শব্দে আতংকগ্রস্থ হয়ে দিকবিদিক দৌড়াতে থাকে। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার মানুষের মাঝে চরম আতংক বিরাজ করছে।

ফকিরহাট মডেল থানার মাদক বিরোধী অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাজা উদ্ধার, গ্রেফতার-১

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের মোঃ তৌহিদুল আরিফ নির্দেশনায়  ফকিরহাট মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক মীর এর নেতৃত্বে এসআই(নিঃ)/মেহেদী হাসান মিশন এবং এসআই (নিঃ)/মানিক  রাজবংশী সহ পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা কালে ফকিরহাট থানাধীন ০৩ নং পিলজংগ ইউনিয়নের অন্তর্গত বালিয়াডাংগা হইতে পাগলা দিয়াপাড়া রোডের বালিয়াডাংগা গ্রামস্থ আব্দুল রশিদের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর হইতে আসামী ১।শেখ ইসলাম (২৫), পিতা-শেখ মান্নান,সাং-বালিয়াডাংগা,থানা-ফকিরহাট, জেলা-বাগেরহাট এর হেফাজত হইতে ৫০০(পাচশত)গ্রাম গাজা উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়েছে ।

উক্ত মামলাটি রুজু প্রক্রিয়াধীন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

বাগেরহাটে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিহত পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

বাগেরহাটে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিহত পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এটি বিতরণ করা হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত প্রত্যেক শহীদ পরিবারের মাঝে দুই লক্ষ টাকার চেক ও উপর সামগ্রী তুলে দেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির আহবায়ক এটিএম ইঞ্জিনিয়ার আকরাম হোসেন তালিম, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সমন্বয়ক এম এ সালাম, নায়েবে আমির শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আরিফুল ইসলাম, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান, জামায়াত নেতা মনজুরুল হক রাহাদ প্রমুখ।

জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ০৯টি পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে মোট ১৮ লক্ষ টাকার চেক ও উপর সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে কে কোন পদে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠানে দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের নাম ঘোষণা করেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ইসমাঈল হোসেন রাব্বির বোন মীম আক্তার।

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন। অনুষ্ঠানে দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে কারা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের নাম ঘোষণা করেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন। অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির একজন নেতার কাছ থেকে আহ্বায়ক কমিটির একটি তালিকা পেয়েছে প্রথম আলো। সেখানে বিভিন্ন পদে ১৭১ জনের নাম রয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে কে কোন পদে

জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব। যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আছেন ১৬ জন। তাঁরা হলেন নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, মাহবুব আলম, সারোয়ার তুষার, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, তাজনুভা জাবীন, সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, আতিক মুজাহিদ, আশরাফ উদ্দীন মাহাদী, অর্পিতা শ্যামা দেব, তানজিল মাহমুদ, অনিক রায়, খালেদ সাইফুল্লাহ, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক ও হাসান আলী।

নতুন এই দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিবের পদে এসেছেন তাসনিম জারা ও নাহিদা সারওয়ার নিভা। যুগ্ম সদস্যসচিব পদে আছেন ৩২ জন। তাঁরা হলেন আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফ সোহেল, রশিদুল ইসলাম রিফাত, মাহিন সরকার, মো. নিজাম উদ্দিন, আকরাম হুসেইন, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সালেহ উদ্দিন সিফাত (দপ্তরে সংযুক্ত), আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, ফরিদ উদ্দিন, মো. ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া, লুৎফর রহমান, মো. মঈনুল ইসলাম (তুহিন), মুশফিক উস সালেহীন, জাহিদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম মুসা, হুমায়রা নূর, মোশফিকুর রহমান জোহান, মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, সাগুফতা বুশরা মিশমা, আহনাফ সাইদ খান, আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন, মীর আরশাদুল হক, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, তারেক রেজা, মশিউর রহমান, জয়নাল আবেদীন শিশির, মুনতাসির রহমান, গাজী সালাউদ্দীন তানভীর, তামিম আহমেদ ও তাহসীন রিয়াজ।

