বিশ্বের সর্ববৃহৎ টেক জায়ান্ট গুগলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ডাক পেয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী আবু সায়েম সেফাতুল্লাহ।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবু সায়েমকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লিখেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো বিশ্বের সর্ববৃহৎ টেক জায়ান্ট গুগলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে জবের অফার পেয়েছেন আবু সায়েম সেফাতুল্লাহ। এটা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বড় অর্জন।
তিনি আরও লেখেন, আবু সায়েম টিম রবোট্রাসে হয়ে এর আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে আইসিপিসি এবং এনসিপিসিতে প্রতিনিধিত্ব করেছে। ২০১৭-২০ সালে এই টিমের অফিসিয়াল কোচ হিসেবে আমি গর্বিত। তার জন্য অভিনন্দন ও শুভকামনা। আশা করি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীও তার পথ অনুসরণ করবে।
আবু সায়েম সেফাতুল্লাহ বলেন, সিএসইতে যারা পড়ে তাদের সবারই ইচ্ছা থাকে গুগলের মতো কোনো না কোনো জায়গায় জব করার। আমারও এই ইচ্ছাটা ছিল। প্রথম বর্ষ থেকেই কন্টেস্ট প্রোগ্রামিং করতাম। আমি যখন সপ্তম সেমিস্টারে ছিলাম তখন সিঙ্গাপুর থেকে একটা অফার পেয়েছিলাম৷ ওই সময় থেকে ইচ্ছা ছিল যেহেতু একটাতে হয়েছে এখন দেখি আসল টার্গেট গুগলে হয় কিনা।
তিনি আরও বলেন, গুগলের ইন্টারভিউ প্রসেসটা অনেক লম্বা এবং কঠিন। গত নভেম্বরে আমার ইন্টারভিউ শুরু হয়। এই চার-পাঁচ মাসে অনেক রাউন্ড, প্রসেস পার করে ফাইনালি গতকাল অফারটা পেয়েছি। প্রত্যেকটি রাউন্ড শেষেই অনেক টেনশন ছিল এর পর কী হবে না হবে। ফাইনালি সব কিছু পার করে অফার পাওয়ার অনুভূতি বলে বোঝানো যাবে না।
ইংল্যান্ডেরন ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির বোটানিক্যাল গার্ডেনের ‘নিউটন আপেল গাছ’টি ঝড়ে উপড়ে গেছে। যে আপেল গাছের নিচে বসে নিউটন মধ্যাকর্ষণ সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন উপড়ে যাওয়া গাছটি ছিলো সেটির ক্লোন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
বাগানের কিউরেটর ড. স্যামুয়েল ব্রকিংটন জানান, এই গাছটি ১৯৫৪ সালে রোপন করা হয়েছিল। ৬৮ বছর ধরে বাগানের ব্রুকসাইড প্রবেশ পথে দাঁড়িয়েছিল। তিনি আরও জানান, গাছটিরও একটি ক্লোন রয়েছে। শিগগিরই বাগানের অন্য স্থানে তা রোপন করা হবে।
যে মূল গাছ থেকে আপেল পড়ার ঘটনায় নিউটন মধ্যাকর্ষণ সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন তা লিংকনশায়ারের গ্রান্থামের উলসথর্প ম্যানরে অবস্থিত ছিল। ১৯ শতকের একটি ঝড়ে গাছটি উপড়ে গেলেও তা বেঁচে যায় এবং কলম করে গাছটির বংশ বিস্তার করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি ছিল একটি চারা অন্য অঙ্কুরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া।
বাগানের অন্য কোনও স্থানে রোপন করা হবে নিউটনের আপেল গাছের ক্লোন।
ড. স্যামুয়েল ব্রকিংটন জানান, পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বোটানিক্যাল গার্ডেনের একটিসহ ক্যামব্রিজে নিউটনের মূল আপেল গাছের তিনটি ক্লোন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, শুক্রবারের ঝড়ে এটির উপড়ে যাওয়া দুঃখজনক হলেও মধু ছত্রাকের উপস্থিতির কারণে গাছটির পরিণতি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তাই তারা গাছটির ক্লোন করা শুরু করেন।
