নির্লজ্জ-অসৎ-দুর্ণীতিবাজ মতিউর রহমান ১৬ কিমি রাস্তা পেরিয়ে অফিসে যেতে ৩বার গাড়ি পাল্টাতেন

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের ব্যক্তিজীবন রহস্যঘেরা। বাইরে তিনি নিজেকে ধর্মভীরু বলে প্রচার চালালেও অন্দরমহলে তার চলাচল ছিল বেপরোয়া।

বাইরে তিনি নিজেকে ধর্মভীরু বলে প্রচার চালালেও অন্দরমহলে তার চলাচল ছিল বেপরোয়া। মতিউর নিজের ফেসবুক ওয়ালে প্রতিদিন হাদিস ও আল কুরআনের বাণী আপ করতেন। অথচ তিনি অসৎপথে বিপুল ধনসম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বসুন্ধরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর কুড়িল বিশ্বরোড পৌঁছেই তিনি গাড়ি পরিবর্তন করতেন। কাকরাইলের এনবিআর অফিসে যেতে তিনি তিনবার পালটাতেন গাড়ি। এমনকি এক গাড়ির চালক আরেক গাড়ির চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন না।

কবে কোন গাড়ি তিনি ব্যবহার করবেন, সেটাও চালকদের সবাই জানতেন না। নিজস্ব পরিকল্পনামাফিক চালকদের ফোন করে নির্ধারিত জায়গায় থাকতে বলতেন। কেন তিনি এটা করতেন, তা কেউ বলতে পারেনি। প্রতিদিন তিনি তার নিজের মনোরঞ্জনে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করতেন বলেও জানা গেছে।

পাঠাও-এর প্রতিষ্ঠাতা ফাহিমকে হত্যা করে তার পিএ হাসপিল- চুরি করে নেয় মিলিয়ন ডলার – জানুন বিস্তারিত

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০২০ সালের ১৪ জুলাই তার লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী টায়রেস হাসপিল (২৫) দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

সোমবার (২৬ জুন) নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা হাসপিলকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

আদালতের এই রায়ের আগে হাসপিল দাবি করেছিলেন, ফরাসি প্রেমিকাকে খুশি করার জন্য দামি উপহার কেনার জন্য ফাহিমের টাকা চুরি করেন। চুরির কথা প্রকাশ পেলে প্রেমিকা তাকে ছেড়ে চলে যেত—তাই তিনি ফাহিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তবে বিচারকেরা তার এই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন।

তবে কেন বিচারকেরা হাসপিলের দাবি খারিজ করে দিয়েছেন তা হত্যার দীর্ঘ পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ডের ধরনেই বোঝা যায়। হাসপিল কতটা শীতল রক্তের অধিকারী ছিলেন তা তার পরিকল্পনা ও হত্যার কায়দায় ফুটে উঠেছে। আদালতের রায়ের বিবরণীতে সেসব বিস্তারিত উল্লেক করা হয়েছে।

হত্যার পরিকল্পনা

টাইরেস হাসপিল ২০১৮ সালে ফাহিম সালেহের টাকা চুরি করার পরিকল্পনা শুরু করেন। কিন্তু ২০২০ সালের জুলাইয়ে এসে তার পরিকল্পনাটি হত্যার সিদ্ধান্তে রূপ নেয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপিল ফরাসি প্রেমিকার জন্য দামি উপহার কেনার জন্য সালেহের কোম্পানি থেকে টাকা চুরি করেন।

হাসপিল টাকা চুরির জন্য একটি ভুয়া করপোরেট আইডি এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিলেন। তবে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সালেহ টাকা চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন। হাসপিল তখন চুরির টাকা পরিশোধে সম্মত হন। তবে পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। একটি ভুয়া পেপ্যাল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ফাহিমের আরও টাকা চুরি করা শুরু করেন। এভাবে তিনি প্রায় ৪ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করেন। একপর্যায়ে তিনি ফাহিমের সব টাকা নিয়ে বিলাসবহুল জীবনের আশায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

হাসপিল সোশ্যাল মিডিয়াতে সালেহের অবস্থানের ওপর নজরদারি শুরু করেন। হত্যাকাণ্ড গোপন করার জন্য কয়েক সপ্তাহ প্রযুক্তি, অস্ত্র, টেজার এবং রক্ত পরিষ্কার নিয়ে গবেষণা করেন। পরিচয় গোপন করার জন্য বিশেষ ধরনের পোশাক কেনেন, যাতে সালেহ তাঁকে চিনতে না পারেন।

অন্তত তিনটি পৃথক অনুষ্ঠানে জনাব সালেহকে হত্যার পরিকল্পনা করে হাসপিল। ২০২০ সালের মার্চে নাইজেরিয়ার লাগোসে সে ছুরি নিয়ে সালেহর পিছু নিয়েছিল। তবে হত্যা করেনি। এরপর নিউইয়র্কে ফিরে সালেহকে দুইবার হোপওয়েল জংশনেও পিছু নেন। সালেহর বাড়ি পুড়িয়ে ফেলার বা দৌড়ানোর সময় তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম হত্যায় ব্যক্তিগত সহকারী দোষী সাব্যস্তপাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম হত্যায় ব্যক্তিগত সহকারী দোষী সাব্যস্ত

২০২০ সালের মে মাসে হাসপিল সালেহকে তাঁর বাড়িতে হত্যা করবেন বলে ঠিক করেন। তিনি ঘাড়ে ছুরিকাঘাতে নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ১৭ জুন হাসপিল হোম ডিপো ঠিকাদার ব্যাগ, একটি সুইফার ওয়েটজেট এবং একটি করাত কেনেন।

হাসপিল সালেহের বাসা থেকে রাস্তার অপর পার্শ্বের বিল্ডিংয়ে একটি খালি অ্যাপার্টমেন্টের কৌশলে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি এমনভাবে নেস্ট ক্যামেরা বসান যাতে সালেহের বিল্ডিংয়ের যাবতীয় কিছু নজরদারি করা যায়।

হত্যাকাণ্ডের আগের দিনগুলোতে হাসপিল জাঁকজমকপূর্ণভাবে প্রেমিকার জন্মদিন পালন ও তাকে উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তিনি পার্টি বেলুন, বড় কেক, বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ, জুতা, প্রাইভেট ইয়ট ট্যুর এবং চুরি করা টাকা দিয়ে সোহোতে একটি বিলাসবহুল এয়ানবিএনবি ভাড়া নেন।

হত্যাকাণ্ড

২০২০ সালের ১৩ জুলাই হাসপিল প্লাস্টিকের হেলমেট, বেসবল ক্যাপ এবং সানগ্লাস পরে সালেহের সঙ্গে তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের লিফটে প্রবেশ করেন। এ সময় বেচারা সালেহ হাসপিলের এমন পোশাক দেখে কোভিড সতর্কতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে রসিকতা করেছিলেন। তবে লিফটের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপিল আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন।

