ডোমারে হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের ৯৩তম জন্ম বার্ষিকী পালিত

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডোমারে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের ৯৩তম জন্ম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। রবিবার (২০মার্চ) সন্ধ্যায় পৌর জাতীয় পার্টি তাদের দলীয় কার্যালয়ে কেক কাটা, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি হাবিবুল্লাহর সভাপতিত্বে উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আসাদুজ্জামান চয়ন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এসময় উপজেলা সদস্য সচিব সার্জেন্ট তহিদুল ইসলাম,পৌর সাধারন সম্পাদক হাচান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজালুল ইসলামসহ পৌর জাতীয় পার্টির ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকগন উপস্থিত ছিলেন। শেষে কেক কেটে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়।

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি

অনলাইন ডেস্কঃ

ভারতের পশ্চিম বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে বিজেপি, সংযুক্ত মোর্চা,তৃণমূল কংগ্রেসসহ অন্যান্য ছোট আঞ্চলিক দলসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের নমিনেশন পেপার্স জমা দিয়েছেন।

এছাড়াও বাম- কংগ্রেস – আইএসএফ সংযুক্ত মোর্চার বামফ্রন্ট, তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপিসহ সকল দল তাদের ব্যতিক্রমী নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণার মাধ্যমে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ২৯৪ আসন বিশিষ্ট বিধানসভার ভোট গ্রহণ আগামী ২৭ মার্চ-২০২১ থেকে শুরু হয়ে ২৯ এপ্রিল-২০২১ পর্যন্ত সর্বমোট ০৮ দফায় শেষ হবে এবং ফলাফল ঘোষণা হবে ০২ মে-২০২১।

নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মিডিয়া ও সংস্থা জরীপ কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে এবং ফলাফলের দিন লাল,সবুজ না কমলা আবীরের ছড়াছড়ি হবে তা নিয়েও ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে পাড়ার মোড়ে, চায়ের দোকানে। ভারতের মতো বৃহৎ দেশে গণতন্ত্রের চর্চা সব সময় বিশ্ব নন্দিত। কিন্তু কালের বিবর্তনে শিক্ষার যত বিস্তার ঘটছে ততোই যেন ভারতীয় গণতন্ত্র ধর্মীয় লেবাসে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে। ধর্মীয় মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টি যে কতটা প্রকট হয়ে পড়ছে তার কিছুটা বিশ্লেষণ তুলে ধরার চেষ্টা মাত্র। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, মিডিয়া ও সংস্থা জনমত জরীপ করে কিন্ত সেই সব জনমত জরীপকে ভুল প্রমাণিত করে এবং ৪২ টি লোকসভা আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ২২ টি আসন,বিজেপি ১৮ টি ও কংগ্রেস ০২ টি আসন পায়।বামফ্রন্ট কোন আসন পেতে অসমার্থ হয়।

এখন আসন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভোটের বিশ্লেষণে দেখা যায়- তৃণমূল কংগ্রেস সর্বমোট ৪৩.২৮%, বিজেপি ৪০.২৫% কংগ্রেস ৫.৬১%, বামফ্রন্ট ৭.৫০% এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩.৩৬% ভোট পেয়েছিল।

পশ্চিম বঙ্গে ৩০% মুসলিম ভোটার আছে। ধরনা করা হয় মুসলিম ভোটারের কমপক্ষে ২৫% তৃণমূল কংগ্রেস, ৩% কংগ্রেস এবং বাকি ০২% বামফ্রন্ট পেয়েছিল।তাহলে দেখা যায় মমতা ব্যানার্জীর প্রাপ্ত ৪৩.২৮% ভোটের ২৫% সংখ্যালঘু ভোট বাদ দিলে হিন্দু ভোট পেয়েছিল মাত্র ১৮.২৮%। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তাদের ভোট ব্যাংক এককভাবে ধরে রাখতে পারছে না। পশ্চিম বঙ্গের ফুরফুরা দরবার শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকের ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট ( আই.এস.এফ) ৩০% মুসলিম ও হিন্দু,আাদিবাসী সংখ্যালঘু ভোটারের দিকে হাত বাড়িয়ে বসে আছে যা সংযুক্ত মোর্চা ফ্রন্টের দিকেই যাবে।

