১৩৪ অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী গ্রেফতার মালয়েশিয়ায়

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২৩২ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির অভিবাসন পুলিশ। মালয়েশিয়ার মেলাকা রাজ্যের তিয়াং দুয়া এলাকায় নির্মাণাধীন টেরেসা হাউসে অভিযান চালিয়ে অভিবাসীদের গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার দিবাগত রাত ১১টা থেকে শুরু হওয়া অভিযান চলে রাত ৩টা পর্যন্ত। অভিযানে ২৪ থেকে ৭০ বছর বয়সী ২৩২ বিদেশী নাগরিককে বিভিন্ন অভিবাসন অপরাধে গ্রেফতার করার আগে মোট ৩৫৬ জন বিদেশীর কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়।

পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন, মেলাকা এবং নেগেরি সেম্বিলান, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও সিভিল ডিফেন্স ফোর্সের সমন্বয়ে ১৬০ জন কর্মকর্তা এবং সদস্যদের অংশগ্রহণে চালানো হয় অভিযান।

বৃহস্পতিবার সকালে মেলাকার অভিবাসন বিভাগের পরিচালক অনির্বাণ ফৌজি মোহম্মদ আইনী জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৮২ জন ইন্দোনেশিয়ান পুরুষ ও ১২ জন নারী, ১৩৪ জন বাংলাদেশি, একজন পাকিস্তানি এবং তিনজন মিয়ানমারের পুরুষ রয়েছে। অভিযানের সময় অবৈধ অভিবাসীরা ড্রেনে লুকিয়ে পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। গ্রেফতারদের মাচাপ উম্বু ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি’র পক্ষ থেকে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

মহান২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি যশোর জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল বাসার (জীবন) এর নেতৃত্বে  সকল শহীদদের স্মরণে একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২:০১ মিনিটে  নওয়াপাড়া শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের  শহীদ বেদীতে ১৯৫২ সালের সকল ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএমএসএস বিভাগীয় কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক মোঃ রজিবুল ইসলাম সুইট, অভয়নগর উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন,, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, মোঃ শেখ জাবেদ আলীসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি অভয়নগর কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত  আলোচনা সভার অনুষ্ঠিত হয়।

জম্বি ডিয়ার এ সংক্রমিত হলে থাকা মুশকিল

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

কানাডার বিজ্ঞানীরা মারাত্মক সংক্রামক এক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন। এ রোগের নাম ‘জম্বি ডিয়ার’। তবে এটি ক্রনিক ওয়াস্টিং নামেও পরিচিত। খবর এনডিটিভির।

হরিণের ক্ষেত্রে এ রোগ দেখা গেলেও এটি দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ রোগ হলে স্নায়ু সংক্রমিত হয়। এতে যে প্রাণী সংক্রমিত হয়, তার বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ে।

ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে হরিণের মধ্যে এ রোগ দেখা গেছে। দ্য গার্ডিয়ান–এর এক খবরে বলা হয়, রোগটির বিস্তার ঠেকাতে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জানুয়ারি মাসের শেষ দুটি ঘটনা জানাজানির পর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। কর্মকর্তারা সড়কে নিহত হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী দ্রুত পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পকিস্তানের নির্বাচন-ফলাফল-সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপোড়েন চলছিল। সেনাবাহিনী, বিশেষ করে সেনাপ্রধান আসিম মুনির পিটিআইকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে এমন কোনো অস্ত্র নেই, যা ব্যবহার করেননি। একপর্যায়ে মামলায় জর্জরিত কারাবন্দী ইমরান ও তাঁর দল পিটিআই নির্বাচন থেকে ছিটকেও পড়ে। ইমরান হতোদ্যম হননি। দলের নেতাদের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরাই পিএমএল (এন) ও পিপিপির (জারদারি-ভুট্টো) সঙ্গে লড়ে দারুণভাবে জিতে আসেন। রাজনৈতিক ভাষ্যকারেরা অবশ্য বলছেন, কাহিনির সমাপ্তি ঘটছে না এখনই।