মুখ্য সংগঠকের (দক্ষিণাঞ্চল) দায়িত্বে আছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লা, মাহমুদা মিতু, মোল্লা রহমাতুল্লাহ, এস এম শাহরিয়ার ও জোবারের আরিফ। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠকের পদে আছেন ২৬ জন। তাঁরা হলেন আকরাম হোসাইন রাজ, হামজা মাহবুব, ওয়াহিদুজ্জামান, আসাদ বিন রনি, মোহাম্মদ রাকিব, আরমান হোসাইন, মো. রাসেল আহমেদ, মনজিলা ঝুমা, শওকত আলী, আশরাফুল ইসলাম সুমন, মুনতাসীর মাহমুদ, মিনহাজুল আবেদীন, সাকিব শাহরিয়ার, মেজবাহ কামাল মুন্না, সাকিল আহমাদ, ইমন সৈয়দ, আজিজুর রহমান রিজভী, আব্দুর রহমান, ফয়সাল আহমেদ, নয়ন আহমেদ, কাউছার হাবিব, রকিব মাসুদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন ফয়সাল, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান, সানাউল্লাহ খান ও আরিফুল ইসলাম।

মুখ্য আরেকজন সংগঠকের (উত্তরাঞ্চল) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সারজিস আলমকে। উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক হিসেবে আছেন সাইফুল্লাহ হায়দার, আলী নাছের খান, সাকিব মাহদী, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সাদিয়া ফারজানা দিনা, অলিক মৃ ও হানিফ খান সজীব। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের সংগঠকের পদে আছেন ১৮ জন। তাঁরা হলেন আসাদুল্লাহ আল গালিব, রাসেল আহমেদ, মেহেরাব সিফাত, ইমরান ইমন, আবু সাঈদ লিওন, ফরহাদ সোহেল, রফিকুল ইসলাম আইনী, আজাদ খান ভাসানী, দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী, এস এম শোয়াইব, আব্দুল্লাহ আল মনসুর, মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, মোস্তাক শিশির, নাহিদ উদ্দিন তারেক, শিরীন আক্তার শেলী, আবুল বাশার, আব্দুল্লাহ আল মুহিম ও প্রীতম সোহাগ।

নতুন এই দলে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ রয়েছেন। যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কের পদে রয়েছেন ১৪ জন। তাঁরা হলেন মো. তারিকুল ইসলাম (যুব), আব্দুল আহাদ, দিলশানা পারুল, আবু হানিফ, আব্দুজ জাহের, মাজহারুল ইসলাম ফকির, গোলাম মোর্তজা সেলিম, আশেকীন আলম, জাহিদুল বারী, কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস, ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু, শেখ মোহাম্মদ শাহ মঈনুদ্দিন, মারজুক আহমেদ ও সাদ্দাম হোসেন।

দলটির সদস্য পদে অভ্যুত্থানে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনসহ ৪৩ জনকে রাখা হয়েছে। সদস্যরা হলেন খোকন চন্দ্র বর্মন (আহত), মো. দুলাল খান (আহত), আব্দুল্লাহ শাফিল (আহত), কবির হোসেন (শহীদ জাবিরের বাবা), জারতাজ পারভিন (শহীদ আহনাফের মা), মো. আরিফুর রহমান তুহিন, মাহবুব আলম, মো. ফাহিম রহমান খান পাঠান, রাফিদ ভূঁইয়া, ইমরান নাঈম, মশিউর আমিন শুভ, আল আমিন শুভ, ওমর ফারুক, জোবায়ের হোসেন, আসাদুল ইসলাম মুকুল, ফিহাদুর রহমান দিবস, সাইদ উজ্জ্বল, আব্দুল্লাহ আল মুঈন, নাজমুল হাসান সোহাগ, ইমামুল হক রামিম, এস আই শাহীন, আসাদুজ্জামান হৃদয়, শ্যামলী সুলতানা জেদনি, তানহা শান্তা, মোস্তফা আল হোসেইন আকিল, কাউসার হাবিব, মশিউর রহমান, নেসার উদ্দিন, ইমরান শাহরিয়ার, আহসানুল মাহবুব জোবায়ের, নাহিদা বুশরা, আব্দুল্লাহিল মামুন নিলয়, আজাদ আহমেদ পাটওয়ারী, জাহিদুল ইসলাম সৈকত, ইমরান তুহিন, আবুল বাশার, আরজু আহমাদ, মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান, তাওহিদ তানজিম, তারিক আদনান মুন, তৌহিদ হোসেন মজুমদার, নফিউল ইসলাম ও নীলা আফরোজ।

