ইয়েমেনে ৫ জাতিসংঘ কর্মী অপহৃত।। একজন বাংলাদেশী

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে জাতিসংঘের পাঁচ কর্মী অপহৃত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। তার নাম একেএম সুফিউল আনাম।

তিনি ইয়েমেনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত। ডয়েচে ভেলে। সুফিউল আনামের পরিবারের বরাতে এসব তথ্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন জাতিসংঘের উচ্চ পদে কর্মরত আরেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা। তিনি রোববার দুপুরে সুফিউলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।

কাজ শেষে এডেনে ফেরার সময় শুক্রবার জাতিসংঘের ৫ কর্মী অপহৃত হন। জাতিসংঘ স্থানীয় সময় শনিবার বিষয়টি জানিয়েছে। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সুফিউল ইয়েমেনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে ছিলেন। তার সঙ্গে অপহরণ হওয়া বাকিরা ইয়েমেনেরই নাগরিক। একমাত্র সুফিউলই বিদেশি।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সুফিউলের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের নাম নেওয়া হয়েছে। সুফিউল পুরোপুরি সুস্থ আছেন বলে তাদের জানানো হয়েছে। স্থানীয় একটি গোষ্ঠী অপহরণ করেছে বলে তাদের প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে।

সুফিউলের স্ত্রী ঢাকাতেই থাকেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তারা বর্তমানে প্রবাসী। ২০ বছর আগে সুফিউল জাতিসংঘে যোগ দেন।

ষাটোর্ধ্ব সুফিউলের কিছুদিনের মধ্যেই অবসরে যাওয়ার কথা। ইয়েমেনে নিয়োজিত জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তার মুখপাত্র রাসেল গিকি বলেন, আবিয়ান প্রদেশে ওই পাঁচ কর্মীকে অপহরণ করা হয়েছে।

তাদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ইয়েমেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছে জাতিসংঘ। ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযান চলছে।

২০১৫ সালের শুরুর দিকে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা আক্রমণ করে মানসুর হাদির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ওই বছরের মার্চ থেকে অভিযান শুরু করে সৌদি জোট। ইয়েমেন সংঘাতে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখো মানুষ।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

মস্তিষ্কে চিপ বসানো ২৩টি বানরের মধ্যে ১৫ বানর মারা গেছে

খুলনায় পুলিশের এসআইর বিরুদ্ধে যৌতুক দাবির অভিযোগ স্ত্রীর

 //আ: রাজ্জাক, খুলনা ব্যুরো//

খুলনায় পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) বির“দ্ধে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন, যৌতুক গ্রহণ, ভরণপোষণ না দেওয়া, মামলা তদন্তে পুলিশি ক্ষমতার অবৈধ ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ করেছেন তারই স্ত্রী।

রবিবার (১৩ ফেব্র“য়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন এসআই সোবহান মোল্যার স্ত্রী ফারজানা বিনতে ফাকের ক্ষমা। এ বিষয়ে সোবহান মোল্যা জানান সব কিছু মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

সংবাদ সম্মেলনে ফারজানা বিনতে ফাকের ক্ষমা লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার স্বামী পুলিশের এসআই সোবহান মোল্যা বর্তমানে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় কর্মরত। এর আগে তিনি সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলে আমাকে ২০২০ সালে মে মাসের ১২ তারিখ বিয়ে করেন। এরপর জানতে পারি তার আগেই স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এক কথা বললেই শুর“ হয় আমার ওপর বিভিন্ন ভাবে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন। শুধু তাই নয় একই সাথে দাবি করে যৌতুকের জন্যও।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমা আরও বলেন নির্যাতনের চাপ সইতে না পেরে তার পরিবার তিন দফায় সোবহান মোল্যাকে ২০ লাখ টাকা দেয়। এরপরও ক্ষান্ত হয়নি তিনি। বারংবার চাপ দিতে থাকে আরও ১০ লাখ টাকার জন্য। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ২৭ তারিখ সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় দ্বিতীয় তলায় ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং সরকারী ইস্যুকৃত পিস্তল দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং শরীরের বিভন্ন ¯’ানে আঘাত করে। পরে খুলনা মেড্ক্যিাল কলেজ হাসপাতালে গেলে আমার মাথায় ১২টি সেলাই লাগে। এ নিয়ে আমি দুই দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।

শুধু তাই নয় সোবহান মোল্যার বির“দ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল এবং যৌতুকের দাবিতে মহানগর হাকিমের আমলী আদালকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। কিš‘ তিনি এক জন পুলিশ বাহিনীর সদস্য হওয়ার মমলার তদন্ত প্রতিবেদন তৈরীতে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া অভিযোগ করেন তাদের আট মাসের একটি পূত্র সন্তান থাকলেও তার কোন খোঁজ নেয় না তার স্বামী সোবহান মোল্যা।

তবে সোবহান মোল্যা জানালেন নির্যাতনের ও যৌতুকের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, তার সাথে বিয়ে হয়ে ছিলো আমার অসু¯’ প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই। এরপর নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য হলে গত বছরের ১২ নবেম্বর তাকে তালক দিই। শুধু তাই নয় দেনমোহর বাবদ তিন লাখ ও খোরপোষ বাবদ আরও ১৫ হাজার টাকা ডাকযোগে পাঠিয়ে দিই। সোবহান মোল্যা বলেন, তিনি মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

খুলনার ডুমুরিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ১৮

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম ৫৭ কিলোমিটার মহাসড়কে ৩১ বিপজ্জনক বাঁক

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

৫৭ কিলোমিটার সড়কে ৩১ বিপজ্জনক বাঁক।

সড়কে ৩১ বিপজ্জনক বাঁকে নেই কোনো ফলক। সড়কে চলাচল করে অনেক অবৈধ যান।

কক্সবাজার শহর থেকে চকরিয়ার দূরত্ব প্রায় ৫৭ কিলোমিটার। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই ৫৭ কিলোমিটার অংশে বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে ৩১টি। বাঁকগুলোয় নেই দিকচিহ্ন–সংবলিত সাইনবোর্ড কিংবা ফলক। এই মহাসড়কের দুই পাশে রয়েছে ঘন জঙ্গল। এতে দূর থেকে বাঁকগুলো চোখে পড়ে না।

এখানেই শেষ নয়। অনুমোদন না থাকলেও এই মহাসড়কে চলাচল করে অনেক ফিটনেসবিহীন যান ও মহাসড়কে নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা। অনিয়ন্ত্রিত এমন যান চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম ৫৭ কিলোমিটার মহাসড়কে ৩১ বিপজ্জনক বাঁক
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই ৫৭ কিলোমিটার অংশে বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে ৩১টি

গত বৃহস্পতিবার সকালে মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, ৫৭ কিলোমিটারের এ সড়কে চকরিয়ার গয়ালমারা, আজিজনগর বাজার, হারবাং বাজার, হারবাং ইনানী রিসোর্ট, বানিয়ারছড়া, নলবিলা, ফাঁসিয়াখালী ভেন্ডী বাজারসহ অন্তত ৩১টি স্থানে বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। বাঁকগুলোতে দিকচিহ্ন–সংবলিত ফলক চোখে পড়েনি। সড়কে চলছে নিষিদ্ধ তিন চাকার গাড়ি, ফিটনেসবিহীন বাস, ট্রাক।

বিপজ্জনক বাঁকগুলোয় আগে সাইন ছিল। কে বা কারা তুলে নিয়ে গেছে।

কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা।

এসব যান নিয়ন্ত্রণে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। লবণবোঝাই ট্রাক চলাচলের সময় সড়কের ওপর ঝড়ে পড়ছে পানি—এমন দৃশ্যও দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে এস আলম পরিবহনের একটি বাসের চালক মোস্তফা কামাল (৪৫) বলেন, এতে সড়ক পিচ্ছিল হচ্ছে। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতির যানগুলোর দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

তবে দিকচিহ্ন–সংবলিত ফলক প্রসঙ্গে সড়ক বিভাগ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, বিপজ্জনক বাঁকগুলোয় আগে সাইন ছিল। কে বা কারা তুলে নিয়ে গেছে।

এই মহাসড়কে দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত পাঁচটি কারণকে দায়ী করছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনসহ বিভিন্ন সংস্থা। কারণগুলো হলো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোয় দিকচিহ্ন–সংবলিত ফলক না থাকা, সড়কে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ও অবৈধ যানের বেপরোয়া চলাচল, সড়কের ওপর ও পাশে অবৈধ হাটবাজার। এ ছাড়া সড়কে বাঁকগুলোয় বড়বড় খাদ ও দুই পাশে মালামাল স্তূপ করে রাখায় সড়ক সংকুচিত হওয়াকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।

৮ ফেব্রুয়ারি সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত দুর্ঘটনাটি ঘটে এই মহাসড়কে। মহাসড়কের চকরিয়ার মালুমঘাট এলাকায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় মারা যান স্থানীয় হাসিনাপাড়া গ্রামের সুরেশ চন্দ্র সুশীলের পাঁচ ছেলে অনুপম সুশীল, নিরুপম সুশীল, দীপক সুশীল, চম্পক সুশীল ও স্মরণ সুশীল।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ৩০টির বেশি অবৈধ হাটবাজার গড়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস ও ট্রাকস্টেশনও।

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, জরুরি ভিত্তিতে সড়কের বিপজ্জনক বাঁকগুলো চিহ্নিত করে দিকচিহ্ন–সংবলিত ফলক লাগানো, অবৈধ হাটবাজার উচ্ছেদ, অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ

৮ ফেব্রুয়ারি সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত দুর্ঘটনাটি ঘটে এই মহাসড়কে। মহাসড়কের চকরিয়ার মালুমঘাট এলাকায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় মারা যান স্থানীয় হাসিনাপাড়া গ্রামের সুরেশ চন্দ্র সুশীলের পাঁচ ছেলে অনুপম সুশীল, নিরুপম সুশীল, দীপক সুশীল, চম্পক সুশীল ও স্মরণ সুশীল।

পুলিশ ও নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের তথ্যমতে, ২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১ মাস ৮ দিনে এই মহাসড়কের পাঁচটি অংশের বিপজ্জনক বাঁকে ২০টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৫ জন। ২০২১ সালে ২৩৫টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৫২ জন, আহত ৫৪০ জন। ২০২০ সালে ২২৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৯ জন। আহত হয়েছেন ৫৫৮ জন।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

জেনে নিন কোন বোর্ডে কত ভাগ পাশ করল

 

জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বাবা আর নেই

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

জনপ্রিয় নাট্যাভিনেত্রী তানজিন তিশার বাবা আবুল কালাম মারা গেছেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

শনিবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামিয়া সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তানজিন তিশার সহ-অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, তানজিন তিশার বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামিয়া সেন্ট্রাল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার শরীর ভালো থাকলেও হঠাৎ করে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে তানজিন তিশার বাবা আবুল কালাম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ওই সময় তার মাইনর স্ট্রোক হয়েছিল। তবে ৯ আগস্ট ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এ অভিনেত্রী তার বাবার সুস্থতার খবর জানিয়েছিলেন।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত

 

শুধু ইউক্রেন-রাশিয়া নয় , বিশ্বজুড়েই বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা

//আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সেনা মোতায়েন নিয়ে শুধু ওই দুদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। এই পরিস্থিতিতে নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য পশ্চিমাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ। আরব নিউজ শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নাগরিকদের জন্য ইউক্রেনে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার কারণে শনিবার কিয়েভে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস  ইউক্রেনে অবস্থিত সৌদি নাগরিকদের দ্রুত দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি নাগরিকদের দ্রুত ওই দেশ ছাড়ার সুবিধার্থে এই আহ্বান জানায় সৌদি দূতাবাস।

এছাড়া ইউক্রেন ভ্রমণ না করার জন্য সৌদি নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সৌদি আরব ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও ইরাকও তাদের নাগরিকদের ইউক্রেন ভ্রমণে নিশেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।  ইউক্রেনে থাকা নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও তাদের দেশের নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব ইউক্রেন ছাড়ার আহ্বান জানায়।

এদিকে ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সেনা মোতায়েন নিয়ে  উত্তেজনার মধ্যে শনিবার কিয়েভ থেকে জরুরি নয় এমন কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, শনিবারই কিয়েভ থেকে কয়েকজন কূটনীতিক সরানোর ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

চাঁদপুর হাইমচরে ওহাবীয়া এতিমখানার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

হাইমচরে সরকারি প্রকল্পের খাল খননে বাঁধা, পুনরুদ্ধারে কৃষকদের মানববন্ধন

গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাকে ভয়াবহ আগুন (ভিডিও)

// নিউজ ডেস্ক// 

ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই একটি ট্রাকে আগুন ধরে গেছে।  লেবাননের বৈরুত-জুনিহ মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে বলে আরব নিউজ শনিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

স্থানীয় এমটিভি টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  কাসলিক এলাকায় ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।  ওই বিস্ফোরণ এতো শক্তিশালী ছিল যে পার্শ্ববর্তী জোক মোসবেহ এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এদিকে, বিস্ফোরণের পর ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

বিস্ফোরণে আশেপাশের দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই আগুন পাশের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।  আগুনে বিদ্যুতের তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে, বিস্ফোরণের পর মহাসড়কের উভয় লেনেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

পাঁচ ভাইকে চাপা দেওয়া সাইফুলের লাইসেন্স ছিল না, ছিল আত্মগোপনে: র‍্যাব

 

 

পাঁচ ভাইকে চাপা দেওয়া সাইফুলের লাইসেন্স ছিল না, ছিল আত্মগোপনে: র‍্যাব

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাবার শ্রাদ্ধ শেষে ফেরার পথে বেপরোয়া গতির পিকআপের চাপায় পাঁচ ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত চালক সাইফুল ইসলামের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। ঘটনার পর গাড়ির মালিক মাহমুদুলের পরামর্শে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে এসব কথা জানানো হয়। গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর  মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে  র‍্যাব।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, এই পিকআপটি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে সবজি সরবরাহ করা হয়। মালিক চকরিয়ার মাহমুদুল নামে এক ব্যক্তি। ঘটনার সময় ওই পিকআপে মালিকের ছেলে তারেক এবং মালিকের ভাগনে ছিলেন। এই গাড়ির কোনো কাগজপত্র নেই। ২০১৮ সালের পর এই গাড়ির নথিপত্র হালনাগাদ করেনি।

চালক সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, চকরিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে সবজি সংগ্রহের পর এই পিকআপ দিয়ে কক্সবাজার এবং মহেশখালীতে সরবরাহ করা হয়। ঘটনার সময় কুয়াশা ছিল। গাড়িটি চলছিল ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিতে। কুয়াশার কারণে তিনি কাউকে দেখতে পাননি। এ কারণে রাস্তা পারাপারের জন্য অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের ওপর গাড়ি তুলে দেন। শেষ মুহূর্তে তিনি ব্রেক চেপেছিলেন। কিন্তু চাপা দেওয়ার পর ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে গিয়ে গাড়িটি ব্রেক করতে পেরেছিলেন।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, সাইফুল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর তিনি গাড়ি থেকে নেমে ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু মালিকের ছেলে তারেক সাইফুলকে ডেকে বলেন, এখানে না থেকে পালানো উচিত। যারা আহত হয়েছিলেন, তাদের হাসপাতালে না নিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে একটি বাজারে এসে মালিক মাহমুদুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন সাইফুল।

ওই বাজারের পাশে পিকআপটি রেখে চকরিয়ায় গিয়ে মালিকের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয় তাকে। মালিকের সঙ্গে সরাসরি দেখা হওয়ার পর তিনি সাইফুলকে বলেন, এ ঘটনায় একটি সরকারি মামলা হবে। এক বছর লুকিয়ে থাকতে হবে। মালিকের নির্দেশনায় তিনি আত্মগোপনে চলে যান। প্রথমে তিনি লামা এলাকায় একটি রাবার বাগানে কাজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানে একদিন ছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় ভয় পেয়ে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। সাইফুলের দাবি, দুর্ঘটনার শিকার পরিবারের কাউকে তিনি চিনতেন না।

সাইফুল দুই বছর ধরে গাড়ি চালালেও তার কোনো লাইসেন্স ছিল না জানিয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চালিয়েছিলেন। সর্বশেষ তিনি পিকআপটি সাত দিন ধরে চালাচ্ছিলেন। এতে তিনি দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি পেতেন। ২০১৬ সালে মাহমুদুল নামে এক ব্যক্তি এই পিকআপটি ক্রয় করেন। মালিক মাহমুদুল এবং মালিকের ছেলে তারেক পলাতক।

গত ৩০ জানুয়ারি মারা যান কক্সবাজারের চকরিয়ার সুরেশ চন্দ্র সুশীল। গত মঙ্গলবার তাঁর শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় আচার শেষে স্থানীয় একটি মন্দির থেকে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন সুরেশ চন্দ্রের পাঁচ ছেলে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলা অংশের মালুমঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পিকআপ ভ্যানের চাপায় নিহত পাঁচ ভাই হলেন অনুপম সুশীল (৪৬), নিরুপম সুশীল (৪০), দীপক সুশীল (৩৫), চম্পক সুশীল (৩০) ও স্মরণ সুশীল (২৯)। গুরুতর আহত আরেক ভাই রক্তিম সুশীল (৩২) চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন। আরেক ভাই প্লাবন সুশীল (২৫) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও বোন হীরা সুশীল (২৮) চকরিয়ার মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

নতুন ইসির গঠনে ৩০৯ জনের নাম পেয়েছে সার্চ কমিটি

রামপাল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মজনু’র মৃত্যুতে নেতৃবৃন্দের শোক

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপাল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উজলকুড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মল্লিক মিজানুর রহমান মজনু (৫৮) শুক্রবার সকাল ১০ টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাথে থাকা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও তার ভাগনে মো. রবিউল ইসলাম।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের নামাজে জানাযা শনিবার বেলা ১১ টায় ফয়লাহাট কামাল উদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছেন বাগেরহাট জেলা ও রামপাল উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

জেলা বিএনপির আহবায়ক ইন্জিনিয়ার আকরাম হোসেন তালিম, যুগ্ম আহবায়ক কামরুল ইসলাম গোরা, লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার জাকির হোসেন। রামপাল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব শেখ হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাটোয়ারী হালিম, সাবেক দপ্তর সম্পাদক কাজী জাহিদুল ইসলাম, যুবদলের আহবায়ক মল্লিক জিয়াউল হক জিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাসুদুর রহমান পিয়াল, সদস্য সচিব আলমগীর কবির বাচ্চু, সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কাজী অজিয়ার রহমান, সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলাম ইয়ামিন, ছাত্র দলের আহবায়ক মোল্লা তরিকুল ইসলাম শোভন, সদস্য সচিব মো. রবিউল ইসলাম, মোফাজ্জল হুসাইন বাদল প্রমুখ।

ইটালি থেকে অবশেষে ফিরে আসছে সাগরে মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের মরদেহ

//আন্তর্জাতিক অনলােইন ডেস্ক//

নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালি যাবার পথে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় জমে মৃত্যু হয়েছিল যে সাতজন বাংলাদেশির – তাদের মরদেহ এখন দেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

মৃতদের একজন জয় তালুকদারের দেহ ১০ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইতালি থেকে পাঠানো হবে, আর তা ঢাকায় এসে পৌঁছাবে ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোররাতে।

এছাড়া কামরুল হাসান বাপ্পির মরদেহ ১১ই ফেব্রুয়ারি ইটালি থেকে পাঠানো হবে এবং তা ঢাকায় এসে পৌঁছবে ১৩ই ফেব্রুয়ারি।

‘কথিত বাংলাদেশি’ ও নিন্দার ঝড়

অবৈধভাবে ইটালি যাবার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনা নতুন কোন বিষয় নয়। কিন্তু ঠাণ্ডায় জমে মৃত্যুর ঘটনাটি অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ইটালি থেকে অবশেষে ফিরে আসছে সাগরে মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের মরদেহ
প্রতি বছর বিপজ্জনকভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার সময় পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে বহু মানুষ

তাদের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে আসার পর রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রথমে দায়িত্ব নিতে চায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইটালিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের পরিচয় নিয়ে যে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল – তাতেও নিন্দার ঝড় উঠেছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে।

সাত বাংলাদেশির ঠাণ্ডায় জমে মারা যাবার খবরটি গণমাধ্যমে আসে গত ২৫শে জানুয়ারি। ২৮শে জানুয়ারি রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মৃতদের ‘কথিত বাংলাদেশি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

অথচ ইটালির ল্যাম্পাডুসার মেয়র সালভারোতে মারতেল্লো ঘটনার পরপরই বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনা নিশ্চিত করেছিলেন।

বাংলাদেশ দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকৃত তথ্য অনুসন্ধান এবং যথোপযুক্ত করণীয় নির্ধারণের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

সে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ঘটনার পরদিনই অর্থাৎ ২৬শে জানুয়ারি দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কর্মকর্তা মো. এরফানুল হকের নেতৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি দল ল্যাম্পাডুসা দ্বীপে পৌঁছায়।

কথিত বাংলাদেশি শব্দটি তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয় ইটালি-প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। এমন ভাষা ব্যবহারের কারণে দূতাবাসের কড়া সমালোচনা করেন তারা।

এ বিষয়টি নিয়ে যারা বেশ সোচ্চার ছিলেন, তাদের মধ্যে একজন ইটালি-প্রবাসী সাংবাদিক মো. ইউসুফ আলী। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশি মারা যাবার খবর সংবাদমাধ্যমে আসার পরে দূতাবাস বিষয়টিকে তেমন একটা গুরুত্ব দিতে চায় না।

মি. আলীর অভিযোগ হচ্ছে, দূতাবাসের কর্মকর্তারা প্রবাসী বাংলাদেশীদের সমস্যা ও সংকটের বিষয়গুলোকে এমনিতেই কোন গুরুত্ব দেয় না।

“প্রবাসীদের তারা অবজ্ঞার চোখে দেখে। এই ‘কথিত বাংলাদেশি’ লেখার মাধ্যমে সে বিষয়টির প্রতিফলন হয়েছে।”

‘কথিত বাংলাদেশি’ হিসেবে বর্ণনা করে দূতাবাস তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেন মি. আলী।

“ইটালির স্থানীয় প্রশাসন মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তাছাড়া নৌকা থেকে আরো অনেক বাংলাদেশি জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল। তারাও মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তাহলে দূতাবাস কেন তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলো?”

“কথিত বাংলাদেশি লেখার পরে বিষয়টা ভাইরাল হয়ে যায়। ইটালিতে বসবাসকারী হাজার হাজার বাংলাদেশি ফেসবুকে বিষয়টির নিন্দা করেছে।”

ঘটনার চারদিন পরে অর্থাৎ ২৯শে জানুয়ারি বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সাত বাংলাদেশির নাম পরিচয় দিয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

সেখানে জানানো হয়, রোম দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কাউন্সিলর এরফানুল হক এর নেতৃত্বে দুই সদস্যদের প্রতিনিধি দল নৌকা থেকে উদ্ধার হওয়া অন্যদের সাথে কথা বলেন। ইটালির ল্যাম্পাডুসা দ্বীপে অবস্থিত ক্যাম্পে ইটালি পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের সাথে কথা বলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, মৃতদেহের সাথে সনাক্তকারী কোন ডকুমেন্ট না থাকায় সনাক্তকরণে জটিলতা দেখা দেয়।

ঘটনার ১০ দিন পরে ইটালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান সিসিলিতে যান। সেখানে গিয়ে মৃতদের কফিনের সামনে দাঁড়ানো রাষ্ট্রদূতের ছবি প্রকাশ করা হয় দূতাবাসের ফেসবুক পেইজে।

‘কথিত বাংলাদেশি’ শব্দটি কেন ব্যবহার করা হলো, সেটি নিয়ে দূতাবাসের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রদূত শামীম আহসানের সাথে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, প্রথম দিকে যখন পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি তখন ইংরেজি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘রিপোর্টেড বাংলাদেশি’ বলা হয়েছিল, যেটি বাংলায় লেখা হয়েছিল ‘কথিত বাংলাদেশি’।

মাদারীপুর জেলার পিয়ারপুর গ্রামের জয় তালুকদারের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। এলাকায় তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। গ্রামের আরো অনেক মানুষকে তিনি ইটালি যেতে এবং যাবার পর রাতারাতি তাদের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা আসতে দেখেছেন।

একারণে জয় তালুকদারের মনে ইটালি যাবার প্রবল ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল। তার বাবা পলাশ তালুকদার বিবিসি বাংলাকে বলেন, জায়গা-জমি বিক্রি করে এবং বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তিনি আট লাখ টাকা জোগাড় করেন ছেলেকে ইতালি পাঠানোর জন্য।

গত ২৮শে নভেম্বর ঢাকা থেকে দুবাই যান জয় তালুকদার। এরপর দুবাই থেকে লিবিয়া। লিবিয়ায় গিয়ে একমাস বাইশ দিন অপেক্ষা করেন ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে ঢোকার জন্য।

জানুয়ারি মাসের ২৪ তারিখে আরো ২৮০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর সাথে ইতালি যাবার জন্য নৌকায় ওঠেন জয় তালুকদার। কিন্তু তার আর ইটালিতে পৌঁছানো হয়নি।

নৌকায় করে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইটালিতে যাবার ঝুঁকি কতটা তা জানতেন তারা, কিন্তু সেটি তাদের থামাতে পারেনি।

পলাশ তালুকদার বলেন, তার ছেলের সাথে তাদের আত্মীয়-স্বজন আরো পাঁচজন ছিলেন। একমাত্র তার ছেলেই মারা গেছে, বাকিরা ইটালি পৌঁছেছে বলে তিনি জানান।

“এইভাবে অনেক মানুষ যাইতেছে। মনে করছি যাইব গা। এহন একটা একসিডেন্ট হইয়া গেছে। সব কপালের দোষ,” বলেন পলাশ তালুকদার।

এলাকার যে দালাল অবৈধ পথে ইটালিতে পাঠানোর আয়োজন করেছিলেন – তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই পলাশ তালুকদারের। সূত্বির: বিবিসি বাংলা

পড়ুল দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে

১৪ দিন পর আবার উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে ১৪ দিন পর আবার রাস্তায় নামলো শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আজ বিকেলের দিকে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে কিলোসড়ক ধরে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে চেতনা-৭১ প্রদক্ষিণ করে আবার গোলচত্বরে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ফরিদের গদি অস্তাচলে, ফরিদ যাবে রসাতলে’, ‘ফরিদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ কেন?’ সহ উপাচার্য বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন বলেন, ‘আমরা অধ্যাপক জাফর ইকবালের মাধ্যমে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্বাসে অনশন কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলাম। সে সময় আমাদের বলা হয়েছিল আমাদের বিভিন্ন দাবিগুলো মেনে নেয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন পরও আমাদের দেয়া আশ্বাসগুলোর কোনোটিই বাস্তবায়নের কোনো প্রচেষ্টা আমরা দেখতে পারিনি। এমনকি শিক্ষার্থীদের ওপর দেয়া দুটি মামলা এখনো ঝুলে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রায় আড়াই শ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এখনও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সেগুলোও চালু করা হয়নি। অন্যদিকে আমাদের এক দফা দাবি উপাচার্যের পদত্যাগ কিংবা অপসারণের ব্যাপারেও কোনো অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা আমাদের কঠোর কর্মসূচিগুলো থেকে সরে আসার পরও ন্যূনতম দাবিগুলো পূরণ করা হয়নি। এ জন্য এত দিন পর আমরা আবার কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছি। দাবি আদায়ের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবারও আমরা বিক্ষোভ মিছিল করব।’

উল্লেখ্য গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শাবিপ্রবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। সেই সকল কর্মসূচির একপর্যায়ে গিয়ে ১৯ জানুয়ারি থেকে এক দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ জন শিক্ষার্থী। ২৪ জন থেকে বেড়ে সেই সংখ্যা ২৮হয় একসময়।

এরপর ২৬ জানুয়ারি সকালে শাবিপ্রবির সাবেক অধ্যাপক ও দেশের জনপ্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান। এরপর থেকেই অবরোধ ও অনশন কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়িয়ে অহিংস আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, নাটক, খেলাধুলা ইত্যাদির মাধ্যমে নাদোলন অব্যাহত রেখেছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবে ১৪ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।

পড়ুল দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

এবছর একুশে বই মেলায় প্রকাশিত হচ্ছে জমির উদ্দিন মিলনের একগুচ্ছ বই