পাকিস্তানে ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মূল দুই চরিত্রে ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। তাঁর রাজনীতিকে ধুলায় মিশিয়ে দিতে পর্দার পেছন থেকে রাষ্ট্রযন্ত্রের এমন কোনো অংশ নেই, যা তিনি ব্যবহার করেননি। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেও কাজে লাগিয়েছেন। নির্বাচনে পিটিআই অনুসারী স্বতন্ত্র সদস্যরা যে ফলাফল করেছেন, তাতে আসিম মুনিরের চেষ্টা যে ব্যর্থ হয়েছে তাতে সন্দেহের আর কোনো অবকাশ নেই।

মামলাজর্জরিত ও কারাবন্দী খান নির্বাচন ও নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে না পেরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড় করাতে বাধ্য হন। কারণ পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন পিটিআইয়ের প্রতীক স্থগিত করে দিয়েছিল। এত বাধাবিপত্তি, এমনকি খানের সহকর্মীদের কেউ কেউ বেঁকে বসার পরও পিটিআই প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে লড়ে একক বৃহত্তম গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আসিম মুনিরের প্রিয় দুই দল শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এন) কিংবা ভুট্টো-জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। কিন্তু ভোটের ফলে দেখা যাচ্ছে এই দুই দলের চেয়ে পিটিআই জাতীয় পরিষদে বেশি আসন জিতে নিয়েছে। এর অর্থ হলো প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও ইমরান খান তাঁর ভোটারদের ধরে রাখতে পেরেছেন।

(রোববার দুপুরে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন যে ফল ঘোষণা করে সে অনুযায়ী, ২৬৪ আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০১ আসনে জয় পেয়েছেন পিটিআই অনুসারী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এরপরই পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ৭৫ আসনে, পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৪ ও মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম) ১৭ আসনে জয়ী হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দল পেয়েছে ১৭টি আসন। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ২৬৬ আসনের মধ্যে একটি আসনে ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকায় ২৬৫ আসনে ভোট হয়েছে। একটি আসনে ফল স্থগিত থাকার ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে ২৬৪ আসনে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার গঠনে প্রয়োজন হবে ১৩৪ আসন।)

যেহেতু কোনো দলই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, পাকিস্তানকে এখন জোট সরকারের দিকে যেতে হবে। সরকার গঠনের জটিলতার বিষয়টি বুঝতে পাকিস্তানের সংবিধানের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ৩৩৬ আসনের মধ্যে ২৬৬টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় (এবার ২৬৫টি আসনে অনুষ্ঠিত হয়েছে)। ৬০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত এবং দলগুলোর দেওয়া তালিকার ওপর আনুপাতিক হারে বণ্টন হয়। নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন পেতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ ভোট পাওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। আর সংখ্যালঘুদের জন্য আছে ১০টি আসন।

পাকিস্তানের ভেতরে একটি পক্ষ রয়েছে যারা চায় সেনাবাহিনীকে রাজনীতি থেকে পৃথক থাকুক। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনের এই ফলে তারা আনন্দিত। তারা আশা করছে এই জয়ের দরুন জাতীয় ইস্যুতে সেনাবাহিনীর যে ভূমিকা তার পুনর্মূল্যায়ন হবে। কিন্তু তাদের এই আশা খুব সম্ভবত পূরণ হবে না। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পেশাদারত্ব ও রাজনীতি এ দুই নিয়েই থাকবে। আসিম মুনিরও ইমরান খানের প্রতি তাঁর যে শত্রু মনোভাব তা জারি রাখবেন, নইলে তাঁর নিজের অবস্থানই নড়বড়ে হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

