রূপসায় নবাগত নির্বাহী অফিসারের সাথে বিএনপি নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

নির্বাহী অফিসার আকাশ কুমার কুন্ডু সদ্য রূপসা উপজেলায় যোগদানের পর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ গত ৪ নভেম্বর দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শেষে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র, যুগ্ম আহবায়ক রয়েল আজম, ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মহিউদ্দিন মিন্টু, নৈহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব দীদারুল ইসলাম, টিএসবি ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সচিব মো. আজিজুল রহমান, খন্দকার শরীফুল ইসলাম, রূপসা থানা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির শেখ, আল আমিন, শ্রমিক দল নেতা মাহফুজুর রহমান, যুবদল নেতা মাসুদ হাওলাদার, মনিশংকর পাচু প্রমূখ।

অধ্যক্ষ খান আলমগীর কবির স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধনে; আজিজুল বারী হেলাল

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

রূপসায় শহীদ মনসুর স্মৃতি সংসদ আয়োজিত অধ্যক্ষ খান আলমগীর কবির স্মৃতি ৫ম ১৬ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন গত ১  নভেম্বর, বিকেলে কাজদিয়া সরকারী উচ্চ মাধ্যামক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী খেলায়  শহীদ মনসুর স্মৃতি সংসদ বনাম বটিয়াঘাটা তরুণ সংঘ অংশগ্রহন করে।

খেলা পূর্বাহ্নে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন- ক্রীড়া চর্চার মাধ্যমে দেশ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব। দেশের তৃমূল পর্যায়ে মাদকের ব্যাপক ছড়াছড়িতে যুব সমাজ জড়িয়ে পড়েছে। বিগত সরকাররে সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার অভাবে এ সমস্যা সারা দেশে সৃষ্টি হয়েছে। যুবক ছাত্র সম্প্রদায়কে মাদকের এই করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে ক্রীড়া চর্চার বিকল্প নাই। খেলাধুলার মাধ্যমে যুব সম্প্রদায়রা সদা ব্যস্ততা থাকলে তাদের মাথা থেকে মাদকের নেশা দূর হবে। তিনি আরও বলেন- অধ্যক্ষ খান আলমগীর কবির ছিলেন, একজন ক্রীড়াপ্রেমি, সদালাপী এবং পরোপকারী মানুষ। তার নেতৃত্বে রূপসা উপজেলায় ব্যাপক ক্রীড়াচর্চা সংগঠিত হতো।

সভা শেষে তিনি কাজদিয়া গ্ৰামে কয়েক দিন আগে মৃত্যু হওয়া সৈয়দ ইছার কবর জিয়ারত ও পরিবারের মাতা সহ অন্যান্যকে শান্তনা দেওয়ার জন্য ছুটে যান।

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- আবু হোসেন বাবু, জুলফিকার আলী জুলু, মনিরুল ইসলাম মন্টু, মোস্তফাউল লাভলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, মো. রশিদ, তৈয়বুর রহমান, কামরুজ্জান টুকু, মাহাবুবজ্জামান জিয়ার, একরামুল হক হেলাল, আতাউর রহমান রুনু, আলী আজগর, মোল্লা সাইফুর রহমান, জাবেদ হোসেন মল্লিক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রচার দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ফলাফল পত্রিকার সম্পাদক ওয়াকিদুজ্জামান ডাব্লু প্রমূখ।

ফুটবল টুর্নামেন্ট কমিটির আহবায়ক শেখ মাফতুন আহমেদ রাজার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন টুর্নামেন্টের সমন্বয়কারী অধ্যাপক খান আহমেদুল কবির চাইনিজ।

