বিবর্তন যশোর।। হরিজনপল্লীতে বিনামূল্যে টীকা রেজিষ্ট্রেশন

হিন্দু সমাজের জাতিভেদ প্রথার বলির পাঠা হিসাবে খ্যাত দলিত সম্প্রদায়। সামাজিক বিভাজনের কারণে সৃষ্ট দলিত সম্প্রদায় একাবিংশ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক বিপ্লবী সমাজে আজও বিষবৃক্ষের ন্যায় বিরাট মহীরুহ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা আজও সমাজের মূল স্রোতধারায় মিশতে পারেনি। ফলে তাদের জীবনযাপন অতিনিম্নমানের হয়ে থাকে।একজন মানুষ হিসাবে রাষ্ট্রের নিকট থেকে খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান, শিক্ষা,চিকিৎসা, চিত্তবিনোদনসহ সকল প্রকার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকে। তাদের জীবনটা কাটে অন্ধকার যুগের মানুষের মতো কলোনির করিডরে।

সমাজে প্রচলিত জাতি-ধর্ম-বর্ণ ভেদ প্রথার জন্য দেশের সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা হয়ে গেছে দলিত সম্প্রদায়। শুধু সামাজিক কারণে গড়ে উঠা জাতিভেদ প্রথা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠী রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছেন। ফলে সামাজিক বর্ণপ্রথার যাতাকল রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করায় সমাজে তাদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দেয়।

জাতিভেদাভেদের এই কালো অধ্যায় ইতিহাসের পাতায় দলিত সম্প্রদায়ের চোখের জলের বন্যায় পদ্মা,মেঘনা,যমুনার ফল্গুধারার ন্যায় প্রবাহিত হয়ে যাবে। সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মহাত্মা গান্ধী দলিতদের মেথর, সুইপার না বলে হরিজন বলার অমোঘ বাণী শুনিয়ে গেলেও সমাজ ও সামাজিকতার স্বীকৃতি দিয়ে যায়নি বলে তারা সমাজের মূলস্রোতধারার সাথে আজও নিজদের অভিযোজিত করে নিতে পারেনি। ফলে দলিতকে মেথর বা সুইপার না বলে হরিজন বলার প্রচলনটা আমাদের সমাজে আজও সোনার হরিণের ন্যায় অধরাই থেকে গেছে।

আর তাই আজও সারাদেশে দোকানে চা, পানি ও খাবার খেতে গেলে আলাদা গ্লাস ও প্লেট নিয়ে যেতে হয় এবং দোকানের বাইরের কোন এক জায়গায় বসে খাবারটা খেয়ে নিতে হয়।

এছাড়াও দক্ষিণ বঙ্গ ও উত্তর বঙ্গে সুইপাররা কোন বাড়ি খাবার খেতে গেলে কলাপাতায় খেতে দেওয়া হয়। সুইপার বা হরিজন সম্প্রদায় সম্পর্কে সমাজের এধরণের অবস্থান পরিবর্তন অতি জরুরি। আর তা না হলে দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী যারা আমাদের আশেপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখে তাদের এই অবদানকে শুধু অস্বীকার করাই হবে না বরং একটা পেশাকে অসম্মান করা হবে। আর তাই তাদের সমাজের মূলস্রোতধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহন করা অতীব জরুরি। তারা যদি রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ সুবিধা না পায় তাহলে সরকারের মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জন অনেকাংশে অপূর্ণ থেকে যাবে।

নাটক জীবনের কথা বলে, নাটক সমাজের বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অসঙ্গতি পরিবর্তনের কথা বলে। আর তাই সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে বিবর্তন যশোরের নাট্যকর্মীরা করোনার এই ক্রান্তিকালে যশোরের রেলস্টেশন এলাকায় গড়ে উঠা সুইপার কলোনিতে বসবাসরত পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য করোনা সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করার সর্বাপেক্ষা বড় হাতিয়ার টীকা নেওয়ার জন্য বিনামূল্যে টীকা নিবন্ধনের কাজ আজ ৩ আগষ্ট-২০২১ রোজ মঙ্গলবার বিকাল থেকে অনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছেন।তারা আজ অর্ধশতাধিক হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষকে টীকার আওতায় আনার জন্যে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত করেছেন।

