যুক্তরাষ্ট্রের ৬ রাজ্যে ৩২২কি:মি: বেগে টর্নেডো, নিহত শতাধিক

//আন্তর্জাতিক অনলাইন নিউজ//

যুক্তরাষ্ট্রের ৬ অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ টর্নেডোর আঘাতে শুধু কেনটাকিতেই ৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

প্রায় ৩২২ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়া ঝড়ের কবলে পড়ে জুড়ে অসংখ্য বাড়ি, দোকান নষ্ট হয়েছে। খবর বিবিসির।

কেনটাকির বিভিন্ন জায়গায় চারটি টর্নেডো আছড়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। একটি টর্নেডো প্রায় ৩৬৫ কিলোমিটার জুড়ে আঘাত হেনেছে।

সব শহর মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে। কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার বলেন, আমি এমন বিধ্বংসী ঝড় দেখিনি।

কেনটাকিতে অর্ধশতাধিক মানুষ মারা গেছেন। সংখ্যাটা ৭০-এর উপরেও হতে পারে। দিনের শেষে ১০০ ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার থাকবে না।

বরিশালে আলোচিত বিয়ে: বর সুস্থ্য-সবল: কনের দুই হাতের কনুই পর্যন্ত নেই

বরিশালে আলোচিত বিয়ে:  ৫ বছর প্রেমের পর অন্যরকম ভালোবাসার বিয়ে বর সুস্থ-সবল মানুষ কনের দুই হাতের কনুই পর্যন্ত নেই। ৫ বছর প্রেমের পর বুধবার রাতে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন তারা। এমন এক জুটির বিয়ে জাকজমকভাবে সম্পন্ন হয়েছে বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী শঙ্করমঠ চত্বরে।

আমন্ত্রিত ছাড়াও উৎসুক অসংখ্য মানুষ এ বিয়ে উপভোগ করেন। বর সুব্রত মিত্র পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা কোডেক-এর মাঠ কর্মকর্তা। আর কনে ফাল্গুনী একটি বেসরকরী উন্নয়ন সংস্থায় মানবসম্পদ বিভাগে কর্মরত।

নবদম্পতি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তাদের বিয়েটা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর উদাহরণ হয়ে থাকবে। ফাল্গুনী সাহা জানান, ২০০২ সালে বিদ্যুৎপৃষ্ট হলে তার দুই হাতের কনুই পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়।

তখন তিনি স্কুলছাত্রী এতে তার জীবন থমকে যেতে দেননি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স সম্পন্ন করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন তিনি। স্কুলজীবন থেকে কর্মজীবন-কেউ তার হাত না থাকার বিষযটি বুঝতে দেননি। সুব্রত সাহা বলেন, ফাল্গুনীকে তিনি ছোটবেলা থেকে চেনেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকাবস্থায় তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার হাত না থাকাটাকে কোন সমস্যা মনে করেননি তিনি। সুব্রত মিত্রর বোন শ্রাবন্তী মিত্র বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে আয়োজনের কোন ঘাটতি ছিলনা। সকলের মানসিকতা তার ভাইয়ের মতো হলে সমাজটা বদলে যাবে। এই বিয়েটা একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে। শংকরমঠের সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব কর্মকার বলেন, দুই হাত নেই এমন একটা মেয়েকে বিয়ে করেছেন সুস্থ-সবল একজন ছেলে। তাদের ভালবাসার জয় হয়েছে। এ বিয়েটা একটা সামাজিক দৃষ্টান্ত হযে থাকবে।

//পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল প্রতিনিধি //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

স্বজনদের সঙ্গে দেখা না করেই ফিরতে হলো হরিপুরের সীমান্তে মিলন- মেলা থেকে

খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত গাছিরা

বরিশাল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এক সময় খেজুর গাছে ভরপুর ছিল শীত আসলেই ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গাছিরা। বিকেল হলেই গাছে হাঁড়ি বসাতেন আবার সকাল হলে রস সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে আসতেন।