কৃষকদল টিএসবি’র আহবায়ক কমিটি ঘোষণা দেওয়ায় আনন্দ মিছিল

Daily World News

স্বামীকে হত্যার পর বুকের ওপর ‘সরি জান আই লাভ ইউ’ লিখে স্ত্রীর আত্মহত্যা

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

সাতক্ষীরায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার  ভোররাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এক ভাড়াটিয়া বাড়িতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আবুল কালাম আজাদ (৪৫) ও তার স্ত্রী নাজমিন (৩০)। আবুল কালাম আজাদ কলারোয়া থানার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং একজন কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ছোট স্ত্রী নাজমিন প্রথমে স্বামী আবুল কালাম আজাদকে হত্যা করেন। এরপর একটি চিরকুট লিখে নিজেও গলায় ফাঁস দেন। চিরকুটে লেখা ছিল-“আমি কিছু শেষ করে দিলাম। আমি ২.৩১ মিনিটে মারছি, এবার আমিও মরছি। একা হলেও বাঁচবো না, কারণ শারমিন ও তার পরিবার আমাকে শেষ করে দেবে। তাই আমরা দুইজন মরে গেলাম। এবার তোমরা সংসার করো, ভালো করে। আর কেউ বিরক্ত করবে না। আমার ছেলে কষ্ট পাবে, তারপরও কালামের জন্য আমি সবাইকে কষ্ট দিলাম। তবুও সে আমাকে কষ্ট দিল, শয়তান একটা। নাজমিন হত্যার পর আবুল কালাম আজাদের বুকের ওপর কলম দিয়ে লেখেন-“সরি জান, আই লাভ ইউ”। পরে নিজেই আত্মহত্যা করেন। স্থানীয়রা জানান, আবুল কালাম আজাদের দুই স্ত্রী ছিলেন। তবে বড় স্ত্রী শারমিনের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল না। ছোট স্ত্রী নাজমিন একসঙ্গে বসবাসের দাবি জানিয়ে বড় বউ শারমিনকে ফোন করেন। কিন্তু শারমিন রাজি না হওয়ায় ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়েছে। আমি নিজেও গিয়েছিলাম। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই …. রূপসায় আজিজুল বারী হেলাল

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রাধান্য দিয়ে বিএনপি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকে যারা ভূলন্ঠিত করতে চায় তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চায় না। স্বাধীনতাকে নিয়ে যদি কেউ নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে চাই তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছে। তিনি বলেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ জাতীয় নির্বাচনকে গুরুত্ব না দিয়ে সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ করছে। সংস্কার যদি করতেই হয় তাহলে এদেশের নির্বাচিত সরকার সংস্কার করবে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব হলো সুষ্ঠু অবাধ সর্বজন গ্রহনযোগ্য এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া। অন্তবর্তীকালীন সরকার যদি মনে করে বিএনপিকে ওয়ান ইলেভেনের মত মাইনাস টু ফর্মূলা করবে তাহলে তাদের এই দুঃসাহসকে এদেশের জনগন দাঁতভাঙা জবাব দিবে। তিনি আরও বলেন বাংলাদেশের নতুন দক গঠন হলে আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাই কিন্তু দল গঠনের নামে অন্তবর্তীকালীন সরকার জাতীয় নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার পায়তারা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি আজ ৩ ফেব্রুয়ারি বিকালে কাজদিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে রূপসার টিএসবি ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফার আলোকে সাম্য ও মানবিক সমাজ বিনির্মানে সম্প্রীতির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু।

বিশেষ বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডঃ মোমরেজুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি,জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার আলী জুলু, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, শেখ আব্দুর রশিদ, এনামুল হক সজল, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র।

