সিলেটে টিলা কাটার প্রতিবাদে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি: থানায় জিডি

 

অবৈধভাবে সিলেটের টিলা কেটে বিক্রি করেযাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, স্থানীয় এক সাংবাদিক এর  প্রতিবাদ করায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ক্লীন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মো. মোহন আহমেদকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি গত ৩ মার্চ শনিবার সিলেট মডেল কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন সাংবাদিক মো. মোহন আহমেদ। যাহার নং-২৬৬ (৩.৪.২০২১ইং)। তিনি সদর উপজেলা ৫নং টুলটিকর ইউনিয়ন বালুচর আল্ ইসলাহ্ এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি রায়নগর দর্জিবন এলাকায় বসবাস করছেন।

তিনি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ সাংবাদিক রিপোর্টার্স ক্লাব সিলেট জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক, দৈনিক সিলেটের দিনরাত, দৈনিক সিলেটের সময়, সিলেট ফোকাস টিভি প্রতিনিধি ও ক্লীন সিলেট সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। সাধারণ ডায়েরী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে ৮টা ১৪ মিনিটের দিকে গাজী রহমান ফেইসবুক আইডি থেকে মোহনকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয়। বালুচর এলাকায় যদি মোহনকে, কখনও তার সামনে পড়ে সে মোহনের হাত কেটে দেবে, আর সে তার দুই চোখ অন্ধ করে দেবে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মেসেজ পাঠায়।

 

এদিকে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন দৈনিক সিলেটের সময়, দৈনিক সিলেটের দিনরাত পত্রিকার প্রধান বার্তা সম্পাদক, ক্লীন সিলেট সামাজিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি সাংবাদিক বদরুর রহমান বাবর। তিনি এ ধরনের হুমকি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য ঝুকি উল্লেখ করে দ্রুত হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।-বিজ্ঞপ্তি

//মোঃ রনি মিয়া- জগন্নাথপুর সংবাদদাতা //

চকরিয়া সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দুদকের অভিযান ।। প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা উদ্ধার

 

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে  বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় সাবরেজিস্ট্রার মো. নাহিদুজ্জামান (৩১) ও অফিস মোহরার দূর্জয় কান্তি পালকে (৩৯) গ্রেফতার করা হয়।

টানা ১০ ঘণ্টার অভিযানে চকরিয়া সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে ঘুস ও কমিশন বাবদ আদায় করা ৬ লাখ ৪২ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন অভিযানের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন- ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে এ অভিযানে পরিচালনা করা হয়েছে  । গ্রেফতার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করার জন্য ভোরে চকরিয়া থানায় নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চকরিয়া পৌরসভার কাহারিয়ার ঘোনার মৃত আবদুল হাকিমের ছেলে রশিদ আহমদ কিছু দিন আগে সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের বিরুদ্ধে ঘুস ও কমিশন আদায়ের অভিযোগ এনে হটলাইন ১০৬ নম্বরে অভিযোগ দেন।

জমি রেজিস্ট্রি করার সময় তার কাছ থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকা ঘুস ও কমিশনের টাকা আদায় করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

রশিদ আহমদ জানান, বৃহস্পতিবার দুদকের অভিযানের সময় তার কাছ আদায় করা টাকা দুদক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

আদালতে সোপর্দের জন্য দেওয়া দুদকের প্রতিবেদনে ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অপর অভিযুক্ত সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারী শ্যামল বডুয়া অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে গেছেন।

অভিযুক্ত ও গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে দুদক কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানান।

চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের যুগান্তরকে জানান, গ্রেফতারদের থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতার সাবরেজিস্ট্রার মো. নাহিদুজ্জামান নাটোর জেলার গুরুদাশপুর থানার উত্তর নাড়িবাড়ি এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে। অফিস মোহরার দূর্জয় কান্তি পাল কক্সবাজার সদর থানার খুরুসকুলের মধুরাম পালের ছেলে। আর পলাতক অফিস সহকারী শ্যামল বড়ুয়া কক্সবাজার পৌরসভার মহাজের পাড়ার দীনবন্ধু বড়ুয়ার ছেলে।

।।ডেস্ক নিউজ।।

স্বরূপচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফি আদায়।। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

 