যেহেতু দল হিসেবে পিটিআই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, ফলে তারা নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসন পাবে না। এ কথা সব দলের জন্যই প্রযোজ্য। এই আসনগুলো ছাড়া কোনো দলই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। পিটিআইকে সংরক্ষিত আসন পেতে হলে ছোট কোনো দলের সঙ্গে জোট করতে হবে। সেদিক থেকে এক সদস্যের মজলিস ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিন (এমডব্লিউএম) একটি বিকল্প হতে পারে। এই দলটি এসেছে খাইবার-পাখতুনখওয়া থেকে। এমডব্লিউএমের সঙ্গে জোট করলে পিটিআই তাদের (এমডব্লিউএমের) ব্যানারে নারী ও সংখ্যালঘুদের আসন পেতে পারে। কিন্তু এতেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। কারণ ক্ষমতায় যেতে হলে পিটিআইকে নিদেনপক্ষে ১৬৮টি আসন পেতে হবে। অন্য দলগুলো নিজেরা কিংবা মুনিরের চাপে খানের সঙ্গে জোটে যাবে না।

বর্তমান পরিস্থিতে সরকার গঠনে পিপিপির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তারা সিন্ধু ধরে রেখেছে, পাঞ্জাবেও আসনসংখ্যা বাড়িয়েছে। সন্দেহ নেই, মুনির পিএমএল (এন) এবং পিপিপিকে হাত মেলাতে আহ্বান জানাবেন। এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। এই নির্বাচনের আগে আমরা পিএমএল (এন) নেতা এবং নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ শরিফকে পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (পিডিএম) সরকার গঠন করতে দেখেছি। সরকার গঠন নিয়ে দুই দলের মধ্যে কথা হচ্ছে। কিন্তু তাদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাও কঠিন হবে, কারণ দুই দলেরই নিজ নিজ স্বার্থ আছে। সম্ভবত, মুনির ও তাঁর কোটাভুক্ত জেনারেলরা পাকিস্তানের ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ দুই দলকে আপস-মীমাংসা করতে বাধ্য করবে। পিএমএল (এন) ও পিপিপির জোট সরকার হয়তো নওয়াজ শরিফের চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যে খায়েশ তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তারপরও পিএমএল (এন) জোরদার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

এই নির্বাচনের ফলাফল আসলে কি বার্তা দেয়? ইমরান খান খাইবার পাখতুনখোয়ায় আধিপত্য জারি রেখেছেন। এত বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি জাতে পাঠান এবং জাতিগত কারণেই তিনি তাঁর লোকজনের সঙ্গে ছিলেন। কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো ইমরান খান পাঞ্জাবেও এগিয়ে ছিলেন, সেখানকার ভোটারদের যে সমর্থন তা একচুলও নড়েনি। রাজনৈতিকভাবে পাঞ্জাব খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ। এই বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ এই কারণে যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বেশির ভাগ সদস্যই পাঞ্জাবি।

গত বছরের ৯ মে ইমরান খানের সমর্থকেরা সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় হামলা চালায়। মূলত ইমরান ও মুনিরের সম্পর্কেও ফাটল ধরে এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতেই। পরবর্তী নয় মাসে, সেনাবাহিনী বারবার বলার চেষ্টা করেছে খান ও পিটিআই দেশপ্রেমিক নয়, এবং আদতে সেনাবাহিনীই দেশের অখণ্ডতা ও মতাদর্শগত ঐক্যকে অটুট রাখতে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে থাকে। এটা পরিষ্কার যে সেনাবাহিনী পরিচালিত এই প্রচারণার তিল পরিমাণ প্রভাবও খানের সমর্থকদের ওপর পড়েনি। কিন্তু খানের প্রতি সমর্থনের মানে এই নয় যে পাকিস্তানিদের দেশটির সেনাবাহিনীর প্রতি যে আস্থা তা তলানিতে ঠেকেছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনীর প্রতি পাকিস্তানিদের জোর আস্থা আছে। বিশেষ করে তারা মনে করে ‘চির’শত্রু ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানকে সুরক্ষা দিতে সেনাবাহিনী অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে থাকে।