তার কথায়, অভাবনীয় কলম বিজ্ঞানের কারণে নিউটনের আপেল গাছ আমাদের সংগ্রহে থাকবে বলে আমরা আশা করছি।
কফিহাউজ গানটি নিয়ে মান্না দে সবসময় নিজের চেয়েও বেশি কৃতিত্ব দেন গীতিকার সুরকারকে। তিনি শুধু গানটা গেয়েছিলেন মাত্র।
তার মতে, হেমন্ত গাইলে গানটা সুপারহিট হতো আর শ্যামল মিত্র গাইলে তো হিট। তবে মান্নার কণ্ঠে যে গানটি চিরকালীন পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন গানটির সুরকার সুপর্ণকান্তি।
তবে মান্না দে এ গানটির দ্বিতীয় অংশ হিসেবে ‘স্বপ্নের কফি হাউস’ শীর্ষক একটি গান প্রথম গানটির ঠিক কুড়ি বছর বাদে গেয়েছিলেন। কিন্তু রহস্যময় কারণে সেটি শোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বাঙালি।
কফি হাউসের সেই আড্ডাটা গানটির গীতকার গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের কথায় সুর দিয়েছিলেন নচিকেতার পুত্র সুপর্ণকান্তি ঘোষ। মান্না দের মতে, গৌরীবাবু লিখেছিলেন দুর্দান্ত।
সুরকার সুপর্ণকান্তি অসাধারণ কাজ করেছিলেন। এই গানটির জন্ম কাহিনীটি বেশ গল্পের মতো।
সময়টা ১৯৮৩ সাল। গীতিকার গৌরী প্রসন্ন মজুমদার তখন আশা ভোঁসলেকে নিয়ে প্রচুর হিট প্রেমের গান লিখে চলেছেন। কিন্তু পূজার গান মান্না দের জন্য তিনি লিখতে পারছেন না। সবই লিখছেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিয়ে আক্ষেপ ছিল গৌরী প্রসন্নের মনে। এ সময় একদিন নচিকেতা ঘোষের নিউ আলিপুরের বাড়িতে গিয়েছিলেন গৌরী প্রসন্ন। উদ্দেশ্য ছিল শক্তি ঠাকুরকে দিয়ে একটি গান তোলা।
সেই সময় সেরা জুটি ছিলেন নচিকেতা ও গৌরী প্রসন্ন। সেই সূত্রে নচিকেতার ছেলে সুপর্ণকান্তির সঙ্গেও বেশ ভাল সম্পর্ক। তবে বাড়িতে আসার অনেকক্ষণ পরে সুপর্ণকান্তিকে দেখতে পেয়ে গৌরী প্রসন্ন মজা করেই বলেন, `কী বাইরে আড্ডা মেরে সময় কাটাচ্ছ? এর উত্তরে সুপর্ণকান্তি তার গৌরী কাকাকে বলেন, `কী সব গদগদে প্রেমের গান লিখছো। একটা অন্যরকম গান লিখে দেখাও না। এই আড্ডা নিয়েও তো গান লিখতে পারো। `
এবার গৌরী প্রসন্ন বলেন, তুমি তো অক্সফোর্ডের এমএ হয়ে গিয়েছো। আড্ডা নিয়ে বাংলা গান গাইবে? সুপর্ণ এবার বলে, কেন নয়। কফি হাউসের আড্ডা নিয়েও তো একটা গান লিখতে পারো। গৌরী প্রসন্ন এবার বলেন, তোমার বাবা (নচিকেতা ঘোষ) কি আর সে গান গাইবেন? তর্ক চলছে বটে কিন্তু গৌরী প্রসন্ন এরই মধ্যে মনে মনে তৈরি করে ফেলেন দুটি লাইন।
এরপরেই সুপর্ণকান্তিকে বললেন, লিখে নাও- ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই/ কোথায় হারিয়ে গেল সোনালি বিকেলগুলো সেই। ’ সুপর্ণও সঙ্গে সঙ্গে দুটো লাইনেই সুর দিয়ে শুনিয়ে দেন। উপস্থিত শক্তি ঠাকুর সেবার পূজায় গানটা গাওয়ার জন্য অনুরোধ জানালেও সুপর্ণ রাজি হননি। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই ঠিক করে নিয়েছিলেন মান্না দের কথা।
কিন্তু গানের বাকি লাইনগুলো? পরের দিন সকালেই গৌরী প্রসন্নের স্ত্রী সুপর্ণকান্তিকে ফোন দিলেন । সারা রাত জেগে বহুদিন পরে গান লিখেছেন অসুস্থ গৌরী প্রসন্ন। তখনই তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। দু’দিন পরে গানটা নিয়ে হাজির। কিন্তু শেষ স্তবক যোগ করার পক্ষপাতী ছিলেন না গৌরী প্রসন্ন। সুপর্ণকান্তি চান যোগ করুন একটি স্তবক।
শেষ পর্যন্ত রাজি হন। লেখেন দুর্দান্ত সেই লাইন- ‘সেই সাতজন নেই, তবুও টেবিলটা আজও আছে। ’ কিন্তু শেষ তিনটি লাইন তিনি লিখেছিলেন চেন্নাইয়ে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার পথে হাওড়া স্টেশনে বসে একটি সিগারেটের প্যাকেটের উল্টো পিঠে। এক চেনা লোকের মাধ্যমে তা পাঠিয়ে দেন সুপর্ণকান্তির কাছে।
তারপর সুপর্ণকান্তির সুরে মুম্বইয়ে গানটি রেকর্ড করেন মান্না দে। তৈরি হয়ে যায় একটা ইতিহাস। তবে কফি হাউসের দ্বিতীয় অংশ হিসেবে পরবর্তী সময়ে ‘স্বপ্নের কফি হাউস’ নামে একটি গান রেকর্ড করেছিলেন মান্না দে। একটি নতুন রেকর্ড কোম্পানিই রেকর্ড করিয়েছিল গানটি। কিন্তু সুপর্ণকান্তি জানিয়েছেন, সেই গানের অরিজিনাল স্পুলটি পাওয়া যায়নি। ফলে অন্য স্পুল দিয়ে কাজ করতে হয়েছিল। নিখিলেশ, মইদুলদের নিয়ে দ্বিতীয় গানটি লিখেছিলেন শমীন্দ্র রায় চৌধুরী। প্রথম গানের স্কেলেই গানটা করেছিলেন মান্না দে। দ্বিতীয় গানটি প্রথমটির থেকেও সুরের বৈচিত্রের বিচারে অনেক ভাল হয়েছিল। কিন্তু কোথায় গেল সেই স্বপ্নের কফি হাউস কেউ জানে না। মান্না দেও হতাশ। তিনি শুধু বলেছেন, বাঙালি তো জানতেই পারল না সেই গানের কথা।
কফি হাউজ নিয়ে মান্না দের দুটি গান আছে।
দুটি গান এখানে তুলে ধরা হল বাংলানিউজ পাঠকদের জন্য…
শিল্পী- মান্না দে
কথা- গৌরী প্রসন্ন মজুমদার
সুর- সুপর্ণ কান্তি ঘোষ
কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই
কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী বিকেল গুলো সেই
আজ আর নেই………………………। ।
নিখিলেশ প্যারিসে মইদুল ঢাকাতে নেই তারা আজ কোন খবরে
গ্র্যান্ড এর গীটারিষ্ট গোয়ানিস ডি সুজা ঘুমিয়ে আছে যে আজ কবরে
কাকে যেন ভালবেসে আঘাত পেয়ে যে শেষে পাগলা গারদে আছে রমা রায়
অমলটা ধুক্ছে দুরন্ত ক্যান্সারে জীবন করেনি তাকে ক্ষমা হায়। ।
সুজাতাই আজ শুধু সবচেয়ে সুখে আছে শুনেছি তো লাখপতি স্বামী তার
হীরে আর জহরতে আগা গোড়া মোড়া সে গাড়ী বাড়ি সব কিছু দামি তার
আর্ট কলেজের ছেলে নিখিলেশ সান্যাল বিজ্ঞাপনের ছবি আঁকতো
আর চোখ ভরা কথা নিয়ে নির্বাক শ্রোতা হয়ে ডি সুজাটা বসে শুধু থাকতো। ।
একটা টেবিলে সেই তিন চার ঘণ্টা চারমিনার ঠোঁটে জ্বলতো
কখনো বিষ্ণুদে কখনো যামিনী রায় এই নিয়ে তর্কটা চলতো
রোদ ঝড় বৃষ্টিতে যেখানেই যে থাকুক কাজ সেরে ঠিক এসে জুট্তাম
চারটেতে শুরু করে জমিয়ে আড্ডা মেরে সাড়ে সাতটায় ঠিক উঠতাম। ।
কবি কবি চেহারা কাঁধেতে ঝোলানো ব্যাগ মুছে যাবে অমলের নামটা
একটা কবিতা তার কোথাও হলোনা ছাপা পেলো না সে প্রতিভার দামটা
অফিসের সোসালে এমেচার নাটকে রমা রায় অভিনয় করতো
কাগজের রিপোর্টার মইদুল এসে রোজ কি লিখেছে তাই শুধু পড়তো। ।
সেই সাতজন নেই আজ টেবিলটা তবু আছে সাতটা পেয়ালা আজো খালি নেই
একই সে বাগানে আজ এসেছে নতুন কুঁড়ি শুধু সেই সেদিনের মালী নেই
প্রধানমন্ত্রী বললেন, “আপনি ভাতা নেন, একলা এভাবে কতদিন চলবেন..”
রমা বললেন, “ছেলে দিয়েছি, স্বামী দিয়েছি, সম্ভ্রম দিয়েছি। তার তো ক্ষতিপূরণ হবে না। ভাতা নিয়ে কি করব!?”
ধর্ষিতা হওয়ায় যুদ্ধের পর ওঁকে একঘরে করে দেয়া হয়। অথচ তিনি পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম নারী স্নাতকোত্তর।
নিজের হাতে বই লিখতেন, সে বই ছাপাতেন, ফেরিওয়ালার মতো বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই ফেরি করতেন, পয়সা যা হতো তাই দিয়ে একলা মানুষটার জীবন চলতো। এই মানুষটির বাড়ি আদতে একটি খড়ের চালার কুঁড়েঘর। যার আশপাশের বাসিন্দা কুকুর, বেড়াল, কাক, পেঁচা।
জুতো পরতেন না রমা। লোকজন জিজ্ঞেস করলে বলতেন, “এই মাটিতে আমার ছেলেরা ঘুমায়, জুতো পরে ওদের বুকের রক্তের ওপর পাড়া দিয়ে হাঁটব কি করে !”