কেউ কেউ বাজারে রস বিক্রি করতেন আবার কেউ স্বজনদের বাড়িতেও পাঠাতেন। কালের বিবর্তনে এসব এখন ইতিহাসের পাতায় জড়ো হচ্ছে। হারিয়ে যেতে বসেছে গাছ। তবে গত কয়েক বছর ধরে বদলে গেয়েছে বরিশাল  উপজেলার চিত্র। প্রতিবছর শীতে চাহিদা বাড়ছে  খেজুরের রসের । রস কিনতে বাগানে ভিড় করেন বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। শীতের প্রতিটি সকালেই এই বাগানগুলোতে লেগে থাকে রসমেলা উৎসব। প্রকৃতিতে বইছে শীতের আগমনী বার্তা। সকালের শিশির ভেজা ঘাস আর হালকা কুয়াশায় প্রস্তুত হচ্ছে প্রকৃতি।

একইসঙ্গে খেজুরের রস সংগ্রহে প্রস্তুত হতে দেখা গেছে বরিশাল উপজেলার  গাছিদেরও। সরেজমিনে ঘুড়ে উপজেলা দেখা  যায়,১০ থেকে ১৫ টি খেজুরের গাছ নিয়ে গড়ে ওঠে এক একটি বাগান। শীত আসলে প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দারা ভিড় করতে থাকেন বাগানে। এ বছরও সেই আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে ছোট বড় বাগানগুলিতে। রস সংগ্রহের জন্য এখন গাছকে বিশেষ পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই রস সংগ্রহ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন গাছিরা।

এদিকে ঝালকাঠি  উপজেলার পৌরসভা এলাকার পোনাবালিয়া  গ্রামের  খেজুরের বাগানের খেজুরের রস সংগ্রহকারী মিন্টু মিয়া বলেন,তিনি কয়েক বছর ধরে এই বাগান থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করে এলাকার বাজারে বিক্রি করে থাকেন। তাই তিনি শীতের আগমনে খেজুর গাছের পরিচর্যা করছেন। তিনি প্রতি বছর শীতের শুরু  থেকে শেষ পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করে থাকেন।শীতের সময় খেজুরের  রস বিক্রি করে স্বাচ্ছন্দ মতোই চলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ২০ দিন হয়েছে কাজ শুরু করেছি। গাছের ময়লা ও অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছেঁটে ফেলা হয়েছে। ধারালো দা (গাছিদা) দিয়ে খেজুর গাছের সোনালী অংশ বের করে (যাকে বলে চাঁচ দেওয়া) নোলন স্থাপনের কাজও শেষ। কিছুদিন পরই গাছে লাগানো হয় মাটির পাতিল। এরপরই শুরু হয় সুস্বাদু খেজুর রস সংগ্রহের কাজ। তা দিয়ে তৈরি হবে নানা ধরনের শীতের পিঠা ও পায়েস।

মিন্টু মিয়া আরও বলেন, গাছ একবার ছাঁটলে তিন-চার দিন রস সংগ্রহ করা যায় এবং পরবর্তীতে তিন দিন শুকাতে হয়। এভাবে কাটলে গাছের রস সুমিষ্ট হয়। রস সাধারণত নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সংগ্রহ করা যায়। রস সংগ্রহের পর হাড়ি পরিষ্কার করে রোদে শুকাতে হয় অথবা আগুনে ছেকে নিতে হয়। এতে সংগৃহীত রসে গাঁজন বন্ধ হয়।

ঝুঁকি নিয়েই কোমরে রশি (দড়ি)বেঁধে গাছে ঝুলে রস সংগ্রহের কাজ করেন গাছিরা। প্রতিদিন বিকেলে ছোট-বড় মাটির হাঁড়ি গাছে বাঁধা হয়, আর সকালে রস সংগ্রহ করা হয়। কেউ কেউ কাঁচা রস এলাকার বিভিন্ন স্থানে ও হাটে-বাজারে খাওয়ার জন্য বিক্রি করেন। আবার কেউ কেউ সকালেই এই রস দিয়ে নানান ধরনের পিঠা ও পায়েস তৈরি করেন।