প্রশ্ন হচ্ছে, চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ইমরান খানের অসাধারণ কৃতিত্বের পর উচ্চ আদালত তাঁদের সিদ্ধান্তের প্রতি আরেকবার আলোকপাত করবেন কি না। এতে হয়তো ইমরান খান কারামুক্ত হতে পারবেন এবং রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে খানের এত এত কর্মীর উপস্থিতিও বিচার বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য চাপের কারণ হতে পারে।

সেনাবাহিনী ও জোট হয়তো ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্যদের ভাগিয়ে আনার চেষ্টা করবে, কিন্তু ভোটারদের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে তাদের অনেকেই খানের অনুগত থাকবেন। শিগগিরই খান হয়তো বিচারিক ছাড় পাবেন না, কিন্তু এটাও সত্য একপর্যায়ে গিয়ে আদালত তাঁকে বেরোতে দেবেন। আদালত যদি তা-ই করে, তাহলে ইমরান পাকিস্তানেই থাকবেন। তিনি তেমন মানুষ নন যে বিদেশে নির্বাসনে যাবেন।

সেনাবাহিনীর ভেতরে ইমরান খানের একটা সমর্থন আছে, সেটা সর্বজনবিদিত। ৯ মের পর থেকে মুনির কঠোরভাবে ইমরানপন্থীদের দমিয়ে রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে কর্প কমান্ডারও আছেন। এই নির্বাচনের পর সেনাবাহিনীতে ইমরানের পক্ষে ইতিবাচক মনোভাবের পুনর্জীবন ঘটতে পারে, যা মুনির ও আইএসআই আবারও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন বলেই মনে হয়।

পাকিস্তানের ভেতরে একটি পক্ষ রয়েছে যারা চায় সেনাবাহিনীকে রাজনীতি থেকে পৃথক থাকুক। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনের এই ফলে তারা আনন্দিত। তারা আশা করছে এই জয়ের দরুন জাতীয় ইস্যুতে সেনাবাহিনীর যে ভূমিকা তার পুনর্মূল্যায়ন হবে। কিন্তু তাদের এই আশা খুব সম্ভবত পূরণ হবে না। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পেশাদারত্ব ও রাজনীতি এ দুই নিয়েই থাকবে। আসিম মুনিরও ইমরান খানের প্রতি তাঁর যে শত্রু মনোভাব তা জারি রাখবেন, নইলে তাঁর নিজের অবস্থানই নড়বড়ে হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ভিভেক কাটজু ভারতের সাবেক কূটনীতিক। মিয়ানমার, আফগানিস্তান ও থাইল্যান্ডে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিবন্ধটি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এ প্রকাশিত। ইংরেজি থেকে অনূদিত।

Daily World News

পাকিস্তান জাতীয় নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল

পাকিস্তান জাতীয় নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

পাকিস্তানে জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনের তিন দিন পর রোববার পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন ইসিপি। সেখানে কোনো দল সর্বশেষ কতটি আসন পেয়েছে সেটি জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২৬৪ আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০১ আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এর পরই পাকিস্তান মুসলিম লিগ–নওয়াজ (পিএমএল-এন) ৭৫ আসনে, পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৪ ও মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম) ১৭ আসনে জয়ী হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দল পেয়েছে ১৭ আসন।

এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে কোনো রাজনৈতিক দলকে দেশটির জাতীয় পরিষদের ২৬৬ আসনের মধ্যে ১৩৪ আসনে জয়ী হতে হবে। পাকিস্তানে ৮ ফেব্রুয়ারির ভোটে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এ অবস্থায় সরকার গঠনের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে।

ডন ও জিও টিভির খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ৮৮, ১৮ ও ৯০ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ১৫ ফেব্রুয়ারি এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে শনিবার দেশটির সেনাপ্রধান বলেন, পাকিস্তানের ‘স্থিতিশীল শক্তি’ দরকার এবং ‘নৈরাজ্য ও মেরুকরণের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ২৬৬ আসনের মধ্যে ২৬৫ আসনে (একটি স্থগিত) ভোট হয়েছে। একটি আসনে ফল স্থগিত থাকার ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে ২৬৪ আসনে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার গঠনে প্রয়োজন হবে ১৩৪ আসন।

পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ৩৩৬। এর মধ্যে ২৬৬ আসনে সরাসরি ভোট হয়। এ ছাড়া বাকি ৭০ আসন সংরক্ষিত। এসব আসনের মধ্যে ৬০ নারীদের ও ১০টি সংখ্যালঘুদের।

৫৫ তলা একটি আবাসিক ভবন বেয়ে উঠেছেন ‘খালি হাতে’

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

‘খালি হাতে’ ৫৫ তলা একটি আবাসিক ভবন বেয়ে উঠেছেন ঊনত্রিশ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। এজন্য তিনি কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করেননি। পরে পুলিশ তাকে ভবনের ওপর থেকে নিরাপদে নামিয়ে আনে।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরে এ ঘটনা ঘটে। ভবন বেয়ে ওঠা ওই ব্যক্তি উত্তর আয়ারল্যান্ডের নিউরি শহরের বাসিন্দা।

ওই ব্যক্তির খালি হাতে ১৬৩ মিটার উঁচু ভবনটি বেয়ে ওঠার দৃশ্য আরেকজন ভিডিওতে ধারণ করেছেন। এজন্য ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

পুলিশ দুজনকেই এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, তিনি ৫০ মিনিটে ভবনটি বেয়ে ওপরে ওঠেন।

পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, ওই ব্যক্তিকে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ৬০ এ’ বেকেট সড়কের পাশ দিয়ে ভবনটিতে উঠতে দেখা যায়। এ সময় তার কাছে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল বলে দেখা যায়নি। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে তিনি ভবনের ওপর পৌঁছে যান। পরে তাকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়।

তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ এ ঘটনার দৃশ্য ড্রোন দিয়ে ধারণ করা ব্যক্তির সঙ্গেও কথা বলছে। তবে মেলবোর্ন রেডিও স্টেশন থ্রি-এডব্লিউ জানিয়েছে, ভবনে বেয়ে ওঠার সময় ওই ব্যক্তির পেছনে একটি ব্যাগ (ব্যাকপ্যাক) ছিল।

ট্রেন্ট নামের এক ব্যবসায়ী রেডিও স্টেশনটিতে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ ভবনের উপরে অপেক্ষা করছিল। ওই ব্যক্তিকে দেখার জন্য বেশ ভিড় জমে গিয়েছিল।

থ্রি-এডব্লিউকে তিনি বলেন, আশপাশের ভবনের বাসিন্দারা বারান্দা দিয়ে ওপরে তাকিয়ে দেখছিলেন। ঘটনাটি তারা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কারণ তারা যখন নাস্তা খাচ্ছিলেন সেই সময় একজন তাদের জানালা বেয়ে ওপরে উঠে গেছেন।

ট্রেন্ট আরও জানান, ওই ব্যক্তি ভবনের উপর পৌঁছার পর নির্মাণ শ্রমিকরা হাততালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।

ব্রিটিশ রাজা চার্লস ক্যান্সারে আক্রান্ত

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাকিংহাম প্যালেস। দেশটির সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রোস্টেট বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা নেওয়ার জন্য জানুয়ারির শেষে চার্লস যখন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, তখনই তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। তবে তিনি প্রোস্টেটের ক্যান্সারে আক্রান্ত নন। ঠিক কোন ধরনের ক্যান্সারে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।

তবে বাকিংহাম প্যালেস এক বিবৃতিতে বলেছে, সোমবার থেকে রাজার নিয়মিত চিকিৎসা শুরু হয়েছে। রাজা তার চিকিৎসা নিয়ে পুরোপুরি আশাবাদী এবং যত দ্রুত সম্ভব ফিরে আসার অপেক্ষায় আছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, প্রকাশ্যে যেসব আনুষ্ঠানিকতায় রাজা অংশগ্রহণ করে থাকেন, সেগুলো আপাতত স্থগিত থাকবে এবং তার চিকিৎসার এই সময়টায় রাজ পরিবারের অন্য জ্যেষ্ঠ সদস্যরা তার হয়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন।

