দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবিতে পানিতে দাঁড়িয়ে অভিনব মানববন্ধন

 

দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবিতে উন্নত বিশ্বের অত্যাচার ও অনাচারের ফলে প্রকৃতি ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বাতাসে কার্বন- ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে গ্রীণ হাউজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও আধুনিক নগরায়নের ফলে মোট ভূখন্ডের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকার কথা থাকলে তা আমরা নিজেরাই নষ্ট করছি।ফলে আমাদের আবহাওয়া ও জলবায়ুর বৈশ্বিক পরিবর্তন হচ্ছে এবং ঝড়,বন্যা, খরা,জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্ট,অনাবৃষ্টিসহ ঋতুবৈচিত্রের পরিবর্তন হচ্ছে ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় পূর্বের থেকে অনেক বেড়ে যাচ্ছে ।

আর তাই অতিদ্রুত একটার পর একটা প্রাকৃতিক দূর্যোগকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে সমুদ্র উপকূলীয় সাতক্ষীরা, খুলনা,বাগেরহাট, বরগুনা, বরিশাল,ভোলা,লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ আরও কয়েকটি জেলাকে। কিছুদিন পূর্বে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ফলে সাতক্ষীরাসহ সীমান্তবর্তী জেলা গুলোর যে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ আছে সেগুলো অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষেরা কমবেশি সংস্কার করলেও এখনও অনেক জায়গায় বাঁধ সংস্কারের কাজ বাকি আছে।ফলে ভরাপূর্ণিমার সময় ভরা জোয়ারের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ভেঙে আবারও বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আর তাই ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার ও স্থায়ীভাবে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে আজ ২৪ জুন-২০২১ রোজ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা জেলার প্রতাপ নগর ইউনিয়নের সকল শ্রেণী পেশার কয়েক হাজার মানুষ কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অভিনব প্রতিবাদ হিসাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুর সাত্তারের সভাপতিত্বে প্রতাপ নগর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে গ্রামীণ টাওয়ারের সামনে সকাল ১১ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক,ইমাম,ডাক্তার, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলে পড়ুয়া শিক্ষার্থী, নারীপুরুষ শিশুসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। বক্তরা বলেন, বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চলছে।

উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের কল্যাণে বাজেট বরাদ্দও বাড়ে কিন্তু উপকূলীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা,ঠিকাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ত্রিমূখী সিন্ডিকেটে বেড়িবাঁধ সংস্কারের নামে চলে বিশাল অংকের অর্থের হরিলুট।

তাই উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের দাবি ১.ত্রাণ নয় পরিত্রাণ ,২. বেড়িবাঁধ মেরামত নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ,৩. উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষা,৪. সাইক্লোন সেন্টার নয়, নিরাপদ আশ্রয়, ৫. সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থা ,৬. সুন্দরবনের সুরক্ষা ও৭. সেনাবাহিনী দ্বারা নদ- নদীর খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ।

উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণকে নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সুদৃষ্টি প্রার্থনা করেন বক্তরা।

// নিজস্ব প্রতিবেদক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

অসহায় মানুষের পাশে থাকাটাই দুর্যোগকালে আমাদের বড় কর্তব্য: সালাম মূশের্দী

 

২০ বছর পর ফেসবুকের ‘আপন ঠিকানা’ শাহনাজকে খুঁজে দিল পরিবার

 

২০ বছর পর ফেসবুকের মাধ্যমে পরিবারকে খুজে পাওয়া এক পরিবারের গল্প । মা-বাবার যখন বিচ্ছেদ ঘটে, তখন শাহনাজের বয়স ৫ বছর। সৎমা রাখতে না চাইলে শাহনাজের বাবা, চাচা, চাচিরা তাকে লালন-পালন করার জন্য একটি পরিবারের কাছে রাখেন। সেই পরিবারের সঙ্গে একদিন ঢাকায় যান শাহনাজ। সেখানে গিয়ে তিনি হারিয়ে যান।

অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পায়নি তার পরিবার। পরে তার বাবা আবু সাঈদ ঢাকার তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রাখেন। এখন শাহনাজের বয়স ২৫ বছর। তিনি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার জিগাতলা গ্রামের আবু সাঈদের মেয়ে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আর জে কিবরিয়ার ‘আপন ঠিকানা’ অনুষ্ঠানের ভিডিও ভাইরাল হলে শাহনাজের পরিবারের নজরে আসে বিষয়টি। পরে যোগাযোগ করে গত ১৯ জুন শাহনাজকে তার পরিবার ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। দীর্ঘ ২০ বছর পর হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেয়ে খুব খুশি তার পরিবার।

এদিকে ছোট শাহনাজও এখন অনেক বড় হয়েছেন। করেছেন বিয়ে। করছেন স্বামীর সংসার। তিনি এখন এক পুত্রসন্তানের মা। পরিবারবিহীন জীবন থেকে চলে যাওয়া ২০টি বছরের কষ্ট এখন তিনি ভুলে গেছেন নিমিষে। সরেজমিন দেখা গেছে, শাহনাজ তার দেড় বছরের সন্তান নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বেশ আনন্দে সময় কাটাচ্ছেন। তার পরিবারও যে তাকে পেয়ে খুশি, তা সবার আদর-আপ্যায়নে বোঝা যায়। তার ফুটফুটে শিশুসন্তানকে আদর করছেন তার চাচা, ভাই ও ভাতিজাসহ অনেকেই।