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- সাবেক জেলা বিএনপি নেতা জুলফিকার আলী জুলু, মনিরুজ্জামান মন্টু, মোস্তাফা উল বারী লাভলু, সাবেক ছাত্রনেতা আবু হোসেন বাবু, সাবেক জেলা বিএনপি নেতা আঃ রশিদ শেখ, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, তৈয়েবুর রহমান, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, মাহবুব হাসান পিয়াস, ইকরামুল হক হেলাল, আতাউর রহমান রুনু, আলী আজগর, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র, রয়েল আজম, ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক খান আনোয়ার হোসেন, মহিউদ্দিন মিন্টু, আ: মালেক, সদস্য সচিব আজিজুর রহমান, দিদারুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইবাদুল হক রুবায়েত, উজ্জল সাহা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সমাজসেবক বাবলু কুমার আঁশ, সৈয়দ মাহমুদ আলী, আলম শেখ, রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাবের আহবায়ক জিএম আসাদুজ্জামান, সদস্য সচিব ইউশা মোল্লা, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম পাইক, সৈয়দ নিয়ামত, কামরুল ইসলাম কচি, বাদশা জমাদ্দার, মুন্না সরদার, খান আলিম হাসান, হাসিবুর রহমান, খন্দকার শরিফুল ইসলাম, শাহজামান প্রিন্স, বিএনপি নেতা মো. বাবুল শেখ, মাসুদ খান, মুন্না,আলিম খান, শামীম হাসান, জাহাঙ্গীর হাওলাদার, তরিকুল ইসলাম রিপন, কামরুজ্জামান নান্টু, খন্দকার ইমরান হোসেন, আবু সাঈদ, ইসরাইল বাবু, শাহাজাদা আলমগীর, নাঈম ইসলাম, হীরক গোলদার, সফর কাজী, ইব্রাহিম শেখ, শাহিনুর শেখ, ফেরদৌস, হাসান ফরাজী, জহির খান, তাহসিন প্রমূখ।

খেলা পরিচালনায় (ফিফা রেফারি) জুনায়েদ শরীফ এবং তার সহকারী রেফারী মনির ঢালী ও আজিজুর রহমান বাবলু চুড়ান্ত দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠিত খেলার প্রথমার্ধে ৭ নং জার্সি পরিহিত বটিয়াঘাটা তরুণ সংঘের নাঈমুল ইসলামের গোলে দলকে এগিয়ে রাখে। খেলার মধ্যাহ্ন বিরতির পর শেষ টাইমের দিকে পেনাল্টি পায় মনসুর স্মৃতি সংসদ। তাদের ১০ নং জার্সি পরিহিত সাইফুল্লাহর শর্টে গোল পেয়ে খেলার সমতায় ফিরে আসে এবং রেফারির শেষ বাঁশি বেজে উঠে। পরিশেষে ট্রাইবেকারে ৪-৩ গোলে বটিয়াঘাটা তরুন সংঘ বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

রূপসায় গাঁজা গাছ সহ আটক-১

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

রূপসায় বসত ঘরের পাশে অবৈধভাবে গাঁজা গাছ চাষ করার অপরাধে আটক হলো বাড়ীর কর্তা।

এ ব্যাপারে খুলনা মাদক দ্রব্য অধিদপ্তরের এস আই মো. আকবর আলী জানান- গোপন সংবাদে জানতে পায় রূপসার টিএসসি ইউনিয়ন স্বল্পবাহিরদিয়া গ্রামে এক বাড়িতে অবৈধভাবে গাঁজা গাছের চাষবাদ করছে।

রূপসায় গাঁজা গাছ চাষ অপরাধে গাঁজা গাছ সহ আটক-১

এ সংবাদে গত ২৭ অক্টোবর বিকেলে উক্ত এলাকায় আমার নেতৃত্বে সঙ্গিয় ফোর্স সহ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মো. কাওসার আলী ফকিরের বাড়ী থেকে ৩টি গাঁজা গাছ উদ্ধার হয়। যা প্রায় ২ বছর বয়স, ১৫ ফুট লম্বা গাছটিতে ফুল আশা শুরু করেছে। সে আ: জলিল ফকিরের ছেলে মো. কাওসার আলী ফকির (৪৭)। তার বসত ঘরের পাশে লুকিয়ে গাঁজা গাছ চাষের স্থানটি দেখিয়ে দেয়। গাঁজা গাছ জব্দপূর্বেক চাষ করার অপরাধে আটক করা হয়। পরে ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে রূপসা থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা করা হয়।

একটি সূত্র জানায়- ধৃত কাওসার আলী ফকিরের পুত্র মো. জুবায়ের ফকির ওরেফে সাব্বির (১৭)। পরিবারের অজান্তে উক্ত গাঁজা গাছ রোপণ করে পরিবারকে আজ বিপদগ্রস্ত করেছে।

 

রূপসায় ১০পিচ ইয়াবাসহ আটক-১

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

রূপসা থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযান চলাকালীন সময়ে ১০ পিচ ইয়াবা সহ আটক হয় এক ব্যবসায়ী।