তবে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন এবং নথিপত্রে সই করা বা ব্যক্তিগত সাক্ষাতের বিষয়গুলোও যথারীতি চলবে।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ সিংহাসনে আরোহণ করেন রাজা তৃতীয় চার্লস। তার বয়স এখন ৭৫ বছর।

চার্লসের ক্যান্সার এখন কোন পর্যায়ে বা তার সুস্থ হতে কতদিন লাগতে পারে, সেসব বিষয়ে আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি বাকিংহাম প্যালেস।

১০৫ মিয়ানমার বিজিপির সদস্য আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে গতরাতেও বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আর্মির সঙ্গে সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। এতে আতঙ্কে সীমান্তবাসীরা। বিদ্রোহীদের হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন মিয়ানমারের ১০৫ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য।

তবে ভোরের দিকে গোলাগুলির শব্দ কিছুটা কমেছে। সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির তেমন শব্দ শোনা যায়নি বলে জানিয়েছেন সীমান্তবাসীরা।

এদিকে মিয়ানমারের স্বাধীনতাকামী সংগঠন আরাকান আমি (এএ) বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান সংঘাতে টিকতে না পেরে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে আশ্রয় নিয়েছে তুমব্রু সীমান্তের ৬৮ জন এবং ঘুমধুম সীমান্তের ৩৭ জন মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য। আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধও রয়েছেন। গুলিবিদ্ধ আহত দুজনকে কক্সবাজারে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ও আনু মোহাম্মদ বলেন, মিয়ানমার বাহিনীর ছোড়া গুলিতে রোববার দুই বাংলাদেশি নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যানবাহন ও লোকজনের চলাচল সীমিত করেছে প্রশাসন। বিদ্রোহীদের তোপের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তুমব্রু সীমান্তের ওপারের মিয়ানমার ক্যাম্পের ৬৮ জন এবং ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে ক্যাম্পের ৩৭ জন মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য।

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সামরিক জান্তা বাহিনীর সঙ্গে স্বাধীনতাকামী সংগঠন আরকান আর্মির (এএ) মধ্যে তুমুল সংঘাত চলছে। গত শনিবার থেকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দুটি ক্যাম্প দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে আরাকান আর্মি। ইতোমধ্যে ক্যাম্পগুলোর কিছুটা অংশ দখলে নিয়েছে বিদ্রোহীরা। তবে মিয়ানমার সরকারি বাহিনী হেলিকপ্টার থেকে বোমা ছোড়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, সীমান্তে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যানবাহন ও লোকজনের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। সীমান্তে টহল বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা চৌকিগুলোতে সতর্কাবস্থায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বিজিবি।

ইউক্রেন চরম দুর্নীতিতে পরে গেছে- জেলেনস্কির অবস্থান নড়বরে- পশ্চিমাদের সহায়তায় বাধা

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ইউক্রেনে দুর্নীতি নিয়ে সর্বশেষ যে তথ্য ফাঁস হলো, সেটা একটি জটিল গল্প। এই কেলেঙ্কারিটা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ঘিরে। ১ লাখ মর্টার সেলের (যার মূল্য ৪০ মিলিয়ন ডলার) কিনতে অর্থ পরিশোধ করা হলেও মর্টার সেলগুলো সরবরাহ করা হয়নি। এই কেলেঙ্কারির গল্প যখন সামনে এল, তখন দুর্নীতি নিয়ে গবেষণা করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতির ধারণা সূচকে ইউক্রেন এযাবৎকালের সবচেয়ে সেরা স্কোর করেছে।

টিআইয়ের সূচকে ইউক্রেনের এই অগ্রগতি থেকে বোঝা যায়, ঘনিষ্ঠজনসহ দুর্নীতি গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য ভলোদিমির জেলেনস্কি যে প্রচেষ্টা নিয়েছেন, তার কিছুটা অগ্রগতি ঘটেছে।