এদিকে, এত বছর পর বাড়িতে ফিরে আসায় তাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন গ্রামের মানুষ। এ বিষয়ে কথা হয় শাহনাজের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ রায়হানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন শাহনাজের সৎমা তাকে নিয়ে যেতে চান।

 

কিন্তু আমাদের পরিবারের কেউই রাজি ছিলাম না। পরে শাহনাজের বাবাকে রাজি করিয়ে একটি পরিবারের কাছে তাকে লালন-পালন করার জন্য দেয়া হয়। একদিন সেই পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বেড়াতে গিয়ে শাহনাজ হারিয়ে যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তখন ঢাকার তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আমার চাচা আবু সাঈদ। তিনি বলেন, আমার মা শাহনাজের জন্য সব সময় কান্নাকাটি করতেন।

তিনি আরো বলেন, এখনো শাহনাজের ব্যবহৃত জামাকাপড়, জিনিসপত্র আমার মা যত্ন করে রেখে দিয়েছেন। এজন্য কিছুদিন আগে আমি আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শাহনাজের সন্ধান চেয়ে একটা পোস্ট করি। পরে সেই পোস্ট আমার বন্ধু-বান্ধবসহ অনেকেই দেখেন।

মোহাম্মদ রায়হান বলেন, কিছুদিন আগে জনপ্রিয় রেডিও উপস্থাপক আর জে কিবরিয়ার ‘আপন ঠিকানা’ নামের একটি অনুষ্ঠানে আমার বোনকে নিয়ে একটা প্রোগ্রাম করা হয়। সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে জিগাতলা গ্রামের সেনাবাহিনীর এক সদস্য জুয়েল বিদেশে বসে ভিডিওটি দেখে আমাকে খবর দেন।

পরিচয় ও হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা মিলে যাওয়ায় আমরা তাকে আনতে ঢাকা যাই। গত ১৯ জুন স্বামী-সন্তানসহ শাহনাজকে ফিরে পাই। তারপর তাদের বাড়ি নিয়ে আসি। পরিবার ফিরে পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে শাহনাজ বলেন, আমার মা-বাবার বিচ্ছেদের পর আমার বসয় যখন ৫ বছর তখন টাঙ্গাইলের একটি পরিবারের কাছে আমাকে লালন-পালন করার জন্য দেয়া হয়। ওই পরিবার আমাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। তাদের বাসায় দুই বছর থাকার পর আমি একদিন হারিয়ে যাই।

এরপর ঢাকার খিলগাঁওয়ের বাসাবোর কদমতলা এলাকার মাশুক আহমেদ আমাকে পেয়ে তার বাসায় নেন। সেখানেই আমি বড় হই। তারা আমাকে মেয়ের মতো করেই বড় করেছেন। তিনি আরো বলেন, তারা আমাকে নওগাঁ জেলার বাসিন্দা আব্দুর কাদেরের সঙ্গে বিয়ে দেন। আমার স্বামী বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। টেক্সটাইল

স কোম্পানিতে চাকরি করছে। আমার স্বামীও আমার পরিবারকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে আন্তরিক ছিল। পরে আপন ঠিকানা’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমি আমার পরিবারকে খুঁজে পাই। শাহনাজ বলেন, ২০ বছর পর পরিবারকে খুঁজে পাব, সেটা ভাবতে পারিনি। আল্লাহ আমাদের মিলিয়ে দিয়েছেন। আমার পরিবারকে খুঁজে পাওয়ার জন্য শুধু স্মৃতি ছাড়া আমার কাছে কিছু ছিল না।

আমার স্বামীও সবকিছু জেনে-শুনে আমাকে বিয়ে করেছে। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি অনেক ভালো মনের মানুষ। তারা আমাকে নিজের মেয়ের মতোই আদর-যত্ন করেন। শাহনাজের চাচা তোজাম্মেল হক বলেন, ৫ বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া শাহনাজকে আমরা ফিরে পেয়েছি।

দীর্ঘ ২০ বছর পর শাহনাজ যেমন পরিবার পেয়ে খুশি, আমরাও তাকে পেয়ে অনেক খুশি।

 মোঃ আল-আমিন শেখ টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

অভয়নগরে (প্রা:) হাসপাতালে চিকিৎসা নামে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য

 

 

অভয়নগরে লকডাউনে কিস্তি আদায়ে ব্যস্ত এনজিও কর্মীরা: দিশেহারা ঋণগ্রহীতারা

 মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

অভয়নগরে লকডাউনে কিস্তি আদায়ে ব্যস্ত এনজিওকর্মীরা, তারা লকডাউনের মধ্যে কিস্তি আদায়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ৷ ফলে বিপাকে পড়েছেন নিন্মআয়ের ঋণ গ্রহীতারা ৷ ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা৷ ছোট ছোট বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা ঋণ নিয়ে ব্যবসার কার্যক্রম চালান ৷

এ ছাড়া ও অনেকে এনজিও থেকে সাপ্তাহিক কিস্তিতে ঋণ নিয়ে ইজিবাইক , থ্রি হুইলার ,ভ্যান, ইঞ্জিন ভ্যান ,আলমসাধুসহ বিভিন্ন যানবাহন কিনে চালিয়ে তা থেকে আয়করে জীবিকা নির্বাহ করেন ও ঋণের কিস্তি দেন ৷ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে মৃত্যু ও আক্রান্তের হার বাড়তে থাকায় সরকার দেশজুড়ে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে৷ ফলে সরকারি-বেসরকারি , অফিস আদালত , ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান , শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ৷ যার ফলে আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যায় অনেক মানুষের ৷