এই রমা আমাদের যুদ্ধজননী। ৪৫ টা বছর যিনি খালি পায়ে রৌদ্রতপ্ত পিচঢালা পথে হেঁটে বেড়িয়েছেন। নিজের চোখের সামনে সন্তানদের মৃত্যু দেখেছেন যিনি, যিনি দুচোখে দেখেছেন পাকিস্তানের দোসররা মানুষের ঘরবাড়ি দাউদাউ করে জ্বালিয়ে দিতে।
এদেশ থেকে তাঁর নেয়ার কিচ্ছু নেই, দেবার ছিল। দিয়ে গেছেন। মৃত্যুতে তাঁর লজ্জায় ডুবিয়ে দিয়ে গেছেন গোটা জাতিকে ।
ভেবেছিলেন বই বেচা পয়সায় একটা অনাথ আশ্রম করবেন, সে আশা আর পূর্ণ হলো কই!
এমন কতো রমা চৌধুরী এখনো যুদ্ধ করেন, এখনো খালি পায়ে হেঁটে বেড়ান, কত আজাদের মা সাফিয়া বেগমরা ভাত খান না শতবছর, কত জাহানারা ইমাম আগলে রাখেন রুমিদের মেডেল-ট্রফি।
এঁদের যুদ্ধের কাছে বারবার হেরে যায় বাংলাদেশ, সে হারায় দুঃখ নেই, আছে লজ্জা, আছে গর্ব, আছে প্রেরণা।
মাটিতেই তো ছিলেন আজীবন। কবরে থাকতে অসুবিধে হবে না মায়ের। স্রষ্টা আমাদের মতো নির্মম নন।
৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পাওয়া আমার এই সোনার বাংলাদেশ।
বিজয়ের মাসে শ্রদ্ধা ভরে স্বরন করছি সেই সব বীর শহীদদের । যেখানে থাকুন ভালো থাকুন মা, রমা চৌধুরী।
দেশে অনেক মানুষ আছে যারা আওয়ামীলীগ সরকারের সব সময় সমালোচনা করে। হ্যাঁ, মানলাম সমালোচনা করতেই পারে, ভুল ত্রুটি ধরা পড়ে। কিন্তু সমালোচনা আর অপপ্রচার কি এক জিনিষ?
আপনি দেশ ও সরকার নিয়ে মিথ্যা বলে যাচ্ছেন নিয়মিত ভাবে, যার কোন ভিত্তি নেই। আমরা সেটার উত্তর দিলে আপনারা বলছেন সরকার সমালোচনা সহ্য করতে পারে না! আগে কোনটা সমালোচনা আর কোনটা গুজব তা ভাল করে বুঝে আসেন।
আমরা আগেও দেখেছি মিথ্যা অপপ্রচার গুজব সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে হাতে গোণা কিছু লোক, যার খেসারত দিতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। তথ্য প্রমাণ ছাড়া কেউ মিথ্যা , বানোয়াট কথা বলে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে হবে। সেই সাথে দেশের বাইরে বসে যে সব কুলাঙ্গার নিয়মিতভাবে দেশ ও সরকারকে নিয়ে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তাদের দেশে এনে কিংবা বিদেশের মাটিতেই শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
প্রধানমন্ত্রী অনেক আগেই বলেছিলেন ‘মিথ্যা অপপ্রচার ছড়িয়ে দেয়া বাকস্বাধীনতা নয়, যে কোনো মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করা উচিত, মানুষকে আসল ঘটনা জানতে হবে, চুপ করে বসে থাকা যাবে না। দেশ ও বিদেশে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী রয়েছে যারা দেশের অগ্রগতি চায় না এবং তারা কখনই চায়নি যে দেশ স্বাধীন হোক। বাংলাদেশ অগ্রগতি দেখে তারা দুঃখ অনুভব করে।
‘তারা (স্বার্থান্বেষী মহল) বাংলাদেশকে একটি গরীব দেশ এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল রাখতে চেয়েছিল,’এইসব গুজব, অপপ্রচার বন্ধে সকল মুজিব সৈনিককে দেশ ও দশের স্বার্থে এক হতে হবে এবং চোখ কান খোলা রাখতে হবে।
একটি নিউজ দেখে আঁতকে উঠলাম— গত এক বছরে তিন হাজার কোটি টাকার গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়েছে বাঙালি! লাগলেও খাই না লাগলেও খাই…!