টিএসবি ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক খান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আজিজুর রহমানের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জিএম কামরুজ্জামান টুকু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি তৈয়েবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান রুনু, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক ইবাদুল হক রুবায়েদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিন, জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব শেখ আবু সাঈদ, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি উজ্জল সাহা, বিএনপি নেতা এসএম শামীম কবির, সাবেক ছাত্রনেতা পার্থদেব মন্ডল, মহিলাদল নেত্রী সেতারা সুলতানা, শাহানাজ ইসলাম, জেলা বিএনপি নেতা নাজমুর সাকিব পিন্টু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রয়েল আজম, মোল্যা এনামূল কবীর, হুমায়ূন কবীর, বিএনপি নেতা এসএম এ মালেক, মহিউদ্দিন মিন্টু, শরিফুল ইসলাম বকুল, দিদারুল ইসলাম, এ্যাডঃ তাফসিরুজ্জামান, মিকাইল বিশ্বাস, যুবদল নেতা শফিকুল আলম বাচ্চু, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আছাফুর রহমান, আজিজুল ইসলাম নন্দু, বিএনপি নেতা রউফ উল হক মুকুল, হাকিম কাজী, খন্দকার শরিফুল ইসলাম, শামীম হাসান, সৈয়দ নিয়ামত আলী, বাদশা জমাদ্দার, কামরুল ইসলাম কচি, হাসিবুর রহমান, সৈয়দ মাহমুদ আলী, কবির শেখ, ফিরোজ মাহমুদ, খান মাসুদ হাসান, মুন্না সরদার,খান আলিম হাসান, সরদার শিহাব উদ্দীন, কামরুজ্জামান নান্টু, জহিরুল হক শারাদ, খন্দকার ইমরান হোসেন, তরিকুল ইসলাম রিপন, পূর্ব রূপসা থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এসএম আবু সাঈদ, ছাত্রনেতা নুরুল আমিন পাপ্পু, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল শেখ, বিএনপি নেতা বাবু কাজী, নজরুল ইসলাম, খান ওলিয়ার রহমান, দেলোয়ার শেখ, টিটো জমাদ্দার, শেখ মারুফ হোসেন, শেখ ফারুক আহম্মেদ, জাহাঙ্গীর হালদার, খান ওলিয়ার রহমান, হাফিজুর রহমান, মনিশংকর রায়, মোয়াজ্জেম হোসেন বাবু, শাহাজাদা আলমগীর, ইসরাইল বাবু, মুশফিকুর রহমান সুমন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা নাঈম আহম্মেদ, রনি লস্কর, আবু দাউদ দানিশ, জিএম হিরোক, সফর কাজী, ইব্রাহিম শেখ, মিলন মীর, রবি হাওলাদার, মোতাহার শেখ, ইমরান শেখ, মাহবুব, রাতুল কাজী, মিরান, গোলাম রসুল প্রমূখ।

ডুমুরিয়ায় অনাবাদি পতিত ও বসত বাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক বাগান প্রদর্শনীর উপকরণ বিতরণ

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি //
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২৮ নভেম্বর  বৃহস্পতিবার বিকেলে  স্বাধীনতা চত্বরে উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের অনাবাদি পতিত ও বসত বাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্পের (১ম সংশোধনী) আওতায় ২শত ৫ জন কৃষান / কিষানী দের মাঝে প্রদর্শনীর উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোঃ আব্দুস সামাদ অতিরিক্ত পরিচালক (উদ্যান) খামার বাড়ি খুলনা,  উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ ইনসাদ ইবনে আমিন, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোঃ ওয়ালিদ হোসেনসহ  উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন।
ডুমুরিয়ায় অনাবাদি পতিত ও বসত বাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক বাগান প্রদর্শনীর উপকরণ বিতরণ। 
অপরদিকে সকালে রবি / ২০২৪ ২৫  মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে হাইব্রিড ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।  বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার ইনসাদ ইবনে আমিন, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার ওয়ালিদ হোসেনসহ কৃষক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন । উল্লেখ্য উপজেলায় ৮ হাজার একশত জন কৃষককে ২ কেজি হাইব্রিড বীজ বিতরণ করা হবে।

বাগেরহাটে বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা

//বাগেরহাট  প্রতিনিধি //

বাগেরহাটে সাবেক বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য সজীব তরফদারকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ২ টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার মির্জাপুর আমতলা মসজিদের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত সজীব বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতা ছিলেন।

এসময় সজীবের সাথে থাকা আহত কামাল তরফদারকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় জানায়, সজীব তরফদার দুপুরে বাড়ি থেকে শহরে যাওয়ার পথে পূর্ব থেকে দুটি মোটরসাইকেলে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার গতিরোধ করে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

উপমহাদেশের বড় শ্মশান দিপালী উৎসব আজ

//পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল//

বরিশাল নগরীর কাউনিয়ায় নতুন বাজার আদি শ্মশানে অনুষ্ঠিত দিপালী উৎসবকে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় শ্মশান দিপালী উৎসব মনে করা হয়।

চতুর্দশি পূণ্য তিথিতে বরিশালে আজ (বুধবার) সন্ধ্যায় শুরু হবে কাউনিয়ার নতুন বাজার আদি শ্মশানের এই দিপালী উৎসব। সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন করতে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো শ্মশান এলাকা। রয়েছে সিসি ক্যামেরার নজরদারি উৎসব চলাকালে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে শতাধিক পুলিশ সদস্য পাশাপাশি টহলে থাকবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র‌্যাব ও গোয়েন্দা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন মহা শ্মশান রক্ষা কমিটির আহবায়ক মানবেন্দ বট্যাবেল ।