বিবর্তন যশোরের এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে। উল্লেখ্য ১৫ দিন পূর্বেই বিবর্তন যশোরের কর্মীরা বিনামূল্যে টীকা রেজিষ্ট্রেশনের কাজ নিজস্ব কার্যালয় থেকে শুরু করে চাঁচড়ার রূপদিয়া বিলপাড়া মোড় পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেন এবং আগামীকাল সকাল ১১ ঘটিকায় আরও একটি অনাগ্রসর আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল যশোর শহরের বেজপাড়া মেইন রোডস্থ বুনোপাড়ায় বিনামূল্যে করোনা টীকার রেজিস্ট্রেন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

এছাড়া বিবর্তন যশোর গতবছর করোনা মহামারীর শুরু থেকে সামাজিক সচেতনতা, মাস্ক ও স্যানিটাইজার, খাদ্য ও শিশু বস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন মূলক কাজের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছেন এবং ২০২১ সালের ২৮ জুন থেকে যখন যশোরের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল এবং অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দিয়েছিল তখন করোনা আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করে যশোর শহরের বুকে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

//স্বীকৃতি বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

Daily World

অভয়নগরে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনেশনের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

অভয়নগরে পানি নিষ্কাশণের পোল আটকে মাছ চাষ: পানি বন্দি শতাধিক পরিবার

রাণীশংকৈল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীর উপহার কোভিড সামগ্রী প্রদান

 

করোনা পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবেলায় ৩ আগস্ট মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২টি অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ মাস্ক ও স্যানিটাইজার উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপকমিটি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য সেলিনা জাহান লিটার মাধ্যমে এসব সামগ্রী দেয়া হয়েছে। এই সাথে সাবেক এমপি লিটার এসএসসি ‘৮৬ ব্যাচের বন্ধুদের তরফ থেকে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও একটি কনসেনট্রেটর উপহার দেয়া হয়।

এ উপলক্ষে এ দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমপ্লেক্স পঃ পঃ কমকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সাবেক এমপি সেলিনা জাহান লিটাসহ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না, জেলা সেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি নজমুল হুদা শাহ এ্যাপোল, আ’লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ সইদুল হক, পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান,পৌর আ’লীগ জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা লীগ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম ও সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শিল্পী, প্রেসক্লাব সভাপতি ফারুক হোসেন, ডাঃ ফিরোজ আলম, ডাঃ এম এ মুনইম,জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সোহেল রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতিসহ অতিথিরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। প্রসঙ্গত, এ নিয়ে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ৭টি কনসেনট্রেটর মজুত রাখা হলো।

 //মাহাবুব আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

পিরোজপুরে মাদক বিরোধী অভিযানে ৩ মাদক কারবারি আটক- র‌্যাব-৮

 

 

দুমকিতে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থদের জেলা প্রশাসকের সহায়তা

 

উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচরের নদী ভাঙ্গন এলাকা সোমবার (২ আগষ্ট)  দুমকিতে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থদের সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্থ প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে ২৯ পরিবারের মধ্যে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন।

এছাড়া তিনি ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের আশ্বাস দেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হালিম সালেহী, দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আকন সেলিম, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদা ইয়াসমিন, জেলা পরিষদ সদস্য সৈয়দ ফজলুল হক, আংগারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম মরতুজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

গত (৩১ জুলাই) আংগারিয়ার বাহেরচর খেয়াঘাটের পূর্বপাশে বসতঘর বিহীন ৬০ শতাংশের একটি পুরানো বাগান বাড়ি হঠাৎ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। এতে একাধিক শূন্য বসতভিটি, কবরস্থান এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মেহগনি, চাম্পল, নারিকেল ও রেন্টি গাছ এ সময় নদীগর্ভে চলে যায়।