হাসপিল প্রথমে পেছন থেকে ফাহিম সালেহকে টেজার মেশিনের শক দিয়ে অজ্ঞান করে ফেলেন। এরপর তার ঘাড়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকেন।

হত্যাকাণ্ড গোপন করতে হাসপিল মিনি ভ্যাকুয়াম মেশিন দিয়ে অ্যান্টি-ফেলন আইডেন্টিফিকেশন ডিস্ক (এএফআইডি) শূন্য করে ফেলেন। কেননা ওই ডিস্কে একটি সিরিয়াল নম্বর থাকে যা অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারে।

এরপর আনুমানিক বেলা ৩টায় হাসপিল অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে একটি উবারে করে নিউজার্সিতে যান। হাডসন নদীর জল কতটা গভীর ও সেখানে কীভাবে আলামত ডুবিয়ে দেওয়া যেতে পারে—তা নিয়ে তিনি আগেই গবেষণা করেন। ওই নদীতে তিনি পরের দিন একটি আবর্জনার ক্যানে অনেক আলামত ফেলে দেন।

হাসপিল পরের দিন ১৪ জুলাই সালেহর মরদেহ টুকরো টুকরো করতে এবং ঘটনাস্থল পরিষ্কার করতে অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে আসেন। তারপরে তিনি করাত দিয়ে সালেহের শরীরকে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলেন এবং সেগুলো আগেই কিনে রাখা ব্যাগে ভরেন। এ সময় করাতের ব্যাটারি ফুরিয়ে গেলে তিনি চার্জার কিনতে চলে যান।

হাসপিল যখন বাইরে যান তখন সালেহর কাজিন তাকে দেখতে এসেছিল কারণ বিগত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর কোনো সাড়া পায়নি। এ সময় তিনি অ্যাপার্টমেন্টে চাচাতো ভাইয়ের টুকরো টুকরো এবং শিরশ্ছেদ করা দেহ আবিষ্কার করেন এবং পুলিশকে ডাকেন।

এদিকে হোম ডিপো থেকে ফিরে আসার পর হাসপিল সালেহের অ্যাপার্টমেন্টে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন এবং প্রেমিকার জন্মদিনের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

হত্যার পরের দিনগুলোতে হাসপিল ‘খণ্ডিত দেহ’, ‘ফাহিম সালেহ’ এবং ‘নিউইয়র্কে টেক সিইওর হত্যা’ লিখে ওয়েব সার্চ করেন। এবং গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত হাসপিল সালেহর পেপাল থেকে টাকা আত্মসাৎ করতে থাকেন।

বেনজীর আহমেদ কি তাহলে লাপাতা……!

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে কোথায় আছেন তা কেউ বলতে পারছে না। গত কদিন ধরে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। তিনি দেশে আছেন, নাকি দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছে না।

সরকারি দপ্তরগুলোও এ ব্যাপারে নিশ্চুপ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের কেউ বলছে, তিনি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন, কেউ বলছে দুবাইয়ে আছেন, আবার কেউ বলছে দেশেই আছেন। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে তাঁর দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাই বেশি বলা হচ্ছে। কিন্তু বেনজীর আহমেদের অবস্থান নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না।

সাবেক এই আইজিপি অবসর গ্রহণের পর গুলশানের একটি বাড়িতে থাকতেন এবং এই বাড়িতে তিনি চারটি ফ্ল্যাট কিনে বাড়ি হিসেবে ব্যবহার করতেন। সেই বাড়িতেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। রাজধানীর র্যাংকন আইকন টাওয়ারে বেনজীর আহমেদের খোঁজ নিতে গেলে জানানো হয়, তিনি সেখানে নেই। তাহলে বেনজীর আহমেদ কোথায়?

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র বলছে, তাঁর যে ৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে, ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোয় উল্লেখ করার মতো টাকা-পয়সা নেই।

অর্থাৎ ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করা হতে পারে, আগেই এমন অনুমান থেকে বেনজীর আহমেদ সব টাকা তুলে নিয়েছেন।

এ ছাড়া কয়েকটি ক্রোক হওয়া জমি বেনজীর আহমেদ বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকের ধারণা, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর পরই তিনি দেশে তাঁর সম্পদ গুটিয়ে, ব্যাংকের সব টাকা সরিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য কেউ দিতে পারেনি।

২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ।

এর আগে তিনি ডিএমপির কমিশনার ও র্যাবের ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, সরিয়ে নেওয়া এই টাকার পরিমাণ কয়েক শ কোটি হতে পারে। আর তা সরানো হয়েছে আদালতের আদেশে দুদক কর্তৃক বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করার আগে।

এদিকে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাইবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জমি, ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগের উত্স খুঁজতে তাঁদের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শিগগিরই আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের একজন কর্মকর্তা।

বেনজীর আহমেদের দেশের বাইরে যেতে কোনো নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হবে কি না জানতে চাইলে গত ২৭ মে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছিলেন, বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানকারী দল দেখছে। তারা সিদ্ধান্ত জানালে তবেই আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হবে। প্রয়োজন মনে করলে আদালতে বেনজীরের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চাইবেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তবে সেটি তদন্ত সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে। তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান। অনুসন্ধান শেষ হলে সব কিছু বিশদভাবে বলা যাবে।

Daily World News

কচুয়ায় দিন মজুরের বসত ঘরে আগুন লেগে ভস্মিভুত

বেনজীর আহমেদ ১১৪ একর জমি সহ আরও ১১৩টি দলিল, ৪ ফ্লাট ও ৩৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানের নামে থাকা আরও ১১৩টি দলিলের সম্পদ এবং গুলশানের চারটি ফ্ল্যাট জব্দ (ক্রোক) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানিতে তাদের নামে থাকা শেয়ার অবরুদ্ধ করারও আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার ঢাকা মহানগর আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর গণমাধ্যমকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার বেনজীর আহমেদের ৮৩টি দলিলের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে তার আরও সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়। সেই সব সম্পদ ক্রোকের আদেশ চেয়ে দুদক রোববার আদালতে আবেদন করে। শুনানি নিয়ে আদালত বেনজীর আহমেদের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মির্জা ও সন্তানদের নামে থাকা ৩৪৫ বিঘা (১১৪ একর) জমি জব্দ (ক্রোক) এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে তাদের নামে থাকা ৩৩টি ব্যাংক হিসাব (অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দেওয়া হয়।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাব এবং র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান যে সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল। তখন তিনি আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন।

১৭ বছর জাল সনদ দিয়ে পুলিশে চাকরি করল মামুন, কিভাবে….?