এমন পরিস্থিতিতে এনজিও ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নিন্ম আয়ের ঋণগ্রহীতারা ৷ অধিকাংশ এনজিও বিবাহিত নারীদের সমিতির মাধ্যমে ঋণ দিয়ে থাকে ৷ এমন সময়ে এ সকল ভূক্তভোগী খেটে খাওয়া ঋণগ্রহীতা যখন তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন এর মধ্যে বিভিন্ন এনজিও কর্মীরা বাড়ি বাড়ি কিস্তি আদায়ের জন্য ধর্ণা দিচ্ছেন ৷ চাপ সৃষ্টি করে কিস্তি আদায় করা হচ্ছে ৷

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচলের সরকারি নির্দেশনা থাকলে ও এনজিও কর্মীরা ঋণগ্রহীতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিস্তির টাকা আদায় করছেন ৷ কোন কোন এনজিও কর্মী এক বাড়িতে টেবিল-চেয়ার নিয়ে বসে পাড়ার সব নারী গ্রহীতাদের নিকট থেকে কিস্তি আদায় করছেন ৷

এ সময় নারী গ্রহীতাদের মাঝে মাস্ক ব্যবহার বা সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো বালাই থাকছেনা ৷ এনজিওর কিস্তি আদায় সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমিনুর রহমানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন , এ ব্যাপারে কোন নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারছিনা ৷

মুঠোফোনে এসিল্যান্ড নারায়ণ চন্দ্রপালের সঙ্গে এনজিওর কিস্তি আদায় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার অধিদপ্তরের আওতাধীনে নয় , আপনি ইউএনও সাহেবের সাথে কথা বলেন ৷ অনুরূপভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পঃপঃ কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুর রহমান রিজভি বলেন , লকডাউন কমিটির কর্মকর্তারা যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেটাই আমার সিদ্ধান্ত ৷ অভয়নগর উপজেলার গরীব-অসহায় ভ্যান , রিকশা ,ইজিবাইক চালক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের চোখের পানিতে অঝরে বন্যা বয়ে যাচ্ছে !

কি হবে আমাদের ?

আমরা এখন কিভাবে সংসার চালাবো ? এর সঠিক উত্তর কে দিবে ? একদিকে অন্ন যোগানো আর অপর দিকে কিস্তি চালানো এর উত্তর কোথায় খুঁজে পাবো আমরা ? সমাজের বিত্তশালী, বিবেকবানদের কাছে আমাদের এই বুকভরা কষ্টজনিক প্রশ্ন ৷

আরও পড়ুন:

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

রূপসার আইচগাতীতে গ্যাস সিলিন্ডার লিক হয়ে অগ্নিকান্ডে বসত ঘর পুড়ে ছাই

 

 

করোনায় ঝড়ে পরা শিক্ষার্থীর ভীড়ে গজারিয়ায় বেড়েছে শিশু শ্রম

 

করোনায় ঝড়ে পরা শিক্ষার্থীর ভীড়ে  মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলায় করোনার এই সংকট কালে দিন দিন বেড়েই চলেছে ঝুঁকিপূর্ন শিশু শ্রম। গজারিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা মিলছে শিশু শ্রমিক দের । তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্টিল ও কাঠের ফার্নিচারের দোকান, ভাঙ্গারীর দোকান, হোটেল রেস্তোরা, ওয়েল্ডিং এর দোকান, কসমেটিক্স দোকান, ওষুধের ফার্মেসি, ব্যাটারির দোকান, গাড়ির গ্যারেজে সহ বহুতল ইমারত নির্মাণ কাজেও দেখা যাচ্ছে এসব শিশু শ্রমিকরা নিয়োজিত রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায় গজারিয়ার ভাটেরচর এলাকায় অতিরিক্ত মুনাফার আশায় শিশু শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মদিনা ফরেন ফার্নিচার মার্ট এর কারখানায় এমন কতিপয় শিশু শ্রমিক রয়েছে যাদের বয়স প্রায় ৯ থেকে ১০ বছরের নিচে আবার কারো ১৩ কিংবা ১৪ হবে। সেখানে তাদের কাজে নেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শিশুদের দিয়ে অবাধে চলছে ক্যামিক্যাল মিক্সিং ফার্নিচার শাইনিং ও ভার্নিসিং মত ক্ষতিকারক কাজ।

ক্যামিক্যাল জাতীয় এইসব ক্ষতিকারক পর্দাথ স্প্রে আকারে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে তাদের দেহে ভিতর ঢুকেছে। এতে করে তাদের রয়েছে নানা ধরনের শারীরিক ক্ষতির আশংঙ্কা। মদিনা ফরেন ফার্নিচার কারখানার শিশু শ্রমিক দের সঙ্গে কথার বলার এক পর্যায়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিশু শ্রমিক জানায় তার বাস্তবতার কথা। সে বলেন আমার বয়স (১২)। আমি ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি। আমরা ২ ভাই ১ বোন। হত দরিদ্র বাবা মা সন্তান। তাই বাধ্য হয়ে আমি পড়ালেখা ছেড়ে ফার্নিচারের দোকানে এসব কাজ শুরু করি।

বেতনের কথা জানতে চাইলে সে বলে, মাসে ৫ হাজার টাকা পাই। এটা তো শারীরিক ক্ষতিকারক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, এ কাজ কেন করো এমন প্রশ্নের উত্তরে সে জানায়, অন্যান্য কাজের চেয়ে এ কাজে টাকা বেশি পাই তাই করি এবং আমিও ভালো করে চলতে পারি ও পরিবারকে কিছু টাকা দিতে পারি। এর মতো অনেক শিশু গজারিয়ার বিভিন্ন দোকানে শিশু শ্রমের কাজ করছে।

