খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

 

খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির এপ্রিল মাসের সভা রবিবার সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলনকক্ষ থেকে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক প্রধান অতিথি ছিলেন।

সভায় সিটি মেয়র বলেন, খুলনার বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নেই। লকডাউনে খুলনার বাইরে থেকে আসা কাঁচামালের মোকামগুলো খোলা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। লকডাউনের সময় সাধারণ মানুষের অকারণ ঘোরাঘুরি বন্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।

খুলনা নগরীর বাইরে হতে জরুরি সেবা ও রোগী বহনকারী যানবাহন ছাড়া অন্য কোন যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

সন্ধ্যার পর দোকানপাট যেন খোলা না থাকে সে জন্য প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা রাখা দরকার।

সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান যে কোন মূল্যে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি খুলনায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সব ধরণের জনসমাবেশ পরিহারের আহবান জানান ।

সিভিল  সার্জন ডা: নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, খুলনায় করোনাভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। টিকাদান কেন্দ্রে ভিড় এড়াতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকা গ্রহীতাকে টিকা নেওয়ার জন্য ফোনে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহীন বিন জামান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আসন্ন রমজানে তারাবি নামাজের সময় মসজিদে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে অবহিতকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সভাপতির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। করোনাকালীন আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততার  সুযোগে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদেরকে সজাগ থাকতে হবে।

এসময় আতঙ্কিত হয়ে বাজার থেকে অতিরিক্ত নিত্যপণ্য না কেনার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান জেলা প্রশাসক।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  মোঃ ইউসুপ আলী সভার শুরুতে বিগত মাসে খুলনা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে  তুলে ধরেন।

সভায় জানানো হয় খুলনা জেলা অধিক্ষেত্রে বিগত মার্চ মাসে ১৬৩ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে যার সংখ্যা বিগত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়ের হওয়া মামলা থেকে ২১ টি বেশি। খুলনা মহানগরী অধিক্ষেত্রে মার্চ মাসে ১৭৭ টি মামলা হয়েছে যা বিগত ফেব্রুয়ারি হতে ২৩ টি বেশি।

সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা অনলাইনে যুক্ত হন।

//আ: রাজ্জাক সেখ, খুলনা ব্যুরো//

।।প্রসঙ্গ ভবদহ। করোনা ও জলাবদ্ধতা নিয়ে উভয় সংকট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কৃপাদৃষ্টি কামনা।।

 

করোনার বৈশ্বিক মহামারীতে সমগ্র বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের অবস্থাও হতাশা ব্যাঞ্জক।করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের হার যেভাবে গাণিতিক হারে বাড়ছে তাতে সামনের দিনগুলো নিয়ে জাতি সশঙ্কিত। শুরু হয়েছে এক সপ্তাহের লকডাউন। লকডাউনসহ সরকারের দেওয়া ১৮ দফাসহ আরও অনেক নির্দেশনা।

ইতিমধ্যে সরকার ঘোষিত লকডাউন উপেক্ষা করে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা বানিজ্য চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাজপথে নেমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু রাখার জন্য নুন্যতম সুযোগটা আদায় করে নিতে সমর্থ হয়েছে।

পরিবহন মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি থাকায় তাদের দাবি আদায় করা সম্ভব পর হয়েছে।

কিন্তু যশোর সদরের কিছু অংশ, অভয়নগর,মনিরামপুর, কেশবপুর ও খুলনার ডুমুরিয়ার একটা অংশ নিয়ে গঠিত দীর্ঘদিনের সমস্যাবহুল ভবদহ এলাকার সাধারণ জনগণ, কৃষক, কৃষিকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোন সংগঠন না থাকায় আশির দশকে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে আজও ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর মতো বয়ে বেড়াচ্ছে।