এই কমিটির নিজস্ব ১শ স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালনে থাকবে বলেও জানান তিনি। প্রতি বছরের মতো এবারও ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মৃতদের স্বজনরা এই উৎসবে অংশ নিবেন। শ্মশান রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিশিষ্ট সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ বলেন, ২০৫ বছর ধরে চলা এই মহাশ্মশানে কাঁচা পাকা সমাধি মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার সমাধি রয়েছে। এ মুহূর্তে সমাধিগুলোকে রংতুলির আঁচড়ে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। তবে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন,  পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের বৈঠক শেষে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, উৎসবের রাতকে শ্মশান এলাকা হাজারো প্রদীপ প্রজ্জলনে রাতকে দিনের আলোতে নিয়ে আসা হবে।  কবি জীবনানন্দ দাশের পিতা সত্যানন্দ দাশগুপ্ত, পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত, ব্রিটিশবিরোধী নেতা বিপ্লবী দেবেন ঘোষ, বিশিষ্ট দানবীর অমুত লাল দে, মনোরমা বসু মাসিমাসহ বহু খ্যাতিমান মানুষের সমাধি রয়েছে এই মহাশ্মশানে। বরিশাল নগরীর কাউনিয়াস্থ মহা-শ্মশান ঘুরে দেখা গেছে, প্রিয়জনদের সমাধীতে নতুন ভাবে সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন  স্বজনরা। কেউবা মাটির সমাধী তৈরী করছেন, কেউ আবার পাকা সমাধীতে রংঙের আচর দিচ্ছেন। মা-বাবার সমাধিতে সাজ সজ্জার কাজ করতে আশা নগরীর ভাটিখানা নিবাসী শিপ্রা জানান। বছরের অন্যান্য সময় শ্মশানে এলেও দিপালী উৎসব উপলক্ষে তিনি তার প্রয়াত মা-বাবা, ঠাকুরমার সমাধীতে নতুন রূপে সাজাতে এসেছেন।নগরীর ভাটিখানার আরেক স্বজন গবিন্দ দাস নাথু বলেন, তিনি তার বাবা-মার সমাধী তৈরী করতে এসেছেন।

যাতে দিপালী উৎসবের দিন সেখানে পূজা অর্চনা করতে পারেন। এদিকে শ্মশানে অনেক সমাধী রয়েছে যার কোন স্বজন এখানে আসেন না কিংবা কেউ হয়তো বেঁচেও নেই। তাদের সমাধীতে শ্মশান কমিটির পক্ষ থেকে রংঙের কাজ করা হচ্ছে।বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী বুধবার দুপুর  ১:১২ মিনিটে  ভু-চতুর্দশী শুরু হবে এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ৩:৫২ মিনিটে শেষ হবে রাত ১২.১ মিনিটে শশ্মান কালিপূজা শুরু হবে।

Daily World News

ডুমুরিয়ায় কন্দল ফসল উন্নযনে কৃষক প্রশিক্ষণ

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় এর আদ্যোপান্ত

//বিশেষ প্রতিবেদক//

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর বুকে গড়ে ওঠা সর্বপ্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সবচেয়ে প্রাচীন উচ্চ শিক্ষা কেন্দ্র।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় কে ধ্বং-স করেছিলো?

ঐতিহাসিক বিচারে নির্মোহ সত্যান্বেষণ।।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, গুপ্ত সাম্রাজ্য তথা ভারতীয় উপমহাদেশের এক সুপ্রাচীন নিদর্শন এবং প্রাচীন বিশ্বের জ্ঞানবিজ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা হয় ৪১৩ খ্রিস্টাব্দে। সেসময় এমন সুসজ্জিত ও পূর্ণাঙ্গ আর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব ইতিহাস ঘেটে পাওয়া যায় না। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, সেসময় এই অঞ্চলে গুপ্তদের শাসনামল চলছিল। সেই অনুযায়ী, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সম্রাট কুমারগুপ্তকেই ধরে নেওয়া হয় যা পরবর্তীতে স্কন্ধগুপ্তের হাত ধরে আরও বিস্তৃত হয়। পরবর্তীতে পাল রাজাদের আমলে শিক্ষা-দীক্ষায় বেশ অগ্রগতি লাভ করে নালন্দা। ধর্মপালের সময়ে বিক্রমশীলা, সোমপুর ও ওদন্তপুরী প্রতিষ্ঠিত হলে তা নালন্দা মহাবিহারের জ্ঞানচর্চার গতিকে আরও ত্বরান্বিত করে৷ পাল রাজাদের আমলে বৌদ্ধ দর্শনের প্রভাবও বাড়তে থাকে।