বর্তমান বিশ্বে প্রতিটি দেশ শিশু শ্রম বন্ধের ঘোষণা দিলেও আমাদের দেশে এটি প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে। করোনা কালে স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া শিশু মাত্রা বাড়বে বলে আংশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে দিন দিন এই শিশু শ্রমিকের সংখ্যাও বাড়বে বলে অনেকরই অভিমত। সচেতন মহল মনে করেন বাংলাদেশে  শিশু শ্রমের অন্যতম কারণ হলো দারিদ্রতা। আর আমাদের দেশে ৩১ দশমিক ৬ ভাগ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে।

এসব পরিবারের সদস্যদের মাথাপিছু আয় দৈনিক ৮০ টাকারও কম। এদের বেশির ভাগ পরিবার অসচ্ছল। ফলে এসব পরিবারের শিশুরা তাদের পেটের ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য ছোট থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করা শুরু করে। তাই তাদের নিজেদের আর পরিবারের খাওয়ার জন্য শিশুরা লেখাপড়ার পরিবর্তে এধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে পিছ পা হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তাদের এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মধ্যে রয়েছে মোটর ওয়ার্কশপে কাজ, গ্রেন্ডিং ওয়েল্ডিং, গ্যাস কারখানা, লেদ মেশিন, রিকশা চালানো, বাস-ট্রাকের হেলপারি, নির্মাণ শ্রমিক, গৃহ শিশু শ্রমিক, ইটভাঙা, ইটভাটা শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, স্টিলের আলমারির দোকানের শ্রমিকের কাজ সহ সহজে মিলছে বিভিন্ন ধরনের কাজ। ফলে গজারিয়া এলাকায় বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম। গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী আমাদের দেশে প্রায় ৩৮ ধরনের শিশু শ্রম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আজকের শিশুরা আগামীর ভবিষ্যৎ। যেসব শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে তাদের সচেতনতার জন্য সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। তবে গজারিয়া তে শিশু শ্রম এধরনের অভিযোগ নেই। পাওয়া গেলে বিশেষ করে যেসব শিশুরা কম বয়সে এসব কাজে নেমে পড়ছে, তাদের অভিভাবককে সচেতন করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তারা যেন তাদের শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে না পাঠায়। তিনি আরও বলেন, এসব ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম থেকে শিশু দের মুক্ত করতে না পারলে শিশুরা শারিরিক ও মানসিক ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সেই সাথে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে। সরকারের একার পক্ষ্যে শিশু শ্রম বন্ধ সম্ভব নয়।

তাই শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলার জন্য শিশু শ্রম বন্ধে সকল কে এগিয়ে আসতে হবে এবং যারা শিশু শ্রমিক নিয়োগ দিবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

//সৈয়দ মোঃ শাকিল গজারিয়া,মুন্সীগঞ্জ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বাঁশখালীতে মুজিব বর্ষের উপহার ৪০ ঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

 

 

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় সবাই নিজের ঘরে থাকবে: সালাম মূশের্দী

 

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায়  মুজিববর্ষ উপলক্ষ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫৩ হাজার ৩৪০ পরিবারকে দুই শতাংশ জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর উপহার দিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (২০ জুন) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি ঘর পেয়ে দুঃখী মানুষের মুখে যে হাসি, যে আনন্দ, এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু না।

’ তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সমাজের নিচুস্তরে পড়ে থাকা লোকদের টেনে তোলা, তাদের মূল সমাজের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তি করা। এসময় খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূশের্দী ভিডিও কনফারান্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় কোনও মানুষ গৃহহীন থাকবে না।

আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করে। খুলনার রুপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলায় আজ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৮৫টি ঘর প্রদান করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খান মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে, বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, থানা অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ যোবায়ের, ফারহানা আফরোজ মনা, কৃষি কর্মকর্তা মো:ফরিদুজ্জামান, প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো:আরিফ হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাহিরা খাতুন, সমাজসেবা কর্মকর্তা জেসিয়াজামান, বিশিষ্ট ক্রীড়া বিদ আজাদ আবুল কালাম।

যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু বকর মোল্লার সঞ্চালনায় আরো বক্তৃতা করেন, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও অধ্যক্ষ ফ ম আ:সালাম, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল, সাবেক সদস্য আ: মজিদ ফকির, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মোরশেদুল আলম বাবু, খান শাহজাহান কবীর, নজরুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বুলবুল, জাহাঙ্গির শেখ, সাধন অধিকারী, এমপির প্রতিনিধি এস এম হাবিব, আকতার ফারুক, আজিজুল হক কাজল, আজমল ফকির, সুব্রত বাগচী, বিনয় হালদার, রাজিব দাস টাল্টু, মুক্তিযোদ্ধা রফিক শিকদার, আ:মালেক শেখ, ওলিয়ার রহমান, ওয়াজেদ আলী,মুনসুর বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে ভিডিওতে যুক্ত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা ও উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা রুবাইয়া তাছনিম।

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

আজকে খুলনা বিভাগে করোনায় সর্বোচ্চ ২৮ জনের মৃত্যু

 