//পলাশ চন্দ্র দাসঃ বরিশাল প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বাগেরহাটের মোংলায় কোটি টাকার অবৈধ বিদেশি কাপড় জব্দ করেছে কোষ্টগার্ড

আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটে যৌতুক নিয়ে ২০ দিনের কন্যাকেও বিয়ের চিন্তা

//অনলাইন নিউজ//

আফগানিস্তানে শিশুদের বিয়ে দেওয়ার হার চরম আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর। সেখানকার পরিস্থিতি এতোটাই ভয়ারহ হয়ে উঠেছে যে পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের বিনিময়ে ২০ দিন বয়সী শিশুকেও ভবিষ্যতে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন।

দেশটির বাল্য বিবাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হেনরিয়েটা ফোর বলেন, বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে আমার জানতে পেরেছি যৌতুকের বিনিময়ে ২০ দিন বয়সী শিশুকেও ভবিষ্যতে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

এমনকি তালেবান দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখলের আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে শুধু হেরাত ও বাঘদিস প্রদেশেই ১৮৩টি বাল্য বিবাহ ও ১০টি শিশু বিক্রির ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে ইউনিসেফ। এসব শিশুদের বয়স ছয় মাস থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

এদিকে ইউনিসেফের ধারণা, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ২৮ শতাংশ আফগান নারীরই ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি, চলমান খাদ্য সংকট ও আসন্ন শীতকাল ধুঁকতে থাকা আফগান পরিবারগুলোকে আরও ভয়াবহ সংকটে ফেলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আফগান পরিবারগুলোকে দারিদ্রতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং তারা শিশু শ্রম ও শিশুদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার মতো চরম উপায় বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

বাগেরহাটের রামপালে মামলা করে বিপাকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী এক মহিলা ও তার পরিবার। সরেজমিনে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা তদন্তে গেলে বিবাদী পক্ষের লোকজনের চাপের মুখে পড়েন বাদী মুসলিমা বেগম গং।

জানা গেছে, উপজেলার পেড়িখালী গ্রামের জুলফিকার ইজারাদারের স্ত্রী মুসলিমা বেগম গং শশুরের ওয়ারিস সূত্রে প্রাপ্ত পেড়িখালী ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ৯৯ নং পেড়িখালী মৌজার এস, এ ৯৫ নং খতিয়ানের ১১ দাগের .৫০ শতক জমি ভোগদখলে আছেন। ওই জমির উপর একটি বসতঘর বেধে বসবাস ও করছেন। ওই এক খন্ড জমি ছাড়া তাদের আর কোন জমি নেই বলে মুসলিমা দাবী করেন।

তিনি আরও জানান, ওই জমি বিবাদী পক্ষ দাবি করায় শান্তি ভঙ্গের আশংকায় তিনি বিজ্ঞ আদালতের স্বরনাপন্ন হয়েছেন। এ বিষয়ে বিবাদী ওমর ফেরদৌস এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ওই জমি আমাদের। ওরা অহেতুক আমাদের হয়রানি করছে।

তদন্তের দায়িত্বে নিয়োজিত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শেখ মাসুদুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, নালিশ জমিতে সরেজমিনে গিয়ে একটা বসত ঘর দেখা গেছে। উভয়ের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলীয় জমিতে বসবাস করতে পারে তার দাবী জানান।

ঋণের বোঝা কাধে নিয়ে শুটকি আহরনে সুন্দরবনের চরে পৌঁছেছে রামপালের জেলেরা

আমল থেকে সমুদ্রগামী শুটকি পল্লীর জেলারা জীবনের ঝুকি মাথায় নিয়ে মৎস্য আহরণ করলেও নানা প্রতিকুলতায় ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারেনি রামপালের জেলে পরিবারগুলো। বরং দিন দিন তাদের অবস্থার অবনতি ঘটেছে।