এই ওষুধ বাঙালি সকালে খায়, রাতে খায়, খালি পেটে খায়, ভরা পেটে খায়, বিয়ের দাওয়াতে খায়, বাসায় খাইলেও খায়, পেট ব্যাথা করলে খায়, পেটে গ্যাস হলে খায়, পেট জ্বললে খায়, বুক জ্বললে খায়, পায়খানা না হলে খায়, মন চাইলেই খায় — এভাবে লিখতে লিখতে অনন্তকাল লিখেও হয়ত শেষ করা যাবে না!
বলতে পারি, গ্যাসের ওষুধ খাওয়া নেশা হয়ে গেছে, ইয়াবার চেয়েও ভয়ংকর নেশা!
আমি নিজে বাসায় সবাইকে বকাবকি করেও এটা খাওয়া বন্ধ করতে পারি না। এটা খায়তে না করলে মনে করে আমার ডাক্তারি পড়া বৃথা, আমি কিচ্ছু জানি না।
এই ওষুধগুলোর আসল কাজ হলো, আপনার পাকস্থলীর অ্যাসিডের ক্ষরণ কমানো, যা আপনার খাবার পরিপাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তাররা আলসার এবং অন্যান্য রোগে সুনির্দিষ্ট কারণে এই ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন।
আপনি নিজ থেকে খেতে থাকলে আপনার অ্যাসিডের ক্ষরণ কমতে থাকবে, কমতে থাকবে হজম শক্তি। একসময় দেখবেন আপনার খাবার হজম হচ্ছেই না! এই ওষুধগুলোর সাইড ইফেক্টও মাশাআল্লাহ অনেক! যেমন, মাথাব্যথা, ডায়েরিয়া, পেটব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটফাঁপা, জ্বর, বমি, ফুসকুড়ি— এসব সাধারণ সাইড ইফেক্ট। এখন যেগুলোর কথা বলবো সেগুলো একটু উন্নত পর্যায়ের, দেখলেই বুঝতে পারবেন! যেমন: কোলনে ইনফেকশন, হাড়ক্ষয়, ভিটামিনের অভাব, হার্টঅ্যাটাক, কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস, অগ্নাশয়ের প্রদাহ, যকৃতের কার্যকারিতা হ্রাস ইত্যাদি!
এবার নিজ দায়িত্বে মুড়ির মত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খান। মহান জাতি আমরা। নেক কিউটও! সর্বরোগের মহৌষধ পিপিআই জিন্দাবাদ! ফার্মাসিউটিক্যালস ব্যবসা জিন্দাবাদ!
গলাচিপা উপজেলা চিকনিকান্দি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামিলীগের সভাপতি এবং নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য মোঃ মনিরকে নিয়ে মোঃ জালাল আহমেদ নামক এটি ফেইসবুক আইডি থেকে মিথ্যা স্টাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ জনগণের মধ্যে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সাধারণ জনগণ জানান।
স্থানীয় একটি মহল দলীয় কারনে ইউপি সদস্য মোঃ মনিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। আসলে উল্লেখ অপপ্রচার সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত এবং বানোয়াট। এনিয়ে স্থানীয় মোঃ মুজাম্মেল হাওলাদার বলেন। সাধারণ জনগণের ভোটের মধ্যেমেই মনিরের জয় লাভ করেন। এবং এই জয়ের উল্লাসে সাধারণ জনগণ স্থানীয় ভোটাররা তাকে টকার মালা পরিয়ে উল্লাস করে। তাতে কি এমন অপরাধ। এমপি, মন্ত্রীদের টাকার মালা পরায় তাতেকি অপরাধ হয়না। এনিয়ে ইউপি সদস্য মোঃ মনির বলেন। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের যদি কোন প্রমাণ দিতে পারে তবে আমি আর শপথ গ্রহণ করবোনা।
উল্লেখ আমার বিরুদ্ধে যেসকল মামলার কথা বলা হয়েছে। সেগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট রাজনৈতিক মামলা ছিলো।
কোর্টে আমার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা প্রমাণিত না করতে পারায় আমাকে কোর্ট মামলা থেকে অব্যাহত দেয়। মনির আরও বলেন অপপ্রচার কারি দের সঠিক সময়ে সঠিক জবাব দেয়ার জন্য আমি ও সাধারণ জনগণ প্রস্তুত। প্রয়োজনে আইনের সহায়তা নিবো।
