সড়ক দূর্ঘটনায় বয়ে এনেছে এক স্কুল শিক্ষকের সারা জীবনের কান্না,ভবিষ‍্যত হয়ে পড়েছে অন্ধকারাচ্ছন্ন

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকূল, বিশষ প্রতিনিধি//
সড়ক দূর্ঘটনায় কেড়ে নিয়েছে এক স্কুল শিক্ষকের শরীরের একটি অঙ্গ, কেটে ফেলা হয়েছে তার একটি পা,নেমে এসেছে তার জীবনে ঘনঘটা অন্ধকার, শেঁওলার মত ভেসে বেড়াচ্ছে স্ত্রী, দুইপুত্রসহ তার সাংসারিক জীবন। বাগেরহাটের মোরলগঞ্জ উপজেলার বড়কড়ি গ্রামের মৃত- মোহাম্মদ আলী বিশ্বাসের ছেলে এমএম ছালিম (৫০)। তিনি ১লা জানুয়ারি’২০০০ইং সালে মোরলগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালতলা মাধ‍্যমিক বিদ‍্যালয়ের (ম‍্যাথমেটিক্স) সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ৩০ (অক্টোবর) ২০১৩ সালে মটর সাইকেলযোগে স্কুলে যাওয়ার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় তার ডান পা দুমড়ে-মুঁচড়ে যায়। পথচারীরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ‍্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়।

পরবর্তীতে হাসপাতালে অপারেশন করে তার একটি পা কেটে বাদ দেওয়া হয়। ছয়মাস চিকিৎসাধীনে থাকাকালীন তিনি চাকুরীচ‍্যুত হন। শিক্ষক এমএম ছালিম কোন প্রকার সুস্থ হয়ে উঠলে পূণরায় খুলনা আইচগাতি দ্বীনুল হক ক‍্যাডেট একাডেমিতে অধ‍্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর তিনি ইং-২০১৫ হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত একটানা ৪ বছর শিক্ষকতা করে আসছিলেন কিন্তু ভাগ‍্যের কি নির্মম পরিহাস ” ওখানেও তার করা হলোনা শিক্ষকতা।

বর্তমানে তিনি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত এক মৃত্যুপথযাত্রী। তাহার চোখ,নাক,কপাল মিলে একটি টিউমার অপারেশন করতে হবে। শিক্ষক এমএম ছালিম জানান, এ ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন বাংলাদেশে করা সম্ভব নয়, তাই আমাকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য এপর্যন্ত তিনবার মাদ্রাজ যেতে হয়েছে ও গত ২৩জুলাই আমি চিকিৎসার জন্য মাদ্রাজে গিয়েছিলাম। ডাক্তার দেখিয়ে আবার ১৫ আগষ্ট বাংলাদেশে ফিরে আসি। এখন আমার সহায়-সম্বল সবকিছু হারিয়ে একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছি । শিক্ষক এমএম ছালিম আরো জানান, আমার দুইটি পুত্রসন্তান রয়েছে, জ‍্যেষ্ঠপুত্র মোঃ ত্বহা(১৪), ছোটপুত্র মোঃ তালহা (৭)তারা দুইজনই মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে।

এই পঙ্গুত্ব জীবন নিয়ে কিভাবে এতো ব‍্যয়বহুল খরচ বহন করবো ?

সমাজের বিবেকবান, বৃত্তশালীসহ সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে তার আহবান! তিনি কী আর পারবেন না আবার সু্স্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে?। অসহায় শিক্ষক এমএম ছালিম তাহার পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে কোনমতে দু’বেলা খেয়ে, একবেলা না খেয়েও থাকতে হচ্ছে ওই শিক্ষক পরিবারটিকে। অসুস্থতার মাঝেও নেই কোন তার বিশ্রাম, প্রতিদিন যোগান দিতে হচ্ছে সাংসারিক খোরাক অন্ন-বস্ত্র, খাদ‍্য-সামগ্রী। যশোরের অভয়নগর উপজেলা,নওয়াপাড়া নূরবাগ খেয়াঘাটে শিক্ষক এমএম ছালিমকে মাঝে মধ্যে এসে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে দেখা যায়। কেন তিনি এ পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন তার বিস্তারিত এ প্রতিনিধিকে জানান। প্রতিনিয়ত পঙ্গুত্ব অবস্থায় বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগঞ্জে,শহর বন্দরের অলিতে গলিতে বসে মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে বেড়ান। দশ জনের কাছে সাহায্য চেয়ে দিনশেষে যে টাকা গুলো তিনি পেয়ে থাকেন তা দিয়ে তার স্ত্রী-সন্তানদের পানি পান্তার খরচ ও ঠিক মতো জোটেনা, আর চিকিৎসার জন‍্য খরচ করাতো ধরাছোঁয়ার বাইরে। অকালেই ঝরে যেতে বসেছে ওই শিক্ষক পরিবারটি।