এসময় পরিত্যক্ত ওই বাগান বাড়িতে গাছপালা কাটতে গিয়ে কিশোর ও মহিলাসহ প্রায় ১৫ জন লোক ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নদীতে ডুবে যায়। স্থানীয় লোকজন প্রায় অর্ধঘন্টা ধরে নদীতে খোঁজাখুজি করে তাদেরকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এদের মধ্যে ৫-৬ জন গুরুতর আহত হয়।

বিগত প্রায় অর্ধশত বছর যাবৎ আংগারিয়া ও বাহেরচর গ্রাম দু’টি পায়রা নদীর ভাঙ্গনের মূখে রয়েছে। দেড় থেকে দু’ কিলোমিটার নদীর তীর পাইলিং করা হলে এলাকাবাসী উপকৃত হতে পারে। স্বস্তি পেত নি:স্বরা।

//মোঃ তুহিন শরীফ, পটুয়াখালী//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

অসহায় পরিবারের বাড়ি ঘুরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘ

 

অসহায় পরিবারের বাড়ি ঘুরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘ

//আ. রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

করোনার শুরু থেকে অসহায় কর্মহীনদের মাঝে খাদ‍্যসহায়তা বিতরণ করে যাচ্ছে সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘ। সংঘের সদস‍্যরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা অব‍্যহত রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের চর মোছাব্বাতপুর,নন্দনপুর গ্রামের অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য অধ্যক্ষ ফ ম আঃ সালাম,খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোঃ মোতালেব হোসেন, শ্রীফলতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইসহাক সরদার,উপজেলা আওয়াামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক স.ম জাহাঙ্গীর,ইউপি সদস্যা শিরিন আক্তার,স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মঈনউদ্দিন, সালাম মুর্শেদী সেবা সংঘের টিম লিডার যুবলীগ নেতা সামসুল আলম বাবু,ছাত্রলীগ নেতা এসএম রিয়াজ, সাব্বির সাজ্জাদ সাজু, ইমন প্রমূখ।

রূপসায় অসুস্থ সাংবাদিকের বাড়িতে উপজেলা প্রশাসনের উপহার

// স্টাফ রিপোর্টার //

রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও পূর্বাঞ্চল পত্রিকার পশ্চিম রূপসা সংবাদদাতা এইচ এম রোকন ও তার সহধর্মিনী করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া তাছনিম তাদের অসুস্থতার খবর পেয়ে তার নিদের্শে প্রশাসনের কর্মকর্তা উপহার সামগ্রী নিয়ে ২ আগষ্ট দুপুরে সাংবাদিকের বাড়িতে হাজির হন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আ. রাজ্জাক শেখ, নাজির নূরুল ইসলামসহ অনেকেই। উপজেলা প্রশাসনে এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানালেন সুধীজন ও গণমাধ্যম কর্মীরা।

মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর চিকিৎসায় এমপি পত্নী সারমিন সালামের সহায়তা

 

 

আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব‍্যুরো//

মানুষের দুর্দশায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। করোনার এই মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে ‘সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘ’। পাশাপাশি অসহায় দলীয় নেতাকর্মীদের মানবিক সহায়তা দেওয়াও অব্যাহত রয়েছে।

মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর চিকিৎসায় এমপি পত্নী সারমিন সালামের সহায়তা

খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেখা আক্তার অর্থাভাবে নিজের চিকিৎসা (কিডনি অপারেশন) করাতে পারছিলেন না। বিষয়টি খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদীর সহধর্মিণী, ‘সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘে’র চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সমাজ সেবক সারমিন সালামকে জানালে, তিনি তাৎক্ষণিক তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ প্রদান করেন। পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেলে তার যাবতীয় ঔষধ ও খাদ্য সামগ্রীসহ নগদ অর্থ সহায়তাও পাঠানো
হয়।

