Category: বাংলাদেশ
Bangladesh
ডুমুরিয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরন
মুক্তিযোদ্ধারা সনদ গ্রহণ করলেন রাজাকার পুত্রের হাত থেকে
//কুমিল্লা প্রতিনিধি//
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সনদ ও স্মার্ট এনআইডি কার্ড বিতরণ করলেন রাজারপূত্র উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন কালু।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের উপজেলা মুক্তি সংসদের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সেমিনার কক্ষে এ সনদ বিতরণ করা হয়। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, পুরো উপজেলা ব্যাপী মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে স্মার্ট মুক্তি সদন ও স্মার্ট এনআইডি কার্ড বিতরণের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালু সমর্থীত উপজেলা মুক্তি সংসদ। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয় উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালুকে।

সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালু বলেন, আমার বাবা শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন, এনিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুক নানা আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় কালুর পিতা হাজী আলী আকবর ছিলে শান্তি কমিটির সদস্য।
এ শান্তি কমিটির সদস্যের ছেলে সামছুউদ্দিন কালুকে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে পবিত্র মুক্তি সদন ও স্মার্ট এন আইডি কার্ড বিতরণ করা হয়। যার পরিচালনা করেন চেয়ারম্যানের পিএস সাবেক মৌকরা ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক মিয়া। এ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করার জন্য প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে ১ শত ৫০ টাকা করে চাঁদা নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে ইসহাক মিয়া বিরুদ্ধে।
নাম না প্রকাশ করা শর্তে একাধিক মুক্তিযোদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা যুদ্ধ করেছি শান্তি কমিটির সদস্যের ছেলের হাত থেকে মুক্তি সদন নেয়ার জন্য। দেশটা শেষ হয়ে গেছে। কে দেখবে এসব বিষয়। আবার এ অনুষ্ঠানের চেয়ারম্যান পিএস ইসহাক মিয়া ১৫০ টাকা করে নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দৃষ্টি কামনা করছি।
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হান মেহেবুব, সহকারী কমিশনার ভূমি আশরাফুল হক ও মেয়র আব্দুল মালেক প্রমূখ।
অনুষ্ঠান শেষে পুরো উপজেলা সকল মুক্তিযোদ্ধাদের স্মার্ট সনদ ও স্মার্ট এন আইডি কার্ড দেন ও প্রয়াত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দোয়া করা হয়।
মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে উৎপাদিত মাছের মান বজায় রাখতে হবে: -সিটি মেয়র
//আ:রাজ্জাক শেখ//
‘রপ্তানিযোগ্য চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশরোধে স্টেকহোল্ডারদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার মঙ্গলবার দুপুরে খুলনার গল্লামারী মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিটি মেয়র বলেন, রপ্তানিযোগ্য চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করা যে কোন মূল্যে বন্ধ করতে হবে। কিছু দুষ্ট লোকের জন্য সম্ভাবনাময় এ সেক্টরকে ধ্বংস হতে দেয়া যায় না। মৎস্যখাতকে রক্ষা করতে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, মৎস্য উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি করতে হবে তেমনি উৎপাদিত মাছের মান বজায় রাখতে হবে। দেশের মৎস্য সেক্টরে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। চিংড়ি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পণ্য। সাদাসোনা খ্যাত চিংড়ি মাছ বিদেশে রপ্তানি করে প্রতি বছর বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। অপদ্রব্য মেশানো চিংড়ি মাছ বাংলাদেশ থেকে যাতে বিদেশে রপ্তানি না হয় সেদিকে মৎস্য সেক্টরের সাথে জড়িতদের খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এর সাথে দেশের স্বার্থ জড়িত।