নালন্দা ধ্বংসের আদ্যোপান্ত:

জ্ঞানবিজ্ঞানের পীঠস্থান নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বহি:শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে একাধিকবার তবে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ধ্বংসাত্মক আক্রমণ একবার-ই হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় উল্লেখযোগ্য তিনটি আক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। তথ্যানুযায়ী নালন্দা প্রথম আক্রান্ত হয় মিহিরকুলের নেতৃত্বে হুনদের দ্বারা, তারপর আক্রান্ত হয় বঙ্গাধীপতি শশাঙ্কের সেনাবাহিনী দ্বারা এবং পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় আফগান দস্যু বখতিয়ারের সেনাবাহিনী দ্বারা।

চলুন এবার ধারাবাহিক তথ্য বিশ্লেষণ করি। আমাদের মূল অভিপ্রায় থাকবে মোটামুটি প্রাইমারি সোর্স থেকেই সত্যানুসন্ধান করার।

১/ হুনদের দ্বারা আক্রান্ত: প্রথমবার নালন্দা আক্রান্ত হয় গুপ্ত সম্রাট স্কন্দগুপ্তের সময়ে। হুনরা মিহিরকুলের নেতৃত্বে ৪৫৫-৪৫৬ খ্রিষ্টাব্দে নালন্দা আক্রমণ করেছিলেন। সেই সময় শক, হুন, ইত্যাদি বহিরাগতরা প্রায়শই ভারত আক্রমণ করত। তবে স্কন্দগুপ্ত ও তার পরবর্তী রাজারা নালন্দাকে পুনরায় নির্মাণ করে আরও সমৃদ্ধ করেছিলেন। কারণ তিব্বতীয় চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং (জুয়ানযাঙ্গ) সপ্তম শতকে যখন ভারত ভ্রমণে আসেন তখন নালন্দা হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষকে পরিপূর্ণ ছিলো।

২/ বঙ্গাধীপতি শশাঙ্ক দ্বারা আক্রান্ত: দ্বিতীয়বার নালন্দা আক্রান্ত হয় বঙ্গাধীপতি শশাঙ্কের সেনাবাহিনী দ্বারা৷ সম্ভবত বঙ্গরাজ শশাঙ্ক মগধ আক্রমণের সময় নালন্দা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে নালন্দা ধ্বংস হয় নি। তাছাড়া শশাঙ্কের উদ্দেশ্যও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করা ছিলো না। যদি তা-ই হতো তবে বঙ্গের রাজধানী কর্ণসুবর্ণের নিকটে “রক্তমৃত্তিকা” মহাবিহারও ধ্বংস করে দিতেন। সপ্তম শতকেই ভারতে আসেন তিব্বতীয় চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাঙ (জুয়ানযাঙ্গ) এবং শীলভদ্রের অধীনে পড়াশোনাও করেন। তাঁর বর্ণনায় পাওয়া যায় সেসময় নালন্দার ১০০টি শ্রেণিকক্ষে প্রায় ২,০০০ শিক্ষকের অধীনে ২০,০০০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতো। হিউয়েন সাং ভারত থেকে ফেরার সময় শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ তে যান এবং এর পর উড়িষ্যা দিয়ে চীনে ফিরে যান। শশাঙ্ক যদি বৌদ্ধ বিদ্বেষী হতেন তবে হিউয়েন সাং কর্ণসুবর্ণে প্রবেশ করতে পারতেন না। উল্লেখ্য যে শশাঙ্ক যদি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসই করে দিতেন তবে হিউয়েন সাং ভারত থেকে ফেরার সময় ছয় শতাধিক ভারতীয় গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি নিয়ে যেতে পারতেন না। স্যামুয়েল বিল হিউয়েন সাঙের মূল রচনার ইংরেজি অনুবাদ করে “Si-Yu-Ki: Buddhist Records of the Western World” নামে প্রকাশ করেন। তাছাড়া বঙ্গাধীপতি শশাঙ্ক নালন্দা আক্রমণ করেছেন এমন কোন ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না প্রাথমিক সোর্স থেকে।