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

জাল সনদে পুলিশে চাকরি নিয়ে বিভিন্ন জেলায় ১৭ বছর ৫ মাস ১৬ দিন চাকরি করেন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আল মামুন। কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পেয়ে এএসআই হোন।

তবে জাল সনদে চাকরি নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে অক্ষম রোগী সেজে পুলিশের চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। এ সময় পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরকালীন আর্থিক সব সুবিধা নিয়েছেন।

এদিকে নিজেকে অক্ষম ঘোষণা করে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসার নিলেও এখন তিনি রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। এক অনুসন্ধানের ফেরতপত্রে ১৯ মে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম ও তথ্য কর্মকর্তা এসএম গোলাম আজম নিশ্চিত করেন, ২০০১ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় এ নামের কোনো শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ও উত্তীর্ণের কোনো রেকর্ড নেই বোর্ডের সংরক্ষিত রেকর্ডপত্রে।

অথচ এ সনদ দেখিয়েই তিনি ২০০৩ সালে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি নিয়েছিলেন। এ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরিকালে কামিয়েছেন বিপুল অর্থ। দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ। তার বেপরোয়া চালচলনে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ। তবে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেন না।

জানা গেছে, আল মামুনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুরে। বাবা মফিজ উদ্দিন শ্যামপুর ইউপির ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। আল মামুন এখন আওয়ামী লীগ করেন। ২১ মে অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে তিনি ভাইস-চেয়ারম্যান পদে টিয়া পাখি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

মামুন মনোনয়নপত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিগ্রি পাশ উলে্লখ করেন। ৩০ এপ্রিল জনৈক মোহা. ওলিউল্লাহ রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগে দাবি করেন তার এসএসসির সনদ জাল। তবে রিটার্নিং অফিসার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি।        আরও জানা গেছে, মামুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগ দেন। চাকরিতে যোগদানকালে তিনি গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ী আল ইসলাহ ইসলামী একাডেমি থেকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০০১ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে উত্তীর্ণের সনদ প্রদর্শন করেন।

এদিকে ৬ মে এ প্রতিবেদককে আল ইসলাহ ইসলামী একাডেমির প্রধান শিক্ষক তারেক আহমেদ অনিক রেকর্ডপত্র যাচাই করে নিশ্চিত করেন ২০০১ সালে তার প্রতিষ্ঠান থেকে এ নামের কোনো শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় নেয়নি। এ প্রশংসাপত্রটিও তারা দেননি।

এদিকে পুলিশ বিভাগের সার্ভিস রেকর্ড বিশে্লষণ করে দেখা গেছে, খুলনা পুলিশ লাইনে কনস্টেবল হিসাবে চাকরি জীবন শুরু করেন আল মামুন। এরপর ২০১৭ সালে কনস্টেবল থেকে এএসআই পদে পদোন্নতি লাভ করেন। বিভিন্ন জেলায় চাকরির পর ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর স্বেচ্ছায় অবসার নেন।  জানা গেছে, চাকরি জীবনে আল মামুন জাতিসংঘের সুদান মিশনে একবার দায়িত্ব পালন করেন।

শিবগঞ্জের শ্যামপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান ভোদন জানান, মামুনকে কখনো তারা পুলিশের পোশাকে দেখেননি। ১০ বছরের বেশি সময় তাকে নিজ এলাকা শিবগঞ্জে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় দেখা গেছে।

শিবগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামুন নিজেকে পুলিশের একজন প্রভাবশালী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বডিগার্ড কাম পিএস পরিচয় দিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজে নিয়মিত হস্তক্ষেপ করেন, বিশেষ করে পুলিশের কাজে। মোটরসাইকেলের সামনে পুলিশের স্টিকার লাগিয়ে মামুনকে শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাউন্ড দিয়ে বেড়াতে দেখেছেন এলাকার মানুষ।

পুলিশের সংশি্লষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আল মামুন পোস্টিং হওয়া থানা ফাঁড়িতে কখনো সশরীরে চাকরি করেননি। বরং তার এলাকার ওই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা যেখানে বদলি হয়েছেন মামুন তার সঙ্গেই থেকেছেন।

সূত্র মতে, কোন থানায় কোন ওসি পোস্টিং যাবেন কাকে কোথায় বদলি করা হবে।১০ বছর মামুন এসবই করেছেন এবং চাকরিতে না থেকে এখনো সেই কাজ করছেন। ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ কর্মকর্তারা থানা ফাঁড়িতে পোস্টিং নিতে এখনো মামুনেরই শরণাপন্ন হন।

জানা গেছে, নির্বাচনি হলফনামায় মামুন টিনশেড বাড়ির কথা বললেও গ্রামের বাড়ি উমরপুরে তৈরি পাকা বাড়ির কথা গোপন করেছেন। রাজশাহী মহানগরীর বহরমপুর এলাকায় পাঁচ কাঠা জমির ওপর থাকা কয়েক কোটি টাকার বাড়ির তথ্যও চেপে গেছেন। মামুন এলাকায় কিনেছেন জমি ও বাগান। সোনামসজিদ বন্দর এলাকায় জমি কিনে করেছেন কয়লা ও পাথরের ইয়ার্ড। তিনি আমদানি-রপ্তানি লাইসেন্স করে ভারত থেকে পাথর আমদানি করেন। হলফনামায় তিনি বছরে ১২ লাখ টাকা আয় করেন বলে দাবি করেছেন। উত্তরা ব্যাংক থেকে ২৯ লাখ টাকা ঋণ থাকার কথা হলফনামায় উলে্লখ করেছেন। আয়ের উত্স দেখিয়েছেন ব্যবসা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আল মামুন বলেন, তার এসএসসির সনদ জাল নয়। তিনি আল ইসলাহ ইসলামী একাডেমি থেকে এসএসসি পাশ করেছেন। পরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি  করেন। পুলিশে চাকরি করতে অক্ষম ঘোষণা করে স্বেচ্ছা অবসর ও অবসরকালীন সুবিধা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই সময় আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি।

এ কারণে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছি। হলফনামায় রাজশাহীর বাড়ির কথা গোপন করা প্রসঙ্গে মামুনের দাবি, রাজশাহীতে তার বাড়ি নেই। তিনি সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচন করেছেন। তাই প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধে এসব রটাচ্ছেন। তিনি অবৈধভাবে কোনো উপার্জন করেননি। সত্র: যুগান্তর

Daily World News

ফকিরহাটে নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতা || মুসাল্লিদের বেদম-মারপিট- রক্তাক্ত- জখমের ঘটনায় মামলা