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ মোঃ আলমগীর, খুলনা মৎস্য দপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক মোঃ তোফাজউদ্দিন আহমেদ, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবের কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ম্যানেজার ড. এস. এম. রেজাউল করিম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. খন্দকার আনিসুল হক এবং বিএফএফইএ’র সহসভাপতি এস হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. মুনিম লিংকন। সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল।
সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, খুলনার নয়টি উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, মৎস্য চাষি, মৎস্য ব্যবসায়ী ও স্টেকহোল্ডাররা অংশ নেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক এলসি খোলা বন্ধের কোনো নির্দেশনা দেয়নি
//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//
ব্যাংকগুলো প্রতিদিনই বাণিজ্যিক ঋণপত্র (এলসি) খুলছে। তবে কিছু কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ডলারের কিছু সংকট থাকলেও এলসি খোলা বন্ধের কোনো নির্দেশনা দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।
সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো পণ্যের বিপরীতে এলসি খুলছে। বাজারের চাহিদা মেটানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত ডলার সরবরাহ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র জিএম আবুল কালাম আজাদ।
সোমবার বিকালে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ডাকা এ সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র সাঈদা খানম ও মো. সারওয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচারিত হচ্ছে। সেখানে বিনিয়োগকারীদের ব্যাংকের আমানত তুলে নেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে- ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থ নেই বা তারল্য সংকট আছে, কিন্তু এটি সত্য নয়। বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা অত্যন্ত সুদৃঢ় অবস্থায় রয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্যের কোনো সংকট নেই। ব্যাংক ব্যবস্থায় বর্তমানে এক লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে।
তিনি জানান, ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের সব ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে বিশেষ সতর্ক বার্তা দিয়েছে। কোনো ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনায় কোনো ব্যত্যয় থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরসন করার পদক্ষেপ নেবে। তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘রেপো ও অ্যাসিউরড লিকুইডিটি সাপোর্ট’ নীতি সর্বদা চালু রয়েছে। ব্যাংকের পরিদর্শন ও সুপারভিশন বিভাগ ব্যাপকভাবে তৎপর রয়েছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫১ বছরে কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়নি। আশা করা যায় আগামীতেও বাংলাদেশের কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না। ব্যাংকগুলোতে জনগণের আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। ব্যাংকে জনগণের সংরক্ষিত আমানত নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি।
ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি কমাতে শতভাগ এলসি মার্জিন নির্ধারণের পাশাপাশি এলসি খোলার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তি নিতে হচ্ছে। সব ঠিক থাকার পরও কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বলে দিচ্ছে, এই এলসি খোলা যাবে না। বিশেষ করে গাড়ি, টিভি, ফ্রিজ, ফুল, ফলের মতো পণ্য আমদানিতে অনেক ক্ষেত্রে অনাপত্তি দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেননা এ ধরনের পণ্যের এলসি খোলার খুব কম দিনের মধ্যে পণ্য এসে যায়। দায় পরিশোধও করতে হয় দ্রুততম সময়ে। এসব পণ্যের বাইরে অন্য যে কোনো ক্ষেত্রে ডলার সংস্থান না করে এলসি না খোলার বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। ফলে এখন রপ্তানি আয়ের বিপরীতে ব্যাক টু ব্যাকের বাইরে এলসি হচ্ছে খুব কম।
অধিকাংশ ব্যাংক এখন এলসি খোলার আগে আমদানিকারককে ডলার সংগ্রহ করার শর্ত দিচ্ছে। আর আগের দায় পরিশোধে দফায় দফায় সময় নিচ্ছে। আমদানি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে নতুন এলসি কমছে। যদিও বাকি বা দেরিতে পরিশোধের শর্তে আগে খোলা এলসির দায় পরিশোধ বেড়েছে। যে কারণে বৈদেশিক মুদ্রার খরচ কমেনি। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এলসি খোলা ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমলেও আমদানির দায় পরিশোধ বেড়েছে ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ। এর কারণ, এলসি খোলার সঙ্গে সঙ্গে কোনো পণ্য আমদানি হয় না। বেশিরভাগ এলসির দেনা পরিশোধ হয় পণ্য দেশে আসার পর। অবশ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশিরভাগ আমদানি হচ্ছে বায়ার্স ক্রেডিট বা ডেফার্ড পেমেন্টের মাধ্যমে। এ উপায়ে পণ্য পাওয়ার পর নির্ধারিত সময় শেষে এলসির দায় পরিশোধ করতে হয়।
প্রসঙ্গত, আতঙ্কে কয়েকটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন আমানতকারীরা। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন হতে পারে, এমন কথা বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। বিশেষ করে শরিয়াহভিত্তিক একটি ব্যাংক থেকে বিপুল অংকের টাকা তুলে নিয়েছেন আমানতকারীরা।
ডুমুরিয়ায় সাব রেজিস্টার বদলি জনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
ডুমুরিয়ায় বিআরডি’র সুফল ভোগী সদস্যদের মধ্যে বীজ বিতরন
গ্রামীণফোন নতুন-পুরোনো কোনো সিমই বিক্রি করতে পারবে না
//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//
গ্রামীণফোনকে পুরোনো সিম (৪৫০ দিনের বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত) বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর ফলে, প্রতিষ্ঠানটি এখন থেকে নতুন-পুরোনো কোনো সিমই আর বিক্রি করতে পারবে না।
রোববার বিটিআরসি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার। কল ড্রপ এবং নিম্নমানের সেবার কারণে এর আগে ৩০ জুন থেকে গ্রামীণফোনকে নতুন সিম বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল বিটিআরসি। যদিও সেপ্টেম্বরে অব্যবহৃত পুরোনো সিম বিক্রির অনুমতি দেয়।
গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশন্স খায়রুল বাশার বলেন, আমরা একটি নির্দেশনা পেয়েছি। আগে থেকেই নতুন সিম বিক্রি বন্ধ করেছিল। এখন থেকে আর রিসাইকেল (পুরাতন) সিমও আমরা বিক্রি করতে পারব না।
সূত্রমতে, সম্প্রতি গ্রামীণফোন সিম বিক্রি করতে বিটিআরসির কাছে আবেদন করেছিল। তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিটিআরসি।
ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, সেবার মান নিশ্চিত না করা পর্যন্ত গ্রামীণফোন নতুন কোনো গ্রাহক তৈরি করতে পারবে না। পুরাতন সিম বিক্রি হলেও নতুন গ্রাহক তৈরি হচ্ছে। নতুন সিমেও নতুন গ্রাহক তৈরি হয়। সেবার মান উন্নত না করতে পারলে গ্রামীণফোন নতুন কোনো গ্রাহকই তৈরি করতে পারবে না।
ইউনিফর্মের আড়ালে অপরাধে জড়ালে ছাড় নয়- কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক
//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//