কোন প্রকার রশিদ ছাড়াই ফি নেয়ার  জগন্নাথপুরে স্বরূপচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এস এস সি পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর স্বরূপচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২১ সালের এস এস সি পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন স্কুলের শিক্ষকরা। সরকারের নিয়মনীতির প্রতি তোয়াক্কা না করে এবং শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করায় পরিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১লা এপ্রিল) বিকালে স্কুলের এস এস সি পরিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, এবার সরকার ও বোর্ড নির্ধারিত এস এস সি পরিক্ষার রেজিষ্ট্রেশন ফি বিজ্ঞান বিভাগে ১৯৭০ টাকা ও মানবিকে ১৮৫০ টাকা কিন্তু স্কুলের শিক্ষকরা নিচ্ছেন বিজ্ঞানে ২৪০০ ও মানবিকে ২৩০০ টাকা। তবে কোন শিক্ষার্থীদের টাকার রশিদ দেয়া হয়নি।

অভিভাবকরা জানান বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে এ ধরনের অনিয়ম মেনে নেয়া যায়না। এই স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষকরা পূর্ব থেকেই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত। যার কারণে কোন প্রধান শিক্ষক এই স্কুলে বেশিদিন থাকেন না। এই সুযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছায়াদ আলী সিন্ডিকেট করে স্কুল পরিচালনা করে যাচ্ছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন সহ গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

এছাড়া কিছু শিক্ষকরা সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্কুলে চালিয়ে যান প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্য। তাদের কাছে প্রাইভেট পড়তেও বাধ্য করা হয় শিক্ষার্থীদের। প্রায় ৩ যুগ ধরে স্কুলে থাকা শিক্ষক ছায়াদ আলী নানা অনিয়মের সাথে জড়িত রয়েছেন। এ ব্যাপারে স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ ছায়াদ আলী অতিরিক্ত ফি নেয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত ৪০০ টাকা কেন্দ্র ফি হিসাবে নেওয়া হচ্ছে । পরীক্ষার্থীদের টাকার রশিদ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ তো থাকার কথা নয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম মুকলেছুর রহমান বলেন পরিক্ষার্থীরা অবশ্য বিষয়টি আমাকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছে। বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি রাখার কথা নয়। বিষয়টি প্রধান শিক্ষকই ভাল বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদি হাসানের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান অভিযোগের আলোকে বিষয়টি দেখবো।

//মোঃ রনি মিয়া, জগন্নাথপুর সংবাদদাতা//

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বঞ্চলে খালাসি নিয়োগে দূনীর্তি

 

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বঞ্চলে খালাসি নিয়োগে দূনীর্তির অভিযোগে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সাবেক জিএম সৈয়দ ফারুক আহমদ সহ ১২ কর্মকর্তাকর্মচারীর বিরোদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত বুধবার দুনীর্তি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম এর উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন

মামলার অন্য আসামীরা হলেন, রেলওয়ের তৎকালীন প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী বর্তমানে ঢাকা রেলভবনে কর্মরত মহাব্যবস্থাপক (প্রকল্প) মিজানুর রহমান, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক জোবেদা আকতার, সাবেক ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার বর্তমান রেলওয়ে পূবার্ঞ্চলের টিএসও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এমএলএমএস হারাধন দত্ত, শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারী উচচ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া আকতার, খালাসী মোহাম্মদ আবুল বশর খান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সিপিএ দপ্তরের প্রধান সহকারী খন্দকার সাইফুল ইসলাম, টিকিট প্রিন্টিং প্রেস কলোনি হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি দাশ, শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারী বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো: আকতার হোসেন, কুমিল্লার মের্সাস ফাতেমা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার আমিরুজ্জামান আশীষ মোসাম্মৎ পারভিন আকতার