 শাহীন অপরাধ রাজ্যের অধরা সম্রাট এবং এমপি আনার হত্যার মাস্টারমাইন্ড

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ-সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার খুনের মাস্টারমাইন্ড হিসাবে তারই বাল্যবন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার আক্তারুজ্জামান শাহীনের নাম উঠে এসেছে। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান সেলিমের ভাই শাহীন যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও মাঝে মাঝেই আসতেন এলাকায়। তার ছিল ব্যাপক ক্ষমতার দাপট। ভাইকে কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র পদে বিজয়ী করার নেপথ্যে শাহীনের কালো টাকা ও অবৈধ ক্ষমতার প্রয়োগ ছিল। ভাই মেয়র হলেও শাহীনের ইশারায় চলত কোটচাঁদপুর পৌরসভা।

উপজেলার এলাঙ্গী গ্রামে তিনি গড়ে তোলেন বিলাসবহুল বিশাল বাগানবাড়ি। যেখানে যাতায়াত ছিল শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের। এখানে বসেই শাহীন চালাতেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের কার্যক্রম। এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে শাহীনের নাম উঠে আসায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, সংসদ-সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী তার বাল্যবন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার শাহীন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও দেশে যাতায়াত ছিল নিয়মিত। দুই যুগের বেশি সময় ধরে অবৈধ হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালানে আক্তারুজ্জামান শাহীন ও আনোয়ারুল আজিম আনারের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে।

সম্প্রতি তাদের মধ্যে অবৈধ স্বর্ণ চোরাচালানের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। সেই দ্বন্দ্বের জেরে বেয়াই আমানুল্লাহ সাঈদ ওরফে শিমুল ভুঁইয়াকে নিয়ে শাহীন কলকাতায় এমপি আনারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েই ভারতে যান আনার। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন শাহীন ও আমানুল্লাহ।

কলকাতার ব্যারাকপুরের যে ফ্ল্যাটে আনারকে হত্যা করা হয়, সেটি শাহীনের নামেই ভাড়া নেওয়া ছিল। মিশন সফল করার পর শাহীন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন বলে জানা গেছে। দেশে ফিরে গ্রেফতার হয়েছেন তার বেয়াই ও চরমপন্থি নেতা খুলনার ফুলতলা এলাকার আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভুঁইয়া।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহীনরা তিন ভাই ও দুই বোন। মেজো ভাই প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে যান। এরপর শাহীনকে নিয়ে যান। সেখানকার নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন শাহীন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও নিয়মিত দেশে আসতেন। জড়িয়ে পড়েন চোরাচালানে। অবৈধ এ ব্যবসায় বাংলাদেশ ও ভারতে গড়ে তোলেন সাম্রাজ্য।

শাহীন কোটচাঁদপুরের এলাঙ্গী গ্রামের বাড়িতে ২৫ বিঘা জমির ওপর গড়েছেন বিশাল বাগানবাড়ি। এই বাড়িতে রয়েছে মিনি গলফ মাঠ, সুইমিংপুল, ৩টি শেফার্ড জাতের কুকুর, ৭টি গাভি, ১০-১২টি ছাগল। এই বাগান বাড়িতে রয়েছে প্রাচীন বাড়ির নকশায় ইট-পাথরে নির্মিত ডুপ্লেক্স ভবন। বাড়ির চারপাশ কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা। সেখানে যাতায়াত ছিল উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের। শাহীন তার অতিথিদের মনোরঞ্জনের জন্য রেখেছিলেন বিলাসবহুল ব্যবস্থা।

রাতের বেলায় কাঁটাতারের চারপাশে আলো জ্বলে। ভেতরে কী হয় স্থানীয়রা কেউ জানতে পারে না। রাতে বড় বড় গাড়ি আসত। সেই গাড়িতে নারীদেরও দেখেছেন অনেকে। দেশে এলে শাহীন এই বাগানবাড়িতে বসেই নিয়ন্ত্রণ করতেন তার আন্ডারওয়ার্ল্ড।

এলাঙ্গী গ্রামের মোজাফফর নামের এক ব্যক্তি বলেন, দিনের বেলা বেশি গাড়ি ওই বাংলোতে প্রবেশ করে না। রাত ১০টার পর দামি দামি গাড়ি প্রবেশ করে। অনেক গাড়িতে তিনি নারী থাকতে দেখেছেন। ভেতরে হাঁটাহাঁটি করতেও দেখেছেন।

এমপি আনারের এক বাল্যবন্ধু গোলাম রসুল বলেন, আনার ও শাহীনের মধ্যে প্রায় ৩০ বছরের সম্পর্ক। তাকে নিয়ে এমপি আনার দুবার এই বাংলোতে গিয়েছেন বলে তিনি জানান।

এদিকে, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য থাকায় কেউ শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস পায়নি। কোটচাঁদপুর থানায় তার নামে নেই কোনো মামলা।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর থানার ওসি সৈয়দ আল মামুন বলেন, আক্তারুজ্জামান শাহীন আমেরিকার পাসপোর্টধারী। তিনি এলাকায় খুবই কম আসতেন। তার বিরুদ্ধে কোটচাঁদপুর থানায় কোনো মামলা নেই।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৫ বছরে অগাধ সম্পদের মালিক বনে যান শাহীন। এলাকায় গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। কোটচাঁদপুর শহরে একাধিক মার্কেট, বাড়ি ও রিসোর্ট তৈরি করেছেন। তার বৈধ আয়ের উৎস সম্পর্কে এলাকাবাসী অন্ধকারে। তাদের ধারণা স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন শাহীন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার দাপট ছিল প্রচণ্ড। প্রচুর অবৈধ টাকা উড়িয়েছেন নিজের ক্ষমতার দাপট ধরে রাখতে। সর্বশেষ পৌরসভা নির্বাচনে আপন ভাইকে মেয়র পদে বসাতে ক্ষমতার দাপট ও কালো টাকার যথেচ্ছ ব্যবহার করেছেন।

শহিদুজ্জামান সেলিম মেয়র পদে বসলেও নেপথ্যের ক্রীড়নক ছিলেন শাহীন। কোটচাঁদপুর এলাকায় গড়ে তুলেছেন নিজস্ব বাহিনী। এই বাহিনীর সদস্যরা কোটচাঁদপুরে হাটবাজার ও মার্কেট দখল, মোড়ে মোড়ে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল। শাহীনের ক্ষমতার দাপটের কাছে তটস্থ ছিলেন এলাকাবাসী। তার অত্যাচারের প্রতিবাদ করার সাহস পাননি কেউ। হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও স্বর্ণ চোরাচালানের নেপথ্যের কারিগর হলেও সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান শাহীন।