সাতক্ষীরায় পানিতে দাঁড়িয়ে জানাযা ও ইটের তৈরি কবরে দাফন

সাতক্ষীরায় পানিতে দাঁড়িয়ে জানাযা ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর,কালীগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ উপকূলীয় অধিকাংশ এলাকা বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি,ফসলের মাঠ,মাছের ঘের,গৃহপালিত গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি সবই কোন না কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়।এমন কি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও কাপড় চোপড়েরও সমস্যা দেখা যাচ্ছে নিম্ন আয়ের অধিকাংশ পরিবারে।
অর্ধাহারে অনাহারে থাকা লোকগুলো এতো সমস্যার পরে ও ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। সহায় সম্বল হারানো লোকগুলো নিজেদেরকে পরিবেশের সাথে অভিযোজিত করার জন্য ধনী-গরীব, জাতি ভেদাভেদ ভুলে স্ব উদ্যোগে বেড়িবাঁধ নির্মাণে নারীপুরুষ কিশোর- কিশোরী হাতে হাত রেখে কাজ করছেন এবং অনেকাংশেই সফল হয়েছেন।
কিন্তু নতুন করে কাল হয়ে দেখা দিয়েছে আষাঢ়ের মুষলধারের বৃষ্টি। অতি বৃষ্টির ফলে আবারও নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে সাতক্ষীরা র সমূদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলো। ইয়াসের ফলে জমে থাকা পানির সাথে বৃষ্টির পানি যুক্ত হয়ে সাতক্ষীরার প্রতাপ নগর ইউনিয়নের কয়েক শতাধিক গ্রাম আজ প্লাবিত। মানুষ মারা গেলে শেষ দাফনের পূর্বের কাজগুলো করার মতো কোন পরিবেশ যেমন নেই তেমনি নেই কবর দেওয়ার মতো সামান্য উঁচু জায়গায়ও।
আর তাই এক এলাকা থেকে পার্শ্ববতী দূরে কোন উঁচু জায়গায় তার কবরের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। কিন্তু সেটাও যখন সম্ভব হচ্ছে না তখন পানির ভিতর ইট দিয়ে গেঁথে কবর তৈরি করে ও পানির ভিতর দাঁড়িয়ে জানাযা শেষ দাফন ও কাফনের কাজ শেষ করতে হচ্ছে। আজ ১৮ জুন-২০২১ রোজ শুক্রবার সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার প্রতাপ নগর ইউনিয়নে এভাবেই পানির ভিতর দাঁড়িয়ে অতিকষ্টে মৃতের জানাযা শেষে ইটের তৈরি কবরে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরে যেহেতু ভাঙা বেড়িবাঁধ অতিক্রম করে প্রবল বেগে জোয়ারের পানি আসবে তখনও আবার মৃতের স্বজনদের পাহারা দিতে হবে ঘন্টার পর ঘন্টা যাতে করে স্রোতের বেগে কবর ভেঙে লাশ ভেসে চলে না যায়।আর এভাবেই চলছে সমূদ্র উপকূলীয় মানুষের জীবনের হার মানা না বাস্তবধর্মী জীবনমূখী জনজীবন। দেশের সকল জনগণ যখন বৈশ্বিক মহামারী করোনার সাথে বেঁচে থাকার লড়াই করছে তখন উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণ করোনাকে নয় মৃত্যুর পর শেষ ঠিকানা কবরের ব্যবস্থা করা ও প্রিয়জনের কবর রক্ষা করাই লড়াই করছে। যা দেখার কেউ নেই।
ইয়াসের পর থেকে অত্র এলাকার জনগণ-১.ত্রাণ নয় পরিত্রাণ ,২. বেড়িবাঁধ মেরামত নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ,৩. উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষা,৪. সাইক্লোন সেন্টার নয়, নিরাপদ আশ্রয়, ৫. সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থা ,৬. সুন্দরবনের সুরক্ষা ও৭. সেনাবাহিনী দ্বারা নদ- নদীর খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি সমূহ জানিয়ে আসছেন।কিন্তু সাধারণ জনগণের কথা গুলো বলা ও শুনার লোক খুঁজে পাচ্ছে না।
আর তাই উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের আক্ষেপ, আমরা উপকূলীয় লোকগুলি সত্যি হতভাগা আমাদের দেখার জন্য না আছে জনপ্রতিনিধি না আছে সরকার।সারাদেশ করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার লড়াই করছে আর আমরা করছি মৃত্যুর পরে শেষ ঠিকানা পাওয়া জন্য পানির ভিতর কবর তৈরি করে জোয়ারের হাত থেকে সেই কবর রক্ষা করার লড়াই!

খুলনায় ১হাজার ৩৫১টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে জমি ও ঘর 

 

খুলনায় ১হাজার ৩৫১টি ভূমিহীন পরিবারের মাঝে ১হাজার ৩৫১টি জমি সহ ঘর পাচ্ছে । মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের সকল জেলায় ৫৩ হাজার ৩৪০টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের মাঝে আগামী ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী জমিসহ ঘর প্রদান করবেন।

 

এর মধ্যে খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় মোট এক হাজার ৩৫১টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার পাবেন, যা খুলনা বিভাগের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ , শুক্রবার খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন তাঁর সম্মেলনকক্ষে এ উপলক্ষ্যে এক প্রেসব্রিফিং এসকল তথ্য জানান। খুলনার সকল উপজেলায় গৃহনির্মাণকাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

 