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগ কালে কমিটির পাঁচ সদস্যের মধ্যে দুই জনের ইন্ডিভিজুয়াল মার্কসীট না থাকা, কম্বাইন্ড মার্কসীটে জনের নাম্বার দেখানো হলেও এক জনের মূল্যায়ন মার্কসিট অসৎ উদ্দেশ্যে সৃজন করে প্রতারণা পূর্বক ১৯ জনকে নিয়োগ প্রদান, দুই জন নিয়োগ প্রাথীকে চার জেলা থেকে নিয়োগ, বয়স্ক জাল সনদধারী লোকদের জাল সনদ সৃজন পূর্বক ব্যবহার করে চাকুরি প্রদান করার অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেরা লাভবান হয়ে বা অন্যকে লাভবান করে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার পূর্বক একে অপরের সহযোগিতায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ সম্পৃক্ত অপরাধ, ঘুষ দূনীতির মাধ্যমে কোটি লাখ ৪৪ হাজার টাকা গ্রহন করে ভোগ দখল দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করেছেন

মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগ প্রদান, ঘুষ দূনীতির মাধ্যমে কোটি লাখ ৪৪ হাজার টাকা গ্রহন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। উলে­খ্য যে, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগে দূনীতি করা হয়েছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুনীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে। দুদকের তদন্তে খালাসি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ১২ জনের বিরোদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে বাদী শরীফ উদ্দিন জানান। দন্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১৬৩/১০৯ ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের () ধারা সহ ১৯৪৭ সালের দুনীতি প্রতিরোধ আইনের () ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে

// আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম //

এক স্থানে বালুমহল ইজারা নিয়ে অন্য স্থানে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে নড়াইলে

 

বড়দিয়া নৌ বন্দর নড়াইল, এরই পাশে এক স্থানে বালুমহল ইজারা নিয়ে অন্য স্থানে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ফলে শত বছরের নদী বন্দর বড়দিয়া মাহাজন বাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকশত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এছাড়া নদীর তীর রক্ষায় এখানে জিও ব্যাগ এবং ব্লক স্থাপন করা হলেও তা হুমকির মুখে পড়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

সংশ্লিস্ট সুত্রে জানা গেছে, মা বাবার দোয়া এন্টারপ্রাইজের নামে নবগঙ্গা-মধুমতি নদীর সংযোগস্থলের বড়দিয়া তেলকাড়া মৌজার মধুমতির চর বালুমহলটি গত ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ১৩লাখ ৮০ হাজার টাকায় ১বছরের জন্য ইজারা নেয়।

সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বালি মহলের নির্দিষ্ট স্থানের বাহিরে গিয়ে বড়দিয়া-মহাজন বাজারের উত্তর পূর্ব পাশের্ব সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৭/৮ টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তলন করা হচ্ছে।

ইজারাদার বড়দিয়া বাজারের পূর্ব উত্তর পাশের তেলকাড়া গুচ্ছ গ্রামের সামনে ২ হাজার বর্গফুট এলাকার মধ্যে বালু কাটার নিয়মথাকলেও তারা এই সিমানার বাইরে গিয়ে বড়দিয়া মহাজন বাজারের সন্নিকটে এসে বালু কাটছে।

এ বিষয়ে খান আবদুল কায়ুম অভিযোগ করে বলেন, কতিপয় ইজারাদার বড়দিয়া বাজারের উত্তর পাশে অবস্থিত তেলকাড়া গুচ্ছ গ্রাম, সেই গুচ্ছ গ্রামের উত্তর পূর্ব প্রান্তের সামনে থেকে ৭৫০ ফুটের ভীতরে ড্রেজার দিয়ে বালু কাটার কথা থাকলেও তারা তার বাইরে বড়দিয়া মহাজন বাজারের কাছে দিনে ও রাত ১২টার পর থেকে বাজারের একদম সন্নিকটে ৭/৮টা ড্রেজার এনে বালু কাটে।

এতে নদীর পাঁড় ভাঙ্গনের ফলে বাজারসহ এলাকার ঘরবাড়ি বিলীন হতে চলেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করে ও কোন ফল হচ্ছেনা। তিনারা যে কর্মকর্তাদের ভাঙ্গন ও বালু কাটার এলাকায় পাঠান। তারা ঠিকাদারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে চলে যায়।

পরে একই ভাবে ইজারাদার অবৈধভাবে বালু কাটে। বড়দিয়া বাজার বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক জগদিস কুমার সরকার বলেন,অনেক পুরানো বড়দিয়া বাজার নদী ভাঙ্গনের কারনে শেষ হয়ে গেছে,যেটুকু আছে সেটা রক্ষার জন্য সরকার কোটি টাকা দিয়ে ব্লক দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

