যমজ ভাইয়ের সঙ্গে যমজ বোনের বিয়ে, ফেসবুকে ছবি ভাইরাল

 

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমজ ভাইয়ের সঙ্গে যমজ বোনের বিয়ে হয়ে হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) বিয়ের এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুকে) ভাইরাল হলে সবাই তাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

গত বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) এমন এক বিয়ের ঘটনা ঘটেছে উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের নিকলা নয়াপাড়া গ্রামে। নয়াপাড়ার বেল্লাল হোসেনের যমজ মেয়ের সঙ্গে একই উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামের আব্দুর রশিদের যমজ ছেলের পারিবারিক মতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে  যমজদের বিয়ের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তেই।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামের আব্দুর রশিদের যমজ ছেলে আল আমিন ও আমিনুল মাস্টার্স পাস করে ঢাকায় ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানিতে চাকরি করেন। অন্যদিকে, নিকলা নয়াপাড়া গ্রামের বেল্লাল হোসেনের যজম মেয়ে ফাতেমা ও ফারজানা দুজনই মাস্টার্স শেষ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার এক লাখ টাকা করে কাবিনে যমজ বোনের সঙ্গে যমজ ভাইয়ের বিয়ে হয়।

এ বিষয়ে যমজ বোনের ফুফাতো বোনের স্বামী মো. রবিউল ইসলাম রবি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, পারিবারিক ভাবেই ঘটকের মাধ্যমে যমজ বোনের জন্য যমজ ছেলের সন্ধান পাওয়া যায়। মেয়েরাও মাস্টার্স শেষ করেছে আবার ছেলেরাও মাস্টার্স শেষ করে একটি কোম্পানিতে চাকরি করছে। কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে। পরে কঠোর লকডাউনের কারণে সীমিত পরিসরে বিয়ের কাজ শেষ করা হয়েছে।

মোঃ আল-আমিন শেখ টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব

অভয়নগরে মায়ের ওপর অভিমান করে স্কুল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

এনআইডি অথবা জন্ম নিবন্ধন কার্ড নিয়ে গেলেই পাবে করোনা টিকা : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 

 

 

তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে সন্তানদের প্রতি সচেতন হতে হবে-এমপি রতন

 

সর্বদলীয় সম্প্রীতি উদ্যোগ সুনামগঞ্জের উদ্যোগে “অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল কন্টেন্ট, ক্রমবর্ধমান অনলাইন আসক্তি, ও কোভিডকালে কিশোর-তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক নাগরিক সংলাপ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেছেন, বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশ শেখ হাসিনরা উপহার। সে উপহারের ফলেই ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বের সবকিছুর সাথে পরিচিত হচ্ছি।

আমাদের ব্যক্তিজীবনে ইন্টারনেটের গুরুত্ব অপরিসীম। ইন্টারনেটে রয়েছে আমাদের বিভিষ্যতের অপার সম্ভাবনা। মহামারী করোনার সময়ে বাংলাদেশ সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইন্টারনেটে অনলাইন ক্লাসের আয়োজন করে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ইন্টারনেটের যেমনি সুফল আছে, তেমনি আছে কুফলও।

তবে যারা এই সুবিধা নিজেদের ও সমাজের উন্নয়নের জন্য কাজে লাগাবে, তারাই এগিয়ে যাবে। ইন্টারনেটের গঠনমূলক ব্যবহার করে বহুদূর যাওয়ার স্বপ্ন আমাদের তরুণদের তাই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। তিনি সবাইকে করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে ভ্যাকসিনের কোন অভাব নেই। আপনারা রেজিষ্ট্রেশন করুণ। ভ্যাকসিন নিন। জীবন বাঁচান। এই সময়ে আমাদের সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।

সবাই মিলে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে। সর্বদলীয় সম্প্রীতি উদ্যোগ সুনামগঞ্জের প্রধান উপদেষ্টা, জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক আফিন্দির সভাপতিত্বে ও সমন্বয়কারী জামালগঞ্জ উপজেলা সুজনের সভাপতি মিসবাহ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সংলাপে ধারণাপত্র পাঠ করেন দিরাই উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিপা সিনহা।