গ্রীষ্মের দাবাদহে যখন দেশের মাঠঘাট ফেটে চৌচির তখন ভবদহ এলাকার ২১ বিলের অনধিক ৪০ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে ডুবে আছে। বিলগুলোর মধ্যে মনিরামপুর ও অভয়নগরের বিল কেদারিয়া, বিল গান্ধী মারী, চাতরার বিল, নুনের বিল, বিল ঝিকরা, ধলের বিল,ডুমুরের বিল, শালিখার বিল,ফাহালের বিল, ভায়নার বিল, মাঠের ডাঙার বিল, বিল পায়রা, বিল কপালিয়া, আড়পাতার বিলের ৩০ হাজার হেক্টর জমি ও কেশবপুর উপজেলার বক উড়ার বিল,বাগডাঙার বিল, ভাটবিলার বিল, নড়ের বিল, জিয়লদহের বিল, বিল খুকশিয়া, বিল ভায়নাসহ অনেকগুলি কুড় বিল নিয়ে ১০ হেক্টর জমি আজও পানিকে অপসরণ করে সূর্যের আলো দেখতে পায়নি।

 

ভবদহ জলাবদ্ধতা

 

অপরদিকে বিপরীত চিত্র দেখা যায় অত্র এলাকার ভৈরব, শ্রীনদী, হরি, টেকাসহ সকল নদ-নদী গুলো পলি জমে ভরাট হয়ে পানি শূণ্যতায় ভুগতে ভুগতে মরা খালে পরিণত হয়েছে। ফলে বিলগুলো থেকে পানি অপসরণের কোন পথ নেই।

বাংলাদেশ সরকারের নদ- নদী খাল খননের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ ভবদহ এলাকার নদ-নদী খননের জন্য ব্যয় হলেও হরিলুটের খৈয়ের মতো সরকারি টাকার অপচয় ছাড়া কোন ভাল ফলাফল পাওয়া যায়নি। গত কয়েকদিন আগের ছবি দেখলে বাস্তব চিত্রটা পরিলক্ষিত হয়।

ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পর থেকে অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুরের অনেক লোক শিল্প নগরী নওয়াপাড়ায় দৈহিক শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু সেখানেও বিধিবাম।

একদিকে বাপদাদার থেকে প্রাপ্ত পৈত্রিক সম্পত্তি দীর্ঘদিন অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে অন্যদিকে বাঁচার জন্য কায়িকশ্রম বিক্রির জন্য নওয়াপাড়া শিল্প নগরীর যে বিভিন্ন কার্গোতে কাজ করতো সেখানে করোনার কারণে পূর্বের ন্যায় মালামাল ওঠানামা কম হওয়ায় কায়িকশ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের পথও বন্ধের পথে।ফলে অত্র এলাকার অধিকাংশ লোক খাদ্য, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ঝঁকির মধ্যে বসবাস করছে।

ভবদহ এলাকার কৃষি ও কৃষিকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের এই মানবেতর জীবন-যাপন থেকে বাঁচানোর জন্য ফসলী জমিগুলো পানির নিচে থেকে উদ্ধার করার জন্য নদ- নদী খননসহ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত টিআরএম প্রকল্প যেমন চালু করা প্রয়োজন তেমনি সাধারণ জনগণকে বাঁচানোর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় এনে প্রত্যেক পরিবারের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা করা খুবই জরুরী। আর এগুলো যদি না করা হয় তাহলে ভবদহ এলাকার জনগন আস্তে আস্তে ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

আর তাই বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি প্রার্থনা করছি।

 

// রিপোর্টার স্বীকৃতি বিশ্বাস //

লকডাউন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলার দাবিতে বরিশাল নগরীতে বিক্ষোভ

 

বরিশাল নগরীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়ে দোকান-পাট খোলা রাখার দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ী ও দোকান শ্রমিকরা।

 

মঙ্গলবার (০৬ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে চকবাজারে ব্যবসায়ীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

 

পরে তাদের সঙ্গে নগরের কাঠপট্টি, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ, গীর্জামহল্লা এলাকার ব্যবসায়ীরাও যুক্ত হন।এ সময় তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়ে দোকান-পাট খোলা রাখার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

 

খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে নিবৃত করার চেষ্টা করেন।এর কিছু সময় পরে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

 

যে মিছিলটি নগরের বিভিন্ন সড়ক হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে গিয়ে তারা জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘিরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং দোকান-পাট খোলার দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকেন।

 

বিক্ষোভকারী ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের সঙ্গে সিটি ও মহসিন মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও একমত পোষণ করেছেন।

 