কিন্তু এক শ্রেনীর ঠিকাদারদের অত্যাচারের কারনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারনে এই বাজার রক্ষার প্রচেষ্টা তা নষ্ট হতে চলেছে। কারন উপরের পাশে ব্লক দিয়ে যদি তার নিচে বা কাছে বালু উত্তোলন করা হয় তাহলে এই ব্লক তো ভেঙ্গে পড়বেই। যে কারনে শুধু বাজার ধ্বংস হচ্ছে না সরকার ভাংগন প্রতিরোধে যে কোটি কোটি টাকা ব্যায় করছে তা পুরোটাই অপব্যয় হচ্ছে।নবগঙ্গা মধুমতি নদীর সংযোগ স্থলে বাড়ি বিকাশ দাস ও বিধান দাস বলেন, বাজারের পাশে চর পড়েছিল যেখানে আমরা দাড়িয়ে নিয়মিত গোসল করতাম কিন্তু ড্রেজার দিয়ে বালু কাটার ফলে এখানে গভীর হয়েছে।

যে কারনে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে ব্লক ও ধসে পড়ছে।তাছাড়া এতে করে জীব বৈচিত্র ভয়ঙ্কর ভাবে হুমকির মুখে। এই বিষয়ে বড়দিয়ার যুব সমাজের সাথে কথা হলে তাদের মধ্য থেকে মোঃ রাসেল খান (জনি) বলেন বড়দিয়া বাজার আশে পাশের ৫০টি গ্রামের সমন্বয়ে সৃষ্ট একটি নাম বা একটি রূপ।

এখানে ২টি স্কুল ১টি কলেজ মসজিদ,মাদ্রাসা,মঠ,মন্দির আছে। এই বাজারে ৩টি জেলার কয়েক শত ব্যবসায়ী ব্যাবসা বানিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাই সরকারের কাছে বিনীত দাবী এই বাজারকে রক্ষা করার জন্য সরকার অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করবে এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনোভাবে ইজারা দেয়া না হয় সে বিষয়ে বড়দিয়া বাসির পাশে থাকবে।

বড়দিয়া মাদ্রাসার সাধারন সম্পাদক খান আজাদ আলী বলেন, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্দ না করলে এই মাদ্রাসাসহ বাজার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সরকার একদিকে কোটি কোটি টাকা দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করার চেষ্টা করছে অন্য দিকে কয়েক লক্ষ টাকায় নদীতে বালু কাটার ইজারা দিচ্ছে।

তাতে সরকারেরই ক্ষতি বেশি হচ্ছে। বড়দিয়া গৌড়ীয় মঠের সার মহারাজ বলেন.বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মঠ হলো বড়দিয়া গৌড়ীয় মঠ। বর্তমানে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার কারনে নবগঙ্গা মধুমতি নদী ভাংতে ভাংতে প্রায় মঠের ধারে চলেএসেছে।

এই মঠকে বাচাতে হলে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খাঁন রাসেল সুইট বলেন,বৈধভাবে ইজারা নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে বালু না উত্তোলন করে অন্যায়ভাবে বালু কাটা হচ্ছে।

আমি ইউএনও ও ডিসি মহোদয়ের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি,তাহারা ব্যবস্থা নিয়ে বালু উত্তোলন ও বন্ধ করেছিলেন,কিন্তু আবার কিভাবে এই অন্যায় কাজ হচ্ছে আমার বোধগম্য নয়। সব সম্ভবের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মা বাবার দোয়া এন্টার প্রাইজের ঠিকাদার মোঃ গাউস মোল্যা রাতের আধারে বালু উত্তোলনের কথা অস্বীকার করে বলেন,আমি সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট স্থানেই বালু উত্তোলন করছি। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে ৭/৮ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন,আমি খোজ নিব এবং ইউএনও কে বলবো বিষয়টির খোজ নেওয়ার জন্য। সত্যিই যদি এ রকম কোন ঘটনা ঘটে থাকে তার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেটার ব্যবস্থা নিব। মোঃ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী ।

।। স্টাফ রিপোর্টার ।।

ডা. শাহাদাত চাঁদাবাজী মামলায় গ্রেফতার

আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো :

চাদাবাজী মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, মামলাটি দায়ের করেছেন একজন চিকিৎসক ।