মিসেস এমপি সারমিন সালাম একজন জনদরদী দানবীয় মানুষ।
সকল শ্রেণী পেশার মানুষ তার কাছে দ্রুত পৌছাতে পারে। তার নেই কোন অভিমান।
ফোন করে যে কোন লোক তাদের সুবিধা ও অসুবিধার কথা জানাতে পারেন।
রূপসা,তেরখাদা ও দিঘলিয়া ছাড়া জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের অসুস্থ মানুষকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

করোনায় কর্মহীনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা বিতরণ

 

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চলমান কঠোর লকডাউনে খুলনায় কর্মহীন হয়ে পড়া দুইশত দোকান কর্মচারী, একশত নির্মাণ শ্রমিক, ২৭ জন প্রতিবন্ধী, ৩২ জন পাদুকা শ্রমিক, ৫০ ডেকোরেটর শ্রমিক, আট জন গৃহকর্মী এবং ৫০ জন হতদরিদ্র ব্যক্তির মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হয়।

খাদ্য সহায়তার মধ্যে ছিলো সাত কেজি চাল, দুই কেজি আলু, ৫০০ গ্রাম ডাল, তৈল ৫০০ গ্রাম ও একটি সাবান। খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ইসমাইল হোসেন আজ (শনিবার) দুপুরে রেলস্টেশন চত্ত্বরে এই খাদ্যসহায়তা বিতরণ করেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনর বলেন, কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দুর্যোগে কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দিতে অত্যন্ত আন্তরিক। করোনা প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছেন। খুলনায় করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা একটু কমতে শুরু করছে।

তিনি বলেন, যতদিন করোনাভাইরাস পরিস্থিতি থাকবে ততদিন সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচি চলমান থাকবে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, মাস্ক পরিধান এবং অযথা বাইরে বের না হওয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনার জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ করেন।

খুলনার জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে খাদ্যসহায়তা বিতরণে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ বক্তৃতা করেন। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ সাদিকুর রহমান খান, শ্রম দপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কুমার ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। খুলনার জেলা প্রশাসন এই খাদ্যসহায়তা বিতরণের আয়োজন করে।

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব‍্যুরো//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

আজ থেকে বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ৩০টি কেন্দ্রে গনটিকা কার্যক্রম শুরু

 

থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দুই শিশুকে সিরাজুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের অর্থ সাহায্য

 

ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগত থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দুই শিশুকে )দুই বোর ) রাহা আক্তার মরিয়ম(৫) ও আরফিন রোজা(৩) এর পাশে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ফাউন্ডেশন। (৩০ জুলাই শুক্রবার) বিকেলে রোড কাজীপাড়া এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মরহুমের ভাগিনা জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নাজমুল হুদা শাহ এ্যাপোলো অসহায় সেই পরিবারের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মরহুমের বড় মেয়ে সিনথিয়া বিনতে সিরাজ লুনা, কাতার থেকে এই সহযোগিতা করেন বলে জানান জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নাজমুল হুদা শাহ এ্যাপোলো। বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পঞ্চগড় জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রথম আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি ১৯৭০ এর দিকে পঞ্চগড়ের দুই দুই বারের এমপি ছিলেন।

এছাড়াও তিনি বর্তমান রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের বড় ভাই। সিরাজুল ইসলাম ফাউন্ডেশন ও সাংবাকিদের ধন্যবাদ জানিয়ে ওই দুই শিশুর বাবা রাজু ইসলাম বলেন,আমার দুই মেয়ের বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা একটি সংবাদ প্রকাশ করে। এরপর সেই সংবাদের মাধ্যমে আজ আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সিরাজুল ইসলাম ফাউন্ডেশন পরিবারের সদস্যরা।