কোন শিশু জন্ম গ্রহন করার পর শৈশবে তার পিতা -মাতা যেমন লালন-পালন করে ওই শিশুকে সুন্দর ভাবে গড়ে তোলেন, তেমনি আল্লাহর পরে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষক যখন ছাত্র – ছাত্রীদের শিক্ষাদানের মাধ্যমে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে সক্ষম হতে পারে তাহলে সুশীল সমাজের বৃত্তবান’রা কী পারবেনা একজন অসহায় শিক্ষককে মানবিক দৃষ্টিতে দেখে, তার নিভে যাওয়া প্রদীপকে পূনরায় জ্বালিয়ে অন্ধকার জগত থেকে আলোয় আনতে?। সবার উপরে মানুষ সত‍্য ” তাহার উপরে নাই – হে-মানব তুমি সত‍্যেরই মাঝে, মানুষের দিও ঠাঁই।। মানুষ -মানুষেরই জন‍্য’ তাই একটু সহানুভূতি দেখিয়ে সকল শ্রেণীর মানুষ যদি ওই পঙ্গু অসহায় শিক্ষক পরিবারের প্রতি সামান‍্য সু-নজর দেন,তাহলে হয়তো আল্লাহর রহমতে তিনি সুস্থ হয়ে তার পরিবারের কাছে আগের মতো ফিরে যেতে পারবেন , সারাজীবনের কান্না থেকে হয়তো বিরত থাকবেন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন দুর করে আলোর মুখ দেখবেন।

ডিজেল-কেরোসিনের নতুন দাম ১১৪ টাকা, পেট্রোল ১৩০, অকটেন ১৩৫

//আজিজুল ইসলাম//

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার (৫ আগস্ট) দিনগত রাত ১২টার পর থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

ভোক্তা পর্যায়ে লিটার প্রতি ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাত ১০টায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন কর্তৃক পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বৈশ্বিক বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) এ পরিশোধিত এবং আমদানি/ক্রয়কৃত ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য সমন্বয় করে ভোক্তা পর্যায় নিম্নোক্তভাবে পুণর্নির্ধারণ করা হলো।

শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে ডিপোর ৪০ কিলোমিটারের ভেতর ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য ডিজেল প্রতি লিটার ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৩০ টাকা।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, জনবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় আমজনতার স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।  যতদিন সম্ভব ছিল, ততদিন সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা করে নাই। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা নিরুপায় হয়েই কিছুটা অ্যাডজাস্টমেন্টে যেতে হচ্ছে। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সরকার জ্বালানি তেলের  মূল্য কমিয়ে দিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য পুনরায় বিবেচনা করা হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত তেলের মূল্য সমন্বয় করে থাকে। ভারত ২০২২ সালের ২২ মে থেকে কলকাতায় ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ৯২.৭৬ রুপি এবং পেট্রোল লিটার প্রতি ১০৬.০৩ রুপি নির্ধারণ করেছে, যা অদ্যাবধি বিদ্যমান রয়েছে। এ মূল্য বাংলাদেশি টাকায় যথাক্রমে ১১৪.০৯ টাকা এবং ১৩০.৪২ টাকা। ( ১ রুপি = গড় ১.২৩ টাকা)। অর্থাৎ বাংলাদেশে কলকাতার তুলনায় ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ৩৪.০৯ এবং পেট্রোল লিটার প্রতি ৪৪.৪২ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছিল। মূল্য কম থাকায় তেল পাচার হওয়ার আশঙ্কা থেকেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো সময়ের দাবি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিগত ছয় মাসে (২২ ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত) জ্বালানি তেল বিক্রিতে (সব পণ্য) ৮০১৪.৫১ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে।  বর্তমানে আন্তর্জাতিক  তেলের বাজার পরিস্থিতির কারণে বিপিসির আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাতে যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