রাজনীতির ময়দানে ভাই সেলিমকে সামনে রেখেছেন। আর নেপথ্যে থেকে চালিয়ে গেছেন নিজস্ব সাম্রাজ্য। অপরাধ জগতের দাপটশালী এই ব্যক্তি সব সময় থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। আনোয়ারুল আজিম হত্যাকাণ্ডে শাহীনের সম্পৃক্ততার খবরের পর মুখ খুলতে শুরু করেছেন নির্যাতিত অনেকেই। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছেন না শাহীনের আত্মীয়স্বজনরা।

এ বিষয়ে শাহীনের ভাই কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান সেলিম সাংবাদিকদের বলেন, পত্রপত্রিকা ও টিভি মিডিয়ায় দেখছি এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে আমার ভাই শাহীন জড়িত বলে তথ্য উঠে এসেছে। এটা তদন্ত হোক। তদন্তে যদি তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে তবে শাস্তি হবে। আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না আমার ভাই শাহীন এই কাজে জড়িত। তদন্তে সত্যতা মিললে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

তিনি আরও জানান, ছোট ভাই শাহীন আমেরিকায় থাকেন। গত রমজানে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি ব্যবসায়ী। সংসদ-সদস্য আনার ও তার পরিবারের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। ছোটবেলা থেকে তারা খেলাধুলা করেছেন একসঙ্গে। কোনো ধরনের বিরোধ ছিল এরকম কিছু জানেন না। সূত্রঃ যুগান্তর

আমতলিতে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এলাকা ছাড়ার হুমকি!

রূপসা রিপোর্টার্স ক্লাবের মাসিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

Daily World News

৭ লাখ ইয়াবা সরকারি পাজেরোতে পাচারকালে গ্রেফতার ৪

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

সড়ক ও জনপদ বিভাগের লোগো লাগানো বিলাস বহুল (এসইউভি) পাজেরো গাড়িতে ইয়াবা নিয়ে টেকনাফ হয়ে মেরিন ড্রাইভ পার করার পরিকল্পনা ভন্ডুল করে দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব। মাদক পাচারকালে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক এলাকা থেকে গাড়িটি আটক এবং চারজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। জব্দ করা হয়েছে সাত লাখ ইয়াবা।

র‌্যাব জানায়,  সোমবার (২০ মে) দিনগত রাতে ওই গাড়িতে করে ইয়াবা পাচারের চেস্টা করছিলো মাদক কারবারীরা। খবর পেয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব । পরে গাড়ি তল্লাশী করে ইয়াবা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত আত্মসমর্পণ করা ইয়াবা কারবারি আবদুল আমিন (৪০) । তার সহযোগী- টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবু সৈয়দ এর ছেলে মো. আবদুল্লাহ (৩৫), তার ভগ্নিপতি নুরুল আবসার (২৮) ও জাফর আলম (২৬) কে।

সোমবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজারের র‍্যাব-১৫ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপঅধিনায়ক মেজর শরিফুল আহসান।

তিনি বলেন, গ্রেফতার আব্দুল্লাহর বাবা আবু সৈয়দের মালিকানাধীন বিলাসবহুল গাড়িটিতে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর এর লোগো লাগানো ছিল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতে তারা ইয়াবা পাচারে ওই গাড়ি ব্যবহার করে।

প্রাথমিকভাবে র‌্যাব ধারণা করছে, মিয়ানমার থেকে ইয়াবাগুলো বাংলাদেশ সরবরাহ করছিল মিয়ানমারের বাসিন্দা রোহিঙ্গা সিরাজ। এই সিরাজের মাধ্যমেই বেশীর ভাগ ইয়াবা টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসে মাদক চোরাচালানীরা।

রামপালে ফসলী জমিতে খাল কেটে দিয়েছে এক খাল দখলবাজ, ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে জমির মধ্যে খাল রয়েছে এমন অভিযোগে জোরপূর্বক অসহায় এক কৃষকের ফসলী জমিতে প্রবেশ করে রাতের অন্ধকারে খাল কেটে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভুক্তভোগী কৃষক ইসমাইলের মৎস্য ঘের থেকে চাষকৃত মাছ বের হয়ে ৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এঘটনার প্রতিকার চেয়ে খুলনা সিটি মেয়র বরাবর অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মৃত মফেল শেখের ছেলে মো. ইসমাইল শেখ দীর্ঘ দিনধরে নিজ জমিতে সৎস ঘের করে আসছেন। ওই জমির মধ্যে একটি সরকারি রেকর্ডীয় খাল ছিল। অনেক পূর্ব থেকেই খালটি পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। একই গ্রামের মৃত রশিদ শেখের ছেলে প্রতিপক্ষ আসাদ শেখ জোরপূর্বক অবৈধভাবে খাল কাটার নামে কৃষক ইসমাইলের জমির উপর দিয়ে রাতের অন্ধকারে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে খাল খনন করেন। এতে ওই কৃষকের ৩ লক্ষ টাকার মাছ বের হয়ে যায়। এঘটনার প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন ভুক্তভোগী ইসমাইল হোসেন। খুলনা সিটি মেয়র রামপাল থানার অফিসার কে বিষয়টি জোর তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা দেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আসাদ শেখের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি খাল আমি কেটে দিয়েছি। প্রশ্ন করা হয় আপনি মাপজোক না করে অন্যের জমির মধ্যে অবৈধভাবে প্রবেশ করে জোরপূর্বক খাল কাটলেন কি করে? তখন তিনি জানান, রামপাল ইউএনও অফিসে কথা বলে খাল ঘুরিয়ে কেটেছি। তিনি নিজেই এসএ ও বিআরএস এর সরকারি খাস খতিয়ানের দাকোপা নামক খালের প্রায় পৌনে ২ একরেরও বেশী খাল দখল করে মৎস্য চাষ করছেন। সেখান থেকে বালি উত্তোলন করে বিক্রি করেছেন এমন অভিযোগ ও তিনি অস্বীকার করে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ সোমেন দাশের দৃষ্টি আকর্শন করা হলে তিনি তদন্ত করে অইনগত ব্যাবস্থা নিবেন বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের বাপা’র সদস্য মোল্লা আ. সবুর রানা বলেন, পরিবেশ প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারি রেকর্ডীয় খাল উম্মুক্ত রাখা খুবই জরুরি। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার জোর দৃষ্টি আকর্শন করেন তিনি।

আমতলীর প্রতারণা চক্রের মুল হোতা ডলার জালালকে গ্রেফতার করলো র‍্যাব-৮

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

নানা প্রলোভন দেখিয়ে কম দামে বৈদেশিক মুদ্রা কম দামে বিক্রয়ের কথা বলে মানুষের সাথে প্রতারণা চক্রের মুল হোতা ডলার জালালকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৮।