অনলাইন আসক্তির মানসিক প্রভাব; পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, ও সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রভাব; সুষ্ঠু মানসিক বিকাশের চ্যালেঞ্জ; প্রতিকারের উপায়, পরিবারের সদস্য ও অন্যদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতলের ডা: মো. সৈয়দ ইনাম ওয়ালিদ, দিরাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: স্বাধীন কুমার দাস। করোনাকালে জীবনাচরণে পরিবর্তন; অনলাইন কিশোর-তরুণরা কোন ধরণের বিষয় নিয়ে বেশি সময় ব্যয় করে; অনলাইন আসক্তি ও তার শারীরিক-মানসিক প্রভাব; পরিবার ও সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব বিষয়ে কথা বলেন লিডিং ইউনিভারসিটির ছাত্র তামিম রহমান চৌধুরী ও মেহজাবিন পুতুল।

কিশোর-তরুণদের কী ধরণের পরিবর্তন করোনাকালে এবং অনলাইন আসক্তির ফলে ঘটতে দেখছে; তরুণদের পারিবারিক দায়িত্বশীলতার ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন; পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্কে কোন ধরণের প্রভাব দেখছে; বিষয়ে অভিভাবক সীতেশ কুমার তালুকদার কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হ্য্যঙ্গার প্রজেক্ট্র সুনামগঞ্জের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ মোজাম্মেল হক। অনলাইনে আলোচনায় অংশ নেন, মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ সৈয়দ মুহিবুল ইসলাম, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন, জামালগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আল-আজাদ, তাহিরপুর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা বেগম, বালাগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রজত চন্দ্র দাস ভূলন, দিরাই প্রেসক্লাব সভাপতি শামসু ইসলাম সরদার, বিশ্বম্ভরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার বর্মণ, সংবাদিক তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সাংবাদিক সৈদুর রহমান তালুকদার, বাবরুল হাসান বাবলু, সর্বদলীয় সম্প্রীতি উদ্যোগের উপদেষ্টা ও জগন্নাথপুর উপজেলার এ্যাম্বাসেডর সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম লাল, সহ সমন্বয়কারী মোর্শেদ মিয়া, সদস্য আব্দুস ছাত্তার, মোদ্দাছির আলম, এটিএম আজরফ মেহেদী হাসান উজ্জল, বিশ্বনাথ পিএফজি সদস্য মো: আসাদুজ্জামান প্রমূখ।

//মোঃ রনি মিয়া,  জগন্নাথপুর প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

এমপি সালাম মূশের্দী অসুস্থ রোগীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান

 

টাঙ্গাইলে নাগরপুরে টুং টাং শব্দে মুখরিত কামারের দোকানগুলো

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে টুং টাং শব্দেই যেন জানান দিচ্ছে আর কয়েকদিন পরেই ঈদুল আজহা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস সাইজ করতে ছুরি, চাপাতি, দা-বটি অত্যাবশ্যকীয়। সেগুলো সংগ্রহ ও প্রস্তুত করে রাখতে এখন সবাই ব্যস্ত। আর এর উপকরণ তৈরি ও শান বা লবণ-পানি দেয়ার কাজে প্রয়োজন কামারদের।

পশু কোরবানির দা, ছুরি ও চাপাতি সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এখন থেকেই মানুষ কামারের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। আবার দেখা যায় কেউ কেউ পুরানো সরঞ্জাম মেরামত অথবা শান দিয়ে নিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প।

পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলেও জানান কর্মকাররা। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে জমে উঠে এ শিল্প। শান দেয়া নতুন দা-বটি, ছুরি ও চাকু সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের সামনে। দোকানের জ্বলন্ত আগুনের তাপে শরীর থেকে ঝরছে অবিরাম ঘাম। চোখেমুখে প্রচণ্ড ক্লান্তির ছাপ, তবুও থেমে নেই তারা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি চলছে ব্যস্ততা।

উপজেলার নাগরপুর বাজারের হীরা কর্মকার ও কাউছার মিয়া বলেন, ‘এটা আমাদের পৈতৃক পেশা, আমি ৩৫ বছর যাবত এই কাজ করছি। প্রতি ঈদকে সামনে রেখে পাইকারী দোকানদার ও খুচরা ক্রেতাদের কাছে এই সময়ে আমাদের কদর বেশ ভালই থাকে। তবে এখন করোনার প্রভাবে অন্যান্য বছরের চেয়ে কাজের চাপ একটু কম হলেও দিন দিন কাজের চাহিদা বাড়ছে। আগে এই সময়টা থেকেই চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হত। এখন আর তা হতে হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে আমাদের অবস্থা একবারে খারাপ, দুইজন কর্মচারী দোকানে কাজ করে তাদের বেতন দিতে এখন আমি হিমশিম খাচ্ছি। সরকারিভাবে যদি কোন সহযোগীতা পাই তাহলে আমার অনেক উপকার হতো। তাছাড়া পরিবার চালানো আমার জন্য খুব উপকারে আসতো।’ উপজেলার নাগরপুর বাজারের মোঃ আক্তার জানান, বছরের অন্য দিনগুলোতে তেমন কাজ থাকে না। কিন্তু কোরবানির ঈদ এলে কাজের চাপ বেড়ে যায়।