তারা বলেন, আমরা সব মানতে রাজি আছি, শুধু স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকানপাট খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। গতবছর লকডাউনে অনেক দেনা হয়েছি, ঋণের কারণে অনেকে ব্যবসাও ছেড়ে গেছেন। আমরাও ঋণে জর্জরিত হয়ে আছি। লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকলে আমাদের পথে বসা ছাড়া কোন উপায় নেই। সাধারণ ব্যবসায়ীরা না খেয়ে মারা যাবেন।

 

দোকানপাট খোলা থাকলে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, রোগ যাতে না ছড়ায় সেভাবে নিজেরাও সতর্ক থাকবো, কাস্টমারদের জন্যও সেরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এ সময় তাদের মধ্যে কেউ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা আবার কেউ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা আবার কেউ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকান-পাট খোলা রাখার দাবি জানান।

 

এদিকে বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম বাড়ৈ। ব্যবসায়ীদের দাবি শুনে তিনি এ বিষয়ে লিখিত পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

পরে ব্যবসায়ীরা লিখিত দেওয়ার মতপোষণ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ করেন।

 

এদিকে বরিশালে লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে বাস ও লঞ্চ চলাচল করছেনা বা নামি বিপনিবিতানগুলো বন্ধ থাকলেও নগরের চক বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ কেউ চুপিসারে দোকান খুলে বিকিকিনি করছেন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত হলে চকবাজারের কতিপয় দোকানি জড়ো হয়ে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে উল্টো ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী সুজা বলেন, সরকার নির্দেশিত লকডাউন যথাযথভাবে কার্যকর করতে তারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। যাতে করে করোনার অতিমারি থেকে মানুষ মুক্তি পেতে পারেন। যেখানে এর ব্যতয় ঘটছে সেখানেই তারা জরিমানা করছেন।

পলাশ চন্দ্র দাসঃ বরিশাল প্রতিনিধি //

ব্যারিষ্টার সেহরিন সালাম বিজিএমইএ এর পরিচালক নির্বাচিত।। খুলনা, রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাবের বিবৃতি

 

খুলনা-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ,এনভয় গ্রুপের পরিচালক ও রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা আব্দুস সালাম মূর্শেদী,  সারমিন সালামের কন্যা সেহরিন সালাম ঐশী বিজিএমইএ সম্মিলিত পরিষদ থেকে পরিচালক পদে নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবন্দ।

 

বিবৃতি দাতারা হলেন ক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ ফ.ম.সালাম, আঃ মজিদ ফকির, বাকির হোসেন বাকু, ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মোরশেদুল আলম বাবু,সিনিয়র সহ সভাপতি জি এম আসাদুজ্জামান, সহ সভাপতি এম মুরশিদ আলী, সাধারণ সম্পাদক আঃ রাজ্জাক শেখ, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ:মজিদ শেখ, ওয়াহিদুজ্জামান অহিদ, কোষাধ্যক্ষ ফ.ম. আইয়ুব আলী, দপ্তর সম্পাদক চন্দন ভট্টাচার্য্য, প্রচার সম্পাদক মোশারেফ হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক নাজিম সরদার, সদস্য নূর ইসলাম, আনিচুর রহমান,এইচ এম রোকন, শাহরিয়ার হোসেন মানিক, নাসির উদ্দীন, মিলন সাহা, কুরবান শেখ প্রমূখ।

//আ:রাজ্জাক শেখ/ খুলনা ব্যুরো //

সাংবাদিক কাজী আয়েশা ফারজানার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার প্রতিবাদে চন্দনাইশে মানববন্ধন

দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার বোয়ালখালী প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএসএফ) বোয়ালখালীর সাধারণ সম্পাদক কাজী আয়েশা ফারজানার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়েরের প্রতিবাদে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও চন্দনাইশ শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) বিকালে দোহাজারী হাজারী শপিং সেন্টারের সামনে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক আব্দুল হাকিম রানা। প্রধান আলোচক ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক সোহাগ আরেফিন। বিশেষ আলোচক ছিলেন বিএমএসএফ’র চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সহসভাপতি ও চন্দনাইশ প্রেসক্লাব সভাপতি এডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির গণযোগাযোগ বিষয়ক কাইছার ইকবাল চৌধুরী। বিএমএসএফ চন্দনাইশ উপজেলা আহবায়ক   ও চন্দনাইশ প্রেসক্লাব সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চন্দনাইশ প্রেসক্লাব সহসভাপতি আবিদুর রহমান বাবুল, মাওলানা মোজাহেরুল কাদের, আবু তালেব আনচারী, এসএম রহমান, বিএমএসএফ’র দক্ষিণ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এম.এ হামিদ, এসএম রাশেদ, তুষার আহমদ কায়ছার, সেলিম উদ্দীন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক কামরুল ইসলাম মোস্তফা, ছাদেক হোসেন, মাঈন উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, এসএম জাকির, ফয়সাল চৌধুরী, মোকতার হোসেন, আব্দুল আজিজ, শহীদুল ইসলাম, আরফাত হোসেন, ইফতেখার নুর তিশান প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ”কর্নফুলী নদীর দক্ষিণ পাড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় একমাত্র নারী সাংবাদিক কাজী আয়েশা ফারজানার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে নারী অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চায় একটি কুচক্রী মহল। রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সকল অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরায় ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে অন্যায় অনিয়মের সাথে জড়িত অপশক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই মিথ্যা মামলা করেছে। সাংবাদিকেরা হলেন জাতির বিবেক, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সমাজের নানা অসঙ্গতি, অন্যায়-অনিয়ম তুলে ধরাই হলো সাংবাদিকদের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব।
আমাদের (সাংবাদিকদের) মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মতবিরোধ থাকলেও সকল মতবিরোধ ভুলে আজ একপ্লাটফর্মে দাঁড়িয়েছি সাহসী সাংবাদিক কাজী আয়েশা ফারজানার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে। অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে।
 মোকতার আহমদ, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

রাজধানীসহ সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন

অনলাইন ডেস্ক।।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিরোধী বিক্ষোভে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জেরে রাজধানীসহ দেশজুড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন তারা।

বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল ফয়জুর রহমান জানান, রাজধানীসহ সারা দেশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

 

শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ এবং রবিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

এর আগে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে দুপুরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বায়তুল মোকাররম এলাকা।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজ শেষে ইসলামি দলগুলো বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করায় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক আহত হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

কীভাবে এল লাল গালিচা সংবর্ধনা…? কেন অন্য রঙের গালিচা নয়….!

।। দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক ।।

রেড কার্পেট বা লালগালিচা, নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে রাষ্ট্রীয় অতিথিকে স্বাগত জানানোর কোনো দৃশ্য কিংবা অস্কার-গ্র্যামি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের ছবি। শুরু থেকেই অবশ্য এই লালগালিচা সম্রাট কিংবা উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের পায়ের ধুলোকেই সঙ্গী করে চলেছে।
প্রাচীন গ্রিসের ইস্কিলুসের ট্র্যাজেডিতে এই লালগালিচার উল্লেখ পাওয়া যায়। যখন গ্রিসের সম্রাট আগামেমনন ট্রোজান যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে দেশে ফিরে আসেন, তখন সম্রাজ্ঞীর নির্দেশে তাঁকে স্বাগত জানাতে লালগালিচা বিছানো হয়েছিল। অর্থাৎ খ্রিষ্টের জন্মেরও ৫০০ বছর আগে রাজকীয় সংবর্ধনায় লালগালিচা ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা পাওয়া যায়।

মধ্যযুগের ইউরোপে লাল রংকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হতো। তাই রেনেসাঁ যুগের শিল্পকর্মে সাধু, সম্রাট কিংবা অভিজাত ব্যক্তিদের পায়ের নিচে লালগালিচার অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

আধুনিক যুগে, ১৮২১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর সাউথ ক্যারোলাইনায় আগমনকে স্বাগত জানাতে সেখানে লালগালিচা ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা যায় এবং এরপর থেকেই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সম্মান প্রদর্শনে লালগালিচা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিছুদিন আগে তো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে লালগালিচা সংবর্ধনা না দেওয়া নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঠান্ডা লড়াইও হয়ে গেল রীতিমতো!