প্রত্যেক পরিবারের জন্য দুইশতক জমিসহ নির্মিত ঘর ইত্যেমধ্যে দলিল কবুলিয়ত ও মিউটেশন সম্পন্ন করে রবিবারে প্রেসব্রিফিং এ জানানো হয়, ব্রিফিং এর আরও জানানো হয়, খুলনা জেলা প্রশাসকের প্রত্যক্ষ মনিটরিং এবং সুপারভিশনে এ জেলার ভূমিহীন পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে এবং উপকারভোগী বাছাই এর ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

এছাড়া নির্মাণ কাজের গুণগত মান বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণকে প্রত্যক্ষভাবে তত্ত্বাবধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। খুলনার উপকারভোগীদের মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলায় ৫শতটি, রূপসায় দুইশত ১৫টি, পাইকগাছায় তিনশত, দাকোপ দুইশত, তেরখাদা ৪০টি, বটিয়াঘাটা ৩০টি, কয়রা ৩০টি, দিঘলিয়া ৩০টি এবং ফুলতলা উপজেলায় ছয়টি পরিবারকে এই ঘর দেওয়া হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে চলতিবছরের ২৩ জানুয়ারি সারা দেশে ৬৯ হাজার নয়শত চার ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমিসহ ঘর প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। যার মধ্যে খুলনা জেলায় নয়শত ২২টি পরিবার এই ঘর পান।

 

প্রেসব্রিফিং এ খুলনার স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার জিনাত আরা আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী, অতিরিক্ত জলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ সাদিকুর রহমান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছাঃ শাহানাজ পারভীন, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সি মোঃ মাহবুব আলম সোহাগসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব‍্যুরো//

Dainik Biswa

আজ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু ৬ আক্রান্ত ২২২

 

সাতক্ষীরাসহ সমগ্র এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হোক

 

সাতক্ষীরাসহ সমগ্র এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াস চলে গিয়েছে বেশ কিছুদিন হতে চললো। আস্তে আস্তে মিডিয়া,জিও,এনজিওসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকার দুঃখ,ব্যাথা,বেদনা ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো ভুলতে বসেছে।কিন্তু ইয়াসের প্রভাবে যারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ তারা ভুলতে পারছে না।

 

সাতক্ষীরাসহ সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। তাদের ঘরের মধ্যে এখনও পানি।ঘরের ভিতর পানি থাকায় অনেকে পরিবারপরিজন নিয়ে নৌকায় বসবাস করছে।চারিদিকে লবণাক্ত পানি থাকায় জৈবিক কাজ করার মতো জায়গায় না থাকায় ভাসমান পানিতে করতে হচ্ছে।

 

এছাড়াও রয়েছে খাবার পানির তীব্র সংকট ।খাবার পানি সংগ্রহের জন্য দূরদূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে অত্র এলাকার মা- বোনদের।সবচেয়ে বেশী বিপদে আছে শিশু- কিশোররা।চারিপাশে পানি থাকায় যেকোন সময় পানিতে পড়ে ছোট শিশুদের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।

 

ঘরে মানুষের খাবার নেই, প্রতিপালিত গরু- ছাগলের খাবারের কোন ব্যবস্থা,চাষাবাদের জমি নেই( পানিতে নিমজ্জিত), চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, জীবনের নিরাপত্তা নেই,এতো প্রতিকূলতার পরেও উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজন ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য নারীপুরুষ সম্মিলিত ভাবে বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজে নেমে পড়েছে এবং অনেক জায়গা সংস্কারও করেছে।আবার নিজদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য,ভাঙা মন নিয়ে চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি আঁকড়ে ধরে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।চেষ্টা করছে নবজীবন লাভের।

 

কিন্তু গত কয়েকদিন আগে সংগঠিত হওয়া অমাবস্যার প্রভাবে আবারও অরক্ষিত বেড়িবাঁধের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে যেকোন সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে নতুন করে জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আর তাই অত্র এলাকার প্রাণের দাবী যতদ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ গুলো নির্মাণ করা হোক।

// স্বীকৃতি বিশ্বাস //

Dainik Biswa

খুলনায় ২৭ মামলায় ২৭ জনকে ৭২ হাজার ১ শত টাকা জরিমানা

 

 

কারাগারে নাফিরে হাসপাতালে আয়েশি জীবনে ভিআইপি বন্দিরা

 

কারাগারে নাফিরে হাসপাতালে থেকে যাচ্ছে নানা রোগের ছুতোয় , হাসপাতালে আয়েশি জীবন কাটাচ্ছেন ‘ভিআইপি বন্দিরা’। খুন, অস্ত্র, মাদক ও অর্থ আত্মসাৎ মামলার আসামি হয়েও ঘুরেফিরে তারা পছন্দের হাসপাতালেই থাকছেন। এদের একজন প্রথম বারে টানা ৮ মাস এবং বর্তমানে সাত মাস ধরে হাসপাতালেই আছেন। অন্যদিকে এক বন্দি হাসপাতালে ছিলেন টানা ১৬ মাস।

 

২৭ বার চিঠি দিয়ে তাকে কারাগারে ফেরাতে হয়েছিল । কিন্তু কাজ হয়নি। আরও অনেকেই আছেন যারা মাসের পর মাস বিভিন্ন হাসপাতালে আছেন। কারাগার ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি চক্র মোটা টাকার বিনিময়ে অসুস্থতার অজুহাতে তাদের হাসপাতালে থাকার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। অথচ গ্রেফতারের আগে এসব আসামি সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে চষে বেড়িয়েছেন দেশ-বিদেশ।

 

অভিযোগ আছে, এরা প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতাল কেবিনেই গড়েছেন ‘স্থায়ী নিবাস’।