দিনরাত কাজ করেও অবসর পাওয়া যায় না। করোনার আগে প্রতিদিন দোকানে ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় হতো। আর এখন ৫০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা আয় করা কষ্টকর। দোকানে গড়ে ২ জন করে কর্মচারী রাখতে হয়। একজন কর্মচারীর দৈনিক মজুরী ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা দিয়ে কিছুই থাকে না উল্টো লোকসান হয়। সামনে কুরবানির ঈদ উপলক্ষে কুরবানির পশু জবাই করার উপকরণ তৈরী ও বিক্রি করে কয়েকদিন আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

এ পেশার মানুষ সারাবছর কমবেশি লোহার কাজ করলেও ঈদুল আজহা সামনে রেখে বৃদ্ধি পায় তাদের কর্ম ব্যস্ততা। ভোর থেকে শুরু করে রাত অবধি চলছে তাদের রকমারি কর্মযজ্ঞ। দা আকৃতি ও লোহাভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, ছুরি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, চাকু প্রতিটি সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, হাড় কোপানোর চাপাতি প্রতিটি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং পুরানো দা-বটি, ছুড়ি শান দিতে বা লবণ-পানি দিতে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।

//মোঃ আল-আমিন শেখ, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

যশোরে ৬ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

 

 

মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের অর্থায়নে সেলাই মেশিন বিতরন

গজারিয়া উপজেলায় মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের অর্থায়নে স্থানীয় নারী দের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এসময় উপজেলার ৩৬ জন অনগ্রসর অসহায় সুবিধা বঞ্চিত নারী দের সমাজে আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষন শেষে তাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য আলহাজ্ব নাজমুল হোসেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদে ২০১৯/২০ অর্থ বছরে রাজস্ব তহবিলের আওতায় জেলার অনগ্রসর নারীদের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে আত্ন-কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলা পরিষদের গৃহীতি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ পর্যায় উপজেলার ৩৬ জন নারীকে প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষন দিয়ে তাদের মাঝে সেলাই মেশিন দেয়া হয়।

এ বিষয়ে নাজমুল হোসেন তার প্রতিক্রিয়া বলেন জননেত্রি শেখ হাসিনা মানবতার অগ্রদূত। তিনি বরাবর এ দেশের নারী জাতীর উন্নয়নে লক্ষ্যে তাদের স্বাবলম্বী করতে প্রতিনিয়ন নানা প্রকল্প হাতে নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের উত্তরনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। মুন্সীগঞ্জ মাটি ও মানুষের নেতা মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব মহিউদ্দিন আহাম্মদের দূরদর্শি দিকনির্দেশনায় এ প্রকল্প অত্যান্ত স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

উল্লেখ্য থাকে আলহাজ্ব নাজমুল হোসেন গজারিয়া উপজেলায় আসন্ন বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা করার প্রত্যাশা করেন বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

//সৈয়দ মোঃ শাকিল, মুন্সীগঞ্জ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

আজ শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা- স্থগিত

ঠাকুরগাঁওয়ে সেচ্ছাসেবকলীগ ট্রাফিক পুলিশকে ফেস শিল্ড ও মাস্ক উপহার দিয়েছে

 

ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র যখন ভ্যানচালক! করোনা পরিক্রমা

রাকিব ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্র। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট সে। করোনাকালে কঠোর লকডাউনেও ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। পরিবার ও নিজের হাত খরচের জন্য সামান্য আর্থিক চাহিদা পূরণ করতে সে অটোভ্যানের হান্ডেল হাতে তুলে নিয়েছে।

করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পরিবারকে সহযোগিতা করছে ওই কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী। তার কাছে প্রশ্ন ছিল কেন তুমি অটো চালাচ্ছো, সহজ-সরল উত্তর- স্কুল বন্ধ, তাই আব্বুকে বলে অটোভ্যানটি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছি। রাকিব টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার পৌর শহরের শিয়ালকোল এলাকার লবণ ব্যবসায়ী হাকিমের ছেলে। সে তার পাশের এলাকার ভারই দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