ইউনিফর্মের আড়ালে পুলিশ সদস্যরা অপরাধে জড়িয়ে পড়লে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক।
তিনি বলেন, কনস্টবল থেকে আইজিপি সকলে পুলিশ, সকলে একটি পরিবার। শরীরের কোনও অঙ্গে আঘাত পেলে যেমন পুরো শরীরটা কষ্ট পায় তেমনি কনস্টেবলের গায়ে আঘাত লাগলে সেটা কমিশনারের গায়ে লাগে।
রোববার মিরপুর পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পুলিশ লাইন্সে সর্বস্তরের পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে এক বিশেষ কল্যাণ সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ডিএমপির কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে এই প্রথম কোনও সভায় অংশ নেন তিনি।
দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনও বিপদ-আপদ আসলে বা ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক সমস্যায় সবসময় তিনি পাশে থাকবেন বলে সকলকে আশ্বস্ত করে কমিশনার বলেন, আমাদের এমনভাবে দায়িত্বপালন করা উচিত যেন অবসরে যাওয়ার পরও মানুষ আমাদেরকে মনে রাখে।
তিনি বলেন, ফোর্সের মানসিক শক্তি ও ইচ্ছা থাকলে অজেয়কে জয় করা সম্ভব। এজন্য ফোর্সের সঙ্গে কখনও সন্তান, কখনও ভাই, কখনও বন্ধুর মতো মিশতে হবে। তাদের ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। আবার দায়িত্ব পালনের সময় কমান্ডারের অবস্থানটা ধরে রাখতে হবে।
খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, পুলিশ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কখনও ব্যর্থ হয় না। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধকারীর গৌরবময় অংশীদার পুলিশ। সেই ৭১ থেকে আজ পর্যন্ত যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে পুলিশ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হতে দেয়নি। ১৩/১৪ সালের অগ্নিসংযোগ, বোমা হামলা, জঙ্গি বা কোভিডের মতো প্রাকৃতিক মহামারি কোনও কিছুই পুলিশের মনোবলে চিড় ধরাতে পারেনি। সরকার যখন যে দায়িত্ব প্রদান করেছে তা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সফলতার সঙ্গে পালন করেছে এবং আগামীতেও করবে।
বিশেষ কল্যাণ সভার শুরুতে অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পুলিশ অফিসার খন্দকার গোলাম ফারুকের কর্মময় জীবনের উপর সংক্ষিপ্ত প্রামণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পিওএম’র সাংগঠনিক কাঠামো ও দৈনন্দিন বিশাল কর্মযজ্ঞ উপস্থাপন করেন পিওএম উত্তরের উপ-পুলিশ কমিশনার খোন্দকার নজমুল হাসান।
পিওএম দক্ষিণের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ কল্যাণ সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মীর রেজাউল আলম।
বিশেষ কল্যাণ সভায় ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা তাদের সুনির্দিষ্ট কিছু সমস্যা ও চাহিদার কথা কমিশনারের কাছে তুলে ধরেন। কমিশনার সকলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে সমাধানের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশপ ইম্মানুয়েল কানন রোজারিও’র প্রথম পালকীয় সফর ও খ্রীষ্টপ্রসাদ বিতরণ
//নিকোলাস বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ//
গোপালগঞ্জ, ৬ নভেম্বর ২০২২-রবিবার; বরিশাল কাথলিক ধর্মপ্রদেশের নবঅভিষিক্ত বিশপ ইম্মানুয়েল কানন রোজারিও প্রথমবারের মত আজ গোপালগঞ্জ জেলার অন্তর্গত বানিয়ারচর কাথলিক ধর্মপল্লীতে পালকীয় সফরে আসেন। উল্লেখ্য যে, ভ্যাটিকান রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশ্বব্যাপী কাথলিক চার্চের প্রধান ধর্মগুরু মহামান্য পোপ ফ্রান্সিস কর্তৃক মনোনীত হয়ে ১৯ আগষ্ট ২০২২ -এ তিনি বরিশাল শহরে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে হাজার হাজার খ্রীষ্টভক্তদের উপস্থিতিতে বিশপীয় পদে অভিষিক্ত হন এবং বরিশাল ধর্মপ্রদেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বরিশাল ধর্মপ্রদেশের একটি অন্যতম কাথলিক চার্চ হল বানিয়ারচর ধর্মপল্লী।