বরগুনার তালতলীর প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

পূর্ণিমার জোয়ারে পায়রা নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-তিন ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার তালতলী উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

তালতলী উপজেলার তেতুলবাড়িয়ায় ভাঙা বাঁধ দিয়ে এখনও ঢুকছে জোয়ারের পানি। দিনের পর দিন প্লাবিত হওয়ায় শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট শুরু হয়েছে প্লাবিত গ্রামগুলোতে।

পূর্ণিমার জোয়ারে প্লাবিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানির খোঁজে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে দেখা গেছে শতাধিক মানুষকে।

বরগুনার তালতলীর প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট

গ্রামগুলোর অধিকাংশ ডিপ টিউবয়েল পানির নিচে তলিয়ে থাকায় উঁচু স্থানের টিউবয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করছেন সবাই। রান্না ও খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। জোয়ারের পানি নামতে না নামতেই আবারো পানি উঠে তলিয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম।

নিদ্রাসকিনা গ্রামের তাছলিমা বেগম বলেন,ঘরে কয়েকদিন যাবত চুলা জ্বলছে না। পানি এখনো কমে নাই। পরিবারে বৃদ্ধসহ শিশু রয়েছে এদের নিয়ে মানবতার জীবনযাপন করছি।

তালতলীর তেতুঁলবাড়িয়া গ্রামের ৬০ বছরের বৃদ্ধা খোদেজা বেগম বলেন,পরিবারের সদস্যদের জন্য পাশের এলাকার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ৪ দিন ধরে খাবার আনছি। এলাকার অধিকাংশ টিউবয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লবণ পানি ঢুকে পরেছে টিউবয়েলে। তাই খাবার পানি সংকটে এখন হাজারো মানুষ।

আমতলী উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপকারী মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, পয়রা নদীর পানু বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন,যে সকল জায়গায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে সেগুলো সংস্কার এবং পানি কমে গেলেই বাঁধ দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালতলী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সাদিক তানভীর জানান, এখন পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ১০৭ পরিবারকে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।

রামপালে জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে বাগেরহাটের রামপাল উপজলার বিভিন্ন এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। সাধারন মানুষ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। জানা গেছে মোংলা- ঘোষিয়াখালি বঙ্গবন্ধু নৌ চ্যানেলসহ দাউদখালি, বগুড়া, তেতুলিয়া নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর ফলে এসব নদীর দুই তীরের অনেক এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক এলাকায় গ্রামীন রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারন মানুষ। বেশির ভাগ চিংড়ি ঘেরের বেড়ি বাঁধ ছুই ছুই করছে পানি। কিছু এলাকার চিংড়ি ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। কোন কোন নীচু এলাকায় বাড়ি ঘরের চারপাশে পানি উঠে যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বাঁশতলী, ভোজপাতিয়া, হুড়কা, রামপাল সদর, রাজনগর, পেড়িখালি ইউনিয়নের অনেক এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় বলে ওই সব এলাকার সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

দাউদখালি নদীর পানি উপচে পড়ে ফয়লাহাট ও ঝনঝনিয়া বাজার, গিলাতলা বাজার তলিয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক হাটের দিন বেলা ১১টার দিকে দেখা যায় বাজারের ড্রেনের মুখ খোলা থাকায় জোয়ারের পানিতে ফয়লা বাজারের অর্ধেকটা তলিয়ে যায়। এর ফলে বাজারের কাচা মালামাল পানিতে ভাসতে থাকে। দোকানদাররা বেচাকেনা বাদ রেখে মালামাল রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ঝনঝনিয়া বাজারের পাশের একজন বাসিন্দা জানান দাউদখালি নদীর জোয়ারের পানিতে ঝনঝনিয়া বাজার সহ চলাচলের রাস্তা, মাঠ ও আশপাশের অনেক এলাকা তলিয়ে যায়। পশুর নদীর পানিতে গৌরম্ভা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় জোয়ারের পানি উঠে যায়। মইদাড়া নদীর পানিতে রাজনগর ইউনিয়নের অনেক এলাকা জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ‘র সদস্য এম, এ সবুর রানা বলেন পূর্ণিমার জোয়ার ও তীব্র মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জোয়ারের পানি বেড়েছে।