তবে লালগালিচাকে আধুনিককালে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় করেছেন হলিউড তারকারা। মূলত বিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্রশিল্পের ব্যাপক উন্নতি ঘটে এবং হলিউডের তারকাদেরও অভিজাত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো ১৯৬১ সালে অস্কার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সম্মানে লালগালিচার প্রচলন করা হয়।

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে শিশু রাইসা হত্যার বিচার ও আসামীদের ফাঁসির দাবিতে মানবন্ধন

 এ এইচ নান্টু, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি//

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে আড়াই বছর বয়সী শিশু রাইসা আক্তার হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মোল্লাহাট উপজেলা সদরের চৌরাঙ্গী মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদের সামনে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, মোল্লাহাট উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম রেজা, রাইসার নানা ও হত্যা মামলার বাদী আব্দুল আলীম শেখ, শিশু রাইসার মামা কে,আর কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি সাজ্জাদ শেখ সহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, সন্তানদের সব থেকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হচ্ছে বাবা-মা। একজন বাবা হয়ে হুমায়ুন সরদার মহিউদ্দিন কিভাবে অবুঝ শিশু রাইসাকে হত্যা করল তা আমরা জানি না। এই ঘটনায় আমরা হতবাক হয়েছি।এই হত্যার পিছনে হুমায়ুনের ভাই সুজা সরদার, মোঃ রাজন সরদার এবং হুমায়ুনের মা বদরুন নাহারও জড়িত রয়েছেন। পুলিশ হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করলেও অন্য আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা। পারিবারিক কলহের জেরে ২২ মার্চ রাতে মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর গ্রামের আব্দুর রহমান সরদারের ছেলে সেনা সদস্য হুমায়ুন সরদার ওরফে মহিউদ্দিন নিজের কন্যাকে আছাড় দিয়ে হত্যা করেন।

খেলাপি ঋণে আরও ছাড়

অনলাইন ডেস্ক।।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব মোকাবেলায় খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে আরও এক দফা ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এবার মেয়াদি ঋণের সুদ পরিশোধ ও বাণিজ্যিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে ঋণের মেয়াদ। ফলে ঋণ পরিশোধের সীমা বেড়েছে।

একই সঙ্গে বৃদ্ধি করা হয়েছে ঋণ খেলাপি না করার মেয়াদ। এর মধ্যে তলবি ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২১ মাস বেড়েছে। চলমান ঋণের মেয়াদ বেড়েছে ১৫ মাস। চলমান, তলবি ও মেয়াদি ঋণের মার্চ পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে তিন মাস।

এ বিষয়ে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। এর আগে গত বছরে ঋণ খেলাপি না করার মেয়াদ তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে ওই সুবিধা প্রত্যাহার করে শুধু মেয়াদি ঋণের কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। তবে বাণিজ্যিক ঋণ নিয়মিতভাবে পরিশোধ করার কথা ছিল। নতুন সার্কুলারে সব ধরনের ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের মেয়াদ বিভিন্ন হারে বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা করতে ঋণ পরিশোধের সীমা আরও বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে তারা যেসব প্রণোদনা প্যাকেজগুলো বাস্তবায়িত হয়নি সেগুলোর মেয়াদও বাড়ানোর দাবি করে। ইতোমধ্যে এগুলোর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, দেশের অর্থনীতিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব বেড়েছে। ফলে রপ্তানি বাণিজ্য কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যাংকিং খাতে ঋণপ্রবাহ পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, যেসব চলমান ঋণের মেয়াদ ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে এবং প্রচলিত নীতিমালার আওতায় নবায়ন করা হয়নি। সেসব ঋণের বিপরীতে অনাদায়ী সুদ চলতি মার্চ থেকে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত ছয়টি সমান ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। একই সঙ্গে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আরোপিত সুদ নিয়মিতভাবে পরিশোধ করলে ওইসব ঋণকে খেলাপি করা যাবে না। অর্থাৎ চলমান ঋণের সুদ নিয়মিতভাবে পরিশোধ করলে তা খেলাপি হবে না। এ সুবিধা আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থাৎ দেড় বছর বাড়ানো হয়েছে। এবার শুধু সুদ পরিশোধ করতে হবে।

গত বছরের সুবিধায় ২০২০ সালে সুদ ও ঋণ কোনোটিই পরিশোধ করতে হয়নি। যা এ বছর থেকে পরিশোধ করতে হবে।