বিশপের আগমনে বানিয়ারচর কাথলিক ধর্মপল্লীর ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আজ সকালে বানিয়ারচরে অবস্থিত পবিত্র পরিত্রাতার গীর্জায় এক বিশেষ খ্রীষ্টযাগ অনুষ্ঠিত হয় যেখানে পৌরহিত্য করেন বিশপ ইম্মানুয়েল কানন রোজারিও এবং তাকে সহযোগিতা করেন বানিয়ারচর ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার ডেভিড ঘরামী এবং সহযোগী পুরোহিত ফাদার রিচার্ড বাবু হালদার সহ অন্যান্য ফাদারগণ। এ অনুষ্ঠানে বিশপ অত্র ধর্মপল্লীর ২৬ জন ছেলেমেয়েকে প্রথমবারের মত খ্রীষ্টপ্রসাদ প্রদান করেন। কাথলিক চার্চের রীতি অনুযায়ী ছেলেমেয়েদের বয়স ৯-১০ বছর পূর্ণ হলে পবিত্র খ্রীষ্টপ্রসাদ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয় এবং এর মাধ্যমে তারা আজীবনের জন্য এ প্রসাদ গ্রহনে যোগ্য হয়ে ওঠে। গত দুই মাস যাবৎ ধর্মপল্লীর ফাদার ও সিষ্টারগণ এই ছেলেমেয়েদের ধর্মীয় রীতি অনুসারে প্রস্তুত করেন। ’খ্রীষ্টপ্রসাদ’ কাথলিক মণ্ডলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্রামেন্ট। কাথলিক ভক্তদের এই সাক্রামেন্ট গ্রহন করা একান্ত আবশ্যক। উল্লেখ্য যে, আমাদের সন্তান লরেন্স ডি’ বিশ্বাস প্রথমবারের মত আজ বিশপের হাত থেকে খ্রীষ্টপ্রসাদ গ্রহন করে। লরেন্সের সার্বিক মঙ্গলার্থে সবার কাছে প্রার্থনার আবেদন রইল।
খ্রীষ্টযাগ শেষে চার্চের অডিটোরিয়ামে বিশপ ইম্মানুয়েল কানন রোজারিও’র সম্মানে এক সংবর্ধনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফাদার ডেভিড ঘরামী। অনুষ্ঠানে এলাকার ছেলেমেয়েরা নাচ-গান পরিবেশনসহ একটি নাটিকা উপস্থাপন করে উপস্থিত সবাইকে নির্মল আনন্দ উপহার দেয়। এ অনুষ্ঠানে বিশপের আগমনকে মহিমান্বিত করে রাখার জন্য একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয় যার মোড়ক উন্মোচন করে বিশপ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশে কাথলিক মণ্ডলী (চার্চ) এ পর্যন্ত মোট আটটি ধর্মপ্রদেশ স্থাপন করেছে। প্রতিটি ধর্মপ্রদেশের জন্য একজন বিশপ নিযুক্ত হন যিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন সহ ধর্মপ্রদেশের কাথলিক ভক্তদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিচর্যা দিয়ে থাকেন। ২০১৬ সালে বরিশালে বাংলাদেশের ৮ম ধর্মপ্রদেশ স্থাপিত হয় এবং এখানে প্রথম বিশপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার যিনি সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে চট্রগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশে আর্চবিশপ পদে নিযুক্ত হয়েছেন। রেভাঃ ইম্মানুয়েল কানন রোজারিও হলেন বরিশালে নিযুক্ত দ্বিতীয় বিশপ। বরিশাল ধর্মপ্রদেশের আওতাধীন ধর্মপল্লীগুলোতে তিনি এখন পর্যায়ক্রমে সফর করছেন।
পৃথিবীতে খ্রীষ্টানদের মধ্যে দুটি বিশেষ অংশ রয়েছে; এর মধ্যে একটি হল- কাথলিক এবং অন্যটি হল- প্রোটেষ্ট্যান্ট। বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ১৩৫ কোটি কাথলিক ভক্ত রয়েছেন। বরিশাল কাথলিক ধর্মপ্রদেশের অধীনে গোপালগঞ্জ জেলার অন্তর্গত বানিয়ারচর ধর্মপল্লীসহ মোট সাতটি ধর্মপল্লী রয়েছে যেখানে প্রায় বিশ হাজার কাথলিক ভক্ত রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মপল্লীতে এক বা একাধীক ধর্মযাজক (পুরোহিত) থাকেন যাদেরকে ‘ফাদার‘ বলে সম্মোধন করা হয়। ধর্মপল্লীর যাজকগণ স্থানীয় খ্রীষ্টভক্তদের সরাসরি আধ্যাত্মিক পরিচর্যা দানসহ শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এজন্য প্রতিটি ধর্মপল্লীর আওতায় স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল সহ উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ধর্মীয় পরিচর্যার কাজে প্রতিটি ধর্মপল্লীতে যাজকদের পাশাপাশি ব্রতধারীগণও কাজ করেন যাদেরকে ‘সিষ্টার’ বলে সম্মোধন করা হয়।।