পক্ষান্তরে মর্টার সেল কেলেঙ্কারি পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয়, ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের ও অস্ত্র সরবরাহকারীদের মধ্যে দুর্নীতি কতটা বিস্তার লাভ করেছে ও কতটা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই দুর্নীতি এমন এক সময়ে জেঁকে বসেছে, যখন ইউক্রেন বড় ধরনের অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে।

এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তা হলো, দুর্নীতি ইউক্রেনের টিকে থাকা না-থাকার মূল প্রশ্নটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দুর্নীতিই ইউক্রেনের একমাত্র সমস্যা নয় কিংবা এটাই দেশটির সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। কিন্তু দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এই ধারণার কারণে  ইউক্রেনের ভেতরের রাজনীতি যেমন জটিল হয়ে উঠছে আবার পশ্চিমা সমর্থনের ক্ষেত্রেও বড় বাধা তৈরি হচ্ছে।

দুর্নীতি ইউক্রেনের দীর্ঘদিনের সমস্যা। কিন্তু গত ১০ বছরে ইউক্রেন নিয়ে টিআইয়ের যে ধারণাসূচক, তাতে দেখা যায়, দেশটি দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নতি করে চলেছে। রাশিয়া ও আজারবাইজনকে বাদ দিলে ইউরোপের আর কোনো দেশে ইউক্রেনের মতো এতটা দুর্নীতি নেই।

দুর্নীতির এই মহামারির মধ্যেও দুই বছরের যুদ্ধে ইউক্রেন এখনো টিকে আছে। তারা রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে অবিস্মরণীয় প্রতিরোধক্ষমতা দেখিয়ে চলেছে। কিন্তু কর্তাব্যক্তিদের এসব কেলেঙ্কারিসহ অন্য যেসব দুর্নীতি তাতে বলা যায়, ইউক্রেনকে এখনো প্রতিনিয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। দুর্নীতি ইউক্রেনকে আরেকটি অস্তিত্বের হুমকিতে ফেলে দিয়েছে। আর সেটা ঘটছে সে সময়েই, যখন দেশটির টিকে থাকা না-থাকা পশ্চিমা অস্ত্র ও অর্থের ওপর নির্ভরশীল।

হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, জার্মানির প্রভাবশালী ডানপন্থী বিরোধী দল এএফডি ইউক্রেনকে আর অর্থ ও অস্ত্রসহায়তা না দেওয়ার জন্য দুর্নীতির অকাট্য যুক্তি ব্যবহার করছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা বলেছেন, তদারকির ঘাটতির মানে হচ্ছে, ইউক্রেনকে দেওয়া আমেরিকার সহায়তা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের পকেটে চলে যাওয়া।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে যখন ইউক্রেনকে সহযোগিতা দেওয়া না-দেওয়া নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক বাড়ছেই এবং দেশগুলোর নির্বাচনী প্রচারণায় সেটি অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে, তখন তহবিল তছরুপের এসব অকাট্য প্রমাণ ইউক্রেনকে অব্যাহতভাবে সহযোগিতা পাওয়ার ব্যাপারে কঠিন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

জেলেনস্কির নড়বড়ে অবস্থান

পশ্চিমা সমর্থন অব্যাহত থাকা নিয়ে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি যখন সৃষ্টি হয়েছে, তখন দেশের ভেতরে জেলেনস্কির অবস্থানও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে জেলেনস্কির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল দুর্নীতি তিনি উচ্ছেদ করবেন। কিন্তু তার সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের দুর্নীতি সেই প্রতিশ্রুতির ওপর জোর আঘাত হানল।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাকে শক্তিশালী করেছেন। কিন্তু সমালোচকেরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের জন্য দমন-পীড়ন হচ্ছে।

বর্তমান কেলেঙ্কারি ইউক্রেনের রাজনৈতিক বিভাজনকেই গভীর করবে। যুদ্ধকৌশল নিয়ে বিভেদ সৃষ্টিকারী বিতর্ক যখন তুঙ্গে এবং এ বিষয়ে ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যকার মতবিরোধের বিষয়টি যখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে, সে সময়ে জেলেনস্কির কাছে রাজনৈতিক বিভাজন কাম্য কোনো বিষয় হতে পারে না।