রাকিব বলে, করোনায় স্কুল বন্ধ। কী করব, পড়াশোনাও নেই। আমার বন্ধুরা মোবাইলে অনলাইন ক্লাস করে। কিন্তু আমার ফোন না থাকায় ক্লাস করতে পারি না। মাঝে মাঝে সহপাঠীদের ফোনে ক্লাস করি। করোনার কারণে সহপাঠীদের বাড়িতে যাওয়া যায় না। করোনাকালে অনেক শিক্ষার্থী অলস সময় পার করলেও কেন অটোভ্যান নিয়ে রাস্তায় বের হতে হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে রাকিব বলে, কয়েক মাস আগে আব্বুকে বলেছিলাম একটা স্মার্ট মোবাইল ফোন কিনে দেয়ার জন্য।

আব্বুর কাছে টাকা না থাকায় তার অটোভ্যান নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছি। এছাড়াও সংসার খরচে কিছু টাকা দিয়ে বাকি টাকা জমিয়ে একটা মোবাইল ফোন কিনে অনলাইন ক্লাস করব।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে অহরহ খোঁজ মেলে এমন শিশুর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে শিশু শ্রম বাড়ার পাশাপাশি স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। স্থানীয় অটো-ভ্যান চালকদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রত্যেক শিশু প্রথমে অটো-ভ্যান খেলার হাতেখড়ি হয় তাদের।

আমাদের মতো নিম্ন আয়ের সন্তানরা বেশি ভাগ সংসারের আর্থিক সংকট দূর করতে নিরুপায় হয়ে এমন কাজে করাতে বাধ্য করতে হয়। অটো-ভ্যান চালকরা আরও বলেন- তারপর এ সময়টা করোনাকালীন সময়। ওরা ঘরবন্ধি। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনার প্রতি তাদের কোন আগ্রহ নেই। এতে করে শিক্ষার্থী আরও অকালে ঝড়ে পড়ছে। অনলাইন ক্লাসের নামে ক্ষুদে ছাত্ররা মোবাইলে নানা ধরণের গেমসে আসক্ত হচ্ছেন। এছাড়া এমন অনেক হতদরিদ্র পরিবার আছে, যেখানে শিশু শিক্ষার্থীরা সংসারের খরচ চালাতে ভাড়ায় ভ্যানগাড়ি চালিয়ে বা অন্যান্য কাজকর্ম করে সংসারের হাল ধরে থাকে।

শুধু রাকিব নয়, তার মতো নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা করোনাকালে পড়াশোনা থেকে দূরে গিয়ে পরিবারের অর্থের যোগান দিচ্ছেন নানা ধরণের কাজ করে। উপজেলার পৌর শহর, গোবিন্দাসী বাজার, মাটিকাটা, নিকরাইল, সিরাজকান্দি বাজার, পাথাইলকান্দি (যমুনা) সেতু বাজারসহ বিভিন্ন ছোট-বড় হাটবাজার ঘুরে দেখা যায় রাস্তায় অহরহ কম বয়সের শিশুরা ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে, বেশি গতিতে গাড়ি চালিয়ে ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে দেখা গেছে শিশু চালক-যাত্রীদের।

অনেক অভিভাবক আজকাল নিজেই ভ্যানগাড়ির চাবি তুলে দিচ্ছেন তার সন্তানদের হাতে। উপজেলার ভারই দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালেেয় প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা এখন বাডীতে অলস সময় পার করছে। আমার প্রতিষ্ঠানটি প্রান্তিক এলাকায় হওয়ায় বেশীর ভাগ শিশুই হতদরিদ্র পরিবার থেকে এসেছে। রাস্তা-ঘাটে আমার স্কুলের অনেক শিক্ষার্থীকেই দেখি ব্যাটারিচালিত ভ্যান গাড়িতে যাত্রী কিংবা মালামাল পরিবহন করছে।

অভিবাভকেরা যদি সচেতন না হন, তবে কিছুদিন পর এই শিক্ষার্থীরা আর স্কুলে আসবে না। আমার মনে হয়, শিশুদের এ ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহিনুল ইসলাম জানান- বিষয়টি দুঃখজনক, করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকার কারণে ও পারিবারিক অসচ্ছলতায় অনেক শিশুকেই আজকাল এ ধরণের ব্যাটারি চালিত অটোভ্যান যানবাহনগুলো চালাতে দেখা যাচ্ছে।