এব্যাপারে কিসমত খুলনা পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই মো. শফিকুল ইসলাম জানান- গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পায় রূপসার নৈহাটি ইউনিয়নের রামনগর এলাকায় (সুন্দরবন লবণ ফ্যাক্টরি) সামনে অবৈধ মাদক দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় চলছে।

তখন আমার নেতৃত্বে এ এস আই মো. মিলন হোসেন সহ সঙ্গীয় ফোর্স গত ২৭ অক্টোবর দুপুরের দিকে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে সংগীয় ফোর্সের সহায়তায় আসামীকে ধরতে সক্ষম হই। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শরীরে লুকিয়ে রাখা ১০ পিচ ইয়াবা বাহির করে দেয়। সে নৈহাটি ইউনিয়ন বাগমারা গ্রামের ইউসুফ হাওলাদারের ছেলে ইউনুস হাওলাদার (২৯)। তার নিকট হইতে ইয়াবা উদ্ধারপূর্বক আটক করা হয়।

পরে ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে রূপসা থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা করা হয়।

রূপসায় ১ কেজি গাঁজাসহ আটক-১

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়ন এলাকায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযান চলাকালীন সময়ে ১ কেজি গাঁজাসহ আটক হয় এক ব্যবসায়ী।

পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই মো.ওহিদুর রহমান জানান- আমার নেতৃত্বে এ এস আই রতন সহ সঙ্গীয় ফোর্স গত ২২ অক্টোবর সকাল ৬ টার দিকে গোপন সংবাদে জানতে পায় আইচগাতী উত্তরপাড়া ঈদগাহ ময়দানের সামনে অবৈধ মাদক দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় চলছে। এ সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে সংগীয় ফোর্সের সহায়তায় আসামীকে আটক করতে সক্ষম হই।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হাতে বাজারের ব্যাগের মধ্যে রক্ষিত পলিথিনে মোড়ানো গাঁজা বাহির করে দেয়। সে আইচগাতি ইউনিয়ন দেয়াড়া (ফরেন মার্কেট) এলাকার মৃত হাকিম ফরাজীর ছেলে মো. পলাশ হোসেন ওরফে ইউনুছ (৪০)। তার নিকট হইতে ১ কেজি গাঁজা উদ্ধারপূর্বক দীর্ঘ দিন মাদকদ্রব্য বিক্রয় করে বলে স্বীকার করে।

পরে ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে রূপসা থানায় মামলা রুজু করা হয়।

রূপসায় ১১ পিচ ইয়াবাসহ দু’জন আটক করেছে পুলিশ

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন এলাকায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযান চলাকালীন সময়ে ১১ পিচ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক হয়।

পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই মো.ওহিদুর রহমান জানান- আমার নেতৃত্বে এ এস আই রতন সহ সঙ্গীয় ফোর্স গত ১৭ অক্টোবর দুপুর ১ টার দিকে, শ্রীফলতলা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করি। এ সময় সন্দেহ হওয়ায় যাত্রীসহ একটি ভ্যানগাড়ি থামাই, সাথে সাথে সামনে বসা দুজন দৌড়ে পালানো চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিক ধরে শরীর তল্লাশির মধ্যে ১১ পিচ ইয়াবা উদ্ধারপূর্বক আটক করা হয়।

আসামিরা হলো- আইচগাতি ইউনিয়নের শেখ সিরাজুল ইসলামের ছেলে তানভির আহম্মেদ তৌকির (২২) এর কাছে ৬ পিচ ইয়াবা এবং শীরগাতি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক গাজির ছেলে হাসান গাজি (২৩) এর কাছে ৫ পিচ ইয়াবা পাওয়া যায়। এসময় তারা স্বীকার করে যে তারা মাদক বেচা কেনা করে থাকে। পরে তাদের বিরুদ্ধে রূপসা থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা রুজু করা হয়।

দেবী মর্ত্য ছেড়ে ফিরে গেলেন স্বামীগৃহ

//এম মুরশীদ আলী//

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা এবং কৈলাসে ফিরলেন দেবী দুর্গা। এই দিনেই দেবী মর্ত্য ছেড়ে ফিরে গেলেন স্বামীগৃহ কৈলাসে। মণ্ডপে মণ্ডপে বিষাদের ছায়া। উলুধ্বনি-শঙ্খ ঘণ্টা আর ঢাক-ঢোলের বাজনায় বাজলো দেবী দুর্গার বিদায়ের সুর। ৫ দিনব্যাপী শারদীয় উৎসবের শেষ দিনে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে ধর্মীয় উৎসব শেষ হলো।