ক্রমবর্ধমান ক্ষতির মুখে ইতিমধ্যে পুজি ও জাল-নৌকা হারিয়ে পেশা হারিয়েছেন। আবার অনেকে চড়াহারে মহাজনদের সুদের মাশুল গুনে এ পেশায় টিকে থাকার জন্য কঠোর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। জানাগেছে, ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা শুটকি পল্লীর কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে মগ বা সন্দীপ ও চট্রগ্রামের উপকূলীয় জেলেরা সুন্দবনের চরে অস্থায়ী বাসা তৈরী করে মৎস্য আহরণ করতো।

ঋণের বোঝা কাধে নিয়ে শুটকি আহরনে সুন্দরবনের চরে পৌঁছেছে রামপালের জেলেরা

আশির দশ থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ফিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালীর জেলেরা সুন্দরবন এলাকায় শুটকির জন্য বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকায় মৎস্য আহরণ শুরু করেন। সেই থেকে নানান প্রতিকূলতার মধ্যে জেলেরা মৎস্য আহরণ করে আসছে।

জেলারা ডাঙ্গায় বাঘ, জলে কুমির-হাঙ্গর, বনদস্যু-জলদস্যুর উৎপাত ও বনরক্ষীদের হয়রানীর মধ্যে ও তাদের পেশা টিকিয়ে রেখেছেন। এর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৮/২০১৯ অর্থবছরে ৭ হাজার ৩২৫ জন শুটকি পল্লীর জেলেদের কাছ থেকে ২ কোটি ৪৬ লক্ষ ৬৭ হাজার ৮১৯ টাকা বনবিভাগ রাজস্ব আদায় করেন।

২০১৯/২০২০ অর্থবছরে ৭ হাজার ৭৮৭ জন শুটকি পল্লীর জেলেদের কাছ থেকে ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ৪৮ টাকা সরকারিভাবে আদায় করা হয়েছে। যা বিগত বছরের তুলনায় বেড়ে ২৭ লক্ষ টাকারও বেশী রাজস্ব আদায় হয়েছে। ২০২০/২০২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২২ লক্ষ টাকা।

এবারও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সমপরিমান কিংবা তার চেয়ে বেশী রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে বলে বনবিভাগ সূত্রে জানাগেছে।

সরকার ও বনবিভাগের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা, সুন্দরবনের দস্যুমুক্ত করায় ও বনবিভাগের অসাধু সদস্যদের হয়রানী কিছুটা বন্ধ হওয়ায় এবং নজরদারী বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দবন ও উপকূলীয় শুটকী পল্লী থেকে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাগেরহাট জেলার রামপাল, মোংলা, শরনখোলা ও মোড়েলগঞ্জ এলাকার প্রায় ৫ শতাধীন বহরদার ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও কয়েকশত জেলে সাধারণত সুন্দরবন থেকে মৎস্য আহরণ করে থাকেন।

প্রতি জেলে বহরদার সুদে মহাজনদের কাছ থেকে সর্বনি¤œ ৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে থাকেন। এতে ৫ শত জেলে বহরদারের বিপরীতে সুদে মহাজনদের কাছ থেকে অবৈধ পন্থায় ৫ কোটি টাকারও বেশী ঋণ নিতে হয়।

ওই ঋণের বিপরীতে প্রতি লাখে সুদ গুনতে হয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। অথচ তফশীলী ব্যাংক থেকে জেলেদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা হলে তাদের অনেক সাশ্রয় হয় বলে জেলেরা জানান। জেলেরা আরও জানান দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে সমুত্র উপকূলীয় এলাকায় মৎস্য আহরণ করে সরকারকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব দিলেও জেলেদের ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি।