এগুলো তো আমরা বন্ধ করতে পারি না। তবে, যেসব নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তাদের তালিকা হচ্ছে।

//মোঃ আল-আমিন শেখ, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বাগেরহাট।। করোনায় মৃত্যু ৩, আক্রান্ত ১৪৪

 

 

গ্রামীন নারী উদ্যোক্তাদের ‘তথ্য আপা’র হাত ধরে জয় হোক “লাল সবুজের”

 

লালসবুজ ডটকম মহিলা ও শিশু-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি গ্রামীন নারী উদ্যোক্তাদের মার্কেটপ্লেস। সম্প্রতি দেশের প্রযুক্তিনির্ভর লজিস্টিক সেবা প্রতিষ্ঠান পেপারফ্লাই ডেলিভারি পার্টনার হিসাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে লালসবুজ ডটকমের সাথে। লালসবুজ ডটকমের চেয়ারম্যান সদরুদ্দিন ইমরান এবং পেপারফ্লাইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান বিপণন কর্মকর্তা রাহাত আহমেদ সম্প্রতি এই সেবা দেয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি সাক্ষর করেছেন।

চুক্তি অনুসারে পেপারফ্লাই তাদের শক্তিশালী ও বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা দেশে গ্রাহকের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেবে লালসবুজ ডটকমের পণ্য। এই চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠানে লালসবুজ ডটকমের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক- রুবায়েত বিন আরিফ, চিফ অপারেটিং অফিসার (সি ও ও) মুহাম্মদ নাজমুল আহসান, সিনয়র সফটওয়্যার এক্সিকিউটিভ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান।

পেপারফ্লাইয়ের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার সেলস অ্যান্ড কি অ্যাকাউন্টস সাজ্জাদুল ইসলাম ফাহমি, এক্সিকিউটিভ সেলস অ্যাণ্ড কি এ্যাকাউন্টস আফসানা ইয়াসমিন।

এই অংশীদারীত্বের ব্যাপারে পেপারফ্লাইয়ের প্রধান বিপনন কর্মকর্তা রাহাত আহমেদ বলেন, গ্রামীণ নারীদের মাধ্যমে পরিচালিত লালসবুজ নারীদের সামাজিক ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা রাখবে, পেপারফ্লাই এর অংশ হতে পেরে গর্বিত।

চেয়ারম্যান সদরুদ্দিন ইমরান বলেন, লালসবুজ ডটকম নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে একটা বড় ভূমিকা রাখতে চায়। তাই অগনিত নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য ডিজিটাল ক্রেতাদের কাছে ইকমার্সের মাধ্যমে পৌঁছে দিয়ে নারীদের সাবলম্বী করাই লালসবুজ ডটকমের উদ্দেশ্য।

লালসবুজ ডটকম গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি মার্কেটপ্লেস, যা তথ্য আপা প্রকল্পের অন্তর্গত। এই প্রকল্প মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন করছে ‘জাতীয় মহিলা সংস্থা’। অর্থ মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্য ইনস্টিটিউট এই ইকমার্স প্ল্যাটফর্মের জন্য সকল কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।

১৪৭০ জন তথ্য আপার (তথ্য সেবা প্রদান কারী নারী কর্মী) মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী উদ্যোক্তারাও এই মার্কেটপ্লেসে তাদের পণ্যকে তুলে ধরেছেন।

২০১৬ সাল থেকে ডোরস্টেপ ডেলিভারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বমানের গ্রাহক সেবার মাধ্যমে পথ চলা শুরু করে পেপারফ্লাই। এ ছাড়াও তারা নিয়ে এসেছে এক ঘন্টায় মার্চেন্ট পেমেন্ট, স্মার্ট রিটার্ন, স্মার্ট চেক এবং আরো নানা সুবিধা।

পেপারফ্লাই তাদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যে কোন পণ্য পৌঁছে দিতে পারে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তে।

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব‍্যুরো//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় ১০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও অক্সিমিটার দিলেন – এমপি সালাম মূর্শেদী 

 

অভয়নগরের ভূমিহীন সলেমান প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ থেকেও বঞ্চিত