 

সেখান থেকেই চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসা-বাণিজ্য। মুক্তজীবনে ফিরতে নানা মহলে তদবিরও করছেন। অথচ সাময়িক সময়ের চিকিৎসার জন্য তাদের কারাগার থেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে তাদের ফেরত পাঠানোর কথা থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা করছেন না। ফলে এদের অনেকেই বন্দি জীবনের বেশির ভাগ সময় ঘুরেফিরে হাসপাতালেই কাটাচ্ছেন। কারাগার থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পাঠানো চিঠির সূত্র ধরে অনুসন্ধানে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

 

জানা গেছে, যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, বিতর্কিত ঠিকাদার এসএম গোলাম কিবরিয়া ওরফে জি কে শামীম ও ডেসটিনি গ্রুপের কর্ণধার রফিকুল আমীন কারাগারে ‘ভিআইপি বন্দি’ হিসেবে পরিচিত। কারণ গ্রেফতারের পর থেকেই তারা ঘুরেফিরে কারাগারের চেয়ে হাসপাতালেই বেশি সময় থাকছেন। মাঝে মধ্যে কঠোর সমালোচনার মুখে তাদের কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানেও থাকেন কারা হাসপাতালে। তাদের কখনোই কারাগারের সাধারণ সেলে থাকতে হয়নি। এ কারণেই এদের গায়ে লেগেছে ভিআইপি তকমা। এমন আরও অনেক প্রভাবশালী বন্দি আছেন যারা কারাবাস নয়, হাসপাতাল বাসে পার করছেন সাজার মেয়াদ।

 

এ ব্যাপারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সম্রাটের শারীরিক অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। তার কার্ডিয়াক সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। তাই তিনি হাসপাতালে আছেন। জি কে শামীমকে পাঠানোর পর করোনা ধরা পড়ে। আর রফিকুল আমীনের ডায়াবেটিস খুব বেশি ওঠানামা করছে তাই তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এদের নিরাপত্তা দিতে দৈনিক নিয়োগ করা হয় ২০০ কারারক্ষী। এতে কারা কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়।

 

তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কারা অধিদপ্তরের ঢাকা ডিভিশনের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) তৌহিদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কারা কর্তৃপক্ষ বন্দিদের হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু ছাড়পত্র দিয়ে ফেরত পাঠানোর দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। কারা কর্তৃপক্ষ প্রতি ১৫ দিন পর আসামিদের ফেরত পাঠানোর তাগাদা দিয়ে চিঠি পাঠাচ্ছে।’

 

কারা কর্তৃপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘কারাগারের অধীনে আমাদের এখানে একটি ইউনিট চলে। অসুস্থ হাজতি ও কয়েদিদের কারা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা অনুযায়ীই এখানে ভর্তি করা হয়। সুস্থ কাউকে এখানে থাকতে দেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই। কেউ সুস্থ হয়ে থাকলে কারা কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় তাকে নিয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা ছাড়া বা অসুস্থ নয় এমন কেউ থাকলে পরিচালককে বলব তাদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে।

 

সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে দেখা গেছে, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানকালে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর গ্রেফতারের পর মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কৃত হন ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। তার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র আইন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়। গ্রেফতারের পর তিনি কিছুদিন কারা হাসপাতালে ছিলেন। মাসখানেকের মধ্যেই ওই বছরের ২৪ নভেম্বর তিনি ‘বুকে ব্যথা’ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি হন। সে দফায় তিনি হাসপাতালে ছিলেন টানা ৮ মাস।

 

ভর্তির পর গত বছরের জুলাই পর্যন্ত তাকে ফেরত পেতে কারাগার থেকে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে ১১টি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে তখন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। সেখানে গিয়েও তিনি কারা হাসপাতালেই থাকেন।

 

সবশেষ ফের তিনি বিএসএমইউতে ভর্তি হন গত বছরের ২৪ নভেম্বর। এখন পর্যন্ত তিনি আছেন প্রিজন এনেক্স ভবনের কেবিনে। তাকে কারাগারে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে এ পর্যন্ত ১০টি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সবশেষ চিঠি দেওয়া হয় গত ১ জুন। কিন্তু তাকে ফেরত পাঠাচ্ছে না বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।

 

তবে কারাগারের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সম্রাটের শারীরিক অবস্থা আসলেই ভালো নয়। নানা ধরনের জটিলতায় ভুগছেন তিনি। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। একইভাবে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর গ্রেফতারের পর ঘুরেফিরে হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে আয়েশি সময় কাটাচ্ছেন বিতর্কিত ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া ওরফে জি কে শামীম। শেষ দফায় তিনি গত ১৫ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে ভর্তি হন।

 

‘বুকে ব্যথা’ অনুভব করলে অস্ত্র ও মাদক মামলার এই আসামিকে কারাগার থেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে দুই দিনের মধ্যে তাকে কারাগারে পাঠানোর কথা। কিন্তু এখনো তাকে ফেরত পাঠানো হয়নি। এ কারণে মে মাসে দুটি ও সবশেষ ১ জুন একটি চিঠি দেওয়া হয়। অভিযোগ আছে, মোটা টাকা খরচ করে অসুস্থতার ছুতায় হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে থাকেন জি কে শামীম।

 