গতকাল ১০ মে রাত ৯:১৫ মিনিটের সময় বরিশাল সদর থেকে ডলার জালালকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৮।

গ্রেফতারকৃত মোঃ জালাল হাওলাদার ওরফে ডলার জালাল আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত্যু আজাহার হাওলাদারের ছেলে।

গত ৫ই মে ভিকটিম মোঃ তৌকির খান (৩০) এর কাছে খুব অল্প দামে সৌদি রিয়াল বিক্রির কথা বলে নানাভাবে প্রলুব্ধ করে তাকে ৩,০০০০০/- (তিন লক্ষ টাকা) নিয়ে আসতে বলে এই প্রতারক চক্র। এতো কম দামের কথা শুনে সন্দেহ হলে তৌকির বরগুনা ডিবি পুলিশের সহায়তা নিয়ে ভিকটিম আসামীদের দেওয়া নির্ধারিত স্থানে গেলে আসামীরা কৌশলে সৌদি রিয়ালের পরিবর্তে টাকার মত ভাঁজ করে পত্রিকার কাগজ ও একটি সাবান পোটলা আকারে ভিকটিমের হাতে দেয় এবং দ্রুত চলে যেতে বলে।এ সময় ঐ এলাকায় আগ থেকে অবস্থান নেওয়া বরগুনা ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করলেও অন্যরা পালিয়ে যায়।এ ঘটনায় ভিকটিম মোঃ তৌকির খান (৩০) বাদী হয়ে আমতলী থানায় গত ৬ই মে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করে যার নং ০৪/২০২৪।

র‍্যাব-৮ এর দেওয়া ব্রিফিং এ জানানো হয়,গ্রেফতারের পর আসামী উক্ত প্রতারণার সাথে তার সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করে এবং জানায় যে,তার নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জনবল সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণামূলক কর্মকান্ড করে থাকে।

পরে গ্রেফতারকৃত ডলার জালাল কে বরগুনা ডিবি পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

স্করপিয়ন এক কুখ্যাত মানব পাচারকারী|| যেভাবে সন্ধান পাওয়া গেল

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

বারজান মাজিদ ওরফে স্করপিয়ন—ইউরোপে মানব পাচারে জড়িত কুখ্যাত এক ব্যক্তি। ২০২২ সালে বেলজিয়ামের আদালতে সাজা হওয়ার পর থেকে লাপাত্তা তিনি। ইরাকের এই নাগরিকের সন্ধানে মাঠে নামেন বিবিসির সাংবাদিক সু মিটসেল। দেশে দেশে ঘুরে বহু চেষ্টা–তদবিরের পর শেষ পর্যন্ত দেখা পান স্করপিয়নের। সুযোগ হয় আলাপের। রোমাঞ্চকর সেসব অভিজ্ঞতাই সবার সামনে তুলে ধরেছেন তিনি।

ইরাকের একটি শপিং মল। মুখোমুখি বসে ছিলাম ইউরোপের সবচেয়ে কুখ্যাত মানব পাচারকারীদের একজনের সঙ্গে। তাঁর নাম বারজান মাজিদ। যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশের পুলিশের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।

মাজিদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল দুই দফায়। ইরাকের ওই শপিং মলে, আর পরদিন তাঁর অফিসে। কত অভিবাসীকে তিনি ইংলিশ চ্যানেল পার করিয়েছেন, সে সম্পর্কে ধারণাও নেই তাঁর। মাজিদ বললেন, ‘তা ১ হাজারও হতে পারে, ১০ হাজারও হতে পারে। আমি আসলে সঠিক জানি না। কারণ, সংখ্যাটা গুনে দেখিনি।’

এই মানব পাচারকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করাটা কয়েক মাস আগেও আমার কাছে একপ্রকার অসম্ভব মনে হতো। তিনি আরেকটা নামেও পরিচিত—‘স্করপিয়ন’ (কাঁকড়াবিছা)। এই নামের মানুষটিকেই প্রথম আমি খুঁজতে বেরিয়েছিলাম। এ কাজে সঙ্গে পেয়েছিলাম রব লরিকে। সাবেক এই সেনাসদস্য এখন অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করছেন।

স্করপিয়ন বা মাজিদ—যে নামেই ডাকা হোক না কেন, বছরের পর বছর ধরে তিনি ও তাঁর দলবল মিলে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে মানব পাচার করে গেছেন। ২০১৮ সাল থেকে গত মাস পর্যন্ত এই চ্যানেল নৌকায় করে পাড়ি দিতে গিয়ে মারা গেছেন ৭০ জনের বেশি। এর মধ্যে ফ্রান্সের উপকূলে সাত বছর বয়সী একটি শিশুসহ মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের।

নৌকায় করে এই যাত্রা বেশ বিপজ্জনক। তবে অর্থ কামানোর জন্য পাচারকারীদের কাছে কাজটি বেশ আকর্ষণীয়। ইংলিশ চ্যানেল পার করাতে জনপ্রতি ছয় হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৯ লাখ টাকা নিয়ে থাকেন তাঁরা। ২০২৩ সালে প্রায় ৩০ হাজার অভিবাসী এই চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ থেকে বোঝাই যায়, পাচারকারীদের লাভের অঙ্কটা কত বড়।

স্করপিয়নের প্রতি আমাদের আগ্রহের শুরু ছোট্ট একটি মেয়েশিশুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর। উত্তর ফ্রান্সের একটি অভিবাসী শিবিরে খোঁজ পেয়েছিলাম তার। একটি ডিঙিনৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ যেতে বসেছিল ওই শিশুর। নৌকাটি সাগরে চলাচলের জন্য মোটেও উপযুক্ত ছিল না। এমনকি সেটির ১৯ আরোহীর জন্য কোনো লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থাও ছিল না।

স্করপিয়ন এক কুখ্যাত মানব পাচারকারী|| যেভাবে সন্ধান পাওয়া গেল
ভূমধ্যসাগরে শরণার্থীবোঝাই একটি নৌকা এভাবেই ডুবে যাচ্ছিলরয়টার্সের ফাইল ছবি

যুক্তরাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তারা যখন অবৈধ অভিবাসীদের আটক করেন, তখন তাঁদের মুঠোফোনগুলো যাচাই–বাছাই করে দেখেন। ২০১৬ সালের পর থেকে সন্দেহজনক একটি নম্বরই বারবার সামনে আসছিল। ওই মুঠোফোনগুলোয় নম্বরটি স্করপিয়ন নামে রাখা ছিল। কখনো কখনো একটি কাঁকড়াবিছার ছবি দিয়েও নম্বরটি সেভ করা হয়েছিল।