আমি ধন্যবাদ জানাই তাদের। আজ তাদের দেয়া এই সহযোগিতায় আমার বাঁচ্চাদের চিকিৎসার অনেকটাই এগিয়ে যাবে। নগত অর্থ বিতরণে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াফু তপু,সাংগঠনিক সম্পদক মিঠুন রানা, রহিমানপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক নূর আলম প্রমূখ। মরহুম সিরাজুল ইসলাম এমপির ভাগিনা এ্যাপোলো বলেন,“সাহায্য না পেলে রাহা-রোজাকে বাঁচাতে নিজের কিডনি বেঁচবে বাবা” এমন সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তা আমার দৃষ্টিগোচর হয়।

পরে এই সংবাদটি মামা মরহুম সিরাজুল ইসলাম এমপির বড় মেয়ে সিনথিয়া বিনতে সিরাজ লুনাকে অবগত করি। পরে সে আমাদের পারিবারিক ফাউন্ডেশন “বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ফাউন্ডেশন”এর পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা সেই পরিবারটিকে দেবার উদ্যোগ গ্রহন করে।

আমি আজ সেটি দিতে এসেছি তাদের মাঝে। সেই সাথে এই শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য যদি পরবর্তীতে কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হয় সেটিও করার আশ্বাস দিয়েছি।

 //মাহাবুব আলম,  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

নলছিটির বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব আব্দুল কাদের মোল্লা আর নেই

 

বিবর্তনের আলোয় উদ্ভাসিত হোক আমার দেশ

 

মানুষের জীবনটা স্রোতে ভাসা শ্যাওলা বা শরতের শুভ্র সাদা মেঘের ন্যায় ভেসে চলা নয়। জীবনে  আছে উত্থান ও পতন। জীবনটা সুন্দর ফুলের ন্যায় সুসংগঠিত করে তোলা, মানুষের উপকারে আসার মতো যোগ্য করে গড়ে তোলা, মানুষের মাঝে নিজের সুকর্ম দিয়ে চির অমর করে তোলার  দ্বায়িত্ব প্রত্যেকের নিজের।

জীবনটা নাটকের রঙ্গ মঞ্চ নয় ঠিকই কিন্তু  জীবনের নানা ঘটনার আবহ অনেকাংশেই নাটকের সাথে সম্পৃক্ত।  সেখানে আছে সুখ-দুঃখ, হাসিকান্না, জীবন-মৃত্যুর হৃদয় বিদারক দৃশ্য!আছে  কৃষক, মুটে মজুর,ধনী-গরিবসহ সমাজের নানা রকমের অসঙ্গতি। কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে চিরজীবী করে রাখার লক্ষ্যে  ও সমাজের বিভিন্ন  অসঙ্গতি,ভ্রান্তধারণা ও প্রচলিত কুসংস্কারগুলি নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরার এবং সমাজ থেকে বিতাড়িত করার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৮৯ সালের  ১২অক্টোবরের এক শুভলগ্নে  প্রাচীন  ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল বেষ্টিত  যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্রে জন্ম হয় আজকের বিখ্যাত ও করোনা কালীন সময়ের হিরো হিসাবে খ্যাত নাট্যগোষ্ঠী “বিবর্তন”যশোর- এর।

সৃষ্টির শুরু থেকে বিবর্তন যশোর সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করলেও দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে বিশেষকরে ঝড়,বন্যা,জলোচ্ছ্বাস, শৈত্যপ্রবাহসহ বিভিন্ন দূর্যোগ কালীন মুহূর্তে সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর  আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন বিবর্তনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই। তারা প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি যেমন পালন করেন তেমনি সামাজিক বিভিন্ন ব্যাধি যেমন- বাল্যবিবাহ,যৌতুক,শিশু পাচার,নারী নির্যাতন, মাদকাসক্তি,জেন্ডার ব্যালান্সসহ সামাজিক কুসংস্কার নির্মূলের জন্য কাজ করেছেন। এমনি সাধারণ মানুষকে রক্তদানে উদ্ধুদ্ধ করতে আয়োজন করেছেন রক্তদানের মতো বৃহৎ কর্মসূচির।