এ ছাড়াও নদী খাল সংকুচিত হওয়ায় জোয়ারের পানি উপচে পড়ছে।

Daily World News

রুপসায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু

পদ্মা এই সেতুতে দৈনিক চলবে ৭৫ হাজার যানবাহন

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু মহাধুমধামে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী শনিবার (২৫ জুন)। এদিন সকাল ১০টায় মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এরপর সরকারপ্রধান পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে জাজিরা প্রান্তে যাবেন এবং সেখানে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন।

পদ্মা সেতু গতকাল (২২ জুন) বুঝে নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ আনুষ্ঠানিকভাবে সেতু হস্তান্তর করেছে।ইতোমধ্যেই সেতুর সব ধরনের কাজ শেষ হয়েছে। ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার পর ২৬ জুন সকাল ৬টা থেকে এ সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরু হবে। এর আগেই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে সেতুটি বুঝে নেয় সেতু কর্তৃপক্ষ।

স্বপ্নের এই পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের আগ্রহ অনেক। ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ২১ জেলাকে সংযুক্ত করবে এই সেতু।উপকৃত হবে অন্তত তিন কোটি মানুষ। দৈনিক ৭৫ হাজার যানবাহন চলাচল করবে এই সেতু দিয়ে।

জনসাধারণের জন্য ২৬ জুন পদ্মা সেতু উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু নির্মাণে কাজ ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর শুরু করে সরকার। মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় মাওয়া প্রান্তে ৬ নম্বর পিলারের কাজ দিয়ে। ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির আয়ুষ্কাল ১০০ বছর।

পদ্মা সেতুর কারণে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে দেশের ২১টি জেলা। এই সেতুর কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩ কোটি মানুষ সরাসরি উপকারভোগী হবে।

Daily World News

কচুয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা

ডুমুরিয়ায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ড কাপ ফুটবল টুনামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

সিলেট ও সুনামগঞ্জ বন্যার্তদের ১০ ট্রাক খাবার দেবেন ডিপজল

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জ। বন্যাকবলিতদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন খল অভিনেতা ডিপজল। তাদের জন্য ১০ ট্রাক খাবার পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে ডিপজল জানান, প্রতি সপ্তাহে ২ ট্রাক খাবার সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে থাকবে চিড়া-গুড়, বিশুদ্ধ পানির সঙ্গে শিশু খাবার।

ডিপজল বলেন, ‘বন্যাদুর্গত এলাকায় খাবার স্টোর করা কঠিন। আবার রান্না করার মতো খাবারও পাঠানো সম্ভব নয়। আগুন জ্বালানো যাবে না। তাই সব ভেবে-চিন্তে প্রতি সপ্তাহে দুই ট্রাক করে খাবার পাঠাবো।’

মোট ১০ ট্রাক খাবার পাঠাবেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া বন্যা পরিস্থিতি যাতের দ্রুত স্বাভাবিক হয় সেই আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

দেশি চলচ্চিত্র তারকাদের মধ্যে শাকিব খান এবং অনন্ত জলিলও বানভাসি মানুষদের পাশে দাঁড়ানো ঘোষণা দিয়েছেন।

অনবরত ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটের জৈন্তা, গোয়াইঘাট, কোম্পানিগঞ্জসহ সুনামগঞ্জের মানুষ পানিবন্দি জীবন-যাপন করছেন। পাশাপাশি তলিয়ে গেছে স্কুল, কলেজ, আশ্রয়কেন্দ্রসহ বহু গ্রাম। বন্যায় সেনা, নৌ ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থা উদ্ধার কাজে লিপ্ত রয়েছে।

পাহাড়ি ঢল // ভারি বৃষ্টি// ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও বারহাট্টা উপজেলায় বন্যা হচ্ছে। বিশেষ করে কলমাকান্দার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ৩৪৩ গ্রামের মধ্যে বেশিরভাগ গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।  এতে প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