৩/ আফগান দস্যু বখতিয়ারের সেনাবাহিনী দ্বারা আক্রান্ত: তৃতীয় আক্রমণ তথা ভয়ংকর ধ্বংসলীলা সংগঠিত হয়েছিল তুর্কী দস্যু বখতিয়ারের সেনাবাহিনী কর্তৃক। নালন্দা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়, প্রচুর পুস্তক ও ভিক্ষুদের আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। কিছু ভিক্ষু তিব্বত/নেপালে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করে। এই জন্যই বাংলার প্রাচীনতম পুস্তক চর্যাপদ বাংলা/বিহারে পাওয়া যায় না; চর্যাপদ উদ্ধার করা হয় নেপাল থেকে। তুর্কী দস্যু বখতিয়ারের সেনাবাহিনী যে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পুড়িয়েছিলো তার প্রমাণ মোটামুটি সকল প্রাথমিক সোর্স থেকেই পাওয়া যায়।

★ বখতিয়ার খিলজির সেনাবাহিনীর হাতেই যে নালন্দা মহাবিহার ধ্বংস হয়েছিলো তার প্রমাণ হিসেবে ফারসি ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ তাঁর তাবাকাত-ই-নাসিরি গ্রন্থেই নথিভুক্ত করেছিলেন। এই বইটি ত্রয়োদশ শতকে রচিত, পরবর্তীতে ১৮৭৩ সালে সেটা মেজর এইচ.জি. রাভেট্রি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। মিনহাজ লিখেছেন,

“মুহাম্মদ-ই-বখত-ইয়ার দুর্গটি দখল করে এবং ভীষণ লুট করে। সেখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দা ছিলো ব্রাহ্মণ এবং সকলের মাথা ছিলো মুণ্ডিত যাদের সবাইকেই হত্যা করতে৷ সেখানে বিশাল সংখ্যক পুস্তক ছিলো৷ যখন সবগুলো বই মুসলমানদের হাতে এলো এই বিষয়ক তথ্যের জন্য অনেক হিন্দুদের আনা হলো এবং সবাইকে হত্যা করা হলো। পরে, জানা গেলো এই দুর্গ এবং শহরটি ছিলো একটি কলেজ এবং হিন্দু ভাষায় এই কলেজকে বিহার বলা হতো৷ সেখানকার হাজার হাজার সন্ন্যাসীকে পুড়িয়ে মারা হলো এবং জীবতদের শিরোচ্ছেদ করা হলো। খিলজি তলোয়ারের মুখে বৌদ্ধদের উৎখাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলো৷ সেখানকার লাইব্রেরি মাসব্যাপী পুড়েছিলো এবং দগ্ধ পুস্তকের ধোঁয়ায় আশেপাশের পাহাড়গুলো অন্ধকার হয়ে গিয়েছিলো।”

★ দ্বিতীয় সোর্স হিসেবে রয়েছে সুব্রহ্মণ্য রচিত “নালন্দাদহন” নাটিকা। তিব্বতীয় বজ্রযানী বৌদ্ধদের শাস্ত্র “পিটক” এ এই নাটিকাটি সংকলিত আছে। বজ্রযানী সকল পিটক উরগ্যেন লিংপার হাত ধরেই পূর্ণতা পেয়েছিলো। উরগ্যেন লিংপা বহু হারিয়ে যাওয়া শাস্ত্রগ্রন্থের পান্ডুলিপি সংগ্রহ করে সংকলন করতেন, তিনি চতুর্দশ শতকের ব্যক্তি। তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে “নালন্দাদহন” নাটিকাটি অবশ্যই ত্রয়োদশ শতকের হবে যা প্রাথমিক সোর্স হিসেবে গ্রহণ করা যায়। নাটকের দ্বিতীয় দৃশ্যে দেখা যায়, তুরষ্ক সেনাসমুদ্র নালন্দার রাজদ্বারে প্রবেশ করিল। তাহাদিগের যত অশ্বারোহী তরবারির অগ্রে ভিক্ষুদের কাটিতে ও পুড়াইতে লাগিল।

এক বরিষ্ঠ ভিক্ষু সেই ঘোর জঘন্য কার্য্যের বর্ণনা করিলেন : —

“তুরষ্কবর্গ বায়ুবেগে আসিল এবং তদীয় শত্রু চূর্ণ করিতে লাগিল। সহস্র সহস্র ভিক্ষুকে কাটিয়া তাহারা যেন হত্যাযজ্ঞব্রত ধারণ করিয়াছে।”

সেনাপতি পুস্তকালয় দহনে উদ্যত দেখিয়া পুস্তকালয়ের অধ্যক্ষা ভিক্ষুণী ভাগেশ্বরী তাঁর কাছে প্রার্থনা করিলেন : —

