বাংলাদেশ নিয়ে কেন চীন-রাশিয়া-আমেরিকার এত আগ্রহ….!

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

বিশ্বের নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে বাংলাদেশ বৃহৎ শক্তিধর দেশগুলোর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে কী না তা নিয়ে নানা মত আছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন- বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান, সম্ভাবনাময় অর্থনীতি এবং বঙ্গোপসাগরের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ – এসব কারণে রাজনৈতিক মেরুকরণের নতুন ক্ষেত্র হচ্ছে বাংলাদেশ। এর সাথে দ্বিমতও আছে। বিশ্লেষকদের আরেকটি অংশ মনে করছেন, বাংলাদেশ নিয়ে শক্তিধর দেশগুলোর আগ্রহ থাকলেও সেটা খুব বেশি নয়।

বাংলাদেশ নিয়ে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়া যেসব তৎপরতা এবং বক্তব্য দিয়েছে তাতে মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আসন্ন সাধারন নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সরকারের উপর যুক্তরাষ্ট্রর চাপ দৃশ্যমান হলেও চীন এবং রাশিয়ার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাশিয়া ও চীনের বিরোধ এখন দৃশ্যমান। এর প্রভাব বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও পড়ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা কী চায়?

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর মনে করেন, বাংলাদেশ আসলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার নতুন ‘মেরুকরণের ক্ষেত্র’ হয়ে উঠেছে।

তার বিশ্লেষণ হচ্ছে , বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির একটি অংশ হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার’ পক্ষে কাজ করা। এরই অংশ হিসেবে তারা বাংলাদেশের বিষয়ে আগ্রহী হয়েছে।

দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, আমেরিকার একটা ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল আছে যেটি সক্রিয়ভাবে কার্যকর করতে তারা মনোনিবেশ করেছে। এ কারণেই এশিয়া অঞ্চলে বন্ধু সংগ্রহে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র।

“আমেরিকার লক্ষ্য চীন-রাশিয়া বলয় থেকে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক বিশ্বের বলয়ের সাথে সংযুক্ত করা বা সংযুক্তিকে আরো শক্তিশালী করা,” বলেন মি. কবীর।

কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোও চায় বাংলাদেশে যাতে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। একই সাথে এসব দেশে বাংলাদেশকে যেসব সুবিধা, বিশেষ করে বাণিজ্য সুবিধা দেয়া হয়, তার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী রাখা।

কোভিড ও ইউক্রেন যুদ্ধের পর যেহেতু এই অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতা বাড়ছে, তাই এই দেশগুলো বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে আদর্শগত মিল বাড়ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আমেরিকা বা পাশ্চাত্যের সাথে যেহেতু তাদের আদর্শগত মিল নেই তাই তারাও এই অঞ্চলে বন্ধু সংগ্রহে আগ্রহী।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এখানে মূল বিষয় হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করেন তিনি।

“আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোকে আমরা খুব সংগঠিতভাবে ব্যবস্থা না করার সুযোগটা রাশিয়া-চীন নেয়ার চেষ্টা করছে এবং এ কারণেই আমরা বাংলাদেশকে ঘিরে এই তিন-চার কেন্দ্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা বেশি দেখতে পাচ্ছি।”

সবার কাছে গুরুত্বপূর্ণ?

এদিকে চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের অবকাঠামো নির্মাণে চীন ব্যাপকভাবে কাজ করছে। চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক মূলত অর্থনৈতিক।

রাশিয়ার সাথেও বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেকটা একই রকম। বাংলাদেশে পারমানবিক বিদ্যুৎখাতে রাশিয়ার বড় বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কও রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে রাশিয়া বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এছাড়া এই দেশটি থেকে বাংলাদেশ খাদ্য শস্যও আমদানি করে থাকে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাব এনাম খান মনে করেন, বাংলাদেশ না চাইলেও ভূ-কৌশলগত অবস্থানের কারণে স্বাভাবিকভাবেই সবার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি মনে করেন, গত বেশ কিছু বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ অগ্রগামী ছিল। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কোভিড পরবর্তী সময়েও বেশ স্থিতিশীল ছিল যা একে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত করেছে।