অসংখ্য রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। তিন সহস্রাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। জেলা ও উপজেলার সঙ্গে ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তিন লক্ষাধিক মানুষ।

প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলমাকান্দা উপজেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ। উপজেলা শহরের চানপুর, নদীপাড়, পশ্চিমবাজার, পূর্ববাজার, কলেজ রোডসহ বেশ কিছু এলাকায় এখন হাঁটুপানি থেকে কোমরপানি। মানুষের বাড়িঘর, দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে এখন বন্যার পানিতে প্লাবিত।

উপজেলার সঙ্গে সব ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, চান্দুয়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, উদয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতাধিক বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যার পানিতে তিন সহস্রাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। গোবাদি পশুর খাদ্যসংকট দেখা দিচ্ছে।

কলমাকান্দা সরকারি কলেজের প্রভাষক রোপণ সাহা বলেন, ‘কলমাকান্দার আটটি ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রামই প্লাবিত হচ্ছে। উপজেলার দুই লাখ ৪৫ হাজার মানুষের মধ্যে ৮৫ শতাংশ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। পানি বাড়ছে, মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত জানান, ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কংস, মোমেশ্বরী, ধনু, উব্দাখালীসহ ছোট-বড় সব নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে উব্দাখালী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপরে আছে। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ৬ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৯৫ মিলিমিটার।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাসেম বলেন, ‘কলমাকান্দার সব এলাকাই এখন বন্যার পানি। অবস্থা তেমন ভালো নয়, ইউএনও কার্যালয়, উপজেলা পরিষদসহ শহরে হাঁটুপানি থেকে কোমরপানি। মানুষ আশ্রয় নিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ শুক্রবার সকালে বলেন, ‘কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও বারহাট্টা উপজেলার মধ্যে কলমাকান্দায় বেশি বন্যা হচ্ছে। ক্রমশ পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। তিনটি উপজেলায় প্রচুর মানুষ পানিবন্দি। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢুবে যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বন্যাকবলিত প্রতিটি উপজেলায় ২০ টন করে চাল ও   দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শুকনো খাবারসহ ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে।’

 

 

৫ লাখ ডলার ক্ষতিপুরণ পাচ্ছে ইউক্রেনে নিহত নৌ প্রকৌশলী হাদিসুরের পরিবার 

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

ইউক্রেনের বন্দরে জাহাজে গোলার আঘাতে নিহত নৌ প্রকৌশলী হাদিসুর রহমানের পরিবারের ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)।

ডলারের দাম চড়া থাকায় বর্তমান বিনিময় মূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের এই অঙ্ক প্রায় ৫ কোটি টাকার সমান।

বুধবার ঢাকায় বিএসসি টাওয়ারে অনুষ্ঠিত বিএসসির পরিচালনা পর্ষদের ৩১২তম বৈঠকে এই তথ‍্য জানানো হয় বলে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

তবে কবে কিংবা কীভাবে এই ক্ষতিপূরণ আসবে, তা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধিতে কর্মরত অবস্থায় গত ২ মার্চ ইউক্রেইনের ওলভিয়া বন্দরে রকেট হামলায় নিহত হন জাহাজটির থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর।

গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ওই জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হয়। জাহাজের ২৯ নাবিককে মলদোভা-রোমানিয়া হয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। আর ১৪ মার্চ দেশে আনা হয় হাদিসুরের লাশ, পরে দাফন করা হয় বরগুনায় তার বাড়িতে।

নৌ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাদিসুরের এক ভাইকে শিপিং করপোরেশনে চাকরিও দেওয়া হয়েছে। তিনি আগামী ১ জুন কাজে যোগ দেবেন।

জাহাজের অন্য সব ক্রুকে সাত মাসের বেতন দেয়া হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম‍্যান খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর অংশগ্রহণে এই সভায় পরিচালনা পর্ষদের সদস‍্য নৌপরিবহন সচিব মোস্তফা কামাল, স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক এম শাহজাহান মিনা, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবদুর রহমান, বিএসসির ব‍্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এস এম মনিরুজ্জান, অর্থ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক নাসিমা পারভীন, পীযূষ দত্ত ও মোহাম্মদ ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন।