এছাড়াও ভারতের অন্যতম মুসলিম সংগঠন আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি- এর মীম পশ্চিম বঙ্গের মুসলিম ভোটকে টার্গেট করে একক বা জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ব্যাংকের একটি বৃহৎ অংশ যে হাত ছাড়া হতে চলেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এতে করে ধারণা করা হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ব্যাংক ২৫% থেকে নেমে অর্ধেক বা ১২.৫০% হতে যাচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নেই। এছাড়াও নির্বাচনের পূর্ব মুহুর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্বের যেভাবে দল বদলের হিড়িক পড়ে গেছে তাতে ধারণা করা হচ্ছে প্রাপ্ত হিন্দু ভোট ১৮.২৮% এতেও যে হাত পড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই এবং কমপক্ষে ০৮% ভোট কমতে পারে।তখন তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট দাঁড়াবে (১২.৫০%+১০.২৮)= ২২.৭৮%।

অন্যদিকে বাম- কংগ্রেস – আইএস-এর সংযুক্ত মোর্চা তৃণমূল কংগ্রেসের হারানো মুসলিম ও হিন্দু ভোটারের ১২.৫০ ও ৪% পেলেও অমূলক হবে না। তৃণমূল কংগ্রেসের হারানো ভোটের সম্পূর্ণ অংশ যদি সংযুক্ত মোর্চা ফ্রন্টকেও নাও দেয় সে ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান হবে ( কংগ্রেসের ৫.৬১%+ বামেদের ৭.৫০% + মুসলিমদের ৭.৫% + তৃণমূলের হারানো হিন্দু ভোটের ৪%)=২৪. ৬১%। যেহেতু বিজেপি উল্লেখ করার মতো মুসলিম ভোট পায়নি সেহেতু ধরে নেওয়া যেতে পারে মুসলিম ভোটের ৫% ও হিন্দু ভোটের ২% আসাদ উদ্দিন ওয়াসির মীম ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাবে। তাহলে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের ভোট দাঁড়াবে ( গত লোকসভার৩% + মুসলিম ভোট ৫% + হিন্দু ভোটের ২%)= ১০% বিজেপি গত লোকসভা নির্বাচনে ৪০.২৫% ভোট পেয়েছিল যার অধিকাংশ ছিল হিন্দু ভোটার।

এবার বিধানসভার নির্বাচনের আগে দল বদলের যে মহাধূম শুরু হয়েছে তাতে আশাকরা যায় বিজেপির ভোট বাড়বে বই কমবে না।

এ ক্ষেত্রে এনআরসি,সিএএ এর প্রসঙ্গ থাকলে দেখা যায় ঐ অতি আলোচিত ও সমালোচিত বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের জন্য পশ্চিম বঙ্গে হিন্দুদের একটি ভোট ব্যাংক এবং যা পশ্চিম বঙ্গের নির্বাচনে নিয়ামক হিসাবে কাজ করে সেই মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটগুলি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং মাঠে নেমেছেন। যার অংশ হিসাবে ২৬ ও ২৭ মার্চ-২০২১ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে মতুয়াদের প্রাণের ঠাকুর হরিচাঁদ গুরুচাঁদের জন্মস্থান বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি তীর্থধাম পরিদর্শন করবেন। এক্ষেত্রে বিজেপির ভোট হবে ( ৪০.২৫% + তৃণমূল কংগ্রেসের হারানো হিন্দু ভোট ২%)= ৪৪.২৫ % অর্থাৎ ভোট প্রাপ্তির শতকরা হিসাবে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস,সংযুক্ত মোর্চাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে মোটামুটি একটা নির্দিষ্ট ব্যবধানে হারিয়ে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে বলে আশা করা যায় এবং কমপক্ষে ১৬০ টির মতো আসন লাভ করার সম্ভাবনা আছে।ফলে একক সংখ্যা গরিষ্ঠ দল হিসাবে পশ্চিম বঙ্গে সরকার গঠনের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বর্তমান কালের নির্বাচনে রাজনৈতিক নেতা ও ভোটারদের যে দ্বিমূখী বা তৃমূখী আচরণ তাতে নির্বাচনের মোড় যে কোন দিকে যাবে তা বলা খুবই দুরূহ।