অভয়নগরের ভূমিহীন সলেমান প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকে বঞ্চিত হলেন , বঞ্চিত হলেন জোহরা বেগমসহ আরও অনেকে। নওয়াপাড়া পৌরসভায় হতদরিদ্র অসহায় গরীব সলেমান যুগ যুগ ধরে ০২নং ওয়ার্ডের আমিনুর মোল্যার মেহগনি বাগানে অস্থায়ী ভাবে ছাপড়া তুলে স্ত্রী-সন্তানাদি নিয়ে কষ্টে দিনানিপাত করছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২য় পর্যায়ে সোলেমানের মত উপজেলার আরও অনেকে জমি ঘরের জন্য লিখিত আবেদন করলেও রহস্যজনক কারণে তাদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে ৷
সলেমান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে দরখাস্ত দিলেও আমি ঘর-জমি পেলামনা। আমার বিষয়ে সঠিক তদন্ত করা হলে জানা যাবে কিভাবে জীবন যাপন করছি।
৬নং ওয়ার্ডের জোহরা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমি মিজানুরের বাড়ির এক কোনে পলিথিনের ছাপড়া তুলে বসবাস করছি। নেতা-কর্মীদের কাছে দ্বারস্থ হয়েও টাকা দিতে পারিনি বলে আমার কপালে ঘর-জমি জোটেনি।
স্থানীয় কাউন্সিলর মোঃ ওয়াদুদ শেখ সাংবাদিকদের বলেন, সলেমান একজন অসহায় ভূমিহীন ব্যক্তি, এটা সত্য। কেন তাকে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ২য় পর্যায়েও বাদ দেওয়া হয়েছে জানিনা।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমিনুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সলেমান নামে এক ব্যক্তির দরখাস্ত পেয়েছিলাম, কেন সে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে জানিনা।
উল্লেখ্য, সুবিধা বঞ্চিত ৫৩ হাজার ৩৪০টি পরিবারকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২য় পর্যায়ে বিনামূল্যে জমিসহ ঘর প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় রয়েছে ৮টি পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনীর ঘোষনার পর অভয়নগর উপজেলার পক্ষ থেকে ৮ জন উপকারভোগীর হাতে ঘরের চাবি , জমি ও ঘরের স্থায়ী মালিকানার কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়।
//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি//