গত সোমবার সন্ধায় নগরীর পাচলাইশ এলাকার বেসরকারী ট্রিটমেন্ট হাসপাতালের নিজস্ব চেম্বার থেকে তাকে গ্রেফতার করে করা হয়। ডা. শাহাদাতকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর পুলিশের উপ- কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান জানান, নগরীর চকবাজার থানায় এক চিকিৎসকের দায়ের করা চাঁদাবাজী মামলায় ডা. শাহাদাত হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

লুসি খান নামের এক চিকিৎসক ডা. শাহাদাতে হোসেনের বিরোদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছেন। তিনি বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগরের বিগত কমিটির মহিলা বিষয়ক সহ সম্পাদিকা ছিলেন। লুসি খান সম্প্রতি অনুষ্টিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদের দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্- নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন পান ডা. শাহাদাত হোসেন। লুসি খানের একটি এনজিও সংস্থা রয়েছে বলে জানা যায়।

মামলার আরজিতে বাদী লুসি খান বলেন, ডা. শাহাদাত বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবী করেছেন।

মাধবখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পটুয়াখালী বরাবর অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, কিসমত ঝাটিবুনিয়া গ্রামের মৃত কদম আলীর ছেলে সামসের আলী হাওলাদার ও একই গ্রামের মৃত মুজাই মৃর্ধার ছেলে মোঃ আলেপ মৃধার  ছেলের কাছ থেকে ভাতার নাম দেওয়ার সময় চেয়ারম্যানকে ২ হাজার টাকা দেয় পরবর্তীতে নাম পাশ হওয়ার পরে ব্যাংক থেকে টাকা উওোলনের সময় চেয়ারম্যানের পার্সোনাল সচিব ও ইউপি সদস্য নিলুফার মাধ্যমে ২ হাজার ৫ শত টাকা কাড়িয়ে নেয়।

বিষয়টি ইউপি সদস্য জামালকে জানালে কোন ব্যাবস্হা গ্রহন করেনি। নতুন শ্রীনগরের আঃ বারেক হাওলাদারের স্ত্রী মোসাঃ জাহানারা বেগমের কাছ থেকে টিউবওয়েল পাওয়ার জন্য ৭.৮.৯.ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের স্বামীর মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকা নিলে ও কাজ অসমাপ্ত করে ফেলে রাখেন। টাকার অভাবে কাজ করতে পারেনি ভুক্তভোগী। ভাজিতা ৩য় খন্ডের মৃত আঃ রাজ্জাক হাওলাদার এর ছেলে মোঃ ইউসুফ হাওলাদারের কাছ থেকে ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল গোলাম কবির কুদ্দুসের মাধ্যমে টিউবওয়েল পাওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে ৩০ হাজার টাকা প্রদান করলে ও টিউবওয়েলের প্লাট ফরম না করে রাখায় ভুক্তভোগীর নিজের টাকা কাজ করতে হয়েছে।

এ সকল অভিযোগে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পটুয়াখালী বরাবর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান ভুক্তভোগীরা। এ ব্যাপারে এডিসি রেভিনিউ জি, এম, শরফরাজ বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্হা গ্রহণ করা হবে।

ঢাকার লালবাগে ভেজাল বিরোধী অভিযানে ৪০ লক্ষ টাকার বিষ সমতুল্য শিশু খাদ্য উদ্ধার

।। ডেস্ক নিউজ ।।

ঢাকার লালবাগে ভেজাল বিরোধী অভিযানে ৪০ লক্ষ টাকার বিষ সমতুল্য শিশু খাদ্য উদ্ধার । গোয়েন্দা পুলিশের অনুসন্ধানে পাওয়ার পর এ অভিযানটি পরিচালনা করা হয় । কারখানা মালিককে আটক করেছে এবং তিনি তার অবৈধ কার্যক্রম স্বীকার করেছেন । বাড়ির মালিক সবকিছু জানতেন তাই তাকেও পুলিশ খুজছে, তিনি পলাতক ।

৪০লক্ষ টাকার ভেজাল শিশু খাদ্য উদ্ধার

শিশুদের উপবৃত্তির টাকা হাতানোর অভিযোগ টাঙ্গাইলে

 মোঃ আল-আমিন শেখ, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:

মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো টাঙ্গাইলের শিশু শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বেহাত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বেশ কিছুদিন ধরে এ নিয়ে উৎকন্ঠায় রয়েছেন।

প্রতারকরা কৌশলে ছয় ডিজিটের একটি ওটিপি জেনে নিয়ে এ টাকা হাতিয়ে নেয় বলছেন তারা। কালিহাতী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক, উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে শুনেছি। প্রতিকার হিসেবে মোবাইলে কাউকে অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য না দিয়ে সরাসরি অনুমোদিত নগদের এজেন্টের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করার পরামর্শও দেন এই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। টাঙ্গাইলে ১ হাজার ৬২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৯টি এবতেদায়ি মাদ্রাসার দুই লাখ ৬৫ হাজার ৪৯৪ জন শিক্ষার্থী এ উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছে বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মনিটরিং অফিসার মো. আছাদুল্ল্যাহ।

প্রতি মাসে প্রাক-প্রাথমিক পড়ুয়া শিশুদের প্রতি মাসে ৭৫ টাকা এবং প্রথম থেকে প্ঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ১৫০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এ মনিটরিং অফিসার। মোবাইল ব্যাংকিং ‘নগদ’-এর কাস্টমার কেয়ার কর্মী পরিচয়ে একটি চক্র এ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে এসব ফোন করছে প্রতারকরা বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। কালিহাতী উপজেলার বড় ইছাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর মারিয়ার বাবা আব্দুল মালেক বলেন, অফিসের পরিচয় দেওয়ায় আমি সরল বিশ্বাসে ওই ওটিপি কোডটি বলি কিন্তু বুঝতে পারিনি ওটা ডিজিটাল বাটপারের ফোন ছিল।

কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনা নাছরিন ও বর্তা সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন্নাহার জানান, বেশ কয়েকজন অভিভাবক তাদের কাছে অভিযোগ করেছে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা নাই।

এরপর থেকে অভিভাবকদের সতর্ক করা হচ্ছে-তারা যেন কেউ গোপন কোড নম্বর চাইলে না দেন বলে জানান তারা।

পিকে হালদারের অর্থ লোপাট// সুদ আসলে ৫,৫০০ কোটি টাকা// নেপথ্যে ঘনিষ্ঠ দুই প্রেমিকা

অনলাইন ডেস্ক : 

চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অন্তত সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা লোপাটের ঘটনার নেপথ্যে পিকে হালদারের (প্রশান্ত কুমার হালদার) একাধিক বান্ধবীর সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র জানায়, দুদকের একজন উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত অনুসন্ধান টিম সম্প্রতি কমিশনে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। সেখানে বলা হয়েছে, পিকে হালদারের উচ্চাভিলাষী এবং লিজিং কোম্পানি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের পেছনে কাজ করেছে তার ত্রিভুজ প্রেম। দুই প্রেমিকার কাছে নিজের বীরত্ব প্রকাশ করতে এবং নিজেকে শিল্পপতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার অসীম প্রতিযোগিতার লালসা থেকে লিজিংয়ে গ্রাহকের আমানত লুট করেন পিকে হালদার। এজন্য নিজের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু ছাড়াও ঘনিষ্ঠ একাধিক বান্ধবীকে ব্যবহার করেন।

২০১৫ সালে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি হিসাবে নিয়োগ লাভ করার পর বান্ধবী রুনাইকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাকে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে পাঠান পিকে। পরোক্ষভাবে তাকে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের নির্বাহী ক্ষমতাই দেন। দুদকের কাছে অনেকেই বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, পিকে হালদার রুনাইকে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং উপহার দেন। এছাড়া অপর বান্ধবী অবন্তিকাকে খুশি করতে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার ক্রয় করে সেখানে তাকে বসান।