পরিচিতজনদের সঙ্গে নিয়মিত দেখাসাক্ষাৎ করেন। সেখানে বসেই তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য চালাচ্ছেন। জামিনের জন্য তদবিরও করছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনো কোনো মহল থেকেই সবুজ সংকেত পাননি বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে। আগের দফায় গত বছরের ৪ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হলে ৭ বার চিঠি চালাচালির পর কারাগারে ফেরত পাঠানো হলেও কয়েদিদের সেলে থাকেননি তিনি। থেকেছেন কারা হাসপাতালে।

 

হাসপাতালে থাকার ক্ষেত্রে সম্রাট-শামীমকেও পেছনে ফেলেছেন ডেসটিনি গ্রুপের কর্ণধার রফিকুল আমীন। নানা বাহানায় তিনি টানা এক বছরের বেশি সময়ও হাসপাতালে আয়েশি সময় কাটিয়েছেন। শেষ দফায় গত ১১ এপ্রিল তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তাকে ফেরত দিতে এরই মধ্যে তিন দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। কারা নথিতে দেখা গেছে, ২০১২ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর রোগী হিসেবে বেশির ভাগ সময় রফিকুল আমীন বারডেম ও বিএসএমএমইউ হাসপাতালে থেকেছেন।

 

তিনি সর্বোচ্চ টানা ১ বছর ৪ মাস হাসপাতালে থেকেছেন। তখন তাকে ফেরত নিতে ২৭ বার চিঠি পাঠানোর বিষয়টি ফাঁস হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওই সময় তাকে কারাগারে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়েছিল বিএসএমএমইউ। কিন্তু বেশিদিন কারাভ্যন্তরে থাকেননি তিনি। আবার ফিরেছেন বিএসএমএমইউতে। তবে তিনি অসুস্থ বলে দাবি করেছেন তার স্বজন ও কারাগারের চিকিৎসকরা।

 

এদিকে অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষিকা জয়ন্তী রেজা হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আজম রেজাসহ ২০ থেকে ৩০ জন বন্দি সুযোগ পেলেই নানা ছুতোয় সব সময়ই বিভিন্ন হাসপাতালে কাটান বলে কারা নথিতেই তথ্য রয়েছে।

 

আইনবিদ ড. শাহদীন মালিক যুগান্তরকে বলেন, এই বেআইনি সুযোগ-সুবিধা থেকে স্পষ্ট, এরা অপরাধ জগতের ক্ষমতাধর ব্যক্তি। এদের প্রচুর অর্থবিত্ত আছে। কাদের সুপারিশে দীর্ঘ সময় ধরে তারা হাসপাতালে থাকছেন, তা-ও দেখা উচিত। যারা কারাগারে যাচ্ছেন বা আছেন, তাদের চিকিৎসাসেবা পেতে অনেক ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ লাগছে। এসব বন্ধে কারাগারের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির অনুসন্ধান করা উচিত।

 

::অনলাইন নিউজ::

Dainik Biswa

অভয়নগরে গরীবের একমাত্র ভরসা কেন্দ্র আলমদিনা হাসপাতাল

 

 

অভয়নগরে গরীবের একমাত্র ভরসা কেন্দ্র আলমদিনা হাসপাতাল

 

অভয়নগরে গরীবের একমাত্র ভরসা যশোরের অভয়নগর উপজেলার শিল্প ও বানিজ্য নগরী নওয়াপাড়ার আলমদিনা (প্রাঃ)হাসপাতাল, এটি এখন গরীবের চিকিৎসা-সেবা কেন্দ্র হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছে ৷  কর্তৃপক্ষ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সুনামের সহিত তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি ৷

 

দুরদূরান্তের বিভিন্ন গ্রাম-শহর থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসে এখানে ৷ বিশেষ করে অসহায় হতদরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের একমাত্র সেবাকেন্দ্র হলো আলমদিনা (প্রাঃ) হাসপাতাল ৷ সরেজমিনে দেখা গেছে , অত্যাধুনিক  যন্ত্রপাতির  দ্বারা অল্প খরচে বিভিন্ন প্রকারের পরীক্ষ৷ -নিরীক্ষা করা হয় ৷ করোনাকালিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২৪ ঘন্টা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সদ্বারা পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নামে মাত্র মূল্যে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে ৷

 

মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের প্রসূতি মায়ের অস্ত্রপাচারের  এক গরীব-অসহায় রোগী সুমি বেগম পরিপূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর’ দু’চোখে অশ্রু ঝরিয়ে মনের আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, একি মানবতা ?  আমি চিকিৎসা বাবদ কোন খরচ দিতে পারিনি অথচ  এই হাসপাতালের  কর্তৃপক্ষ বিনা খরচে সেবাদান করে আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাকে সুস্থ করে তুলেছেন ৷ আমার জীবনে যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন এ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের জন্য মন খুলে দোয়া করে যাবো ৷

আলমদিনা (প্রাঃ) হাসপাতালের স্বত্তাধিকারী মোঃ নাজমুল হুদা এ প্রতিনিধিকে জানান,  করোনাকালিন সময়ে অসহায় -হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি ৷ যারা অর্থের অভাবে চিকিৎসা হতে পারছেনা তাদেরকে বিনা খরচে সেবাদান করে থাকি , আমাদের এই হাসপাতালে অপারেশনসহ সব ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে ৷
অবশেষে আমি একটা কথা  বলতে চাই ,সেবাই আমাদের ধর্ম “ও সেবাই আমাদের কর্ম “এর বিকল্প কিছুই নেই ৷ মানুষের সেবার মাঝেই বেঁচে থাকতে চাই আজীবন ৷
মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল , বিশেষ প্রতিনিধিঃ