বিবর্তনের আলোয় উদ্ভাসিত হোক আমার দেশ

আবার গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্তের পর বিভিন্ন সময় যখন লকডাউন চলমান তখনও যথাসাধ্য সামর্থ নিয়ে দেশের মানুষের প্রয়োজনে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন   বিবর্তন যশোরের একঝাঁক উদ্যোমী,সাহসী কর্মীবাহিনী।অসহায় হতদরিদ্র মানুষদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন মাস্ক, উদ্ধুদ্ধ করেছেন করোনার বিধিনিষেধ মেনে চলতে, দিয়েছেন খাদ্য সহায়তা। এমনকি করোনাকালীন সময়ে লকডাউনের কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দিলে প্রান্তিক কৃষকের  উৎপাদিত ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দেওয়ার কাজে নির্দ্বিধায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বিবর্তন যশোরের নির্ভীক কর্মীরা। এবছরও তার ব্যাতয় হয়নি।

বরং এবছর নতুনভাবে আর্বিভূত হয়েছেন করোনা আক্রান্ত রোগীদেরবিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে ও অতি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা উপকরণ অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে।  যখন বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে  সমগ্র বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী যশোর জেলার জনগণ করোনার সংক্রমণে সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা, চিকিৎসক, নার্সের সেবা ও জীবনদায়ী অক্সিজেনের অভাবে  জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছেন তখন যে কয়েকটি   সংগঠণ  বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা নিয়ে যশোরের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তাদের মধ্যে সর্ব প্রথম যে প্রতিষ্ঠান বা যাদের নাম করতে হয় তারা হচ্ছে নাট্য গোষ্ঠী “বিবর্তন”যশোর বা এর নিবেদন প্রাণ কর্মীগণ ।

বর্তমান সময়ের অতিমারি করোনার বিধ্বংসী থাবার কারণে নাট্যকর্মীদের না আছে মঞ্চ,না মহড়া,না আছে আগুন ঝরানো  সংলাপ।তাদের বুকে আছে বিধ্বংসী করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো আগুণ ঝরানো  বারুদ। আর তাই রোদবৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত তুচ্ছজ্ঞান করে বিবর্তনের একগুচ্ছ নিবেদিত প্রাণ কর্মী অক্সিজেনের সিলিন্ডার ও খাদ্যসহায়তা নিয়ে ছুটে চলেছেন শহরের বিভিন্ন অলিতে গলিতে,হাসপাতালের বারান্দায়।নাওয়া-খাওয়া ভুলে জীবনের মায়াকে তুচ্ছ করে করোনার বিরুদ্ধে  সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছেন।তারা চাইছেন করোনা আক্রান্ত প্রতিটি মানষকে তাদের সেবা দিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে। যা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে দেশের ইতিহাসের পরতে পরতে।

এবছরের ২৯ জুন থেকে শুরু করে অদ্যাবধি বিবর্তন যশোরের কর্মীরা করোনা রোগীদের অত্যাবশকীয় চিকিৎসা সহায়ক  উপকরণ অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে চলেছেন দুর্বার গতিতে। শুরুতে ৩/৫ টি সিলিন্ডার নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সমাজের বিত্তবান ও সাদা মনের মানুষের সহায়তায় তারা এখন ৬০ টি সিলিন্ডার দিয়ে সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এই সিলিন্ডার গুলো সাইক্লিক ওয়ার্ডে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সারা যশোর শহরের করোনা রোগীদের অক্সিজেন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

বিবর্তনের কর্মীরা গত ২৯ জুন-২০২১ থেকে শুরু করে ২৯ জুলাই -২০২১ পর্যন্ত ১৩০ জন করোনা রোগীকে ৩৭২ টি  অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন। এক একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার  রিফিল  ২০০টাকা,পাইপ ৯০টাকা ও  সিলিন্ডার রিফিল করতে যাওয়ার জন্য ইজিবাইক ভাড়া ৩০ টাকা সহ মোট ৩২০  টাকা খরচ হয়। ফলে দেখা যায় ৩০ জুলাই-২০২১ এর পূর্ব পর্যন্ত ৩৭২ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করতে মোট ১ লক্ষ ৯ হাজার ৪০ টি খরচ হয়েছে। যা দেশের ভিতর ও দেশের বাইরের  বিভিন্ন জনের দেওয়া অনুদান নির্ভর।