সুরমা ও কুশিয়ারার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে তিন নদীতে পানি ঢুকছে

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলশিদ এলাকায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উৎসস্থলে নদী প্রতিরক্ষা বাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেছে। এতে প্রবল বেগে পানি ঢুকে জকিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বাঁধে ভাঙন দেখা যায়। এতে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, সুরমা নদী শুক্রবার সকাল ৯টায় কানাইঘাট পয়েন্টে গতকালের চেয়ে ১৭ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্লাবিত হচ্ছে।

একই সময়ে সুরমা নদী সিলেট নগরীর পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং সুনামগঞ্জ শহর পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্লাবিত হচ্ছে।

কুশিয়ারা নদী সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলশীদে ৬ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৬৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এ নদীর পানি বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, পানি আপাতত কমলেও বন্যা পরিস্থিতি নির্ভর করছে সীমান্তের ওপারে উজানে বৃষ্টিপাতের উপর। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে আজ থেকে বৃষ্টিপাত কমতে শুরু করবে। সেক্ষেত্রে আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

অন্যদিকে জকিগঞ্জের অমলশীদে বরাক-সুরমা-কুশিয়ারার মোহনায় কুশিয়ারা নদীর পাড়ের নদী রক্ষা বাঁধ ভেঙে গিয়ে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার ফিল্লাকান্দি, অমলশিদ, বারঠাকুরী, খাসিরচক, খাইরচক, বারোঘাট্টা, সোনাসার এবং আরও বেশ কিছু এলাকা।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মে থেকে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের অন্তত ২০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্যমতে, দুই জেলার ১১০টি আশ্রয় কেন্দ্রে কয়েকহাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৯১টি আশ্রয় কেন্দ্র। চলমান বন্যা পরিস্থিতি পানিতে ডুবে এবং টিলা ধ্বসে এখন পর্যন্ত ৪ জন মারা গেছেন এবং ৯৬জন মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

English Dainikbiswa

বাঁশখালীতে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার উদ্বোধন করলেন এমপি মোস্তাফিজ

বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণরা কেমন আছে..? একটু খুজুন অনেক জানতে পারবেন

//অনলাইন ডেস্ক//

স্বজনশূন্যতায় বৃদ্ধাশ্রমে প্রতিক্ষণ দগ্ধ হচ্ছেন প্রবীণরা। উৎসব ঈদ আনন্দ সবই তাদের কাছে এখন স্মৃতি। স্বামী-স্ত্রী সন্তান স্বজন অর্থ বিত্ত সব হারিয়ে প্রবীণ নিবাসই এখন তাদের কাছে আপন। এখানে আয়েশে থাকলেও রাত-দিন বুকে ধাউ ধাউ আগুন জ্বলে। দিন মাস বছর শেষে ঋতু বদলায়। কিন্তু শীতল হয় না প্রবীণের বুক। স্বজনহীনতার যন্ত্রণায় অঙ্গার হয়ে পড়া অগ্রজদের মনের আগুন নেভাতে কেউ আসে না। শেষ জীবনে এভাবেই বেঁচে থাকার কথা জানালেন বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রবীণরা।

ঈদের দিন দুপুরে আগারগাঁও প্রবীণ নিবাসে গিয়ে দেখা যায় পুরো ভবন নিস্তব্ধ। প্রধান ফটকের নিরাপত্তাকর্মী জানান সকালে কিছু লোক আসছিল। এখন সবাই বিশ্রাম নিচ্ছেন। এরই মধ্যে গেটের বাইরে পায়চারি করা একজনকে দেখিয়ে বললেন, ‘উনি প্রবীণ নিবাসে থাকেন। উনার সাথে কথা বলতে পারেন।’

তার কথামতো তার সামনে গিয়ে পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলাম ‘কেমন আছেন, ঈদ কেমন কাটল’। এ কথা শুনে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘মরা মানুষ কি ঈদ করতে পারে’? তার এমন উক্তির ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুনুন আমরা এখানে যারা আছি তারা সব হারিয়ে এসেছি। এখানে আমাদের পরিবার সন্তান ছাড়া আর কোনো কিছুর অভাব নেই। কিন্তু অতীত আমাদের শেষ করে দিচ্ছে।’