জেলেনস্কি তাঁর সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনিকে বরখাস্ত করবেন কি না কিংবা সেই ক্ষমতা তাঁর আছে কি না, সেটা একদমই পরিষ্কার নয়। বলা হচ্ছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর সেনাপ্রধানকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন। কিন্তু জালুঝনি সেটা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। জেলেনস্কি ও জালুঝনির মধ্যে সম্পর্ক সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিক্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ অভিযান তেমন কোনো সাফল্য বয়ে আনতে ব্যর্থ হওয়ায়, সেটা চরম রূপ ধারণ করে।

২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে জেলেনস্কি তাঁর শীর্ষ জেনারেল জালুঝনিকে নিন্দা করেন। এর কারণ হলো জালুঝনি প্রকাশ্যে বলেন, যুদ্ধ অচলাবস্থার মধ্যে পড়ে গেছে। আরেকটি জল্পনা ডানা মেলেছে, জালুঝনি রাজনীতিতে আসতে চলেছেন এবং জেলেনস্কির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবেন। ডিসেম্বর মাসের এক জরিপ বলছে, ৬২ শতাংশ ইউক্রেনীয় বলছেন, তাঁরা জেলেনস্কিকে বিশ্বাস করেন আর জালুঝনির ওপর আস্থা রাখছেন ৮৮ শতাংশ।

দুর্নীতি-কেলেঙ্কারি ও ইউক্রেনের ক্ষমতাকাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের রদবদলের খবর—দুইয়ের কোনোটাই রাশিয়ার সঙ্গে জয় তো দূরে থাক পরাজয় এড়াতে ইউক্রেনীয়রা একটা বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরি করতে পারছে—পশ্চিমাদের মধ্যে এই আস্থা আনবে না। আর এ ধরনের আস্থা ছাড়া, সহযোগিতার ব্যাপারটা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জোরালো অস্ত্র ছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোর আইনসভা থেকে সহযোগিতা অনুমোদনের ব্যাপারটি দুর্বল হয়ে পড়বে।

এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তা হলো, দুর্নীতি ইউক্রেনের টিকে থাকা না-থাকার মূল প্রশ্নটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দুর্নীতিই ইউক্রেনের একমাত্র সমস্যা নয় কিংবা এটাই দেশটির সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। কিন্তু দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এই ধারণার কারণে  ইউক্রেনের ভেতরের রাজনীতি যেমন জটিল হয়ে উঠছে আবার পশ্চিমা সমর্থনের ক্ষেত্রেও বড় বাধা তৈরি হচ্ছে।

দুর্নীতির কারণে ইউক্রেন ভেঙে যাচ্ছে, সেটা ঠিক নয়। কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে দুর্নীতি এমন বাজে একটা ব্যাপার, যার কারণ ইউক্রেন ভেঙে যেতে পারে। কেননা, দুর্নীতি ইউক্রেনের ভেতরে ও বাইরে বড় প্রভাব ফেলছে।

Daily World News

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চিঠি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চিঠি

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাতে তিনি বাংলাদেশের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সমর্থনের পাশাপাশি একটি অবাধ ও মুক্ত ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন স্বপ্ন পূরণে অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠায় ঢাকার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস আজ রোববার সকালে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের কাছে এই চিঠি হস্তান্তর করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ অংশীদারত্বের পরবর্তী অধ্যায় শুরুর পর্বে আমি বলতে চাই, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ আরও অনেক ইস্যুতে আমাদের প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করার ঐকান্তিক ইচ্ছা আমি তুলে ধরছি।’

জো বাইডেন লিখেছেন, ‘সমস্যা সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের দীর্ঘ ও সফল ইতিহাস রয়েছে। আর আমাদের এই সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে দুই দেশের জনগণের শক্তিশালী সম্পর্ক।’

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর চিঠিতে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সমর্থন এবং একটি অবাধ ও মুক্ত ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’