এই স্করপিয়ন কে, তা আমাদের কাছে খোলাসা করেছিলেন মার্টিন ক্লার্ক নামের যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) একজন জ্যেষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা। তিনি বলেছিলেন, তদন্তের এক পর্যায়ে বোঝা যায়, স্করপিয়ন আসলে বারজান মাজিদ নামের এক কুর্দি ইরাকি।

মাজিদ কিন্তু নিজেই পাচারের শিকার হয়েছিলেন। সে ২০০৬ সালের ঘটনা। তখন তাঁর বয়স ২০ বছর। একটি লরিতে করে তাঁকে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়েছিল। তবে এক বছর পর তাঁকে দেশটি ছেড়ে যেতে বলা হয়। যদিও আরও কয়েক বছর যুক্তরাজ্যে থেকে গিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে কিছু সময় নানা অপরাধে কারাগারে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।

শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে মাজিদকে ইরাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর কিছু সময় পর মানব পাচারের জগতে পা রাখেন তিনি। স্করপিয়ন নামে তাঁর পরিচিত বাড়ে। ধারণা করা হয়, বড় ভাইয়ের হাত ধরেই এ অপরাধে জড়িয়েছিলেন তিনি। তাঁর বড় ভাই তখন বেলজিয়ামের কারাগারে সাজা খাটছিলেন।

আমরা রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপকের কাছে মানব পাচার ব্যবসা সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তিনি কাছে থাকা একটি বন্দুক দেখিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, আমরা বিপজ্জনক সব মানুষকে নিয়ে কাজ করছি।

২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে মানব পাচার–বাণিজ্যের একটি বড় অংশ মাজিদ ও তাঁর দল নিয়ন্ত্রণ করত বলে মনে করা হয়। এরপর দুই বছর ধরে মানব পাচার রোধে অভিযান চালায় আন্তর্জাতিক পুলিশ। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া মাজিদের দলের ২৬ সদস্যকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে মাজিদ ছিলেন পলাতক।

মাজিদের অনুপস্থিতিতেই বেলজিয়ামের একটি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারকাজ চলে। মানব পাচারের ১২১টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা করা হয় ১২ কোটি টাকার বেশি। এর পর থেকেই মাজিদের আর কোনো খোঁজখবর পাওয়া যায়নি। এই রহস্য ভেদ করতেই নেমেছিলাম আমরা।

স্করপিয়নের খোঁজে তুরস্কে

রব লরির এক সূত্র আমাদের ইরানের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ওই ইরানি বলেছিলেন, তিনি যখন ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন, তখন তাঁর কথা হয়েছিল মাজিদের সঙ্গে। মাজিদ বলেছিলেন, তিনি তুরস্কে থাকেন। সেখান থেকেই মানব পাচার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। বেলজিয়ামে মাজিদের বড় ভাইকেও আমরা খুঁজে বের করেছি। তিনি এখন কারাগারের বাইরে। তাঁরও ধারণা, মাজিদ তুরস্কে থাকতে পারেন।

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হতে চাওয়া বেশির ভাগ অভিবাসী আগে তুরস্কে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করেন। কারণ, যুক্তরাজ্যের অভিবাসী আইন অনুযায়ী, আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশটিতে প্রবেশের জন্য ভিসা পাওয়া তুলনামূলক সহজ।

একটি সূত্র থেকে আমরা খবর পেয়েছিলাম, মাজিদকে সম্প্রতি তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের একটি রেস্তোরাঁয় দেখা গিয়েছিল। আমরা সেখানে গেলাম। তবে প্রথম দিকে এই অনুসন্ধান অতটা সহজ ছিল না। আমরা রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপকের কাছে মানব পাচার ব্যবসা সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তিনি কাছে থাকা একটি বন্দুক দেখিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, আমরা বিপজ্জনক সব মানুষকে নিয়ে কাজ করছি।

তবে খোঁজখবরের পরের ধাপে কিছুটা আশার দেখা পেলাম। খবর পেলাম, কাছের একটি মানি এক্সচেঞ্জে সম্প্রতি প্রায় ২৫ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন মাজিদ। ওই মানি এক্সচেঞ্জে আমাদের মুঠোফোন নম্বর রেখে এলাম। সেদিন রাতেই রব লরির ফোন বেজে উঠল। তবে কোন নম্বর থেকে ফোন এসেছে, তা দেখা যাচ্ছিল না। ওপাশ থেকে একজন নিজেকে মাজিদ বলে পরিচয় দিলেন।

আমরা এতটাই হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম ফোনকল রেকর্ড করার সময় পাইনি। রবের যেটুকু মনে আছে, ফোনদাতা বলেছিলেন, ‘আমি শুনলাম, আপনারা আমার খোঁজ করছেন।’ এ সময় রব জানতে চান, ‘আপনি কে? স্করপিয়ন?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আপনি কি আমাকে এ নামেই ডাকতে চান? ঠিক আছে ডাকুন।’

ফোনের অপর পাশের ব্যক্তি আসলেই মাজিদ ছিলেন কি না, তা বলা দুষ্কর ছিল। তবে আমরা তাঁর সম্পর্কে যা জানতাম, তার সঙ্গে ওই ব্যক্তির কথাবার্তার মিল পেয়েছি। যেমন তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাজ্য থেকে ইরাকে পাঠিয়ে দেওয়ার আগে তিনি নটিংহামে ছিলেন। তবে বর্তমানে মানব পাচারে জড়িত থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘এটা সত্যি নয়। গণমাধ্যমের সৃষ্টি।’

পরে ফোনকলটি কেটে গিয়েছিল। ওই ব্যক্তি কোথা থেকে ফোন করেছিলেন, তা–ও জানতে পারলাম না। তিনি আবার কখন ফোন করতে পারেন, সে সম্পর্কেও কোনো ধারণা ছিল না। এরই মধ্যে স্থানীয় এক সূত্রের কাছ থেকে খবর পেলাম, মাজিদ এখন তুরস্ক থেকে গ্রিস ও ইতালিতে মানব পাচার করছেন।

এরপর আমাদের কাছে যে তথ্য এল, তা ছিল ভয় ধরানো। নারী, শিশুসহ প্রায় ১০০ জনকে নাকি নৌকায় করে পাচার করা হচ্ছে। তবে ওই নৌকায় মাত্র ১২ জনকে বহনের লাইসেন্স রয়েছে। আর সেগুলো চালায় অনভিজ্ঞ পাচারকারীরাই। কোস্টগার্ডকে এড়াতে নৌকাগুলো যে পথ ধরে যায়, সেটিও বিপজ্জনক।

পরেরবার যখন মাজিদের ফোন এসেছিল, তখন বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলাম। এবারও তিনি পাচারে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করলেন। তাঁর কথায় এটাই বোঝা গেল, যাঁরা মানব পাচারের সঙ্গে সশরীর যুক্ত থাকেন, তাঁদেরই পাচারকারী বলে মনে করেন তিনি; যাঁরা নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁরা নন।

অবশেষে সাক্ষাৎ

এরই মধ্যে আমাদের এক সূত্র জানালেন, তিনি ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে সুলাইমানিয়া শহরের একটি মানি এক্সচেঞ্জে মাজিদকে দেখেছেন। আমরা সেখানে গেলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, যদি ইরাকে মাজিদের খোঁজ না পাই, তাহলে এ নিয়ে আর এগোব না।

এর এক পর্যায়ে ইরাকে মাজিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল রবের ওই সূত্রের। মাজিদ আমাদের নিয়ে খুবই সন্দেহের মধ্যে ছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, আমরা অর্থ দাবি করব বা তাঁকে ইউরোপে ফিরিয়ে নিয়ে যাব। এরপর আমাদের সঙ্গে মাজিদের বেশ কয়েকবার বার্তা আদান–প্রদান হয়। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি আছেন। তবে সাক্ষাতের স্থান ঠিক করবেন তিনি নিজে। আমরা তা মেনে নিইনি। কারণ, ভয় ছিল, মাজিদ ফাঁদ পাততে পারেন।

তারপরই আমাদের মুঠোফোনে একটি বার্তা এল। লেখা, ‘আপনারা কোথায়?’ আমরা বললাম, কাছের একটি শপিং মলের দিকে যাচ্ছি। মাজিদ আমাদের ওই মলের নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁয় দেখা করার জন্য বললেন। ঠিক সেখানেই আমরা তাঁর প্রথম দেখা পেলাম। মাজিদ বেশ দৃষ্টিনন্দন পোশাক পরে ছিলেন। পরনে ছিল নতুন জিনসের প্যান্ট ও হালকা নীল রঙের শার্ট। এরই মধ্যে কাছের একটি টেবিলে গিয়ে বসলেন তিনজন। বোঝাই যাচ্ছিল, তাঁরা মাজিদের নিরাপত্তারক্ষী।

এবারও মাজিদ এখন মানব পাচারে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেন। অন্যান্য অপরাধী চক্রের সদস্যরা নাকি নিজেদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁকে জড়াচ্ছেন। তিনি বললেন, ‘তারা যখন গ্রেপ্তার হয়, তখন বলে, আমরা তার (মাজিদ) হয়ে কাজ করি। আসলে তারা কম সাজা পেতেই এটা করে।’

আমরা যখন অভিবাসীদের মৃত্যুর জন্য মাজিদকে দোষারোপ করলাম, তিনি সেই আগের কথাই বললেন, যাঁরা অভিবাসীদের নৌকায় বা লরিতে তুলে দেন, তাঁরাই পাচারকারী। তিনি নিজে কখনো কাউকে নৌকায় তুলে দেননি। তাই নৌকাডুবিতে কারও মৃত্যুর জন্যও তিনি দায়ী নন। তিনি শুধু অর্থ নিয়েছেন আর অভিবাসীদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে, তা ঠিক করে দিয়েছেন।

মাজিদের পেছনে থাকা কাচে তাঁর হাতে থাকা মুঠোফোনের স্ক্রিনের সবকিছু ভেসে উঠছিল। মাজিদ টের না পেলেও রব তা দেখতে পেয়েছিলেন।

সেদিন আমাদের কথোপকথন সেখানেই শেষ হলো। এর পরদিন সুলাইমানিয়ার সেই মানি এক্সচেঞ্জে রবকে আমন্ত্রণ জানালেন মাজিদ। ইউরোপে যাওয়ার জন্য সেখানে গিয়ে অর্থ পরিশোধ করেন অভিবাসীরা। রব আমাকে বলেছিলেন, সেখানে নাকি তিনি এক ব্যক্তিকে এক বাক্স অর্থ নিয়ে আসতে দেখেছিলেন।

মাজিদ সেদিন রবকে বলেছিলেন ২০১৬ সালে তিনি কীভাবে এই ব্যবসায় জড়িয়েছিলেন। তখন হাজার হাজার মানুষ অভিবাসী হয়ে ইউরোপে যাচ্ছিল। মাজিদ বলেন, ‘কেউ তাদের ইউরোপে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করেনি। তারা নিজেরাই যেতে চায়। পাচারকারীদের কাছে তারা বলে, দয়া করে আমাদের জন্য এটা করে দিন। কখনো কখনো পাচারকারীদের এটাও বলতে শুনেছি, শুধু সৃষ্টিকর্তার জন্য আমি তাদের সাহায্য করব। এরপর তারা (অভিবাসী) নানা অভিযোগ করে। আসলে এগুলো সত্যি নয়।’

মাজিদ বললেন, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি বেলজিয়াম ও ফ্রান্সে মানব পাচার কর্মকাণ্ডে শীর্ষ দুই ব্যক্তির একজন ছিলেন। সে সময় লাখ লাখ ডলার লেনদেন করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি তাদের জন্য বহু কিছু করেছি।’

মাজিদ যদিও দাবি করেন, তিনি এখন আর মানব পাচারে জড়িত নন, তবে তাঁর কাজকর্মে উল্টোটাই মনে হয়েছে। যেমন রবের সঙ্গে কথা বলার সময় হাতে থাকা মুঠোফোনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। মাজিদের পেছনে থাকা কাচে ওই মুঠোফোনের স্ক্রিনের সবকিছু দেখা যাচ্ছিল। মাজিদ টের না পেলেও রব তা দেখতে পেয়েছিলেন।

মাজিদের মুঠোফোনের স্ক্রিনে রব দেখেছিলেন সারি সারি পাসপোর্ট নম্বর। পরে আমরা জানতে পারি, ওই নম্বরগুলো ইরাকের সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠায় পাচারকারীরা। ওই কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে ভুয়া ভিসা নেওয়া হয়। তারপর ওই ভিসা দেখিয়ে তুরস্কে যান অভিবাসীরা।

সেটিই ছিল মাজিদ ওরফে স্করপিয়নের সঙ্গে আমাদের শেষ দেখা। এরপর তাঁর সঙ্গে এই সাক্ষাতের বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছিল বেলজিয়ামের সরকারি কৌঁসুলি অ্যান লুকোউইয়াকের সঙ্গে। মাজিদকে দোষী সাব্যস্ত করার কাজে সংশ্লিষ্ট ছিলেন তিনি। অ্যান বলেন, ‘একদিন না একদিন আমরা তাঁকে পাকড়াও করবই।’ সূত্র: বিবিসি

Daily World News

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন…….