মৎস্য সমিতির মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়ায়, চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী বা ভাসমান হাসপাতাল না থাকায় ঝড় ও জলোচ্ছাস থেখে রাক্ষারজন্য সাইক্লোন সেল্টার ও সুপেয় পানি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জেলেদের।

গত ৪০ বছর ধরে সরকার যায়, সরকার আসে কিন্তু কোন সরকারই তাদের কথা রাখেনি। বিগত ও বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী এমপি ও মন্ত্রীরা এবং সরকারে উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আশ্বাসের পর আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কেউ তা কখনও পূরণ করেননি।

সমুদ্রগামী জেলে পল্লীর সভাপতি ও রামপাল সদরের বাসিন্ধা শহিদ মল্লিক জানান, প্রতিবছর আমরা বিভিন্নভাবে ঋণ করে সমুদ্রে যাই। সরকারিভাবে আমরা কোন সাহায্য সহযোগীতা পাই না।

প্রতি বছর মন্ত্রী-মিনিষ্টার ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা গিয়ে আমাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের জন্য আশ্বাস প্রদান করেন। আজও পর্যন্ত আশ্বাসের কোন সুফল আমরা পাইনি। সুন্দরবনের জলদস্যু-বনদস্যুর উৎপাত ও মুক্তিপন আদায়সহ আসাধু বনরক্ষীদের দৌরত্ব কিছুটা বন্ধ হলেও এখনও সীমাহীন সমস্যায় জর্জরিত আমরা।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রতিবছর জীবনের ঝুকি নিয়ে সমুদ্র থেকে মাছ ধরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব সরকারকে দেই। কিন্তু আমরা সহজ শর্তে কোন ঋণ পাইনা, চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, স্যানিটেশনের ব্যবস্থা নেই, সুপেয় পানির অভাব। এমনকি প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় আশ্রয় নেওয়ার মত কোন ব্যবস্থা ও নেই।

জেলেদের সকল সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণসহ ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানান। এ বিষয়ে সেভ দ্যা সুন্দবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি জানান, সুন্দরবন আমাদের প্রকৃতিক রক্ষা কবজ।

ঝড়-জলোচ্ছাস থেকে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মায়ের মত আগলে রেখেছে। কিন্তু আমাদের লোভের বলি হয়ে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ এ বন। এ বনকে রক্ষা না করলে আগামীতে এ এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে বিপন্ন হতে পারে। এজন্য বনের বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম রক্ষায় সরকারি বেসরকারীভাবে সকলকে সমান উদ্যোগ গ্রহণ করে এগিয়ে আসতে হবে।

জেলেরা যাতে বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করে শুটকীর জন্য মৎস্য আহরণ করতে পারে সেজন্য বনবিভাগের ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য তিনি সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবী জানান।

এ বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের ডিএফও মুহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন জানান, সুন্দরবন একটি ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট। এ বনকে আমাদের বনবিভাগের চৌকষ বাহিনী দিয়ে নজরদারীর আওতায় আনা হয়েছে। এরই অংশ হিসাবে গোটা সুন্দরবনে স্মার্ট প্যাট্রলিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালসহ অন্যান্য পেশাজীবিরা নির্বিগ্নে বনজ সম্পদ আহরণ করতে পারে সেজন্য বনবিভাগের পক্ষ থেকে সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বনের সুরক্ষা নিশ্চিতে তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

//এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব

বাগেরহাটের রামপালে মাদরাসার গাছ কেটে আত্মসাতের অভিযোগ

 

বাগেরহাট রামপালে র‍্যাবের অভিযানে জ্বীনের বাদশা গ্রেফতার

বাগেরহাটের রামপালে প্রতারনা করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেওয়া কথিত জ্বীনের বাদশাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬।