“হে মহামতি মহাসেনাপতি! পুড়াইও না! শত সহস্র বিদ্বানের সাধনধনসঞ্চিত এই জ্ঞানভাণ্ডার পুড়াইও না। আমরা স্বল্পায়ু মানুষ, সাধন‌ও স্বল্প; তথাপি কোটি কোটি জ্ঞাননিমগ্ন বিদ্বানের জ্ঞান দ্বারা বর্ধিত এই ভাণ্ডার অখিলহিতকারী। তোমাদিগের দেশের পণ্ডিতরাও এইসকল খণ্ডন করিতে পারেন। এ যে শাস্ত্রের অকৃত্রিম ভাণ্ডার!”

(নাটিকার অনুবাদক: Koyel Writes)

★ তৃতীয় সোর্স হিসেবে আচার্য ধর্মস্বামীর বায়োগ্রাফি ব্যবহার করা যায়। উনার বায়োগ্রাফী “Upasaka Chos-dar” এর মূল তিব্বতীয় পাণ্ডুলিপি ইংরেজি অনুবাদ করেন Dr. George Roerich যেটা ১৯৫৯ সালে জয়সাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, পাটনা থেকে প্রকাশিত হয়। ধর্মস্বামী ১২৩৩/১২৩৪ সালে ভারতে আসেন এবং ওদন্তপুরীতে গিয়ে দেখেন সেটা একজন তুর্কী (এক আফগান সম্প্রদায়) সেনা কমান্ডারের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তুর্কী সেনারা বিক্রমশীলা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। তুর্কীদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত নালন্দার ৮০টি ছোট বিহার বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় রাজা বুদ্ধসেনার অর্থায়নে মাত্র দুটো বিহারের কার্যক্রম চলমান ছিলো। এগুলো পরিচালনা করতেন ৯০ বছর বয়স্ক সন্ন্যাসী রাহুল শ্রীভদ্র, আচার্য ধর্মস্বামী উনারই শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। আচার্য ধর্মস্বামী চাগ লোতস্বা নামেও পরিচিত ছিলেন।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে বখতিয়ার খিলজির সেনাবাহিনী দ্বারাই নালন্দার বড় বড় বিহারগুলো ধ্বংস হয় এবং খিলজি মারা যাওয়ার পরও তুর্কী সেনাবাহিনী নালন্দার সম্পূর্ণ এলাকা দখল করে রেখেছিলো। অনেকে বলার চেষ্টা করে তুর্কী আক্রমণের পরও নালন্দা টিকে ছিলো। আচার্য ধর্মস্বামী ১২৩৩/১২৩৪ সালে যখন নলন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণে আসেন তিনি দেখেন যে ৯০ বছর বয়স্ক রাহুল শ্রীভদ্র মাত্র ৭০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা করছেন। তার উপস্থিতিতেই তুর্কী সৈন্যদের দ্বারা নালন্দা আবার আক্রান্ত হয় এবং সকল শিক্ষার্থী পলায়ন করে।

মন্তব্য: এই ছিলো মোটামুটি নালন্দা ও তার পার্শ্ববর্তী বিহারগুলোর ধ্বংসের প্রাথমিক ইতিহাস যেখানে ঘুরেফিরে বখতিয়ার ও তার সেনাবাহিনী এবং তার উত্তরসূরীদের জড়িত থাকার ইতিহাস স্পষ্ট। অনেকে বলে নালন্দা মহাবিহার কেবল বৌদ্ধ স্থাপনা, হিন্দুদের কোন অধিকার নেই। অথচ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় হিন্দু রাজা কুমারগুপ্তের সময় এবং নালন্দা চুড়ান্ত উৎকর্ষতা লাভ করে স্কন্দগুপ্তের হাত ধরে। পরবর্তীতে অষ্টম শতকে পাল রাজা ধর্মপাল আরও কিছু বিহার স্থাপন করে নালন্দাকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা নালন্দায় রাখা হিন্দু দেববিগ্রহগুলোরও অনাদর করতেন না। নালন্দার প্রত্নতাত্ত্বিক খননে গণেশ, চামুণ্ডা, উমা-মহেশ্বর, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, বুদ্ধ ও সূর্য বিগ্রহ পাওয়া যায়। কলমে: অনিক কুমার সাহা

Daily World News

এনআইডি কার্ড জালিয়াতি করে ও বোনের জেএসসি সনদপত্র ব্যবহার করে খুর্শিদা আক্তারের ডিপ্লোমা নার্সিং ডিগ্রী