২০ বছর পর ফেসবুকের মাধ্যমে পরিবারকে খুজে পাওয়া এক পরিবারের গল্প । মা-বাবার যখন বিচ্ছেদ ঘটে, তখন শাহনাজের বয়স ৫ বছর। সৎমা রাখতে না চাইলে শাহনাজের বাবা, চাচা, চাচিরা তাকে লালন-পালন করার জন্য একটি পরিবারের কাছে রাখেন। সেই পরিবারের সঙ্গে একদিন ঢাকায় যান শাহনাজ। সেখানে গিয়ে তিনি হারিয়ে যান।
অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পায়নি তার পরিবার। পরে তার বাবা আবু সাঈদ ঢাকার তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রাখেন। এখন শাহনাজের বয়স ২৫ বছর। তিনি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার জিগাতলা গ্রামের আবু সাঈদের মেয়ে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আর জে কিবরিয়ার ‘আপন ঠিকানা’ অনুষ্ঠানের ভিডিও ভাইরাল হলে শাহনাজের পরিবারের নজরে আসে বিষয়টি। পরে যোগাযোগ করে গত ১৯ জুন শাহনাজকে তার পরিবার ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। দীর্ঘ ২০ বছর পর হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেয়ে খুব খুশি তার পরিবার।
এদিকে ছোট শাহনাজও এখন অনেক বড় হয়েছেন। করেছেন বিয়ে। করছেন স্বামীর সংসার। তিনি এখন এক পুত্রসন্তানের মা। পরিবারবিহীন জীবন থেকে চলে যাওয়া ২০টি বছরের কষ্ট এখন তিনি ভুলে গেছেন নিমিষে। সরেজমিন দেখা গেছে, শাহনাজ তার দেড় বছরের সন্তান নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বেশ আনন্দে সময় কাটাচ্ছেন। তার পরিবারও যে তাকে পেয়ে খুশি, তা সবার আদর-আপ্যায়নে বোঝা যায়। তার ফুটফুটে শিশুসন্তানকে আদর করছেন তার চাচা, ভাই ও ভাতিজাসহ অনেকেই।
এদিকে, এত বছর পর বাড়িতে ফিরে আসায় তাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন গ্রামের মানুষ। এ বিষয়ে কথা হয় শাহনাজের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ রায়হানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন শাহনাজের সৎমা তাকে নিয়ে যেতে চান।
কিন্তু আমাদের পরিবারের কেউই রাজি ছিলাম না। পরে শাহনাজের বাবাকে রাজি করিয়ে একটি পরিবারের কাছে তাকে লালন-পালন করার জন্য দেয়া হয়। একদিন সেই পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বেড়াতে গিয়ে শাহনাজ হারিয়ে যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তখন ঢাকার তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আমার চাচা আবু সাঈদ। তিনি বলেন, আমার মা শাহনাজের জন্য সব সময় কান্নাকাটি করতেন।
তিনি আরো বলেন, এখনো শাহনাজের ব্যবহৃত জামাকাপড়, জিনিসপত্র আমার মা যত্ন করে রেখে দিয়েছেন। এজন্য কিছুদিন আগে আমি আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শাহনাজের সন্ধান চেয়ে একটা পোস্ট করি। পরে সেই পোস্ট আমার বন্ধু-বান্ধবসহ অনেকেই দেখেন।
মোহাম্মদ রায়হান বলেন, কিছুদিন আগে জনপ্রিয় রেডিও উপস্থাপক আর জে কিবরিয়ার ‘আপন ঠিকানা’ নামের একটি অনুষ্ঠানে আমার বোনকে নিয়ে একটা প্রোগ্রাম করা হয়। সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে জিগাতলা গ্রামের সেনাবাহিনীর এক সদস্য জুয়েল বিদেশে বসে ভিডিওটি দেখে আমাকে খবর দেন।
পরিচয় ও হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা মিলে যাওয়ায় আমরা তাকে আনতে ঢাকা যাই। গত ১৯ জুন স্বামী-সন্তানসহ শাহনাজকে ফিরে পাই। তারপর তাদের বাড়ি নিয়ে আসি। পরিবার ফিরে পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে শাহনাজ বলেন, আমার মা-বাবার বিচ্ছেদের পর আমার বসয় যখন ৫ বছর তখন টাঙ্গাইলের একটি পরিবারের কাছে আমাকে লালন-পালন করার জন্য দেয়া হয়। ওই পরিবার আমাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। তাদের বাসায় দুই বছর থাকার পর আমি একদিন হারিয়ে যাই।
এরপর ঢাকার খিলগাঁওয়ের বাসাবোর কদমতলা এলাকার মাশুক আহমেদ আমাকে পেয়ে তার বাসায় নেন। সেখানেই আমি বড় হই। তারা আমাকে মেয়ের মতো করেই বড় করেছেন। তিনি আরো বলেন, তারা আমাকে নওগাঁ জেলার বাসিন্দা আব্দুর কাদেরের সঙ্গে বিয়ে দেন। আমার স্বামী বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। টেক্সটাইল
স কোম্পানিতে চাকরি করছে। আমার স্বামীও আমার পরিবারকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে আন্তরিক ছিল। পরে ‘আপন ঠিকানা’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমি আমার পরিবারকে খুঁজে পাই। শাহনাজ বলেন, ২০ বছর পর পরিবারকে খুঁজে পাব, সেটা ভাবতে পারিনি। আল্লাহ আমাদের মিলিয়ে দিয়েছেন। আমার পরিবারকে খুঁজে পাওয়ার জন্য শুধু স্মৃতি ছাড়া আমার কাছে কিছু ছিল না।
আমার স্বামীও সবকিছু জেনে-শুনে আমাকে বিয়ে করেছে। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি অনেক ভালো মনের মানুষ। তারা আমাকে নিজের মেয়ের মতোই আদর-যত্ন করেন। শাহনাজের চাচা তোজাম্মেল হক বলেন, ৫ বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া শাহনাজকে আমরা ফিরে পেয়েছি।
দীর্ঘ ২০ বছর পর শাহনাজ যেমন পরিবার পেয়ে খুশি, আমরাও তাকে পেয়ে অনেক খুশি।
যেখানে দেখা গেছে, প্রতি পিস বেগুনভাজার দাম রাখা হয়েছে ৫০ টাকা। যা ভালো মানের রেস্তোরাঁয় ১০-১৫ টাকার বেশি নয়।
প্রতি বাটি ডালের দাম ধরা হয়েছে ১০০ টাকা। অই মানের ডাল দেশের যে কোনো রেস্তোরাঁয় প্রতি বাটি ৩০-৫০ টাকায় মিলবে।
সবচেয়ে অবাক করা দাম রাখা হচ্ছে মূল আকর্ষণ ইলিশের বেলায়।
প্রোজেক্ট হিলসায় প্রতি পিস ইলিশ মাছের দাম নেওয়া হয়েছে ১৮০০ টাকা! অথচ দেশের যে কোনো প্রান্তে এক কেজি বা তার চেয়ে বেশি ওজনের প্রতি পিস ইলিশ পাওয়া যায় ১২০০-১৪০০ টাকায়।
মাত্র এক প্লেট সাদা ভাতের জন্য গুণতে হচ্ছে ১০০ টাকা! এক প্লেট খিচুড়ি ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে সেখানে।
যেখানে দেখা গেছে, অই ভোক্তা বেগুনভাজির অর্ডার দিয়েছেন ৪১টি। প্রতিটি ৫০ টাকা করে বিল এসেছে ২০৫০ টাকা। ইলিশ অর্ডার করেছে ১৩টি, যার মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে ২৩,৪০০ টাকা।
ডাল ২০ বাটি এবং ভাত ৪১ প্লেটসহ তার খাবার বিল হয়েছে ৩২,৬২৫ টাকা!
এরসঙ্গে সার্ভিস চার্জ দিতে হয়েছে ৩,২৬২ টাকা। আর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভ্যাট ৫,২২২ টাকা। সব মিলিয়ে অই ভোক্তাকে বিল পরিশোধ করতে হয়েছে ৪১,১০৯ টাকা!
এমন বিল কপি দেখে অনেকেই রেস্তোরাঁকে ‘গলা কাটা’, পকেট কাটা, ‘জবাই করার’ কেন্দ্র বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
তাদের মতে, ঢাকায় উন্নতমানের যে কোনো রেস্তোরাঁয় এই পরিমাণ খাবার খেলে বিল ১০ থেকে ১৫ হাজারের বেশি হতো না।
কেউ কেউ আবার রেস্তোরাঁর পক্ষ নিয়ে বলছেন, ওরা যা খুশি তা দাম ধরবে, মানুষ ইচ্ছা করে নিজের গলা কাটতে গেলে রেস্তোরাঁর কি দোষ?
অনেকেই লেখছেন, এই রেস্তোরাঁয় যাবেন উচ্চবিত্ত ও বিদেশিরা। নিম্ন মধ্যবিত্তরা গেলে খাবারের দাম বেশিই মনে হবে।
কেউ কেউ পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন, রেস্তোরাঁর কোথাও কি লেখা আছে এটা ফাইভস্টার মানের? আর অর্ডারের পর খাবার পরিবেশনে যে সময় নিচ্ছে তারা তা কোনো মতেই ভালো মানের রেস্তোরাঁর বৈশিষ্ট নয়।
ইয়াসির আরাফাত নামের একজন অভিযোগ করেছেন, ‘শুক্রবার গিয়েছিলাম মাওয়ার প্রোজেক্ট হিলসায়। খাবার অর্ডারের পর কয়েক ঘণ্টা বসে থাকতে হয়েছে। উন্নত রেস্তোরাঁর এ কেমন অবস্থা?’
রেস্তোরাঁটির খাবারের মান, দাম নিয়ে করা অভিযোগ প্রসঙ্গে মুন্সিগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ বলেন, ‘তাদের খাবারের যে দাম সেটা অবশ্যই মেন্যুকার্ডে উল্লেখ করে রাখতে হবে। ভোক্তারা এটি দেখেই খাবেন। ভোক্তারা যদি মনে করেন, এখানে দাম বেশি তাহলে তিনি ওখানে না-ও খেতে পারেন। খাবার দাম মেন্যুকার্ডে যা লিখে রাখা হবে তার থেকে বেশি নেয়া হলে সেটি অপরাধ হবে। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে অভিযোগ এলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’
সার্ভিস চার্জের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এ সার্ভিস চার্জ রাখা যাবে কি যাবে না, সে সম্পর্কে কিছু বলা নেই। তবে সার্ভিস চার্জের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে ঘোষণা দিতে হবে। মেন্যুকার্ডে লিখে রাখতে হবে। কাস্টমারকে জানিয়ে রাখতে হবে যে ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ রাখা হবে। এটি না করে থাকলে সেটি অপরাধ হবে।’
মেন্যু বলছে, রেস্তোরাঁটিতে ইলিশ মাছের ২৪ ধরনের রেসিপিসহ মোট ৩০০ ধরনের খাবার পাওয়া যায়।
ভোক্তাদের এসব অভিযোগের বিষয়ে ‘প্রজেক্ট হিলসা’র ম্যানেজার নিশাত আহমেদ বলেন, ‘দাম বেশি কি-না সেটা পরিবেশ, রেস্তোরাঁর আকার, অবস্থা, ডেকোরামের উপর নির্ভর করে। আমাদের কাছে দাম অত বেশি মনে হচ্ছে না। তবে দাম নিয়ে কাস্টমারদের অসন্তোষের বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবব।’
১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ কেটে নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ বড় বড় যে কোনো রেস্তোরাঁয় এমন সার্ভিস চার্জ রাখা হয়। পার্কিং চার্জ, ইলেক্ট্রিসিটি, এসি সবকিছুর ওপর একটি চার্জ তো হবেই, তাই না? আর আমাদের মেন্যুকার্ডে এ কথা উল্লেখ করা আছে।’
প্রসঙ্গত, সারা বছরজুড়ে দেশের দূর-দূরান্ত হতে অনেক ভোজনরসিক মাওয়া ঘাটে যান পদ্মার তাজা ইলিশ খেতে।
সে কথা মাথায় রেখে মাওয়া ঘাটে যাওয়ার পথেই শিমুলিয়া ঘাটের কাছাকাছি ইলিশ মাছের মতো দেখতে এই বিশালাকার প্রোজেক্ট হিলসা রেস্তোরাঁ নির্মাণ করা হয়েছে।
গত ২৭ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হয়েছে। “প্রজেক্ট হিলসার” ম্যানেজার ইনচার্জ প্রসনজিৎ রায়ের দেওয়া তথ্য মতে, প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট আয়তন এই রেস্তোরাঁর। এখানে একসাথে ৩’শ- এর বেশি মানুষ বসে খেতে পারবে। কাস্টমার সার্ভিসের জন্য এখানে স্টাফ রয়েছে ৮০জনের বেশি। রয়েছে ফ্রী গাড়ি পার্কিং-এর সুব্যবস্থা। শিশুদের জন্যেও খেলাধূলার ব্যবস্থা রয়েছে।
১৩. রোজা থাকলে সন্ধ্যায় রুহ আফযা নিলাম- ক্যামিকেল আর রং ছাড়া কোন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়নি পরীক্ষায়!
১৪. খেজুর খাইলাম- বছরের পর বছর স্টোরেজে ফরমালিন দিয়ে রেখেছিলো!
১৫. সরিষার তেল দিয়ে মুড়ি মাখানো খাইলাম- মুড়ি ইউরিয়া দিয়ে ফুলানো আর সাদা করা এবং সরিষার তেলে ঝাঁঝালো ক্যামিকাল মিশানো!
রাতে আবার একই বিষ ডবল খাইলাম! ঘুমানোর আগেও বাদ যাবেনা।
১৬. গরম দুধ আর হরলিক্স খাইলাম- গাভীর পিটুইটারি গ্রন্থিতে ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর অতিরিক্ত দুধ দোওয়ানো হয়, এরপর ইউরিয়া মেরে সাদা করা হয়।আর হরলিক্সে পরীক্ষা করে ক্যামিকাল ছাড়া কোন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়নি!
এত ভেজাল খেয়ে দু একটা ঔষধ না খেলে তো শরীর টিকবেনা। ৭০ ভাগ ঔষধ কোম্পানি দেশে মান সম্মত ঔষধ তৈরি করে না।
এইসব খাওয়ার পর ভাবতেছি, কেমনে বেঁচে আছি! [একমাত্র আল্লাহ ই কি আমাদেরকে রক্ষা করছেন না? এরপরও কি আমরা আল্লাহর শোকর আদায় করছি?]
মানুষের ঈমান তো না-ই কারণ দুর্নীতির ভিতরেও এরা দুর্নীতি করে। আসলে আমরা কেউই বেঁচে নাই।