সারাদেশের ন্যায় রূপসা উপজেলা এলাকায় মন্ডপে মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে হিন্দু ধর্মের সর্বোবৃহৎ দূর্গোৎসব। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭৪টি পূজামণ্ডপে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মণ্ডপগুলোতে সকাল থেকে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিকেলের দিকে এ উপস্থিতি হয় ভিড়ে পরিণত। উৎসবকে ঘিরে রূপসায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রূপসা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদ সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেন। তিনি জানান- দুর্গোৎসব ঘিরে পদচারনায় মুখরিত মণ্ডপে মানুষের মাঝে ছিল বিপুল আনন্দ। দেবী মায়ের কাছে প্রার্থনা, দেশ জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সুখ ও সমৃদ্ধি হোক।

বিজয়ার দিনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে অন্যরকম আবেগ ও মন খারাপ করা এক অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে। দশমী মানেই দুর্গা মায়ের ফিরে যাওয়া অপেক্ষায় থাকতে হবে আরো একটি বছর। সনাতনী শাস্ত্র অনুযায়ী এবার দেবীদুর্গা জগতের মঙ্গল কামনায় “দোলায় এসে দেবী ঘোটকেই যান” মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) এসেছেন। এতে করে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঝড় বৃষ্টি হবে এবং শস্য ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, এমনটা মনে করেন হিন্দুধর্মের অনুসারীরা।

নবমীতে এসেই পূজার ষোলোকলা পূর্ণ হয় এবং বিদায়ের সুর বাজে। দশমীতে বিদায় জানানো হয়। এবার নবমীতেই দর্পণে বিসর্জন হয়েছে। শনিবার মহা নবমী তিথিতে বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এদিন সকালে ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ, ঘি দিয়ে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে দেওয়া হয় আহুতি। দশমীর বিহিত পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।

পূজা দিতে আসা ভক্তরা বলেন, আমাদের সব কষ্ট দূর করে দেবী দুর্গা চলে যাবেন। এক বছর পর মা আবার আসবেন। মায়ের কাছে দেশের জন্য কল্যাণ কামনা করেছি। তিনি যেন উন্নতি আর প্রগতিতে আমাদের জীবন ভরিয়ে দেন। বিশ্বজুড়ে যেন শান্তি ফিরে আসে। বন্ধ হয় মানুষে মানুষে সব হানাহানি।

Daily World News

দুর্গোৎসবের  সমাপনী ও বিজয়া দশমী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

দুর্গোৎসবের  সমাপনী ও বিজয়া দশমী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা/

রূপসার তিলক কুদির বটতলা শ্মশান কালী মন্দির কর্তৃক আয়োজিত শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপনী ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে আলোচনা সভা গত ১৩ অক্টোবর সকালে মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- খুলনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) মো. হাফিজুর রহমান।

এ সময় সম্মানিত অতিথি ছিলেন রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম।

মন্দির কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- রূপসা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আনসার আলী বিশ্বাস, কালাম গোলদার, ইউনিয়ন বিএনপি সদস্য সচিব দিদারুল  ইসলাম, রূপসা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু, সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক  কৃষ্ণ গোপাল সেন, রূপসা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গণেশচন্দ্র পাল।

মন্দির কমিটির সদস্য সচিব পরিতোষ দত্তের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন-  সেলিম রেজা, জামায়াত নেতা মনিরুল ইসলাম, মাসুম রেজা, মঞ্জু শিকারী, জাহাঙ্গীর হোসেন, শাহিন ভূইয়া, মাসুম হাওলাদার, দেবপ্রসাদ পাল, তাপস কুমার দে, মলয় কুমার ঘোষ, উজ্জ্বল কুমার মিত্র, প্রশান্ত কুমার সাহা, বিধানচন্দ্র পাল, শামিম মোল্যা, ফরহাদ হোসেন, কবির শেখ, ইমরান খন্দকার, মহব্বত শেখ, ইকরাম, জামিল মিজান, সাইফুল আলী, আকরাম রাজু, শাওন ভূইয়া, নুর, মাহাবুবুর রহমান, আলামিন, শাকিল প্রমূখ।

মণ্ডপে মণ্ডপে দুর্গোৎসব || রূপসায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুত

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

“দোলায় এসে দেবী ঘোটকেই যাবেন” এ উপলক্ষে রূপসায় শারদীয় দুর্গোৎসব ৭৪টি মণ্ডপে শুরু হলো। যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য সবচেয়ে বড় উৎসব। এ জন্যে মন্দির এলাকায় প্রশাসনিকভাবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। পূজার উৎসব বিজয়া দশমী বিহিত পূজা সমাপনে বিসর্জন প্রশস্তা পূজার মধ্যে শেষ হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু জানান- রূপসা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৭৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা ৯ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তারমধ্যে আইচগাতী ইউনিয়নে ১০টি, শ্রীফলতলা ইউনিয়নে ৭টি, নৈহাটী ইউনিয়নে ১২টি, টিএসবি ইউনিয়নে ১০টি ও ঘাটভোগ ইউনিয়নে ৩৫টি মণ্ডপে হচ্ছে এ পূজা।

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল গাজী জনান- রূপসায় অধিক গ্রুরুত্বপূর্ন ২৬টি মন্দিরে ৮ জন করে আনসার ও ভিডিপি নিরাপত্তার জন্য থাকবে। তাদের মধ্যে আনসার প্লাটুন কমান্ডার ১ জন, সহকারী প্লাটুন কমান্ডার ১ জন, তাছাড়া ভিডিপি পুরুষ সদস্য ৪ জন ও মহিলা সদস্য ২ জন থাকবে।

বাকি মন্দির গুলিতে ৬ জন করে নিরাপত্তার জন্য থাকবে। তাদের মধ্যে আনসার সহকারী প্লাটুন কমান্ডার ১ জন, ভিডিপি পুরুষ সদস্য ৩ জন ও মহিলা সদস্য ২ জন থাকবে। এ সকল সদস্যদের গত ৮ অক্টোবর উপজেলা আনসার-ভিডিপি কার্যালয়ে পূজার ৫ দিন দিবারাত্রে কঠোর প্রহর ও নিরাপত্তা বিষয়ে ট্রেনিং ও ব্রিফিং প্রদান করা হয় এবং উপযুক্তদের পূজার মন্দিরে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

আইন শৃঙ্খলা সম্পর্কে রূপসা থানায় গত ৮ অক্টোবর সকালে পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যদের বিভিন্ন বিষয়ে অবহতি করেন- খুলনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অপ্রতিম কুমার চক্রবর্তী, রূপসা ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপটেন নাহিদুল ইসলাম নাবির, রূপসা থানা ওসি তদন্ত (ভারপ্রাপ্ত ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম। তাঁনরা বলেন- এ বছর রূপসায় ৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানে দর্শনার্থীরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা দর্শন করতে পারে, সে জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে আনসার-ভিডিপি, টহল পুলিশ সহ সাদা পোষাকে পুলিশ, র‌্যাবের ভ্রাম্যমান টীম এবং সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করবে বলে জানান।

রূপসায় অনগ্রসর দলিত হরিজন সম্প্রদায় জনগোষ্ঠীদের প্রশিক্ষণ দেয় সমাজসেবা

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

রূপসার অনগ্রসর দলিত হরিজন সম্প্রদায়ভুক্ত জনগোষ্ঠী ব্যাচ-১ (৩০ জন) কে প্রশিক্ষন প্রদানের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ গত ৭ অক্টোবর সারাদিন উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন আয়োজনে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) অপ্রতিম কুমার চক্রবর্তী।

প্রশিক্ষণে- বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, পঙ্গুত্ব ভাতা সহ বিভিন্ন উপকারভোগীর বিষয়ে আলোচনা করেন- সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম তরফদার।

এরপর যথাক্রমে- মৎস্য চাষের উপর আলোচনা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বাপি কুমার দাস।

পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও বাড়ির আঙ্গিনায় নানান ধরনের শাক-সবজি ফলিয়ে পরিবারের সচ্ছতা আনতে একান্ত ভুমিকা রাখতে পারে। এ সকল বিষয়ে আলোচনা করেন- উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তরুন কুমার বালা।

হাঁস-মুরগী ও গবাদিপশু পালনে কিভাবে স্বাবলম্বী হওয়া যায় তার উপর আলোচনা করেন-  উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার মজুমদার।

নারী ক্ষমতায়ন, মাতৃত্ব ভাতা, বাল্য বিবাহ রোধ বিষয়ে আলোচনা করেন- মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন। প্রশিক্ষনে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা প্রকৌশলী এস. এম ওয়াহিদুজ্জামান। প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা আদিবাসি সভাপতি ইন্দ্রজিত বিশ্বাস।