তলবি ঋণের ক্ষেত্রে চলতি মার্চ থেকে আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আটটি সমান ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। নিয়মিতভাবে কিস্তি পরিশোধিত হলে এগুলোকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে মেয়াদ বেড়েছে ২১ মাস।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, নিয়মিতভাবে কিস্তি পরিশোধিত না হলে যে ত্রৈমাসিকে কিস্তি পরিশোধিত হবে না, ওই সময় থেকেই আলোচ্য সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে ওই ঋণকে খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করা যাবে।

চলমান, তলবি ও মেয়াদি ঋণের বিপরীতে চলতি মার্চ পর্যন্ত প্রদেয় কিস্তি ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করা হলে সেগুলোকে খেলাপি করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে মেয়াদ বেড়েছে তিন মাস।

করোনার প্রভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বিতরণ করা ঋণ এ নীতিমালার আওতায় পড়বে না। সেগুলো নিজ নিজ প্রণোদনা প্যাকেজের শর্ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

চট্টগ্রামে এক নারীর পরিবর্তে নারীর সাজা ! অবশেষে মিনুকে আদালতে হাজির করা হলো

আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রামের একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুলসুম আকতার কুলসুমীর পরিবর্তে বদলী সাজা ভোগকারী মিনুকে আদালতে তোলা হয়েছে।

গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভুইয়া’র আদালতের খাস কামরায় তোলা হয় মিনুকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের পেশকার মো: ওমর ফুয়াদ। তিনি জানান, জেলখানার কয়েদির ছবি সম্বলিত রেজিষ্টার খাতা বিজ্ঞ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত মিনুসহ জেলখানার রেজিস্টার খাতা দেখে আদেশের অপেক্ষায় রেখেছেন।

জানা যায়, একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত কুসুম আকতার কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদন্ড দেন আদালত। কুলসুমীর পরিবর্তে আদালতে আত্মসমর্পন করে জেল খেটেছের মিনু। নামের মিল না থাকলেও মিনুকে কুলসুম আকতার কুলসুমী বলে গত ২ বছর ৯ মাস ১০ দিন যাবৎ চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগারের রাখা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো: শফিকুল ইসলাম খান আদালতকে জানান।

গত মোমবার সকালে অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভুইয়া’র আদালতে পি, ডবি­উ মূলে মিনুকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সূত্র জানায়, কোতোয়ালী থানার মামলা নং ০৯(৭)০৬ ও জি আর ৪৫৯/০৬। মামলার দায়রা নম্বর ৫৯০/০৮। নগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকার রহমতগঞ্জের একটি বাসায় মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গার্মেন্টস কমী কোহিনুর আকতার পারভিনকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। তারপর একটি গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়।  কোহিনুর আকতার পারভিন আত্মহত্যা করেছে বলে দাবী করেন তার র”মমেট অপর গার্মেন্টস কর্মী কুলসুম আকতার কুলসুমী। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পুলিশ দীর্ঘ দুই বছর তদন্ত করে কোহিনুর আকতার পারভিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে রির্পোট দিলে মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হয়। গত ২০১৭ সালের নভেম্বরে তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কোহিনুর আকতার পারভিন হত্যা মামলার আসামী কুলসুম আকতার কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদন্ডের আদেশ দেন। সাজার পরোয়ানা মূলে কুলসুম আকতার কুলসুমীর পরিবর্তে মিনু গত ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারের যান। গত ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো: শফিকুল ইসলাম খান নারী ওয়ার্ড পরিদর্শন কালে মিনু কোন মামলার আসামী নন বলে জানান।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগার সূত্র জানায়, কারাগারের সংরক্ষিত হাজতি রেজিষ্টার পর্যালোচনা করে জানা যায়, উক্ত মামলা সংক্রান্ত হাজতি নম্বর ১৫৭১৯/০৭ কুলসুম আকতার, স্বামী ছালে আহম্মেদ নামীয় বন্দি বিজ্ঞ মেট্ট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে অন্তবর্তীকালীন হাজতের পরোয়ানামূলে গত ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর কারাগারে আসেন। তিনি প্রায় ১ বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ চতুর্থ আদালত ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী জামিন মঞ্জুর করেন। ঐ দিন কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন কুলসুম আকতার কুলসুমী।