দুদকের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে নাহিদা রুনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ হেড অব বিজনেস হিসাবে যোগদান করেন। এমডি হিসাবে যোগ দেন রাশেদুল হক। মূলত পিকে হালদারের নির্দেশেই লিজিংয়ের সব কাজ পরিচালিত হতো। সবার উপর ছড়ি ঘোরাতেন রুনাই। সোহাগ ও রাফসান রিয়াদ নামের দুই কর্মকর্তা পিকে হালদারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র নিয়ে রুনাইকে দিতেন। পরে রুনাইয়ের নির্দেশ মতো ঋণের ক্রেডিট মেমো প্রস্তুত করা হতো। এমনকি পর্ষদেও অনুমোদন হতো। সব ঋণ বিতরণই পিকে হালদারের নির্দেশ মতো হতো। সব বিষয় মনিটরিং করতেন প্রেমিকা নাহিদা রুনাই। তাকে কেন্দ্র করে ২০১৫ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে সরানো হয় ২৪০০ কোটি টাকা। নাহিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে রিলায়েন্স ফাইন্যান্সে ট্রেনিং অফিসার হিসাবে যোগদান করার পরই প্রতিষ্ঠানটির এমডি পিকে হালদারের নজরে পড়েন। গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠতা।

অপরদিকে অবন্তিকা পিকে হালদারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাধে তাকে প্রথমে আর্থিক প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্সে টেলিফোন অপারেটর চাকরি নেন। অভ্যর্থনা কক্ষের চাকরি হলেও তিনি সরাসরি পিকে হালদারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এভাবেই গড়ে ওঠে সখ্য। দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৩-১৪ সালের দিকে গোপনে ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে দুই বান্ধবীকে নিয়ে যাতায়াত শুরু করলেও একপর্যায়ে নাহিদা রুনাইকে নিয়ে গোপনে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া ভ্রমণ শুরু করেন পিকে হালদার। একইভাবে অবন্তিকাকে নিয়েও গোপনে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর যাতায়াত শুরু করেন। এক সপ্তাহে রুনাইকে নিয়ে গেলে পরের সপ্তাহে অবন্তিকাকে বিদেশে নিয়ে যেতেন। একজনের বিষয় অপরজন জানত না। হঠাৎ এক ক্লাবের মিটিংয়ে দুজনই জানতে পারেন পিকে হালদার দুজনের সঙ্গেই সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এটি জানার পর বান্ধবীদের মধ্যে পিকে হালদারকে নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। গ্রেফতার হওয়া উজ্জ্বল কুমার নন্দীর বক্তব্য থেকেও এর সত্যতা মিলেছে। তিনিও বলেছেন, বান্ধবী- নাহিদা রুনাই ও অবন্তিকাকে নিয়ে তিনি লিজিং সভার নামে পৃথকভাবে ২২-২৫ বার মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেছেন।

দুদকের এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার বলেন, পিকের ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে আসছে। তিনি নিজের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য একদিকে যেমন নারীদের ব্যবহার করেছেন। তাদের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে দিয়েছেন। অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসকে সুর ও শাহ আলমসহ একটি সিন্ডিকেট তিনি ‘মেনটেইন’ করতেন। তাদের হাতেও মোটা অঙ্কের অর্থ তুলে দেন। এসব বিষয়ে চুলচেরা অনুসন্ধান চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা এবং নিজস্ব অনুসন্ধানে দুদক দেখতে পায়, পিকে হালদার ঋণের নামে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করলেও এখন সুদে-আসলে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বেশিরভাগই ঋণের ক্ষেত্রে মর্টগেজ ছিল না, থাকলেও তার পরিমাণ খুবই নগণ্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মর্টগেজ নেয়ার কথা থাকলেও পরে তা নেয়া হয়নি। অথচ ঋণ হিসাব থেকে সব টাকা সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে ঋণ পরিশোধ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় দুদকের প্রতিবেদনে।

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে শুধু একটি কম্পিউটার ব্যবহার করে কিভাবে রাতারাতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট করা যায় তা পিকে হালদার দেখিয়েছেন। আর্থিক খাতে সবচেয়ে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অন্তত ১৪০০ কোটি টাকা বিভিন্ন দেশে পাচারের পর নিজে কানাডায় পাড়ি জমান।

এদিকে, পিকের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে পাঁচটি মামলা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এমডি রাশেদুল হক, হেড অব বিজনেস নাহিদা রুনাই, সিনিয়র ম্যানেজার রাফসার রিয়াদ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত এমডি সৈয়দ আবেদ হাসান, পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীকে গ্রেফতার করে দুদক। রোববার (আজ) ৪৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে আরও ৩৭ জনকে আসামি করে পৃথক পাঁচটি মামলা হচ্ছে বলে জানান অনুসন্ধান কর্মকর্তা।