বিবর্তন যশোরের অক্সিজেন সেবা নেওয়া ১৩০ জনের মধ্যে ১১৫ জন সুস্থ হয়েছেন,  ১০ জন মৃত্যু বরণ করেছেন এবং বর্তমানে এখনও সেবা নিচ্ছেন ৫ জন।

ইদের পরে প্রতিদিন সমগ্র যশোরে নতুন নতুন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।যশোর  জেনারেল হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে আসন সংখ্যারও অধিক লোক ভর্তি থেকে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।আবার অন্যদিকে হাসপাতালে পর্যাপ্ত  শয্যা,আইসিইউ ও অক্সিজেনের সরবরাহের সীমাবদ্ধতা থাকায় শহরের করোনা আক্রান্ত রোগীর একটি বিরাট অংশ নিজ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে ঐ সকল রোগীদের যদি হঠাৎ  করে অক্সিজেন লেভেল কমতে শুরু করে বা অতিরিক্ত অক্সিজেন স্বল্পতা জনিত কারণে শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকেন তাহলে  দেরি না করে ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকলেই “বিবর্তন”যশোর  নামক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের  দ্বারস্থ হচ্ছেন।

বর্তমান সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে যশোর জেলায় যে হারে সাধারণ জনগণ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তাতে করে বিবর্তনের এই অক্সিজেনের সেবার পরিধি বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই।

আর তাই দেশ ও দেশের বাইরে অবস্থিত বাংলা ভাষা ভাষী সকল জনগণের প্রতি উদ্বাত্ত্ব আহ্বান, দেশের এই দুঃসময়ে দেশের জনগণের পাশে দাঁড়ান। যশোর বাসীকে করোনার মহামারী থেকে রক্ষা করার জন্য আপনারা সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।  বিবর্তন যশোরকে সাহায্য পাঠানোর  জন্য যোগাযোগ করুণ-০১৮১৯০৩৯০০০ নওরোজ আলম খান চপল (সভাপতি, বিবর্তন যশোর) ও ০১৭১১০১১২৬৮ দীপংকর বিশ্বাস (সাধারণ সম্পাদক, বিবর্তন যশোর)।

প্রত্যেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সম্ভব অদৃশ্য শক্তিশালী করোনার মতো বিপদজনক ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে  রক্ষা পাওয়া।আর তাই পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় করোনা সংক্রমণ রোধে সচেতনামূলক টীম গঠম করা, মাস্ক ব্যবহার,টীকা নিবন্ধন ও টীকা গ্রহনের জন্য সকলকে উদ্ধুদ্ধ করা। ভয় নয়, করোনা সম্পর্কে সচেতনাতেই জয়। এজয় অবশ্যাম্ভী!

//স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোর//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

গজারিয়ায় ব্যাক্তি মালিকানা গাছ কাটায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবী, থানায় অভিযোগ

যশোরে মৈত্রী ভলান্টিয়ার্সদের দুঃসাহসীক মানবিক অভিযান

 

বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশওআজ ক্ষতবিক্ষত। বিশেষ করে ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা যশোরের অবস্থা দেশের অন্য জেলার থেকে একটু বেশি শোচনীয় । আর তাই যশোর জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগী ধারণের সক্ষমতা না থাকায় হাসপাতালের বারান্দায়,পথের ধারে,অ্যাম্বুলেন্সে বা ভ্যানের পরে করে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিতে দেখা গেছে।

ফলে হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে একটি শয্যা পাওয়া রীতিমত সোনার হরিণের মতো হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে হাসপাতালের স্বল্প সংখ্যক ডাক্তার, নার্সসহ চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিতদের অসহায়ের মতো আত্মসমার্পণ অন্যদিকে করোনার চিকিৎসার জন্য অতি প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সরবরাহ ও আইসিইউ এর ব্যবস্থা না থাকায় রীতিমত চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল সমগ্র যশোরবাসীর জন্য।

তাই অনেক সচ্ছল, অসচ্ছল ও পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্র করোনা আক্রান্ত রোগীকে বাধ্য হয়েই নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থার এমনই লাজুক পরিস্থিতিতে চারিদিকে শুধু করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর বিশাল মিছিল আর অক্সিজেনের অভাবজনিত কারণে করোনার রোগীদের অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে বেঁচে থাকার যে আপ্রাণ চেষ্টা লক্ষ করা যায় তাতে জনজীবনে দুর্বিসহ শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। করোনা আক্রান্ত রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘশ্বাসে সমগ্র যশোরের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত।

যশোরে মৈত্রী ভলান্টিয়ার্সদের দুঃসাহসীক মানবিক অভিযান

 

সরকারি – বেসরকারি বড় বড় হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠান করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে চিকিৎসা সেবা দিতে অনেকাংশেই ব্যর্থ। ঠিক জাতির এমনই একটি দুঃসময়ে যশোরের আপামর জনগণের ত্রাতা হয়ে হাজির হয়েছে মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সদের ২০/২৫ জন স্বেচ্ছাসেবক । ২৭ জুন থেকে শুরু করে অদ্যাবধি তারা করোনা আক্রান্ত রোগী ও তাদের পরিবারের পাশে আছে।

তাদের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল শূণ্যহাতে।শূন্যহাতে যাত্রা শুরু করে আজ তারা যশোরবাসীর আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।যশোর শহরের ভিতর যদি কারো অক্সিজেন প্রয়োজন হয় তাহলে সর্বপ্রথমেই মানুষ স্মরণ করছে মৈত্রী ভলান্টিয়ার্সদের।একইভাবে খাদ্য সংকটে অথবা করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সংকটে পড়ে ডাক্তারের পরামর্শের প্রয়োজন হলে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে তাদের সমমনা কিছু অভিজ্ঞ ডাক্তারবৃন্দের নিকট থেকে ।

আর এই বিশাল কর্মযোগ্য সম্ভব হয়েছে অসংখ্য মানুষের ভালবাসা ও মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সদের ঐকান্তিক চেষ্টা, শ্রম,মেধা এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য। গতবছর করোনা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সরা স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও পোশাক সহায়তা,মাস্ক বিতরণ, করোনা টীকা গ্রহনের জন্য রেজিষ্ট্রেশনসহ অক্সিজেন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ১১২ টি।এই সিলিন্ডারের মাধ্যমে ৩৩৮ জনকে ৯৯৭ বার অক্সিজেন সেবা দিয়েছেন।

সেবা দেওয়া ৩৩৮ জনের মধ্যে ২৯ জনকে একাধিকবার অক্সিজেন সেবা দিলেও করোনার হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।বাকি ৩০৯ জন সুস্থতার দিকে। মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সদের মহা কর্মযোগ্যে ১৬৭০ জন দেশ-বিদেশের মানবিক বন্ধু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদের কার্যক্রমকে গতিশীল করেছেন।

তাদের এই মানবিক কার্যক্রমকে চলমান রাখার জন্য সমাজের বিত্তবানসহ সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

সহযোগিতার হাত বাড়াতে চাইলে Moitry Volunteers, AC/NO- 01411200021525, First Security Islami Bank Ltd. Jashore Branch পাঠাতে পারেন অথবা 01713078267 বিকাশ নম্বরে আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।

উল্লেখ্য যতদিন করোনার প্রার্দুভাব থাকবে ততোদিন মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সদের এই সামাজিক স্বেচ্ছাসেবকমূলক কাজগুলো চলমান থাকবে।আর তাই সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

 //স্বীকৃতি বিশ্বাস//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

Daily World

যশোরে ২ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বাউফলে ৪বারের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহন: সংবর্ধনা আ’মীলীগের