তার ভাষ্য, ‘অনেক বছর থেকে এখানে আছি। কিন্তু একটা মুহূর্তও শান্তিতে নেই। প্রতিটি সময় স্বজনদের জন্য বুকের মধ্যে আগুন জ্বলে। এভাবে পুড়তে পুড়তে অঙ্গার হয়ে গেছি। বলতে পারেন এখন মরে গেছি। কিন্তু তারপও শান্তি নেই। আগুনতো নেভে না।’

ঈদ পালনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদ আমাদের জন্য এখন অতীত। এমনিতেই সারা বছর মনের যন্ত্রণায় পুড়তে থাকি। আর ঈদ যখন আসে বুকের মধ্যে ধাউ ধাউ আগুন আরো বেড়ে যায়। কারণ তখন স্ত্রী-সন্তানদের সাথে অতীতের ঈদের অনেক স্মৃতি চোখের সামনে ভাসে। এতে মনের যন্ত্রণা আরো বাড়ে।’

তার ভাষ্য ‘এখানে যারা আছেন তাদের সবার অবস্থা একই। আমরা বেঁচেও মরে আছি। এত বছর ধরে স্বজনহীন শূন্যতায় পুড়তে পুড়তে আমরা অঙ্গার হয়ে গেছি। কিন্তু একটা মুহূর্তের জন্যও মনে শান্তি পাই না। এখানে সবই আছে। কিন্তু বুকের আগুন নেভানোর একটা মানুষ নেই।’ সব শেষে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এর কিছুক্ষণ পর একজন ভেতর থেকে বের হয়ে এসে আলোচনায় যুক্ত হন। তিনি জানান, প্রায় এক যুগ ধরে এখানে আছেন। তার ভাষ্য, ‘ঢাকার ধানমন্ডিতে তার বাড়ি আছে। কিন্তু তিনি এখন সন্তানদের কাছে মেহমান।’

তিনি বলেন, ‘আমার টাকার অভাব নেই। অভাব শুধু স্বজনের। যত দিন এখানে আছি তার একটা দিনও শান্তি পাইনি। সন্তানদের কথা মনে হলে একা একা কান্না করি। আমার নিজেকে সামলে নেই। কারণ সন্তানরা এখন আমাকে মেহমান মনে করে। মনে হলে দেখতে আসে। কিছুক্ষণ কথা বলেন চলে যায়।’

তিনি জানান, এখানে যারা আছেন তাদের প্রত্যেকেই উচ্চবিত্ত। কিন্তু অভাব একটাই স্বজন নেই। গল্পের মধ্যে পরিবার পরিজনের প্রসঙ্গ এলে উপস্থিত কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না। স্বজন কাছে না থাকার যন্ত্রণা কঠিন। এর চেয়ে মরে যাওয়াটাই সহজ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রবীণ নিবাসের ব্যবস্থাপক ও বার্ধক্য বিশেষজ্ঞ গবেষক ডা: মহসীন কবির জানান, তাদের এখানে বর্তমানে ৩০ জন প্রবীণ রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই বিত্তশালী জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে যারা আছেন তারা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। কিন্তু পারিবারিক নানান জটিলতায় তারা এখানে থাকছেন। কিন্তু দূরে থাকলেও প্রত্যেকেই স্বজনদের জন্য হাহাকার করেন। মৃত্যুর পর যাতে সন্তানরা লাশ দাফন না করে এমনও কথা কেউ কেউ বলেন। এতেই বুঝা যায় স্বজনদের ওপর তাদের অভিমান কতটুকু। তিনি বলেন, প্রবীণদের জন্য সবচেয়ে বেশি সমস্যা স্বাস্থ্যসেবা। কারণ অন্যদের তুলনায় তাদের স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো জটিল এবং ব্যয়বহুল। প্রবীণরা স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সাথেই থাকতে চান। কিন্তু পারিবারিক কাঠামোতে যে পরিবর্তন এসেছে তার সাথে প্রবীণদের জন্য পর্যাপ্ত সেবাব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

English Dainikbiswa

সাতক্ষীরায় নববিবাহিতার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুণে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা