খুলনায় পিতা পুত্র হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম‍্যানসহ ১৭ জনের যাবজ্জীবন

//আ: রাজ্জাক শেখ//
খুলনার তেরখাদা উপজেলার আ‌লো‌চিত ডাবল মার্ডা‌রে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম দ্বীন ইসলামসহ ১৭ আসা‌মি‌কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দি‌য়ে‌ছেন আদালত । একই সাথে ত‌াদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জ‌রিমানা, অনাদা‌য়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসা‌মিরা আদাল‌তে উপ‌স্থিত ছিল।

এ মামলার অপর দুই আসা‌মির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ কোন অ‌ভিযোগ প্রমাণ করতে ব‌্যর্থ হওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছেন আদালত।

রোববার (০৪ আগস্ট) খুলনা দ্রুত বিচার ট্রাইব‌্যুনালের বিচারক মোঃ নজরুল ইসলাম হাওলাদার এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- তেরোখাদা ছাগলাদাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম দ্বীন ইসলাম(৫৪), মোঃ আব্দুর রহমান(৫৫), জমির শেখ(২৫), শেখ সাইফুল ইসলাম (৩৫), খালিদ শেখ (৩২), এস্কেন্দার শেখ (৪২), জসিম শেখ(৩৫), হোসেন শেখ (৩০), জিয়ারুল শেখ (২৬), বাহারুল শেখ (২৪), আব্বাস শেখ(২৪), অহিদুল গাজী (৩৪), খাইরুল শেখ (৩৫), কেরামত মল্লিক (৩৫), মাহবুর শেখ (৪৯), বাবু শেখ (৩৫) ও নুর ইসলাম শেখ (৩৭)।

এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন আবু সাঈদ বিশ্বাস (৩৫) ও আয়েব শেখ (৫০)।

রাষ্ট্রপ‌ক্ষের আইনজীবী মোঃ আহাদুুজ্জামান ব‌লেন, এ রা‌য়ে রাষ্ট্রপক্ষ খু‌শি। ত‌বে তি‌নি ম‌নে ক‌রে‌ছিলেন আদালত আসা‌মি‌দের স‌র্বোচ্চ সাজা দি‌বেন। কিন্তু বিচারক যে‌টি ভাল ম‌নে ক‌রে‌ছেন সে‌টি ক‌রে‌ছেন। এ রা‌য়ের বিরু‌ে‌দ্ধে তারা উচ্চ আদাল‌তে যা‌বেন। সেখা‌নে তারা ন‌্যায় বিচার পা‌বেন ব‌লে তি‌নি ম‌নে করেন।

নিহত পিরু শেখের স্ত্রী মাহফুজা বেগম এ রা‌য়ে খু‌শি নন। এ রা‌য়ের বিরু‌দ্ধে উচ্চ আদা‌লতে আ‌পিল করবেন। তি‌নি হত‌্যাকারী‌দের স‌র্বোচ্চ সাজা দা‌বি ক‌রেন। তি‌নি ব‌লেন, ওই‌দিন রা‌তে আমার স্বামী ও সন্তান বাঁচার জন‌্য আসা‌মি‌দের কা‌ছে প্রাণ ভিক্ষা চে‌য়ে আকুতি জা‌নি‌য়ে‌ছিল। কিন্তু ওই সম‌য়ে তা‌দের মন গ‌লে‌নি। তি‌নি হত‌্যাকারী‌দের ফা‌ঁসি চান।

২০১৯ সালের ৭ আগস্ট তেরোখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ ইউনিয়নের পহরডাঙ্গা গ্রামে পিতা পিরু শেখ(৫৫) ও পুত্র নাঈম শেখ(২২) কে গভীর রাতে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বাদী হয়ে থানা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ১৯ জনকে অভিযোগ করে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন আদালতে।
আদালত ৩৪ জন সাক্ষী গ্রহণ শেষে আজ ইউপি চেয়ারম্যান দ্বী ইসলাম সহ ১৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন।

এর আ‌গে দুপুর সাড়ে ১১ টায় প্রিজন ভ‌্যানে করে কারাগার থে‌কে আদাল‌তে আনা হয় আসামীদের। মামলার রায় শোনার জন‌্য তেরখাদা ছাগলাদাহ ইউ‌নিয়ন থে‌কে ক‌য়েক হাজার মানুষ আদালত চত্ব‌রে ভিড় ক‌রেন।

 

মাগুরার চাঞ্চল্যকর মেহেদী হত্যাকাণ্ড মামলায় ১ জনের ফাঁসি ও অন্য ৬ আসামির যাবজ্জীবন

 

সুজন মাহমুদ, মাগুরাঃ

মাগুরা মহম্মদপুরের মৌলভীজোকা গ্রামের পলিটেকনিকে পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান পাভেল হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ( ৩১ আগস্ট) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন মাগুরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারজানা ইয়াসমীন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি হলেন- সেলিম আজাদ।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- রুমা পারভীন, আবীর হোসেন, সাইদুর রহমান, মোমেনা খাতুন, জাকির হোসেন ও মোহাম্মদ খালিদ।

রাষ্টপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু বক্কার জানান, ২০১২ সালের ২৬ আগস্ট রাত ১০টার দিকে সেলিম আজাদের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা পরিকল্পিতভাবে মেহেদী হাসান পাভেলকে তার বাড়ি থেকে স্থানীয় একটি লাইব্রেরিতে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর পাভেলের লাশ সেলিম আজাদের বাড়ির পাশে ফেলে রেখে রাত ৩টার দিকে স্বজনদের খবর দেয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা এসে নিহত পাভেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন দেখতে পায়। এ বিষয়ে নিহত পাভেলের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান রিজু বাদী হয়ে ২৭ আগস্ট মহম্মদপুর থানায় ৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই বছরের ১৪ নভেম্বর আদালত চার্জ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে বুধবার রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

আদালতের এ রায়ে নিহত পাভেলের বাবা রেজাউর রহমান রিজু সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান এ রায়ে অসন্তোষ্টি প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।

পুলিশ অফিসার অজয় কুমারের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সহ গ্রেফতার ২

//মাগুরা,প্রতিনিধি//

মাগুরা মহম্মদপুর থানাধীন রাজাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জনাব অজয় কুমার কুন্ডু এর সফল অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি সহ ওয়ারেন্ট ভুক্ত ২ আসামীকে আটক করেছে রাজাপুর পুলিশ ক্যাম্পের একটি চৌকস টিম।

এস আই অজয় কুমার কুন্ডু, এএসআই মোঃ তানভীর মোর্শেদ, কং/৩৭১ আব্দুস সালাম এর চৌকস টিম গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৪ঃ৩০ ঘটিকায় ঢাকা জেলার শাহাজাহানপুর থানা এলাকা থেকে এস সি – ৫৬০/২১ নং(চেক জালিয়াতি) মামলার ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও ২০,০০,০০০ টাকা আদালত কতৃক জরিমানা ধার্যকৃত আসামী মোঃ ওয়াদুদ সর্দার,পিতা-মৃত বাহাদুর সর্দার,সাং- রাজাপুর, থানা মহম্মদপুর, জেলা মাগুরা কে আটক করে মহম্মদপুর থানা হাজতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে মাগুরা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য  এছাড়াও তিনি মাগুরা সি আর ১৩৯/২০ সহ মোট দুটি মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী।

অন্যদিকে পুলিশের উক্ত টিম গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১ঃ৩০ ঘটিকায় মাগুরা সি আর ৪৭৭/২২ নং(চেক জালিয়াতি) মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী মোঃ আনিচুল হক বিশ্বাস, পিতা- মোঃ শহিদুল বিশ্বাস, সাং- মেসার্স আমেনা ইলেকট্রনিক্স রাজাপুর বাজার কে ওয়ারেন্ট মূলে গ্রেফতার করে মাগুরা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছেন।

ঝালকাঠিতে পুরে যাওয়া অভিযান ১০ লঞ্চ আদালতের নির্দেশে মালিককে বুঝিয়ে দিল পুলিশ

//সৈয়দ রুবেল, ঝালকাঠি//

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে ৪৭ জন নিহতের ঘটনার ৭ মাস ২০ দিন পর আদালতের নির্দেশে ১৩/০৮/২০২২ইং শনিবার দুপুরে লঞ্চটি মালিককে বুঝিয়ে দিয়েছে ঝালকাঠি থানা পুলিশ।

ঝালকাঠি থানার এসআই নজরুল ইসলাম সুগন্ধা নদীর তীরে ডিসি পার্কে লঞ্চের মালিক হাম জালাল শেখের কাছে লঞ্চটি বুঝিয়ে দেন। বলগেটের সঙ্গে বেঁধে মেরামতের জন্য লঞ্চটি নলছিটির দপদপিয়ায় নিজাম শিপিং ডকইয়ার্ডের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর ভোরে অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে ৪৭ জন মারা যান। দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চটি জব্দ করে ঝালকাঠি থানা পুলিশ সুগন্ধা নদীর তীরে ডিসি পার্কে বেঁধে রাখা হয়।

পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চটি ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর ভোরে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর দেউরি-দিয়াকুল এলাকায় আসলে ইঞ্জিনে ত্রুটির কারণে আগুন লেগে যায়। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান লঞ্চের ৪৭জন যাত্রী। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অর্ধশত মানুষ।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর স্বজনহারা এক ব্যবসায়ী মনির হোসেন বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখসহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটি ঝালকাঠির আদালত থেকে ঢাকা নৌ-আদালতে বদলি করা হয়।

এ ঘটনায় লঞ্চের মালিক হাম জালাল শেখ গ্রেফতার হয়ে কিছু দিন জেল হাজতবাসের পর নৌ-আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্তি পেয়ে হাম জালাল শেখ লঞ্চটি নিজ জিম্মায় নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। গত ২৪ জুলাই নৌ-আদালত মালিক পক্ষের কাছে লঞ্চটি হস্তান্তরের আদেশ দেন। সেই আদেশের কপি ঝালকাঠি থানায় আসে গত ২৬ জুলাই।

লঞ্চ মালিকের প্রতিনিধি মো. আবু হানিফ বলেন, অভিযান লঞ্চের মালিক হাম জালাল শেখ শনিবার সকালে ঝালকাঠি আসেন। তিনি থানা পুলিশের কাছে আদালতের কাগজপত্র দেখিয়ে লঞ্চটি বুঝে নেন।

লঞ্চটি মেরামতের জন্য দপদপিয়া নিজাম শিপিং ডকইয়ার্ডে নেওয়া হচ্ছে। মেরামত শেষ হলে ইঞ্জিন বসিয়ে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।

ঝালকাঠি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খলিলুর রহমান বলেন, ঢাকার নৌ-আদালতের নির্দেশনায় লঞ্চের মালিক হাম জালাল শেখের মুচলেকা রেখে লঞ্চটি পুলিশের জিম্মা থেকে অবমুক্ত করে মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

একই স্থানে বিএনপির দুই গ্রুপে সভা আহবান করায় আমতলীতে ১৪৪ ধারা

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এক পক্ষের আনন্দ শোভযাত্রা ও অপর পক্ষের তা প্রতিরোধ করার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইন শৃংঙ্খলা অবনতি হওয়ার আশংকায় বরগুনার জেলা প্রশাসন আমতলীতে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন।

জানা গেছে, গত ২ আগস্ট  বরগুনা বিএনপি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম টিটু স্বাক্ষরিত আমতলী উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করেন। ওই কমিটিতে জালাল উদ্দিন ফকির আহবায়ক ও কামরুজ্জামান হিরু মৃধাকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক উপজেলা কমিটি এবং কবির উদ্দিন ফকির আহবায়ক ও তুহিন মৃধাকে সদস্য সচিব করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক পৌর কমিটি ঘোষনা করেন।

ওই কমিটি ঘোষনার পর থেকে সদ্য ঘোষিত উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক জালাল উদ্দিন ফকির ও পৌর কমিটির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা উভয় কমিটি বাতিলের জন্য বিরোধীতা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ আগস্ট বুধবার বিকেলে জালাল উদ্দিন ফকির ও তুহিন মৃধার নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের অর্ধশতাধিক নেতা- কর্মীদের নিয়ে একে সরকারী হাই স্বুল সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ- শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মামুন মোল্লার ছবিতে ঝাড়ু ও জুতাপেটা করে প্রতিবাদ জানায় সেই সাথে জেলা নেতৃবৃন্দের কঠোর সমালোচনা করা হয়।

অপরদিকে ঘোষিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে আজ  শনিবার বিকেলে সদ্য ঘোষিত কমিটির উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব কামরুজ্জামান হিরু মৃধা ও পৌর বিএনপি’র আহবায়ক কবির উদ্দিন ফকিরের নেতৃত্বে আনন্দ শোভাযাত্রা হওয়ার কথা থাকলেও ঘোষিত কমিটি উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক জালাল উদ্দিন ফকির ও পৌর কমিটির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা তা প্রতিহত করার ঘোষনা দেয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আইন শৃংঙ্খলার অবনতির আশংকায় পুলিশ উপজেলা প্রশাসনের কাছে ১৪৪ ধারা জারি করার জন্য আবেদন করেন।

আইন শৃংঙ্খলার অবনতির আশংকায় আমতলী উপজেলা প্রশাসন জেলা প্রশাসনের কাছে ঐ আবেদনটি পাঠিয়ে দেয়। বিকাল ৪টায় আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় হতে আইন শৃংঙ্খলার অবনতির আশংকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে আমতলী পৌর শহরে আজ শনিবার বিকাল ৪ টা থেকে রাত রাত ১২ টা পর্যন্ত সকল প্রকার সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষনা করে ১৪৪ ধারা জারি করে আমতলী পৌর শহরে মাইকিং করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঘোষিত উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোঃ কামরুজ্জামান হিরু মৃধা বলেন, নতুন কমিটি ঘোষনাকে কেন্দ্র করে আমাদের পূর্ব নির্ধারিত আনন্দ শোভাযাত্রা বানচাল করতে উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক জালাল উদ্দিন ফকির ও পৌর বিএনপি’র সদস্য সচিব তুহিন মৃধা ষরযন্ত্র করে আসছে। বিষয়টি আমরা জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। অচিরেই বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা এর সমুচিত জবাব দিবে ইনশাআল্লাহ।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ,কে,এম মিজানুর রহমান বলেন, বিএনপি’র দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইন  শৃংঙ্খলা অবনতির আশংকায় আমতলী পৌর শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

শহীদ শেখ কামালের জন্মদিনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ কর্মসূচি দেওয়ায় ১৪৪ ধারা

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বীর মুক্তিযোদ্ধাশহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে বরগুনা সরকারি কলেজ মসজিদে একই সময়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় কলেজসহ আশপাশ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শুভ্রা দাস স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, বরগুনা সরকারি কলেজে ৫ আগস্ট ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও সভাপতি পদ বঞ্চিত দুই গ্রুপ একই স্থানে একই সময়ে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান,বিশৃঙ্খলা, মারামারিসহ যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে ও আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বিধায় বরগুনা সরকারি কলেজসহ আশপাশ এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে উক্ত এলাকায় সকল প্রকার সভা-সমাবেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়াও আদেশে আরও বলা হয়,জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং তানভীর আহমদকে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনানুগ দিক নির্দেশনা প্রদানের জন্য ম্যাজিস্টেরিয়াল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সবুজ মোল্লা বলেন, আমরা আগে থেকেই কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ৫ ও ৮ আগস্ট শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে বরগুনা সরকারি কলেজে অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই সকল প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রয়োজনে আমরা কর্মসূচি অন্যত্রে করব। তবে আমাদের হটিয়ে অন্য কেউ যদি কর্মসূচি করার চেষ্টা করে তবে আমরা তা মেনে নেব না।

বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজা জানান, শোকাবহ আগস্টে মাসব্যাপী আমাদের কর্মসূচি রয়েছে। ৫ ও ৮ আগস্ট শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে বরগুনা সরকারি কলেজ মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এখানে অন্য কোনও গ্রুপ কোনও প্রোগ্রামের আয়োজন করেছে কিনা আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ বলেন,ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের প্রোগ্রামে সহিংসতা ঘটতে পারে।এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ডুমুরিয়ার পুষকৃত চিংড়ি মাছ জব্দ ব‍্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়

//জাহিদুর রহমান  বিপ্লব, ডুমুরিয়া//
খুলনার ডুমুরিয়ার বয়ারসিং এলাকায় বুধবার  বিকেলে চিংড়ি মাছে অপদ্রব্য পুষ করার অপরাধে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাহী ম‍্যাজিস্ট্রেট শরীফ আসিফ রহমান এর ভ্রাম্যমান আদালতে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে।
 সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু বক্কার সিদ্দিকী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  উপজেলার বয়ারসিং এলাকার মাছ ব্যবসায়ী দিপংকর সানা চিংড়ি মাছে অপদ্রব্য(জেলি) পুষ করে মাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন যোগে শহরে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি ইউএনও  কে জানালে তিনি তাৎক্ষনিক ভাবে ঘটনাস্হলে রওনা দিয়ে ওই এলাকার সুন্দরবুনিয়া ব্রীজের নিকট পৌঁছায়ে মাছ পরিবহনের ভ্যানটি চ্যালেঞ্জ করে মাছ গুলি পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে অভিযোগের সত্যতা পান। এ অপরাধে মাছ ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে  ২০ হাজার টাকা জরিমান ধার্য্য করে আদায় এবং প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্য মানের ১০০কেজি বাগদা চিংড়ি জব্দ করে তা বিনষ্ট করেন।
 অভিযান পরিচালনায় সহযোগীতা করেন থানা পুলিশেরসদস্যবৃন্দ,নির্বাহী অফিসার ও মৎস্য দপ্তরের কর্মচারীবৃন্দ।

ফুলগাজীতে ১৪৪ ধারা জারি

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

ফেনীর ফুলগাজীতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে ৩০ জন আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

শুক্রবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় মুন্সিরহাটে উপজেলা বিএনপির এক প্রস্তুতি সভা চলাকালে এই হামলা চালানো হয়। শনিবার (০২ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে ফুলগাজী উপজেলা এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে বলে জানান ফেনীর জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভোর ৬টা থেকে ফুলগাজী উপজেলা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, শনিবার (২ জুলাই) ফুলগাজী উপজেলার দৌলতপুরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বন্যার্ত অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি ছিলো।

কর্মসূচিতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশারফ হোসেনের আশার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার (০১ জুলাই) সন্ধ্যায় ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির একটি প্রস্তুতিসভা ফুলগাজীর মুন্সিরহাটে আয়োজনের সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।

হামলায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ভিপি ফখরুল আলম স্বপন, সদস্য সচিব আবুল হোসেন, যুগ্ম-আহবায়ক গোলাম রসুল গোলাপ, নরুল হুদ শাহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ফুলগাজী উপজেলা যুবদল আকবর হোসেন, ফুলগাজী উপজেলা যুবদল সদস্য মোহাম্মদ দিদার, শিমুল, রবিউল হক বাবু, ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি রতন মুত্তরসহ ৩০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি বিএনপি নেতাদের।

এ বিষয়ে ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ মজুমদার জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নিজাম কোম্পানির ওপর হামলা চালিয়ে ৫ জনকে আহত করে। তার পরবর্তীতে দুপক্ষের মধ্যে সামান্য ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াসহ সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন বলেন, ঘটনা শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। কেউ অভিযোগও করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র: বিডিজা

Daily World News

বরিশালে পালিত হলো রথযাত্রা উৎসব

খুলনার মুনজীর মাষ্টার হত্যায় ২ আসামির যাবজ্জীবন

খুলনা ব্যুরো :

দীর্ঘ ১৭ বছর পর শিক্ষক মুনজীর মাষ্টার হত্যা মামলা রায়ে ২ আসামি আনুয়ার ও আশ্রাফকে যাবজ্জীবন করাদন্ড ও ৫০ হাজার জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।

এ হত্যাকান্ডের বিস্ফোরক অংশে ওই দুই আসামিকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন-  খানজাহান আলী থানাধীন গিলাতলা কলোনীর মো. সরোয়ার হোসেন ওরফে সানোয়ারের ছেলে আনুয়ার হোসেন ও একই এলাকার মো. গোলাম জিলানী মল্লিকের ছেলে মো. আশ্রাফ আলী।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলার ৬ জন আসামির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমান করতে না পারায় আদালত বাদশা শেখ, সোহেল, রুবেল, মেজবাহ উদ্দিন মুকুল, আহাদ ও একেন্দার ওরফে এসকেনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর রাত ৮ টার দিকে মুনজীর মাষ্টার মাত্তমডাঙ্গা যুব সংঘের ভেতরে গিয়ে অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা বলতে থাকেন। রাত সোয়া ৯ টার দিকে প্রধান ফটক দিয়ে কয়েকজন সন্ত্রাসী যুব সংঘের ভেতরে প্রবেশ  তাকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করেতাকে হত্যা করে। পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির কতিপয় নেতা মুনজীর মাষ্টারের কাছে চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় পূর্ব বাংলার কিছু নেতা। তাকে হত্যার করারও হুমকি দেয় ওই নেতারা।

একই বছরের ১২ ডিসেম্বর বোমা ও ২০০৬ সালের ৩০ জুন মুনজীর মাষ্টার হত্যাকান্ডের ঘটনায় মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১২ জন আসামির নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে দাউদ, মঈন ও নেয়ামুল ইসলাম কুটি ক্রসফায়ারে নিহত হয়। অপরদিকে এ মামলার অপর আসামি আরিফুর রহমানকে রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়।

জিতুকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

ঢাকার আশুলিয়ায় ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে শিক্ষক হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্র আশরাফুল আহসান জিতুকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান।

হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও পুলিশ জানায়, স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সময় শনিবার (২৫ জুন) দুপুরের দিকে হঠাৎ অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মাঠের একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষক উৎপলকে স্টাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সোমবার (২৭ জুন) ভোর ৫টার দিকে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারের বড় ভাই অসীম কুমার সরকার অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জিতুকে প্রধান করে হত্যা মামলা করেন। এজাহারে অজ্ঞাতনামা অনেককেই আসামি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন।