খুলনার রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের পাচানী গ্রামের ইউপি সদস্যের হাতে আপন ভাইকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর এঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর ইউপি সদস্যসহ তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।
পুলিশ এবং নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানায়, আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গ্রামের মৃত ইকলাস মোল্লার ছেলে ইসরাইল মোল্লা (৫০) নিজ বাড়ীতে অবস্থান করছিল। আকস্মিকভাবে তার বাড়ীতে হামলা চালায় নিহতের আপন ভাই, ইউপি সদস্য ইন্তাজ মোল্লা (৪৮) তার ছেলে সোহাগ (২৫)সহ আরেক ভাই মারুফ মোল্লা। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা বেধড়কভাবে বাশের লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে ইট দিয়ে ইসরাইল মোল্লার মাথার অর্ধাংশ থেতলে দেয়। ঘটনাস্থলে স্ত্রী খাদিজা পারভীন পৌছায়ে ডাক-চিৎকার করতে থাকলে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। দ্রুত ইসরাইল মোল্লাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।
নিহতের স্ত্রী জানান জমিজমা সংক্রান্ত এবং কিছুদিন পূর্বে সংঘটিত নির্বাচনকে ঘিরে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। তার স্বামী ইউপি সদস্য প্রার্থী জব্বারের নির্বাচন করায় বিজয়ী প্রার্থী ইন্তাজ মোল্লা সুপরিকল্পিত ঘৃন্য এ হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। নিহতের দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
এব্যাপারে রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরদার মোশাররফ হোসেন জানান, ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করছে। ঘাতকদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যহত আছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। জঘন্যতম এ হত্যার খবরে এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বাঘের সঙ্গে ২০ মিনিট লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন হায়াত আলী। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে কৈখালী ফরেস্ট স্টেশনের দাইগাং খালের পাড়ে বাঘকে পরাস্ত করে সহযোগীকে উদ্ধার করেছেন রমজাননগর ইউনিয়নের দুই মাছধরা জেলে।
টানা ২০ মিনিট ধরে নৌকার বৈঠা দিয়ে বাঘটিকে আঘাত করে কাবু করার পর তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। উদ্ধার হওয়া জেলে হায়াত আলী এখন শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যার কিছু আগে এ ঘটনা ঘটে সুন্দরবনের শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ফরেস্ট স্টেশনের কাছে বনের দাইগাং খালের পাড়ে।
বন বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, জেলেরা বনের পাশ নিয়ে নদীতে মাছ ধরছিলেন। এ সময় এ ঘটনা ঘটে।
উদ্ধারকারী সহযোগী দুই জেলে বাবলু সানা ও নূর ইসলাম গাজী জানান, ভাত রান্না করার লক্ষ্যে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে নদী থেকে বনে নামেন সহযোগী জেলে হায়াত আলী। এ সময় মানুষখেকো বাঘ তার ওপর হামলা করে।
বাবলু সানা জানান, আমরা এ অবস্থা দেখে দ্রুত বৈঠা ও দা কুড়াল নিয়ে বাঘটির ওপর পাল্টা হামলা চালাই। অন্তত ২০ মিনিট ধরে টানাহেঁচড়া করার পর রয়েল বেঙ্গল টাইগারটি হায়াত আলীকে ছেড়ে দিয়ে গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, তাকে নিয়ে এসে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন তিনি মোটামুটি সুস্থ আছেন।
কৈখালী ফরেস্ট স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ ব্যাপারী এ ঘটনা স্বীকার করে জানান, তারা পাশ নিয়েই বনে গিয়েছিলেন। বাঘের হামলায় আহত হায়াত আলীকে নিয়ে জেলেরা হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছেন।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের তানজিলা আক্তার মীম (১৯) নামে এক যাত্রা শিল্পী (নৃত্যৃ শিল্পী) ৭ই ফেরুয়ারী সোমবার ভোররাতে স্বামীর উপর অভিমান করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
নিহতের পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রুদাঘরা গ্রামের নাজমুল হোসেনের সাথে রঘুনাথপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের তানজিলা আক্তার মীমের সাথে দুই বছর আগে বিয়ে হয়। মীম বাপের বাড়িতে স্বামীকে নিয়ে যাত্রা ও এ্যামেচার মঞ্চে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নাছনীঅলী হিসেবে নাচ-গান করতো।
গত রোববার বিকেলে মীম স্বামীকে সাথে নিয়ে যশোর জেলার কেশবপুর থানার পাথরঘাটা নামক গ্রামের একটি মন্দিরে স্বরসতি পুজা উপলক্ষে আয়োজিত যাত্রা মঞ্চে নর্তকী হিসেবে যান। সেখানে যেয়ে স্বামীর সাথে ঝগড়া বিবাদের একপর্যায়ে নাচ-গান না করে মীম রাত ১২ টার দিকে স্বামীর সাথে বাড়িতে ফিরে এসে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১ টা হতে ভোর ৫টার মধ্যে মীম সকলের অগোচরে নিজ ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবাইদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত মামলা করেছেন। লাশের সুরত হাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঢাকার কচুক্ষেতের দুটি গয়নার দোকানে চুরির ঘটনায় সেখানকার দুজন নিরাপত্তাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আলম ও মনির নামের এই দুজন সেখানে চুরি করার উদ্দেশ্যেই বেস্ট সিকিউরিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছিলেন।
সাত বছর ধরে কচুক্ষেতের রজনীগন্ধা টাওয়ারে নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে বেস্ট সিকিউরিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস। পুলিশ বলছে, ওই দুজন এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়ার সময় যেসব তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর সবই ভুয়া। এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্রের যে কপি সরবরাহ করেছিলেন, তা–ও নকল। তাঁরা মুঠোফোনে যে নম্বর ব্যবহার করছিলেন, সেগুলোও অন্যের নামে নিবন্ধন করা।
গতকাল শনিবার ভোররাতে রজনীগন্ধা টাওয়ারের নিচতলায় রাঙাপরী জুয়েলার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের দুটি দোকানে তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ বলছে, ভোর সাড়ে চারটার দিকে দুই নিরাপত্তাকর্মী আলম ও মনিরকে ভবনের ভেতরে তিন ব্যক্তিকে ঢুকতে ও বের হতে সহায়তা করতে দেখা গেছে। ঘটনার পর তাঁরা দুজন পালিয়ে গেছেন।
ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিরাপত্তাকর্মী আলম ও মনিরের অসৎ উদ্দেশ্য ছিল। চুরি করার জন্যই তাঁরা ভুয়া তথ্য দিয়ে এখানে চাকরি নিয়েছিলেন। তাঁরা মোবাইলে শুধু নিজেদের মধ্যেই কথা বলতেন।’
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরি নেওয়ার সময় আলম মাদারীপুর এবং মনির খুলনার ঠিকানা দিয়েছিলেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাঁরা ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। তাঁরা যেসব নথি দিয়েছেন, সবই ভুয়া। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের খোঁজ না নিয়েই নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান এর দায় এড়াতে পারে না।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, দুই নিরাপত্তাকর্মী পরিকল্পনা করেই বেস্ট সিকিউরিটি অ্যান্ড লজিস্টিকসে চাকরি নেন। দেড় মাস আগে নিয়োগ পান আলম। দেড় মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করে গয়নার দোকানে চুরির পরিকল্পনা করেন। নির্বিঘ্নে চুরি করতে চার দিন আগে মনিরও ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। তাঁদের মুঠোফোন নম্বরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সেগুলো অন্যের নামে নিবন্ধন করা। এই নম্বর দুটি থেকে আরও একটি নম্বরে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘুরেফিরে এই তিন নম্বরেই যোগাযোগ করা হতো। ঘটনার পর থেকে এই নম্বরগুলো বন্ধ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেস্ট সিকিউরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার আগের তাঁর সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত দুজন যেসব তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোও যাচাই–বাছাই করা হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের দেওয়া সব তথ্য ভুয়া বলে জানানোর বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বলেন, পুলিশকে সব ধরনের তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কারও সঙ্গে কথা না বলতে পুলিশ পরামর্শ দিয়েছে।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত বেস্ট সিকিউরিটি ঢাকাসহ কয়েকটি শহরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহ করে। রাজধানীর ইব্রাহীমপুরে তাদের প্রধান কার্যালয়।
চুরির ঘটনায় গতকাল শনিবার রাতে ভাষানটেক থানায় একটি মামলা করেছেন দোকানের মালিক আবুল কালাম ভূঁইয়া। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দোকান থেকে ৩০২ ভরি সোনা খোয়া গেছে। এর দাম দুই কোটি টাকার বেশি। পাশাপাশি ৩০ লাখ টাকার হীরা এবং পাঁচ লাখ টাকাও নিয়ে গেছে চোরের দল। সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।
আবুল কালাম ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা ঘটনাটি তদন্ত করছে। তবে কোনো সংস্থাই অগ্রগতির খবর জানাতে পারেনি। সূত্র: প্রথম আলো
হাইমচর উপজেলার ৪ নং নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘটিত সহিংসতায় মীর হোসেন হত্যা মামলায় নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানি না হয় সে প্রসঙ্গে হাইমচর উপজেলার ১ নং গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান গাজী হাইমচর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
৬ ফেব্রুয়ারী রবিবার বিকাল ৫ টায়, হাইমচর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে হাইমচর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ খুরশিদ আলম এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন এর পরিচালনয়, সংবাদ সম্মেলনে ১নং গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান গাজী বলেন, আমি জনগনের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান। জনগণের সুখ-দুঃখ ও বিপদ – আপদে জনগনের পাশে থাকার দায়িত্ব আমার। চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে আমার জনগনের অযথা হয়রানি করা কোন মতে মেনে নিতে পারছি না।
তাই আজ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি। ৪ নং নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় ১জনের মৃত্যু কে কেন্দ্র করে যদি আমার ইউনিয়নে সত্যিকারে কোন অপরাধী থেকে থাকে তবে আমি তাদেরকে আইনের কাছে সোপাদ্য করতে সার্বিক সহায়তা করবো। কিন্তু আসল অপরাধী কে না ধরে নিরপরাধ লোকজনকে হয়রানি না করার জন্য মিডিয়া মাধ্যমে প্রশাসনের সার্বিক সহায়তা কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাইমচর প্রেসক্লাবে সিনিয়র সহ সভাপতি আঃ রহমান, সহ সভাপতি মোঃ ইসমাইল সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সালাউদ্দিন মাস্টার, প্রচার সম্পাদক শাহ আলম মিজি, ১নং গাজীপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার নুরু মৃধা, ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার খাজা আহমদ তালুকদার, ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার শাহ আলম গাজী, ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার হাবিবুর রহমান রাড়ি, ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার রাম কৃষ্ণ সরকার, মহিলা মেম্বার ফাতেমা বেগম, ১নং গাজীপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি রাজ্জাক ঢালী, ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হান্নান মহিসাল, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা মালেক গাজী সহ হাইমচর প্রেসক্লাবের সকল সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের মরদেহ নেওয়া হয়েছে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ কিংবদন্তি এই শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন লতা মঙ্গেশকরের পরিবারের সদস্যরা। একে একে আসতে শুরু করেছেন বিশিষ্টরা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও লতা মঙ্গেশকরকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে সেখানে আসবেন। শিল্পীর শেষকৃত্যেও উপস্থিত থাকবেন মোদি।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হবে স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়।
এদিকে, শিবাজি পার্কে বাজছে একের পর এক লতার গান। প্রয়াত শিল্পীর বাড়িতে উপচে পড়ছে ভক্তদের ভিড়। শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছেন বিশিষ্টরা। প্রয়াত শিল্পীর মরদেহ ঢাকা হয়েছে ভারতের জাতীয় পতাকায়। হাতজোড় করে প্রণাম করে বিদায় দিয়েছেন লতার বোন আশা ভোঁসলে।
প্রয়াত শিল্পীর ছবিতে মাল্যদান ও ফুল দিয়ে লতাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
নেট মাধ্যমে আবেগতাড়িত হয়ে পোস্ট দিয়েছেন টুইঙ্কল খান্না। রাজেশ-কন্যা বাবার সঙ্গে লতা মঙ্গেশকর ও রাহুল দেব বর্মনের ছবি দিয়ে লেখেন, উনার (লতা) সুরের মূর্ছনা চিরদিন থেকে যাবে আমাদের হৃদয়ে।
এদিকে, লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুতে দু’দিনের শোকজ্ঞাপনের ঘোষণা কয়েছে কর্ণাটক। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজা বোম্মাই জানান, আগামী দু’দিন অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা। বন্ধ থাকবে সব রকম সরকারি অনুষ্ঠান।
এছাড়া, সোমবার রাজ্যে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে মহারাষ্ট্র সরকার।
১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্ম হয় লতা মঙ্গেশকারের। জন্মপত্রে লতার নাম ছিল হেমা। পরবর্তী সময় তার বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকারের এক নাটকের চরিত্র লতিকার নামানুসারে বদলে যায় হেমার নাম। আত্মপ্রকাশ ঘটে লতা মঙ্গেশকরের। মাত্র ১৩ বছর বয়সে গানের ক্যারিয়ার শুরু তার।
জন্মপত্রে লতার নাম ছিল হেমা। পরে বাবার এক নাটকের চরিত্র লতিকার নামানুসারে বদলে যায় হেমার নাম। আত্মপ্রকাশ ঘটে লতা মঙ্গেশকরের। মাত্র ১৩ বছর বয়সে গানের ক্যারিয়ার শুরু। সাল ১৯৪২। লতা যখন স্টুডিওতে গান গেয়েছেন, সে বছরেই জন্ম হচ্ছে অমিতাভ বচ্চনের।
তবে মুম্বাই প্রথমেই লতাকে গ্রহণ করেনি। প্রযোজক শশধর মুখোপাধ্যায় তার শহিদ ছবিতে গান গাওয়ার ইচ্ছা বাতিল করে দিয়েছিলেন নিমেষেই। লতার গলা পাতলা, মন্তব্য ছিল তার। সংগীত পরিচালক গুলাম হায়দার অবশ্য সেদিন বেশ কটি কথা শুনিয়ে এসেছিলেন শশধরকে। জোর গলায় বলেছিলেন— প্রযোজকরা এর পর লতার পা ধরে তাদের ছবিতে গাওয়ার জন্য অনুরোধ জানাবে।
উপমহাদেশের এই প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে রোববার সকালে ৯২ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন মারা যান।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১১ জানুয়ারি তিনি মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হন। গত চার সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
করোনা মহামারির বিধিনিষেধ অমান্য করে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে একাধিক পার্টি করে বিপাকে পড়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।
এবার তার পদত্যাগ দাবি করেছেন তারই দলের সাবেক এক মন্ত্রী। বিবিসির খবরে শনিবার বলা হয়, আরও এক রক্ষণশীল এমপি (বরিস জনসনের দল) বরিস জনসনের পদত্যাগ দাবি করলেন।
ব্রিটিশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী নিক গিবই সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে চিঠি প্রদান করলেন।
তিনি বলেছেন, তার আসনের ভোটাররা ক্ষুব্ধ যে, ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে যে কোভিড নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল, সেটা ‘স্পষ্টভাবে অমান্য’ করা হয়েছে।
বরিস জনসনের বিরুদ্ধে কোভিড নীতি লঙ্ঘন করে জন্মদিনে পার্টি করারও অভিযোগ রয়েছে।
ইতোমধ্যে ব্রিটেনের দ্য ডেইলি মিরর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কোভিডের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে পার্টি করা নিয়ে বরিস জনসনের বিরুদ্ধে যে তদন্ত চলছে, তাতে পুলিশের হাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রমাণ পৌঁছেছে।
পুলিশের হাতে এমন একটি ছবি পৌঁছেছে, যেটিতে দেখা গেছে- জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বিয়ার হাতে দাঁড়িয়ে আছেন জনসন।
দ্য ডেইলি মিরর বলছে, সব মিলিয়ে তদন্তকারী পুলিশের হাতে ৩০০টি ছবি পৌঁছেছে, যেগুলো করোনাকালে নিয়ম লঙ্ঘন করে অন্তত ১২টি জনসমাগম ঘটানোর ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান আর নেই।
শনিবার রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে পৌনে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। ইন্নালিল্লাহে ওয়াইন্না ইলাইহে রাজেউন।
এ প্রথিতযশা সাংবাদিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ভাই মাহবুবুর রহমান পীর ।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ট্রোক করেন পীর হাবিবুর রহমান। তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।
গত বছরের অক্টোবরে মুম্বাই জাসলুক হাসপাতালে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনের মাধ্যমে ক্যানসার মুক্ত হন পীর হাবিবুর রহমান।
দেশে ফিরে গত ২২ জানুয়ারি তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর পরামর্শে তিনি ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন।
করোনামুক্ত হলেও কিডনি জটিলতার কারণে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হন।
বরেণ্য সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট পীর হাবিবুর রহমানের জন্ম ১৯৬৩ সালের ১২ নভেম্বর সুনামগঞ্জ শহরে।
‘আমার সন্তানদের একজোড়া জুতা কিনতে ১০/১২ দিন বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরেছি। মনের মতো, সুন্দর আর বিখ্যাত ব্র্যান্ডের জুতা কিনে দিতাম। তাদের জীবনের যত শখ-সবই পূরণ করেছি।
উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছি। রাজধানীতে তাদের ফ্ল্যাট আছে, প্লট আছে। জীবনের যত সঞ্চয় আছে, আনন্দ আছে-সবই সন্তানদের বিলিয়ে দিয়েছি। এখন একেবারেই নিঃস্ব, বড়ই একা। বৃদ্ধাশ্রমে থাকি। বৃদ্ধাশ্রম কবরের মতোই। প্রার্থনা করি একটাই-আসল কবরের। আর্তনাত করি-দ্রুত মৃত্যু হলেই বেঁচে যাই।’
কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রবীণ হিতৈষী সংঘ বৃদ্ধাশ্রমের ৮৭ বছর বয়সি এক অসহায় বাবা।
বৃহস্পতিবার যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার অভিমত-যে বাবা নিজের রক্ত পানি করে চার সন্তানকে মানুষ করেছেন, সে সন্তানরাই বাবাকে ভুলে গেছেন। নাম প্রকাশ করতে চাননি। এমনকি সন্তানদের নাম, অবস্থানও জানাতে চান না তিনি।
‘সন্তানরা যদি নরকেও রাখে, ফেলে দেয়, তবু তাদের (সন্তান) অমঙ্গল চাইব না। না খেয়ে মরে গেলেও অপবাদ দেব না। বদদোয়া করব না। বেশ কয়েকবার চেষ্টাও করেছি আত্মহত্যা করতে, পারিনি। কারণ, স্বাভাবিক মৃত্যু হলে সমাজ জানবে না আমার প্রতি সন্তানরা কী জঘন্য অপরাধ করেছে।
তাছাড়া আমার পরিচয়ও গণমাধ্যমে আসবে না। কিন্তু আত্মহত্যা করলে, আমার পরিচয় জানাজানি হবে। জেনে যাবে আমার সন্তানদের পরিচয়ও। তখন সন্তানরা সমাজে ঘৃণার পাত্র হবে-এটি আমি মরে গেলেও বাবা হিসাবে কোনোদিন মেনে নিতে পারব না।
বৃদ্ধাশ্রমটিতে তার মতো আরও ১৪ জন বাবা এবং ১৬ জন মা রয়েছেন। তাদের প্রায় সবাই বিত্তশালী। কেউ ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সচিব কেউ বা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। আবার আছেন বিত্তশালী ব্যক্তির স্ত্রীও।
বৃদ্ধাশ্রমটির চতুর্থতলায় বারান্দায় বসে কী যেন ভাবছিলেন ৮০ ছুঁইছুঁই বয়সি এক মা। পাশে যেতেই বললেন, কীসের জন্য এসেছো, কোনো কথাই বলব না। এ সময় তার সামনে ১০/১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলেন যুগান্তরের এই প্রতিবেদক।
একপর্যায়ে বললেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। অধ্যাপক জাফর ইকবাল তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ছিলেন। স্বামীও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। পুলিশের ডিএসপি ছিলেন তিনি। ১৯৯২ সালে স্বামী মারা যান। দুই সন্তান থেকেও নেই।
বাবার বিশাল সম্পদ, বরিশাল তালুকদার বাড়ির মেয়ে তিনি। রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ৮ তলা বাড়ি আছে। দুই ভাই, তিন বোনের মধ্যে তিনি মেজো। ওই বাড়িতে ঠাঁই হয়নি তার। আক্ষেপ করে বলেছেন, ওই বাড়ির এক কোনায় কিংবা সন্তানদের বাসার এক পাশে যদি একটু জায়গা হতো, তাহলে সন্তান, ভাই, ভাইদের ছেলেমেয়ে, স্বজনদের দেখতে পেতেন। নিজেকে শূন্য মনে হতো না।
বেঁচে থাকারও ইচ্ছা থাকত। যেমনটা এখন পান না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের সবচেয়ে বড় বৃদ্ধাশ্রম হচ্ছে-গাজীপুর বয়স্ক পুনর্বাসন-বৃদ্ধাশ্রম কেন্দ্র। যেখানে বর্তমানে ১৭০ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা রয়েছেন। এখানে বিত্তশালী নারী-পুরুষ বিনামূল্যে থাকছেন। নিজেকে সমাজ থেকে আড়াল করে নিয়েছেন। সন্তান-পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এসব মানুষ বড়ই একা।
রাজধানীতে প্রবীণ হিতৈষী সংঘ বৃদ্ধাশ্রম ছাড়াও বেসরকারি পর্যায়ে সারা দেশে অন্তত ১২টি বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে। রাজধানীতে কিছু বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র/বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে-যেখানে টাকার বিনিময়ে বয়স্কদের রাখা হয়। এসব কেন্দ্রে একসময় যারা বিত্তবান ছিলেন, এখন নিঃস্ব-তাদের একটি বড় অংশই মাসিক টাকা দিয়ে থাকছেন। বিভিন্ন বিভাগেও পেইড বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. কামরুজ্জামান জানান, সরকারি পর্যায়ে কোনো বৃদ্ধাশ্রম নেই। আমাদের ৮৫টি শিশু পরিবার রয়েছে।
প্রতিটি শিশু পরিবারে ১০ জন করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থাকতে পারেন। তবে আমরা ৮টি বিভাগের ৮টি জেলায় ‘শান্তি নিবাস’ নামে বিশেষ ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি শান্তি নিবাসে ২৫ জন করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে বিনামূল্যে রাখা হবে। তিনি বলেন, এখনো বিভিন্ন স্থানে পেইড সিস্টেমে বয়স্ক কেন্দ্র বা বৃদ্ধাশ্রম করা হচ্ছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, সমাজে বিত্তশালীদের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সন্তান মা-বাবাকে আলাদা করে দিচ্ছে কিংবা পরিবার থেকে বের করে দিচ্ছে। আবার কেউ কেউ পরিবারে থেকেও নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। ঘর-বা বাসার কোনো কোনায় মা-বাবাকে রেখে দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ এখন ঘরে-বাইরেও বৃদ্ধাশ্রম চোখে পড়ছে। অনেকের একাধিক বাড়ি-ফ্ল্যাট রয়েছে। ছেলে-মেয়ে উচ্চশিক্ষায় অথবা ব্যবসা-বাণিজ্যে বিদেশে রয়েছেন। বছরের পর বছর মা-বাবাকে দেখতে আসছেন না। এদের একটি বড় অংশই বিত্তের মধ্যে থেকেও একা জীবনযাপন করছেন। যাদের অনেকেই মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। কেউ আবার আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।
কেউ আবার চাকরি কিংবা অন্য কোনো কারণে বিদেশে থাকছেন আর দেশে থাকা মা-বাবাকে বয়স্ক বা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে যাচ্ছেন। বৃদ্ধাশ্রমে থাকা আবাসিকদের কারও বয়স ৭০, কারও ৯০ পেরিয়েছে। কেউ আবার ৯০ পেরিয়ে জবুথবু অবস্থায় প্রায় শয্যাশায়ী।
মনোবিজ্ঞানী ড. আনোয়ারা সৈয়দ হক যুগান্তরকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে চার দেওয়ালের মধ্যে কাটানোর প্রভাব পড়তে পারে বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের মানসিক স্বাস্থ্যে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রত্যেকের মেলামেশাটা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলতে থাকলে প্রবীণদের স্মৃতিশক্তিতে প্রভাব পড়তে পারে।
এটি শুধু ব্রদ্ধাশ্রমে নয়। নিজ গৃহে, গৃহের অন্দরমহলেও হতে পারে। কারণ সমাজের মানুষ এখন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। সামগ্রিকভাবে বাঁচতে চায় না। বাড়ি, গাড়ি, সম্পত্তি, টাকাপয়সা সব রেখেই চলে যেতে হয়। কিন্তু এসব নিয়ে মানুষ নিজেদের মধ্যেই রক্ত ঝরায়।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিপর্যায়ে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া কি ঠিক। কয়টা মানুষ ওইসব অস্ত্র দিয়ে নিজেকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচায়? বরং নিজের পিস্তল দিয়ে নিজে, নিজের পরিবার কিংবা অন্য কাউকে হত্যা করা হচ্ছে। ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। নিজেকে শক্তিশালী মনে করছে।
অস্ত্র থাকা মানে নিঃস্ব বিকারগ্রস্ত মানুষের কাছে একটি আত্মহত্যার বড় অস্ত্র থাকা। তিনি বলেন, সম্পদ নিয়ে সাধারণ মানুষ নন, বিত্তশালীরাই সম্পদ নিয়ে মা-বাবা, ছেলে-সন্তান আলাদা হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সমাজে সন্তানদের পড়াশোনা করতে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। এটা মা-বাবারাই করছেন। নিজের অর্জিত টাকাপয়সা, সম্পদ বিক্রি করে সন্তানদের বিদেশে পাঠানো হচ্ছে যুবক-যুবতি বয়সে।
৬/৭ বছর পড়াশোনা করে তারা দেশে আসতে চাচ্ছে না-এটাই তো নিয়ম। মা-বাবা জেনেশুনেই এমনটা করছেন। সমাজে নিজেকে বড় করে তুলতে চান বিদেশে সন্তানদের পাঠিয়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল ইসলাম খান বলেন, একা থাকলেই যে নিঃস্ব-হতাশ হতে হবে, তা কিন্তু নয়। মানুষকে সমাজে সম্পৃক্ত থেকেও বাঁচতে হয়। সমাজের মানুষের সঙ্গে চলতে হয়। নিজেকে বিলিয়ে দিতে হয়। এক্ষেত্রে সমাজের ভূমিকাও রয়েছে।
বয়স্ক মানুষের সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে সময় দিতে হবে। ভালো কাজে সবাই মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সমাজে অ্যাসোসিয়েশন গড়ে তুলতে হবে। হতাশা থেকে আত্মহত্যা কিংবা নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া একেবারেই ঠিক নয়। তবে মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব হবে সবচেয়ে বেশি উচ্চতায়। সূত্র: যুগান্তর।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সদ্য নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান মারা গেছেন (ইন্না…রাজিউন)। শুক্রবার ভোর সোয়া ৬টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
তিনি বলেন, সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান। চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
গত ৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগ থেকে পদোন্নতি পেয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান আপিল বিভাগে নিয়োগ পান। ৯ জানুয়ারি তার সঙ্গে নিয়োগ পাওয়া অপর বিচারপতি শপথ নেন। প্রধান বিচারপতি তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। কিন্তু করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে ওই দিন তিনি শপথ নিতে পারেননি নাজমুল আহাসান।
৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে নতুন বিচারপতিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী জানিয়েছিলেন, বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান করোনা আক্রান্ত হয়ে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি সুস্থ হলে শপথ নেবেন।
বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার সমবেদনা জানিয়েছেন।
২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল স্থায়ী হন।