আটক জ্বীনের বাদশা রামপাল উপজেলার উজলকুড় ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের মৃত সোবহান ঢালীর ছেলে হানিফ ঢালী (৩৫)। রবিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় র‍্যাব সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের পুলিশ সুপার কোম্পানি কমান্ডার আল আসাদ মো: মাহফুজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বাগেরহাটের রামপাল উপছেলায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র জ্বীনের বাদশার সন্ধান মেলে। যারা গভীর রাতে জ্বীনের বাদশা ও পীর দরবেশ সেজে বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারনা করে বিকাশের মাধ্যমে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয় ।

র‌্যাব-৬ এর একটি আভিযানিক দল ওই গ্রুপটির প্রতারনা মূলক কার্যক্রমের উপর নজরদারী বৃদ্ধি করে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৬ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার(২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় রামপাল উপজেলার ফয়লাহাট এলাকা থেকে কথিত জ্বীনের বাদশা আসামী হানিফ ঢালী (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তার কাছ থেকে প্রতারনার কাজে ব্যবহৃত ১০টি সীমকার্ডসহ ১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী হানিফ ঢালী তথাকথিত জ্বীনের বাদশা ও পীর দরবেশ সেজে প্রতারনা করে বিভিন্ন মানুষকে সর্বশান্ত করার বিষয়টি স্বীকার করে। ভিকটিমসহ ভিকটিমের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ক্ষয়ক্ষতি হবে মর্মে ভিকটিমের নিকট থেকে প্রতারক হানিফ ঢালী বিভিন্ন সময় একাধিক বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে প্রতারনা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। র‌্যাব ৬ এর একটি আভিযানিক দল এ প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যহত রেখেছে।

//এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

৬৪ জেলায় একযোগে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকরিজীবী জাতীয় ফোরাম

 

যশোরের জলাবদ্ধ এলাকায় মৃতের সৎকার নিয়ে দেখা দিয়েছে মহাবিড়ম্বনা

 

যশোর জেলার যশোর সদরের একাংশ, অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুরের বৃহদাংশ এবং খুলনা জেলার ফুলতলা ও ডুমুরিয়ার কিছু এলাকা নিয়ে ভবদহ এলাকা।অত্র এলাকার ২৭ টি বিলের পানি উঠানামা করার জন্য ষাটের দশকে অভয়নগরের ভবদহ নামক স্থানে তৈরি হয় স্লুইসগেট। নদীর উপর তৈরীকৃত স্লুইসগেটের কারণে নদীর স্বাভাবিক জোয়ারভাটা বাঁধাগ্রস্থ হওয়ায় আশির দশক থেকে নদীতে পলিপড়া শুরু করে।ফলে শ্রী,হরি,টেকাসহ সকল নদীতে পলিজমে নদীগুলো ভরাট হয়ে যায় এবং শুরু হয় স্থায়ী জলাবদ্ধতা।

গত কয়েকদশক ধরে ভবদহ এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়ে আসছে এবং এবছরও তার ব্যাতয় ঘটেনি।গত সেপ্টেম্বর -২০২১ মাসের কয়েকদিনের অতিবৃষ্টির জন্য অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর, ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার ২৭ টি বিলের পানি প্লাবিত হয়ে ৮০ টি গ্রামের ৩ লক্ষাধিক লোক স্থায়ীভাবে পানিবন্ধী বসবাস করছেন। বদ্ধপানি বাড়ি-ঘর,রাস্তা-ঘাট,স্কুল-কলেজ,মসজিদ-মন্দিরে অবস্থান করায় উক্ত এলাকায় বসবাস যেমন অনুপযোগী হয়েছে তেমনি স্কুল কলেজে, মন্দির- মসজিদে পানি থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম চালানো ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনওঅসম্ভব হয়ে পড়েছে ।