“বাংলাদেশ একদিকে চীন থেকে ব্যাপক আমদানি করে এবং অন্যদিকে আবার পশ্চিমা দেশগুলোতে রপ্তানিও করে। ফলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বার্থের একটা ভারসাম্য বাংলাদেশ রক্ষা করে আসছে,” বলেন মি. খান।

কানাডাভিত্তিক অনলাইন প্রকাশনা ‘ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট’ অনুসারে, বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যদি ধরে রাখা যায় তাহলে মধ্যম শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। একই সাথে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় বাজারও। যার কারণে এর প্রতি সুপার পাওয়ার দেশগুলো বিনিয়োগের আগ্রহ বেড়েছে।

এর পাশাপাশি বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের অংশ যা ভারত মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে। ফলে এটি অনেকটা ‘স্ট্রাটেজিক লাইন অব কমিউনিকেশন’ বা ‘সাপ্লাই লাইন অব কমিউনিকেশন’ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এই শিক্ষক।

এ কারণে বঙ্গোপসাগেরের গুরুত্ব অনেক।

ভিন্ন ব্যাখ্যাও আছে

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সমর বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী সৈয়দ মাহমুদ আলী মনে করেন, চীন-রাশিয়া-আমেরিকার দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ আসলে ‘গৌণ বা উপলক্ষ্য’ মাত্র।

তার মতে, বাংলাদেশের মেরুকরণের ক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আর ঘনিষ্ঠতর হওয়া এবং এর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আমেরিকার অবস্থান।

“স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ৯০ এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর সারা বিশ্বে ইউনিফর্ম বা একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাদের সেই আধিপত্য পরবর্তী ২৫ বছর পর্যন্ত চলেছে,” বলেন মি. আলী।

দ্বিতীয় পর্যায়ের শক্তিশালী দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন, এরা সবাই তখন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রপক্ষের দেশ ছিল। বিপক্ষে কেউ না থাকার কারণে আমেরিকা প্রায় প্রতিদ্বন্দ্বীহীন ছিল।

মি. আলীর বিশ্লেষণ হচ্ছে, ২০১৪ সালে ক্রাইমিয়া রাশিয়ার অন্তর্ভূক্ত হওয়া এবং দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামরিক শক্তি বাড়ানোর মতো ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্পষ্ট হয়ে আসে যে যুক্তরাষ্ট্র আর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে পারছে না। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন-রাশিয়ার মধ্যে একধরণের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামনে আসে।

“যেহেতু ক্ষমতার একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই তিনটি রাষ্ট্রের মধ্যে চলছে, তাই বলা যেতে পারে বাংলাদেশ একটি গৌণ বা পরোক্ষভাবে একটি প্রতিদ্বন্দ্বীতার কেন্দ্র বা স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে,” বলেন মি. আলী। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

 

ভারত কানাডার ৪১ জন কূটনীতিককে সরিয়ে নিতে সময় বেঁধে দিয়েছে

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

কানাডা-ভারতের সম্পর্কের আরো একধাপ অবনতি হলো। খালিস্তানপন্থী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের এই  সম্পর্কের অবনতি। ভারত কানাডার ৪১ জন কূটনীতিককে সরিয়ে নিতে বলেছে। সময়ও বেঁধে দিয়েছে ভারত।

আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সবাইকে সরিয়ে নিতে হবে। এই ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়বে।

গত জুন মাসে কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা এবং কানাডিয়ান নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যায় ভারতীয় সরকারের এজেন্টদের ভূমিকা ছিল বলে কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অভিযোগ করেন। এর পরেই ভারত ও কানাডার মধ্যে সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

নিহত নিজ্জর নয়াদিল্লির চোখে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত। ভারত ট্রুডোর সব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেয়।

কানাডার ৪১ জন কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে দ্য ফিন্যানশিয়াল টাইমস বলেছে, ১০ অক্টোবরের পর থেকে যাওয়া কূটনীতিকদের কূটনৈতিক নিরাপত্তা প্রত্যাহার করার হুমকি দিয়েছে ভারত। ভারতে কানাডার ৬২ জন কূটনীতিক রয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে ভারতীয় এবং কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে।

সূত্র : রয়টার্স

এজেন্টের মাধ্যমে সৌদিতে ভিক্ষা করতে যাওয়া ২৪ ভিক্ষুককে বিমান থেকে নামিয়েছে পাকিস্তান

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) বিদেশ ভ্রমণে অভিযুক্ত ভিক্ষুকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। এ পর্যন্ত ২৪ জন ভিক্ষুককে বিমান থেকে নামিয়ে দিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সময় শনিবার গভীর রাতে মুলতান বিমানবন্দরে সৌদি আরবগামী একটি ফ্লাইট থেকে ওমরাহযাত্রীর ছদ্মবেশে থাকার অভিযোগে আট ভিক্ষুককে নামানো হয়। এর দুই দিন আগে এফআইএ একই বিমানবন্দরে ১৬ জন অভিযুক্ত ভিক্ষুককে বিমান থেকে নামিয়ে দেয়।

সৌদি আরবগামী ওই ফ্লাইট থেকে নামানো সবাই ওমরাহযাত্রীর ছদ্মবেশে ছিলেন।

আগেরবার বিমান থেকে নামানো ১৬ জনের মধ্যে ১১ নারী, চার পুরুষ ও এক শিশু ছিল। তারা জানিয়েছিল, সৌদিতে তাদের ভিক্ষা থেকে উপার্জনের অর্ধেক ভ্রমণ এজেন্টদের দিতে হবে।

এজেন্টের মাধ্যমে সৌদিতে ভিক্ষা করতে যাওয়া ২৪ ভিক্ষুককে বিমান থেকে নামিয়েছে পাকিস্তান
আগেরবার নামানো যাত্রী।

ছবি : এফআইএ

সংস্থাটি বলেছে, ভিক্ষুকের দলটি জাভেদ নামে এক ব্যক্তির কাছে এক লাখ ৮৫ হাজার পাকিস্তানি রুপি হস্তান্তর করেছে, যিনি তাদের ভিসা প্রক্রিয়া করেছেন।

এফআইএ এক বিবৃতিতে বলেছে, বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া সবার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থার জন্য তাদের মানবপাচার ও চোরাচালান বিরোধী শাখায় পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইন, ২০১৮-এর অধীনে মামলা হবে।

এর আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কমিটি জানায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভিক্ষুক অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

এর পরই অভিযান শুরু করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের সচিব জানিয়েছিলেন, বিদেশে আটক হওয়া ভিক্ষুকদের মধ্যে ৯০ শতাংশ পাকিস্তানের। তিনি বলেছিলেন, ইরাকি ও সৌদি রাষ্ট্রদূত জনাকীর্ণ কারাগারের কথাও জানিয়েছেন। সূত্র : ডন

 

 

টিম অ্যাটলাস এর আবিস্কৃত রোবট ডিফেন্ডার আগুণ নেভাবে

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

ওয়ার্ল্ড ইনভেনশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন ২০২৩ (ডব্লিউআইসিই)–এর আইটি অ্যান্ড রোবোটিকস বিভাগে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশের দল ‘টিম অ্যাটলাস’। ইন্দোনেশিয়া ইয়ং সায়েন্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও মালয়েশিয়ার মাহশা ইউনিভার্সিটির যৌথ আয়োজনে মালয়েশিয়ায় বসেছিল প্রতিযোগিতার পঞ্চম আসর। ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর—২০টি দেশের চার শতাধিক দল প্রতিযোগিতার পাঁচটি বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। অনলাইন ও অফলাইন—দুইভাবেই অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। তাই একে বলা হচ্ছে হাইব্রিড মডেলের প্রতিযোগিতা।

টিম অ্যাটলাস কেন আলাদা

আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জ ও বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডে গোল্ড মেডেল পাওয়া সানি জুবায়ের স্কুলজীবন থেকেই রোবোটিকসে আগ্রহী। তাঁর নেতৃত্বে বিজ্ঞান ও রোবোটিকসে আগ্রহী কয়েকজন শিক্ষার্থী ২০১৬ সালে গঠন করে ‘টিম অ্যাটলাস’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিসহ নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০ জন শিক্ষার্থী এই দলে কাজ করছেন। টিম অ্যাটলাসের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানি জুবায়ের বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্য ছিল আমার মতো বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থীদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, স্কুল–কলেজের ছেলেমেয়েরাও আমাদের দলের সদস্য হতে পারে৷ বড় দল হওয়ার একটা সুবিধা হলো জ্ঞান ভাগাভাগি ও দক্ষতা প্রয়োগের জায়গাটা অনেক সমৃদ্ধ হয়।’

সদস্যরা শুধু আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই নন, তাঁদের পড়ার বিষয়ও আলাদা। দলের নিজস্ব ল্যাবে যে যাঁর মতো করে ভূমিকা রাখেন। বেশ কয়েক বছর ধরে দলটি একসঙ্গে কাজ করেছে। একাধিক প্রতিযোগিতা থেকে এনেছে পুরস্কার।

ডব্লিউআইসিই ২৩–এ প্রথম হয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত দলটি। দলের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম শাহরিয়ার মুঠোফোনে জানান, ‘বিশ্বে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাহশা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। এ রকম জায়গায় প্রথম হওয়া নিঃসন্দেহে বড় আনন্দের বিষয়।’

অগ্নিদুর্ঘটনায় সম্মুখযোদ্ধা যে রোবট

বিশ্বব্যাপী অগ্নিকাণ্ডে যে ধরনের উদ্ধার পদ্ধতি প্রচলিত, সেটিকে কীভাবে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করা যায়, তা-ই নিয়ে কাজ করেছে টিম অ্যাটলাস। এ লক্ষ্যে একটি রোবট নির্মাণ করেছে টিম অ্যাটলাস। নাম ডিফেন্ডার। অ্যাটলাসের সদস্য, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শিহাব আহমেদ বলছিলেন, ‘কোথাও আগুন লাগলে আমাদের রোবটটি সরাসরি আগুনের উৎস খুঁজে বের করে নেভানোর চেষ্টা করবে। তারপর পর্যায়ক্রমে গুরুত্ব বিবেচনা করে চারদিকে ছড়ানো আগুন নেভানোর কাজ করবে। রোবটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলবে, রিমোট দিয়েও পরিচালনা করা সম্ভব। অর্থাৎ, অগ্নিনির্বাপক দল ঘটনাস্থলের বাইরে থেকেই এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। আটকা পড়া মানুষ রোবটের সঙ্গে থাকা বক্স খুলে প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরণও পাবেন।’

এ ছাড়া রোবটটিতে যুক্ত আছে স্মোক ভ্যাকুয়াম, যা কার্বন মনক্সাইডযুক্ত বিষাক্ত ধোঁয়া টিউবের মাধ্যমে বাইরে বের করতে সহায়তা করবে। দলনেতা সানি জুবায়ের যোগ করলেন, ‘অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে নির্মিত এই রোবট প্রায় ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কাজ করতে সক্ষম। এ ছাড়া আমরা আমাদের চলমান প্রকল্প নিয়েও প্রতিযোগিতায় কথা বলেছি। সমুদ্রে বা নদীতে হয়তো একটি জাহাজ বিপদে পড়ছে বা জাহাজে জরুরি চিকিৎসা উপকরণ পাঠাতে হবে। কিংবা হয়তো আগুন লেগেছে। রোবট দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কীভাবে জাহাজে আগুন নেভানো বা উদ্ধারসংক্রান্ত অন্যান্য কাজ করা যায়, সেটিও আমাদের চলমান প্রকল্পের অংশ।’

দলটির পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক সাইফুল ইসলাম। এ ছাড়া ডব্লিউআইসিইতে অংশ নেওয়া টিম অ্যাটলাসের সদস্যরা হলেন সানি জুবায়ের (ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি), শিহাব আহমেদ (নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি), ফাহিম শাহরিয়ার (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), মেহরাব ইসলাম (ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি) ও মেহরান ইসলাম (বিএএফ শাহীন কলেজ)। অনলাইনের মাধ্যমে দলকে সহযোগিতা করেছেন সাকিবুল আহসান (ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি) ও সানজিদা সিদ্দিকা (আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ)।

বছরের অন্যান্য অর্জন

বছরজুড়েই টিম অ্যাটলাসের হাত ধরে বাংলাদেশের ঘরে এসেছে নানা অর্জন। এ বছর মার্চ মাসে ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি), কানপুরে বসেছিল ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা—টেককৃতি-২৩। বিভিন্ন দেশের ১৫০০ প্রতিযোগীর মধ্যে টেকনোভেশন বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে টিম অ্যাটলাস।

জুলাই মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হয় রোবোটিকস–সংক্রান্ত প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় আয়োজন—ওয়ার্ল্ড রোবোটিকস কম্পিটিশন ২০২৩। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ বিশ্বের ২২টি দেশের তিন শতাধিক দল অংশ নেয় রোবোটিকসের এই বিশ্বকাপে। নিজেদের তৈরি রোবটের সক্ষমতা প্রমাণ করে সেখানে টিম অ্যাটলাস হয়েছিল দ্বিতীয়।

Daily World News

বাগেরহাটের কচুয়ায় পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাথে ওসির মতবিনিময় সভা

আমতলীতে বিভিন্ন কর্মসুচীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালিত

অষ্টম মহাদেশ আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

প্রায় ৩৭৫ বছর পর পানির নিচে লুকিয়ে থাকা একটি মহাদেশ আবিষ্কার করেছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। মহাদেশটির নাম জিল্যান্ডিয়া। বিজ্ঞানভিত্তিক বার্তা সংস্থা ফিস ডট ওআরজির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

এতে বলা হয়, সমুদ্রতলে ম্যাপিং, পাথরের নমুনা বিশ্লেষণ ও টেকটোনিক প্লেটের ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষার পর এ মহাদেশটির মানচিত্র প্রকাশ করেন বিজ্ঞানীরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, জিল্যান্ডিয়া ১ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন বর্গ মাইল আয়তনের একটি বিশাল মহাদেশ। এটি আফ্রিকার দেশ মাদাগাস্কারের থেকে প্রায় ছয় গুণ বড়। অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত এ মহাদেশটি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন মহাদেশটির প্রায় ৯৪ শতাংশই পানির নিচে। এখানে নিউজিল্যান্ডের মতো কয়েকটি দ্বীপ রয়েছে।জিল্যান্ড মহাদেশ আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িত থাকা নিউজিল্যান্ডের ক্রাউন রিসার্চ ইনস্টিটিউট জিএনএস সায়েন্সের ভূ-বিজ্ঞানী অ্যান্ডি তুলোচ বলেন, একটি স্পষ্ট বিষয় উন্মোচিত হতে কখনো কখনো যে অনেক সময় নিতে পারে, জিল্যান্ডিয়ার আবিষ্কার তার একটি উদাহরণ।

গবেষকরা বলছেন, জিল্যান্ডিয়া প্রায় ৫৫ কোটি বছর আগে গন্ডোয়ানা নামের একটি বৃহৎ মহাদেশের অংশ ছিল। গন্ডোয়ানা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এটি পানির নিচে তলিয়ে যায়।

 

Google-এর ২৫ বছর

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট একটি ডুডল দিয়ে তার ২৫তম জন্মদিন উদযাপন করছে।

ডুডলটি ‘Google’ শব্দে ’25’ দ্বারা প্রতিস্থাপিত ‘oo’ অক্ষরগুলি দেখায়। গুগল ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ সালে কোফাউন্ডার সের্গেই ব্রিন এবং ল্যারি পেজ দ্বারা চালু হয়েছিল।

২৫ বছরে, Google আমাদের ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ব্যবহার করার উপায় পরিবর্তন করেছে৷ ২০১১ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো Google-এ মাসিক অনন্য দর্শকের সংখ্যা এক বিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়।

এরপর থেকে গুগলকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা // তামিম ইকবাল বাদ

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

অপেক্ষার পর্ব শেষ হয়েছে। অবশেষে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল। দলে চমক জাগিয়েছে তামিম ইকবালের না থাকা। অবশ্য গতকাল রাত থেকে হঠাৎ চাউর হচ্ছিল বিশ্বকাপ দলে তামিমকে চাচ্ছেন না অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে।

এর কারণ, পুরোপুরি ফিট নন তামিম। শেষ পর্যন্ত তামিমকে ছাড়াই ঘোষণা হয়েছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে দল ও বিশ্বকাপ জার্সিও উন্মুক্ত করেছে বিসিবি। বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন আলোচনায় থাকা মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ।

পাঁচ পেসার নিয়ে ভারত বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সাকিবকে অধিনায়ক করে ১৫ সদস্যের দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তকে। নাজমুলের আজ নেতৃত্বের অভিষেক হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে অধিনায়ক ছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

এমনিতে লিটন দাস সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে এলেও বিশ্বকাপে নাজমুলের কাঁধে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাট হাতে লিটনের সময়টা ভালো যাচ্ছে না। তাই হয়তো তাকে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তামিম না থাকায় লিটনের সঙ্গে ওপেনিংয়ের ভাবনায় প্রথমবার বড়দের বিশ্বকাপ খেলতে যাবেন তানজিদ হাসান তামিম।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দল :

  • সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক),
  • লিটন কুমার দাস,
  • তানজিদ হাসান তামিম,
  • নাজমুল হোসেন শান্ত (সহ-অধিনায়ক),
  • তাওহীদ হৃদয়,
  • মুশফিকুর রহিম,
  • মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ,
  • মেহেদী হাসান মিরাজ,
  • নাসুম আহমেদ,
  • শেখ মেহেদী হাসান,
  • তাসকিন আহমেদ,
  • মুস্তাফিজুর রহমান,
  • হাসান মাহমুদ,
  • শরিফুল ইসলাম ও
  • তানজিম হাসান সাকিব।

 

 

হান্টার বাইডেন অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত ডেলাওয়্যারের একটি আদালতে

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

মামলায় অভিযুক্ত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন। তাকে আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত এক মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার একটি আগ্নেয়াস্ত্র কেনার সময় মিথ্যা বলার তিনটি ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে হান্টারকে অভিযুক্ত করা হয়।

দোষ স্বীকার করে মামলা নিষ্পত্তির একটি প্রস্তাবিত চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর ৫৩ বছর বয়সি হান্টারকে অভিযুক্ত করা হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টের সন্তান ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন।

আর এর মধ্য দিয়ে হান্টারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের সন্তান হিসেবে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ডেলাওয়্যারের একটি আদালতে হান্টারকে অভিযুক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক এ অভিযোগ আনেন বিশেষ কৌঁসুলি ডেভিড ওয়েইস।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের অক্টোবরে ডেলাওয়্যারে একটি আগ্নেয়াস্ত্রের দোকান থেকে একটি রিভলবার কিনেন বাইডেনের ছেলে হান্টার। সেটি কেনার সময় তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তিনি কোনো উত্তেজক মাদকদ্রব্যের বেআইনি সেবক নন। তিনি মাদকাসক্তও নন। অথচ সে সময় তিনি মাদক (কোকেন) সেবক ছিলেন।

মার্কিন ফেডারেল আইন অনুসারে, আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়ের সময় বাধ্যতামূলকভাবে কিছু তথ্য দিতে হয়। আর এ সময় মিথ্যা বলা অপরাধ। সেই সঙ্গে মাদক ব্যবহারকালে আগ্নেয়াস্ত্র রাখাও অপরাধ।

মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতির তথ্যানুযায়ী, মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে হান্টারের। সূত্র: সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমস

 

রেড ওয়াইনের নদী, ২২ লক্ষ লিটার মদের নদী হলো রাস্তা

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

শনিবার রাতে পর্তুগালের পাহাড়ি শহরে একটি মদের কারখানার ট্যাঙ্ক ফেটে যায়। তা দিয়ে বেরিয়ে আসে ২২ লক্ষ লিটার রেড ওয়াইন। সেই ওয়াইনই শহরের রাস্তা দিয়ে নদীর মতো প্রবাহিত হয়।

জনপ্রিয় বাংলা গানের মধ্যে প্রশ্ন ছিল, ‘নদী যদি মদ হত’… তা হলে যে কী কী হত তার জবাবও গানেই মজুত। কিন্তু সত্যি যদি এমন হয়, তামহলে কী রকম হয়? রবিবার সাত সকালে পর্তুগালের ছোট্ট পাহাড়ি শহরের বাসিন্দারা বাড়ির দরজা খুলে থ! রাস্তা কোথায়, পথ বেয়ে কুলকুল করে বয়ে যাচ্ছে লাল মদের (পড়ুন রেড ওয়াইন) ধারা। কী তার স্রোত! সাতসকালে এমন না চাইতেই ‘ওয়াইন’ পেয়ে পানরসিকদের মনে আনন্দ ধরে না।

সমাজমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লাল নদীর ধারার ছবি দেখে চমকে উঠছেন মানুষ। জানা যাচ্ছে, পর্তুগালের সমুদ্রতটের ধারেই ছোট্ট গ্রামীণ জনপদ লেভিরার একটি মদ প্রস্তুতকারক সংস্থার ট্যাঙ্কে মজুত রাখা ছিল ২২ লক্ষ লিটার রেড ওয়াইন। শনিবার রাতে কোনও কারণে সেই ট্যাঙ্কটি ফেটে যায়। তার পরেই প্রবল বেগে ২২ লক্ষ লিটার রেড ওয়াইন রাস্তাকেই নদীর খাত বানিয়ে বয়ে চলে নীচের দিকে। যেমন, তার রং, তেমনই তার গতি। যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ গ্রামবাসীদের। চক্ষু, কর্ণের বিবাদভঞ্জনে কেউ কেউ রাস্তা থেকেই রেড ওয়াইন তুলে খেলেন, আর তারপরেই আনন্দে ফেটে পড়ে গা ভেজালেন ওয়াইন নদীর ধারায়।

আমেরিকার সংবাদপত্র নিউইয়র্ক পোস্টের এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যতটা রেড ওয়াইন ট্যাঙ্ক থেকে বেরিয়ে শহর ভাসিয়ে দিল, তা একসঙ্গে করলে অলিম্পিক্সের সুইমিং পুলও ভরে যাবে। এই ঘটনার জন্য ‘লেভিরা ডিস্টিলারি’ প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছে। মদের নদীর ধারা যাতে সার্টিমা নদীতে গিয়ে মিশতে না পারে, সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ মদের নদী জলের নদীতে মিশলে সমূহ বিপদ!

তবে শুধুমাত্র ক্ষমাপ্রার্থনায় চলবে না। লেভিরা ডিস্টিলারি জানিয়েছে, যা যা ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণের জন্যেও তারা রাজি। সেই লক্ষ্যে ওয়াইন যে জায়গায় মাটির উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে, যান্ত্রিক কোদাল দিয়ে সেই মাটির স্তর চেঁছে তুলে নেওয়ার কাজ চলছে। সূত্র: আনন্দবাজার

Daily World News

ষ্টেশনে পানি বিক্রি করা থেকে জুয়েল গড়ে তুলল অপরাধের সাম্রাজ্য

বাইডেন, সুনাক, ট্রুডো: জি-২০ তে এসে কে কোথায় থাকবেন

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

আগামী শনিবার ও রোববার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অর্থনৈতিক জোট জি-২০–এর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা ওই সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন। তাঁরা দিল্লিতে কোথায় থাকবেন, তা একনজর দেখে নেওয়া যাক।

বাইডেন, সুনাক, ট্রুডো: জি-২০ তে এসে কে কোথায় থাকবেন

জো বাইডেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর আইটিসি মৌর্য হোটেলে থাকবেন। আগামীকাল শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা। ধারণা করা হচ্ছে, জি-২০ সম্মেলনে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কথা বলবেন বাইডেন।

ঋষি সুনাক

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো ভারত সফর করবেন ঋষি সুনাক। তিনি সাংগ্রি লা হোটেলে থাকবেন। সম্মেলনকে সামনে রেখে ৪৩ বছর বয়সী সুনাক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের সভাপতিত্ব করার যথার্থ সময় এটি।

চীনের প্রতিনিধিদল

জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং যোগ দেবেন না বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছেন। চীনের একটি প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এ প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন। এবারই প্রথম জি-২০ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকছেন না। ২০০৮ সালে প্রথম জি-২০ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে জি-২০ সম্মেলনে সি চিন পিংয়ের ভার্চ্যুয়াল অংশগ্রহণ ছিল।

চীনের প্রতিনিধিদলটি দিল্লির তাজ হোটেলে থাকবে।

জাস্টিন ট্রুডো

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ইন্দোনেশিয়ায় আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। সেখান থেকে জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছাবেন তিনি। নয়াদিল্লিতে দ্য ললিত হোটেলে থাকবেন ট্রুডো।

অ্যান্টনি আলবানিজ

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এশিয়ায় ত্রিদেশীয় সফরে আসছেন। জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি ভারতের ইম্পিরিয়াল হোটেলে উঠবেন। ভারত ছাড়া ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনেও সফর করবেন আলবানিজ।