অভয়নগরে একটানা কঠোর লকডাউন।। বিপাকে হতদরিদ্র, অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ ।।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার শিল্প ও বাণিজ্যিক নগরী নওয়াপাড়ার খেটে খাওয়া দিনমুজুর ও অসহায় হতদরিদ্র মানুষেরা এখন বিপাকে ৷ একদিকে রয়েছে দেশজুড়ে টানা লকডাউন অপর দিকে করোনা মহামারির আতংকে ৷ তাদের মনে প্রশ্ন জাগে এখন কি করবো ? কি খাবো ? কিভাবে  বাঁচবো আমরা ?
সারাদিন খেটে দিন মুজুর হিসেবে যে অর্থ উপার্জন করি তাতে খেয়ে পড়ে আল্লাহর রহমতে এক প্রকার ছেলে-মেয়েদের মুখে অন্ন যোগাতে পারছি  ৷ এখনতো এটাও বন্ধ হয়ে গেল ৷ অর্ধ বয়সী এক রিকশাওয়ালা এ প্রতিনিধিকে জানান ,আমরা দিন আনি দিন খাই , না আনলে  না খেয়ে থাকতে হয়  ৷ রিকশা যদি রাস্তায় বের করতে না পারি তাহলে আমরা খাবো কি?
ইজিবাইক চালক আলম জানায়,  অনেকেরই  কিস্তির মাধ্যমে  এই বাইকগুলো কেনা হয়েছে ৷ এখন আমরা উপার্জন করতে না পারলে কিভাবে কিস্তি পরিশোধ করবো ও পেটের অন্ন যোগাবো? ৷ চায়ের দোকানদার প্রতিবন্ধি ইব্রাহিম কান্নাস্বরে মনের কষ্টগুলো ব্যাখা করে বলেন, চায়ের দোকানের উপর আমার পরিবারের ভরণ-পোষণ চলে দোকান বন্ধ করলে কিভাবে বাঁচবো ? নাখেয়ে মরে যেতে হবে ৷
রাজশাহী , কয়রাসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার দূর-দুরান্ত থেকে আসা ঘাট শ্রমিকরা জানায় ,আমরা উপজেলার নওয়াপাড়ার বিভিন্ন ঘাটে কাজ করি, ব্যাচেলার হিসেবে ঘরভাড়া করে থাকি ৷ যদি কাজ করতে না পারি তাহলে , আমরা খাবো কি? ঘরভাড়া দিবো কিভাবে ?
তাছাড়া গ্রামের বাড়িতে  স্ত্রী ,ছেলে মেয়েরা আমাদের মুখপানে চেয়ে থাকে কখন বিকাশে টাকা পাঠাবে ৷ ক্ষূদ্র-ব্যবসায়ি মুদি দোকানদার বিভিন্ন পন্য, খাদ্যসামগ্রী বিক্রেতারা ক্ষোভ  প্রকাশ করে বলেন,  যদি দোকান খুলতে না পারি তাহলে আমাদের কি অবস্থা হবে? ৷ আমরাতো পথে নেমে যাবো ৷ সরকারি কর্মচারীদের তো কোন সমস্যা নেই , তারাতো মাস গেলে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন ৷
ঝালমুড়ি বিক্রেতা রেজাউল হোসেন বলেন, স্কুল মাদ্রাসা খোলা থাকলে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঝালমুড়ি বিক্রি করেছি ৷ এখনতো স্কুল-মাদ্রাসা বন্ধ আমার পরিবারে ৪/৫ জনের খোরাকি  কিভাবে যোগাড় করবো ? ৷ দীর্ঘ লকডাউনে সংকটে পড়েছেন  খেটে খাওয়া মানুষেরা ৷  মহামারী করোনাকালে এমনিতে  মানুষের আয় কমে গেছে ,  কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায়, চলাচলে বাঁধা নিষেধ আরোপ করায় চরম সংকটে  হাবুডুবু খেতে  হচ্ছে -দিনমুজুর, রিকশা-ভ্যান চালক, দোকান ও ঝাল মুড়ি বিক্রেতার মত অসংখ্য মানুষকে ৷
করোনাৱ শুরুতে  সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংস্থা , সংগঠণ,প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এমনকি ব্যক্তি পর্যায়ে ও গরীব ও খেটে খাওয়া মানুষের সহায়তায় অনেকেই এগিয়ে এসেছিলেন ৷ অর্থ ও খাদ্যসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছিল, কিন্তু এখন করোনা সংক্রমনের ঢেউ বহুগুণ বৃদ্ধি পেলেও লকডাউন বিধি নিষেধ দীর্ঘ হলেও কেউ আর তেমন ভাবে এগিয়ে আসছেন না প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের সহায়তায় ৷ ফলে তাদেরকে ঝুঁকি নিয়েই পেটের টানে বের হতে হচ্ছে ঘরের বাইরে ৷
সেখানে আয়ের নিশ্চয়তা না থাকলেও হয়রানি , শাস্তির অভাব নেই ,এমনিতে কাজ নেই বললেই চলে, অটো রিকশাচালকে যাত্রী পেলেও নানা ঝামেলার শেষ নেই ৷ পুলিশের বাঁধা , জরিমানা, হাওয়া ছেড়ে দেয়ার আশঙ্কায় থাকতে হয় ৷এভাবে দিন শেষে গাড়ি জমা, ব্যাটারি চার্জের টাকা পরিশোধ করে আসে উপার্জনের সামান্য কিছু অংশ ৷ এ অবস্থায় সামনে কঠোর লকডাউনে কি হবে সে চিন্তায় চোখে অন্ধকার দেখতে হচ্ছে তাদেরকে ৷ মহামারি করোনা মোকাবিলায় গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টার শেষ নেই ৷ দফায় দফায় লকডাউনের পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা ,চিকিৎসায় সর্ব শক্তি নিয়োগ করেও সামাল দিতে কঠিন হয়ে উঠেছে ৷ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ডভঙ্গ হচ্ছে প্রায়ই ৷
আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি সঠিক ভাবে মেনে চলা হলেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ঢিলে-ঢালা অবস্থা বিপদের ঝুঁকি বাড়িয়েছে ৷ শহর থেকে গ্রামে , সীমান্ত পেরিয়ে যেভাবে ছড়াচ্ছে তা আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে ৷ এ অবস্থায় লকডাউন সফল করার উপরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশেই  নির্ভর করছে ৷
এজন্য গরিব হতদরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিত করা অপরিহার্য ৷ ঘরে খাবার না থাকলে এটাযে আদৌ সম্ভব নয় সেটাতো জানা কথা ৷ তাই প্রশাসন থেকে খাদ্য সঙ্কটে বা বিভিন্ন সমস্যায় ৩৩৩ নাম্বারে কল করার কথা বলা হয়েছে কিন্তু এই ঘোষণা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা দেখা যায়নি ৷
প্রান্তিক পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি রাজনীতিবিদ, মসজিদের ইমাম,স্কুল শিক্ষক, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠণ, পাড়া মহল্লার ক্লাব ও ছাত্রদের সমন্বয়ে খাদ্য ও অর্থপ্রাপ্তির এই নিশ্চয়তার কথা প্রচার করা হলে সুষ্ঠুভাবে সহায়তা দানের ব্যবস্থা করা হলে লকডাউনে মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিত করা যেতে পারে ৷ এজন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ একান্ত জরুরী ৷
//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল , বিশেষ প্রতিনিধি//

‘‘কঠোর লকডাউনের‘‘ মেয়াদ ৭জুলাইর পরেও বাড়তে পারে

 

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী ১ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আবার বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দাকার আনোয়ারুল ইসলাম।

সোমবার দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আমাদের যেটা এক্সপিরেয়েন্স সেটা হলো- চাপাইনবাবগঞ্জ স্ট্রিক্টলি ব্লক করে দেওয়ায় সংক্রমণ অনেক কমে গেছে। সাতক্ষীরায় ইমপ্রুভ করেছে। যেখানে যেখানে আমরা মুভমেন্ট রেসস্ট্রিক্ট করে দিয়েছি সেখানে ইমপ্রুভ করেছ। সরকার যদি মনে করে আরও সাতদিন যেতে হবে, সেটাও বিবেচনায় আছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আগামী ১ জুলাই থেকে ৭ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে বের হওয়া নিষেধ।  

তিনি বলেন, এই সময়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। বিধিনিষেধ চলাকালে এবার কোনো মুভমেন্ট পাস থাকবে না।

‘জরুরি সেবা ছাড়া কেউ ঘর বের হতে পারবে না। জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব অফিস-আদালত সব বন্ধ থাকবে।’

খন্দাকার আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, লকডাউন, শাটডাউন এসব কিছু না, কড়া বিধিনিষেধ পালন করা হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে ৭ জুলাই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। বিধি-নিষেধ বাস্তবায়নে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি।

তিনি বলেন, আমরা সারাদেশের স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা ভিডিও প্রেজেন্টেশনে দেখছি দেশের একটা বড় অংশ রেড, অরেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে। কিছু বাস্তব কারণে ৩০ জুন পর্যন্ত করতে পারছি না। তবে ১ জুলাই থেকে ৭ জুলাই স্ট্রিক বিধিনিষেধ আরোপ হবে।

এই সাতদিন সাধারণ ছুটি কি না- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছুটি থাকবে কেন? নিষেধাজ্ঞা। লকডাউন আর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য আছে। সব বন্ধ করে দিতে পারবেন না। জরুরি সেবা চালু থাকবে।

পোশাক শিল্প বা রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা বন্ধ থাকবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ বিষয়ে আবার বসা হবে, হয় তো কালকেই (মঙ্গলবার) বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যাবেন।

বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন কৌশল সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, এরইমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আগামীকাল বা পরশুদিন আবার বসব। সেখানে বিস্তারিত আলাপ হবে।

প্রসঙ্গত করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তিন দিনের লকডাউনের প্রথম দিন আজ। চলবে আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে সব ধরনের গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। দোকানপাট ও শপিংমলও বন্ধ থাকবে।

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

নো মুভমেন্ট পাস: ১-৭ জুলাই পর্যন্ত থাকবে কঠোর বিধিনিষেধ

 

 

১.৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার জন্য হাজার মানুষের জনদূর্ভোগ

 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার খলিষখালী ইউনিয়নের দিক অভিমুখে শুক্তিয়া গ্রাম সংলগ্ন শুক্তিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিঃ মিঃ এই চিত্র । পথচারীরা জানান এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন তিন চার হাজার মানুষ চলাচল করে ।

এছাড়াও কয়েক শত কোমলমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে কাঁদায় পড়ে স্কুলে যাওয়া যেমন বন্ধ হয় তেমনি একইভাবে অনেক অভিভাবক বর্ষাকালে চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাতে চায় না।

ফলে শিশুদের লেখাপড়ার ক্ষতি হয়। এছাড়া হঠাৎ করে কেউ অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে রোগীকে নিতে গেলে কোন যানবাহন না পাওয়ায় বিকল্পভাবে বাঁশ কাঠ দিয়ে মাচান তৈরি করে কাঁধে করে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার প্রয়োজন হয়।

অনেক সময় যোগাযোগের সমস্যার জন্য রোগীকে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার পূর্বেই পথে মৃত্যু বরণ করেন। জনদূর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রশাসনসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।