সবচেয়ে বেশি বিপদ হচ্ছে কেউ নিকট আত্মীয় কেউ মারা গেলে। চারিদিকে কোথাও হাঁটু কোথাও কোমর সমান পানি থাকায় মৃতের দাফন-কাফন করার জন্য পাওয়া যাচ্ছে না কোন কবরস্থান, শশ্মান বা সমাধি ক্ষেত্র। বাড়ির পাশের কবরস্থান,সমাধি ক্ষেত্রে হাঁটু বা কোমর সমান পানি থাকায় মৃতের সৎকার নিয়ে দেখা দিয়েছে মহাবিপদ ফলে মৃতের স্বজনদের ভিতর বিরাজ করছে চাঁপা ক্ষোভ ও কান্না।কারণ হিন্দু মুসলিম উভয়কেরমৃত মানুষ দাফন করার জন্য পারিবারিক গোরস্থান ও সমাধিক্ষেত্র বাড়ি থেকে কয়েক মাইল দূরে। প্রথমে উঁচু জায়গা খুঁজে বের করা তারপর আত্মীয় স্বজন,পাড়াপ্রতিবেশীদের দাফন সুসম্পন্ন। একটা দীর্ঘসূত্রিতা!ফলে মৃত মানুষকে নিয়ে করতে হচ্ছে অনাঙ্খিত টানা হেচড়া।মৃত্যুর পর মৃতের প্রাপ্ত সম্মান টুকু দিতে পড়তে হচ্ছে নানা ধরনের জটিলতায়।

আজ ২২ অক্টোবর-২০২১ রোজ শুক্রবার যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার ১৫ নং কুলটিয়া ইউনিয়নের হাটগাছা গ্রামের প্রাক্তন মেম্বর খোকন মন্ডলের পিতা কালীপদ মন্ডল (৯০) মৃত্যু বরণ করেন। মৃতকালে তিনি পুত্র,নাতিনাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।কিন্তু মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার জন্য উপরে উল্লেখিত সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হয়ে নিকট আত্মীয়রা হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছেন মৃতের বিড়ম্বনা।

মৃত ব্যক্তির নাতি মনিরামপুর উপজেলার ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হীরকজ্যোতি বলেন,আমার ঠাকুরদা,আমার চোখে দেখা একজন সহজ, সরল, সত্যবাদী, ঝুঁকি-ঝামেলামুক্র পরিচ্ছন্ন মানুষ।

স্বাভাবিকভাবেই তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুর কাছে সমর্পণ করলেন। কষ্ট একটাই- মিথ্যে আশ্বাস নিয়ে পরপারে চলে গেলেন। তিনিও মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত ছিলেন, ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে। কিন্তু তিনি দেখে যেতে পারলেন ভবদহ এলাকার স্থায়ী জলাবদ্ধতার সমাধান।ফলে অনেকটা মনকষ্ট নিয়েই চলে যেত হলো এই সুন্দর পৃথিবী থেকে।

তিনি আরও বলেন,ধারে-কাছে এতো বেশি বসতভিটার মালিক আর কেউ ছিলেন বা আছেন কিনা জানিনা। অথচ মৃত্যুর পর উনাকে সমাহিত করার মতো উঁচু জায়গা বাড়ির আশেপাশে কোথাও শুকনো নেই। ফলে বাড়ি থেকে প্রথমে নৌকায় করে তারপর কাঁধে করে ২ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে হেলারঘাট নামক স্থানে সৎকার করতে হচ্ছে। শুধু কি তাই মৃতের দাফনের জন্য শুকনো কাঠও সংগ্রহ করতে হচ্ছে চড়াদামে। এরপরে আরও আছে অন্তেষ্টিক্রিয়ার ঝামেলা। এটাই যেন ভবদহ এলাকার জলভাসী মানুষের ভবিতব্য ও বাস্তবতা!

//নিজস্ব প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব

পদ্মা ও মেঘনা নামে আরও দুটি বিভাগ হবে: প্রধানমন্ত্রী

 

ভবদহের জলাবদ্ধতার জন্য মৃত মানুষের দাফন নিয়ে দেখা দিয়েছে মহাবিপদ

 

যশোর জেলার সদরের২৬ টি বিলসহ অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার ২৭ টি বিলের পানি অভয়নগর উপজেলার ভবদহ নামক স্থানে অবস্থিত ২১, ০৯ ও ০৬ ভেন্টের স্লুইসগেটের মাধ্যমে অপসারিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হতো।

কিন্তু কালের বিবর্তনে নদীর নাব্যতা হারানোর ফলে উল্লেখিত স্লুইসগেটসমূহ পানি অপসরণের কার্যকারী ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে আশির দশকে শুরু হওয়া সমস্যা আজ একাবিংশ শতাব্দীতে বিষবৃক্ষের ন্যায় মহীরুহ ধারণ করছে।

বিভিন্ন সময়ের অতিবৃষ্টির জন্য অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর, ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার ২৭ টি বিলের পানি প্লাবিত হয়ে দশ লক্ষাধিক লোককে স্থায়ীভাবে পানি বন্ধী করে রাখে এবং বদ্ধপানিতে বাড়িঘর,রাস্তাঘাট,স্কুল কলেজ মসজিদ-মন্দিরে অবস্থান করায় অমানবিক জীবন যাপন করতে হয়। এমনি কি মানুষ মারা গেলে দাফন করা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়।যার ফলে হিন্দু মুসলিম উভয়কেই মৃত মানুষ দাফন করতে গিয়ে মহা বিপদের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

গতকাল যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের আম্রঝুটা গ্রামের আব্দুল রাজ্জাকের স্ত্রী রোকেয়া বেগম আকষ্মিকভাবে মৃত্যু বরণ করেন।মৃতের বাড়ির আশেপাশে এবং নির্ধারিত পারিবারিক কবরস্থানে কোমর সমান পানি প্রায় এক মাসের অধিক সময় যাবত স্থায়ীভাবে অবস্থান করছে এবং বাড়ির উঠানে হাঁটু সমান পানি। বিধায় বাড়ির নির্মাধীন বিল্ডিংয়ে গোসল করানো হয়।কিন্তু পারিবারিক কবরস্থানে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে থাকায় দূরে শুকনো ও উঁচু জায়গায় অবস্থিত গোষ্ঠীর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মরহুমের ছোট ছেলে কুলটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর আব্দুর রাজ্জাক কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমার বসতবাড়ি এবং কবরস্থান পানিতে প্লাবিত থাকায় মৃত মাকে সৎকার করতে চরম হিমশিম খেতে হয়েছে।

তিনি ক্ষোভের সাথে আরও বলেন, আজ নিজের মাকে নিজস্ব কবরস্থানে না রাখতে পেরে এবং সুষ্ঠু পরিবেশে দাফন করতে না পারায় আমাদের পরিবারের মাঝে একটা ঝড় বয়ে গেল। যা এই এলাকার গত কয়েক বছরের বাস্তব ও নির্মম চিত্র।

//নিজস্ব প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব

ঢাকা রেঞ্জের মধ্যে শ্রেষ্ঠ গাজীপুরের পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ

 

 

৩ জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে চট্টগ্রামে

বুধবার গভীর রাতে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায়  উপজেলার জোড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় গ্রামে একই পরিবারের তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

নিহতরা হলেন— মুদি দোকানদার বাবা একই এলাকার মোস্তফা (৫৮), তার স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম (৫০) ও ছেলে আহমদ হোসেন (২২)।

এ ঘটনায় নিহত মোস্তফার আরেক ছেলে সাদ্দামকে (২৬) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে বাবা-মা ও ছেলের গলাকাটা মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন।

জোড়াগঞ্জ থানার ওসি নুর হোসেন মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হবে। তবে তাদের কেন হত্যা করা হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

//চট্টগ্রাম ব্যুরো//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

রানীশংকৈলে একসাথে এক পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু