সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের স্ত্রী পেয়েছেন ভিজিডি কার্ড

//সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের স্ত্রীর নামে দুস্থদের ভিজিডি কার্ড পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আর্থিক স্বচ্ছল এই পরিবার প্রতি মাসে ভিজিডির ৩০ কেজি করে চাল তুললেও বঞ্চিত হচ্ছেন অসহায় ও দুস্থরা। হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিডি কার্ড বিতরণে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে তালতলীর বড়বগী ইউনিয়নে।

প্রাপ্ত অভিযোগ থেকে জানা যায়,উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহ নেওয়াজ সেলিম মেনিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার স্ত্রী সালমা বেগমের নামে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ভিজিডি কার্ড হয়েছে। তিনি এই ভিজিডি কার্ড দিয়ে চালও তুলে নিচ্ছেন।এলাকার এক হত দরিদ্র ভুক্তভোগী এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তার তিনসন্তান থাকলেও আয়-রোজগারের করার কোনো মাধ্যম নেই।অথচ তার নামে ভিজিডি নেই। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীর স্ত্রীও ভিজিডি কার্ড পেয়েছেন।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের চূড়ান্ত তালিকায় ৩ নং ওয়ার্ডের তালুকদার পাড়া গ্রামে ৪২ নম্বর সিরিয়ালে ভিজিডির কার্ডধারী সালমা বেগমের নামে একটি ভিজিডি কার্ড রয়েছে। সেই কার্ড থেকে ২০২৩-২৪ সালের ভিজিডির চালও পাচ্ছেন। সালমা বেগমের পরিবার বেশ স্বচ্ছল।স্বামী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

এবিষয়ে বড়বগী ইউপি পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন (আলম মুন্সী) বলেন,তিনি এ তালিকা করেননি এ তালিকা করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান।এ বিষয়ে তিনি বলতে পারবেন।

তালতলী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রূপ কুমার পাল বলেন, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া অভিযোগ পাওয়ার পরে ঐ শিক্ষকের স্ত্রীর নামের ভিজিডির কার্ডটি বাতিল করা হবে। নতুন কারও নামে কার্ড তৈরি করা হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ভিজিডি কমিটির সভাপতি সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, এইটাসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো স্বজনপ্রীতি হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবি উল কবির জোমাদ্দার বলেন, ভিজিডি কার্ডের নামের তালিকা দেওয়ার সময় ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী সুপারিশ করা হয়েছে। ভোটার আইডি কার্ডে স্বামীর নাম থাকে না। এজন্য এই ভুল গুলো হয়। তিনি আরও বলেন পরিচয় গোপন করে এমন কিছু হয়ে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাগেরহাটের রামপালে জমি জাল দলিল করায় সাব-রেজিস্টারসহ ৭ জনের নামে মামলা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপালে মৃত্যু শয্যায় থাকা বৃদ্ধের ৬০ শতাংশ জমি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে লিখে নেওয়ায় সাব রেজিষ্টারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বাগেরহাটের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে গত ২৭ এপ্রিল বেলা ১১ টায় মামলাটি করেন, ভুক্তভোগী বৃদ্ধ রণজিৎ কুমার পালের একমাত্র পুত্র বিশ্বজিৎ কুমার পাল। পিটিশন মামলা নং ২৫/২০২৩। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বাগেরহাটের পিবিআই কে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন, রামপাল উপজেলা সাব-রেজিস্টার নাহিদ জাহান মুনা, উপজেলার গিলাতলা গ্রামের দীনেশ পালের পুত্র ও ইউপি সচিব রতন কুমার পাল, তার পিতা (দলিল গ্রহিতা) দীনেশ চন্দ্র পাল, দলিল লেখক ওড়াবনিয়া গ্রামের সবুজ কুমার মন্ডল, সৈয়দ গালিব জামান (ইশাদী), রতিন কুমার পাল, সনাক্তকারী রীতা রানী পাল।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, গত ইং ০৭-০২-২০২৩ তারিখ রামপাল সাব রেজিস্ট্রার অফিসে বসে ষড়যন্ত্র ও যোগসাজশের মাধ্যমে দলিল গ্রহীতা দীনেশ পালের পুত্র রতন পাল দলিল লেখক সবুজ মন্ডলের মাধ্যমে একটি জাল জালিয়াতি করে দলিলটি করান। অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে দলিলটি রেজিষ্ট্রি করা হলেও বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে দলিল দাতা রণজিৎ কুমার পালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তিনি বার্ধক্য জনিত কারণে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী। কথা হয় তার পুত্র বিশ্বজিৎ পালের সাথে। তিনি বলেন আমার বাবার জমি ইউপি সচিব রতন কুমার পাল ও আমার সৎ মা রীতা রানী পাল সাব-রেজিস্টারের সাথে যোগসাজশে ভূয়া দলিল দাতা সাজিয়ে ৮৮ নং গিলাতলা মৌজার এসএ ৬৪০ খতিয়ানের ১৮৪৭ দাগের ০.৯৫ একরের মধ্যে ০.৬০ একর জমি জাল জালিয়াতি করে লিখে নেন। যার দলিল নং ৩৪৪/২০২৩। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন, তার পিতা রণজিৎ কুমার দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন। তার স্মৃতি শক্তি ও লোপ পেয়েছে। অথচ তার স্থলে অন্য ব্যক্তির ছবি ও ভূয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে মূল্যবান জমিটি রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে।
তার গ্রামে গিয়ে কথা হয়, মনোরঞ্জন পাল, তুষার কান্তি পাল ও সুদর্শন বিশ্বাসের সাথে। তারা বলেন, রণজিৎ বাবু ৭/৮ মাস মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। তার অবস্থা খারাপ। তাকে বাইরে নেওয়ার মত বা তার বের হওয়ার মত অবস্থায় নেই।

অভিযুক্ত ইউপি সচিব রতন পালের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সবুজ মহরীর সাথে ২ লক্ষ টাকার চুক্তি করে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে দলিল করিয়েছি। সবুজ মন্ডল সব কিছু করেছে বলে স্বীকার করেন।

অন্যতম কুশীলব সবুজ মন্ডলকে সোমবার দুপুর ১ টায় সাবরেজিস্টারের মুখোমুখি করানো হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। কথিত দাতা সাজিয়ে ভুয়া আইডি কার্ড ও ভূয়া ছবি ব্যবহার করে দলিল করিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সবুজ মন্ডল আরও জল জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল করে বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউপি সচিব রতন পাল মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের বিদ্যারবাহন গ্রামের মৃত যতীন্দ্র নাথ মন্ডলের পুত্র জগদীশ মন্ডলকে দাতা বানিয়ে ও ভূয়া আইডি কার্ড দিয়ে জমি দলিল করেন। সাংবাদিকরা জগদীশ মন্ডলের বাড়িতে গেলে সে কৌশলে পালিয়ে যায়। কথা হয় জগদীশ মন্ডলের সহচর এনপিএস নিউজের খুলনা বিভাগীয় চীফ জুয়েল খান জগদীশ পিএনএসের সদস্য বলে স্বীকার করেন। তিনি জানান, জগদীশ এমন একটি ঘটনা ঘটিয়েছে বলে শুনেছি।

জমি জাল জালিয়াতি করে দলিল সম্পাদন ও বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা হয় রামপাল উপজেলা সাবরেজিষ্টার নাহিদ জাহান মুনা’র সাথে। তার অফিসে বসে ৩৪৪/২৩ নং দলিলটি দেখতে চাইলে তিনি দলিলটি এনে দেখতে পান, দলিল দাতা ও তার আইডি কার্ড জাল করা হয়েছে। উপস্থিত মহরার সমিতির নেতৃবৃন্দরা ও বিষয়টির সত্যতা পান। এ পর্যায়ে সবুজ জাল জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেন।

রামপাল উপজেলা সাবরেজিষ্টার নাহিদ জাহান মুনা বলেন, সরল বিশ্বাসে আমি জমির দলিল রেজিষ্ট্রি করেছি। আমাকে মিস গাইড করে ভূয়া দাতা ও ভূয়া ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। আমি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

পটুয়াখালীর বাউফলে বেড়েই চলেছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত

মোঃ তুহিন শরীফ, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় প্রতিদিন প্রতিনিয়তই বেড়ে চলছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত।

জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। এরা নিজেদের মতো করে এক একটা গ্যাং গড়ে তুলছে। এই গ্যাংয়ের সদস্যদের উৎপাতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে মুরুব্বিরা তাদের ভয়ে মুখ খুলছেন না। আবার কেউ কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও অপমান অপদস্ত সহ হামলার শিকার হচ্ছেন।

সমাজে এ যেন একটা চরম আকারে ব্যধি হয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সর্বত্রই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এই কিশোর গ্যাং।

এদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছর। এরা তথাকথিত বড়ভাইদের শেল্টারে বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

নিজেদের অধিপত্য বিস্তার করতে দেশি অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে প্রায়ই। ইভটিজিং ও মাদক সেবনসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে তারা।

অভিযোগ রয়েছে- এ সব কিশোর গ্যাংয়ের মদতদাতা হিসেবে রয়েছে তথাকথিত বড় ভাইয়েরা।

নাম না বলা শর্তে একাধিকরা জানান, বিলবিলাস বাজার ও হাইস্কুলের সামনে বা পিছনে, বিলবিলাস নজির মিয়া বাড়ি সংলগ্ন স্কুলের রাস্তায় গুলো, অলিপুরা বাজার এলাকা, পূর্ব কালাইয়া হাসান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন, শৌলা বাজার এলাকা, মদনপুরা সোনামদ্দিন মৃধা স্কুলের মড়ায় ইত্যাদি ইত্যাদি এলাকায় বেপরোয়া হয়ে চলছে কিশোর গ্যাং। এতে স্কুলে-মাদ্রাসায় আসতে যাইতে মেয়ে শিক্ষার্থীরা চরম আকারে ইভটিজিং সহ বাধায় পড়ে। এতে কেউ কথা বললে জোটবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়।

তারা আরও জানান, এ সামাজিক ব্যধি থেকে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা সহ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

উপজেলার প্রায় ইউনিয়নে কিশোর গ্যাং গ্রুপের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলারও ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি কিশোর গ্যাং সদস্যদের সংশোধন করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করেছেন কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম ফয়সাল আহম্মেদ মনির হোসেন মোল্লা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২২শে মার্চ-২০২৩ ইং গত বুধবার বিকাল সারে ৪টার দিকে সিনিয়র-জুনিয়রকে কেন্দ্র করে উপজেলা ইন্দ্রকুল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী মো. নাফিজ মোস্তফা আসনারী (১৫) ও মো. মারুফ হোসেন (১৫) ও সিয়াম (১৫) কে ছুরিকাঘাত করে একই বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র সিফাত, সৈকতসহ একদল কিশোর। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য নাফিজ ও মারুফকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে ওই দিনই সন্ধ্যা সারে সাতটার দিকে তাদের দুজনেরই মৃত্যু হয়। সিয়াম বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

কাছিপাড়া আব্দুর রশিদ মিয়া ডিগ্রি কলেজে সহকারী অধ্যাপক এএইচ এম মিরন বলেন, কিশোরদের এই অবক্ষয়ের জন্য দায়ী তাদের মা-বাবা। তারা এত অল্প বয়সী সন্তানদের হাতে স্মাট ফোন তুলে দেওয়ার কারণে ইন্টারনেট নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। সেখানে ফেসবুকসহ নানা পর্নো ভিডিও দেখে সময় ব্যয় করার কারণে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। মা-বাবাদের উচিত সন্তানদের বিপথে পা বাড়ানোর আগেই যেভাবেই হোক তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। যদি শুরুর দিকে শোধরানো যায় তা হলে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

এবিষয়ে বাউফল থানার নবযোগদানকৃত ওসি এটিএম আরিচুল হক প্রতিবেদককে বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে আমরা সব সময় নজরদারি করে থাকি। তাদের নিন্ত্রয়ণ বলেন, সংশোধন বলেন সমাজে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে অভিভাবকদের। পাশাপাশি সচেতনতার লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। আর আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে সকল বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যশোরে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে লেদ থেকে পিস্তল‌ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ মিস্ত্রী গ্রেফতার

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

যশোর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টীম অভিযান পরিচালনা করে লেদ কারখানার সন্ধান পায় এবং কারখানা থেকে দেশি পিস্তল, গুলি ও অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামসহ লেদ মিস্ত্রি শাহাদত হোসেন (৪০) কে গ্রেফতার করে।আটক শাহাদত শংকরপুর চোপদারপাড়ার শাহাজাহানের ছেলে। ২৭ মার্চ
সোমবার রাতে যশোর শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়ার শাহাদতের বসত ঘরের পাশের রুমে এই কারখানার সন্ধান পায় । ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ডিবি পুলিশের এসআই শাহিনুর রহমান ও এসআই নুরের সমন্বয়ে গঠিত গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ টীম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পায় শহরের পার্শ্ববর্তী শংকরপুরের চোপদারপাড়ায় একটি বসত ঘরের সাথে লেদ বসিয়ে অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক বারোটায় লেদ কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে একটি দেশি তৈরি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধারসহ লেদ মিস্ত্রি শাহাদতকে গ্রেফতার করা হয়। এ সংক্রান্ত বিষয়ে এস আই শাহিনুর বলেন, শাহাদতকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য এর আগে গত বছর অক্টোবর মাসের ১৩ তারিখে যশোর শহরের বারান্দীপাড়া কদম তলার রাঙ্গামাটি গ্যারেজ মোড়ের নিউ বিসমিল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং নামে লেদ কারখানায় অভিযানে পাঁচটি অস্ত্র উদ্ধারসহ কারখানা মালিক আজিজুল ইসলামসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছিলো।

যশোর এক পল্লীতে লেদ মেশিনে মিলল অস্ত্রের কারখানা :আটক-১

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

যশোর শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়া বারেক পল্লীতে মিললো অস্ত্রের কারাখানা। সোমবার
২৭ মার্চ রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ১টি রিভলবার, অসম্পূর্ণ ১টি ওয়ান শ্যুটারগান, ৫ রাউন্ড গুলিসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। এ সময় অস্ত্র তৈরির কারিগর শাহাদত হোসেন ওরফে বয়রা শাহাদতকে (৪০) আটক করা হয়েছে।
যশোরে এর আগে অবৈধ অস্ত্র তৈরির ৩টি কারখানা জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু ক্রেতা কারা এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বরাবরই অপরগতা প্রকাশ করে আসছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কোনো সদস্য এই অবৈধ অস্ত্রের ক্রেতা বলে আটক কারিগররা দাবি করলেও রহস্যজনক কারণে তারা ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। ডিবি পুলিশের এসআই শাহিনুর রহমান জানান, বেশ কিছুদিন আগে গোপনে জানতে পারেন, বয়রা শাহাদত নামে এক ব্যক্তি অবৈধ অস্ত্র তৈরি করে থাকেন। এই তথ্য পেয়ে বয়রা শাহাদতের ধীরে ধীরে সন্ধান করতে থাকেন। এক পর্যায়ে জানতে পারেন, শংকরপুর চোপদারপাড়ার শাজাহান দেওয়ানের ছেলে বয়রা শাহাদত। নিজ বাড়িতে লেদ মেশিন বসিয়ে গোপনে অস্ত্র তৈরি করে আসছেন। নিশ্চিত হওয়ার পর গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনিসহ এসআই নুর ইসলাম ওই বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় দরজা বন্ধ করে নিজ ঘরের ভেতর লেদ মেশিনে অস্ত্র তৈরি করছিলেন শাহাদত। সাথে সাথে তাকে আটক এবং তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে কাঠের বাটযুক্ত ১টি রিভলবার, ৪ রাউন্ড রিভলবারের গুলি, ১ রাউন্ড ওয়ানশ্যুটারের গুলি, অসম্পূর্ণ ১টি ওয়ান শ্যুটারগান, পিস্তল তৈরির স্টিলের ১টি ফর্মা উদ্ধার করা হয়।তার লেদ মেশিনও জব্দ করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শাহাদত অবৈধ অস্ত্র ও গুলি তৈরির কথা স্বীকার করেছেন। ৩ মাস ধরে অস্ত্র-গুলি তৈরি করছিলেন শাহাদত। তবে ক্রেতা কারা এ বিষয়ে মুখ খোলেন নি শাহাদত। ধারনা করা হচ্ছে, অস্ত্র তৈরি করে গোপনে দেশের বিভিন্ন স্থানের সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রি করে থাকেন শাহাদত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অস্ত্র-গুলি তৈরির ঘটনায় আটক কারিগর শাহাদতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেছে ডিবি পুলিশ। ২৮ মার্চ (মঙ্গলবার) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত বছর শহরের আর এন রোড সংলগ্ন রাঙ্গামাটি গ্যারেজ এলাকার একটি লেদ কারখানায় অস্ত্র তৈরিকালে কারিগর আজিজুলসহ ৩ জন এবং সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রাম থেকে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ ইকবাল নামে আরেক কারিগরকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পৃথক এই অভিযানে সরঞ্জামসহ কারিগররা ধরা পড়লেও এসব অবৈধ অস্ত্রের ক্রেতা আসলে কারা সেই বিষয়ে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানের সন্ত্রাসীরাই এর ক্রেতা। কিন্তু এসব ক্রেতাকে শনাক্ত ও আটকসহ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি কখনো।

নাঙ্গলকোটে পুলিশ সাংবাদিকের সাহায্যে মাটি খেকোদের রমরমা ব্যবসা- ড্রেজার গিলে খাচ্ছে কৃষকের আবাদী জমি- কৃষকের মাথায় হাত

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বাঙ্গড্ডার পল্লী বিদ্যুৎ সাব স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ফসলী জমি থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে গত দেড়মাস ধরে বালু উত্তোলন করছে মাটি খেকো সোহাগ,আব্দুল মান্নান ও মোজাম্মেল গংরা।

জানাযায়; একই ইউনিয়নের গান্দাচি গ্রামের মাটি খেকো সোহাগ বেপারী, শ্যামপুর গ্রামের মাটি খেকো আব্দুল মান্নান ও পেরিয়া ইউনিয়নের যুগীপুকুরিয়া গ্রামের মোজাম্মেল ৩টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রায় দেড়মাস ধরে তিন ফসলী জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।

এব্যাপারে নিরব উপজেলা প্রসাশন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান; এই বালু উত্তোলনের কারণে অনেক সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আশে পাশের ফসলী জমি গুলো নষ্ট হচ্ছে তাই স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি তারা যেন দ্রুত এই ডেজার মেশিন গুলো বন্ধ করে এবং যারা ড্রেজার মেশিন পরিচালনা করছে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা আহ্বান জানান তারা।

ড্রেজার মেশিন পরিচালনাকারি আব্দুল মান্নানকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন; উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার আশরাফুল হকের অনুমতি ক্রমে আমরা এই ড্রেজার মেশিন চালাচ্ছি, কিছু জানতে চাইলে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

মাটি খেকো সোহাগ বেপারী বলেন; আমি ইউনো ও এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলেন তাদের অনুমতি ক্রমে আমি ড্রেজার মেশিন চালাইতেছি, কিছু জানার থাকলে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

আরেক ড্রেজার মেশিন পরিচলানকারি মোজাম্মেল বলেন;আমরা পুলিশকে ২৫ হাজার টাকা ও সাংবাদিকদের ৫ হাজার টাকা দিয়েছি, তারা অনুমতি দিয়েছে ড্রেজার মেশিন চালোনোর জন্য।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের কাছে পুলিশ টাকা নিয়েছে বলে জানতে চাইলে তিনি বলেন;এটার সাথে পুলিশের কোন সম্পর্ক নেই,আপনার কাছে কোন প্রমাণ থাকলে সন্ধায় নিয়ে আসুন আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

এবিষয়ে জানতে;নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান মেহবুব ও উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা আশরাফুল হককে একাদিকবার ফোন করে পাওয়া যায়নি।

মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে পাঠিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায় নি।

মধুমতি নদী থেকে বালু উত্তোলনের ভিডিও করার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

//শ্যামল বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা//

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার শিরগ্রাম এলাকায় প্রবাহিত মধুমতি নদী থেকে প্রতিনিয়ত বালি উত্তোলন করে একটি চক্র সেই চক্রের প্রধান  সেলিম। সেলিমের বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে। এছাড়া সেলিমের রয়েছে বেশ কয়েকজন সহযোগী যাদের মাধ্যম দিয়েই মধুমতি নদী থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হয় ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে জানানোর পরেও কোনরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। শুধু তাই নয় যদি জানতে পারে কে প্রশাসনকে খবর দিয়েছে তাদেরকেও বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো হয়।

আজ (১৮ই মার্চ রোজ শনিবার)  শিরগ্রাম সুইচগেট সংলগ্ন মধুমতি নদীতে বালি উত্তোলনের সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিতে চাই শাওন নামের এক যুবক। শাওন শিরগ্রাম এলাকার ছেলে।

এছাড়া বালি উত্তোলনের শ্রমিকদের  সাথে কোন প্রকার কথা বললে মারধরের হুমকি দেয় শাওন।

কে দিচ্ছে এই দূর সাহস?  কার ছত্র-ছায়ায় চলছে এই বালু উত্তোলন মহম্মদপুরের জনগণ জানতে চাই!

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বালু উত্তোলন বন্ধ করে নদী ভাঙ্গন রক্ষা করতে সদয় হন।

ডুমুরিয়ায় চিংড়িতে অপদ্রব‍্য পুশ ভ্রাম‍্যমান আদালত। ডিপো মালিককে৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডুমুরিয়া//

ডুমুরিয়ায় চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে  এক মৎস্য ডিপো মালিক কে জেল-জরিমানা ধার্য্য করা হয়েছে।

৭ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আফরোজ শাহীন খসরু’র নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

 আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,  উপজেলা সদর বাজারের  প্রাক্তন ট্রলার ঘাট এলাকায় চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করছে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালত।

এ সময় মো: নুর ইসলাম শেখের মৎস্য ডিপোতে অপদ্রব্য পুশ করার সময় হাতে নাতে ধরে তাকে  ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং  ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অপদ্রব্য পুশকৃত চিংড়ি ও সরঞ্জামাদি আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক,উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী নাসির উদ্দীন সানা,থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দ।

বাগেরহাটে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট উদ্যোক্তা গ্রাহকদের দেড় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা 

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

বাগেরহাটে গ্রাহকদের দেড় কোটি টাকা নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের যাত্রাপুর বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার উদ্যোক্তা হাদিউজ্জামান পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার দুপুর থেকে গ্রাহকেরা সদর উপজেলার যাত্রাপুর বাজারের অবস্থিত ব্যাংকটির কার্যালয়ে ভিড় করেন। এ সময় অনলাইনে নিজের হিসাবে টাকা না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। হাদিউজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে টাকা আদায় করার জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং ইনচার্জ ও অন্য কর্মচারীদের কাছে দাবি জানান তাঁরা।

এ ঘটনায় হাদিউজ্জামান ও তাঁর পরিবারের লোকজন কয়েক দিন ধরে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। একাধিকবার কল করে হাদিউজ্জামানের মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

ইসলামী ব্যাংক বাগেরহাট শাখার ব্যবস্থাপক শেখ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা বাগেরহাট মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। অভিযুক্ত উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

শেখ তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এখানে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন করতে হয়। বিষয়টি ব্যাংক উদ্বোধনের সময় আমরা বলেছি। এ ছাড়া ব্যাংক কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে পরিদর্শনে গিয়েও গ্রাহকদের জানিয়েছেন। উদ্যোক্তারা প্রতারণার মাধ্যমে জমা স্লিপ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে উদ্যোক্তাদের ব্যাংকের স্লিপ ব্যবহার করার কোনো ‍নিয়ম নেই। গ্রাহকদের মধ্যেও কেউ কেউ অতিরিক্ত লাভের জন্য তাঁকে টাকা দিয়েছেন।’ ভবিষ্যতে এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রাহকদের এই ধরনের লেনদেন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন তিনি।

গ্রাহকদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ওই শাখায় টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলেন তাঁরা। ব্যাংক থেকে জমা রসিদও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংকের উদ্যোক্তা হাদিউজ্জামান এই টাকা মূল শাখায় জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেন।

এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ইনচার্জ মো. আবদুল হালিম বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে শাখাটি খোলা হয়। তানিশা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাদিউজ্জামান এটি নেন। আমাদের ২ হাজার ৬০০ জনের মতো গ্রাহক রয়েছেন, যাঁদের ডিপোজিটের পরিমাণ ৬ কোটি টাকার ওপরে। এসব গ্রাহকের জমা দেওয়া টাকা আমরা নিয়মানুযায়ী ব্যাংকে জমা দিয়েছি। কিন্তু কিছু গ্রাহকদের টাকা ব্যাংকের উদ্যোক্তা হাদিউজ্জামান নিজে নিয়ে অন্য খাতে ব্যয় করেছেন। এই টাকার বিপরীতে উদ্যোক্তা নিজে ও আমাদের দিয়ে গ্রাহকদের ব্যাংকের স্লিপ দিয়েছেন।’

হাদিউজ্জামানের নেওয়া গ্রাহকদের টাকার পরিমাণ দেড় কোটির মতো হতে পারে জানিয়ে আবদুল হালিম আরও বলেন, ‘হাদিউজ্জামান দুই মাস ধরে ব্যাংকে আসেন না। গ্রাহকেরা টাকা নিতে এলে অন্য গ্রাহকদের টাকা দিয়ে সমন্বয় করতে বলেন। আমরা সেভাবেই করেছি। সর্বশেষ কয়েক দিন আগে অনেক চেষ্টা করে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব জমি বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করে দেবেন।’

সাবানা বেগম নামের এক নারী গ্রাহক বলেন, ‘সাড়ে চার লাখ টাকা রেখেছিলাম ব্যাংকে। এই টাকার লাভে আমার সংসারের বেশির ভাগ খরচ চলত। কিন্তু ব্যাংকে এসে জানলাম, আমার হিসাবে কোনো টাকা জমা নেই। আমাদের অন্য কোনো আয় নেই। স্বামী পঙ্গু। হাঁটতে পারেন না। এখন আমাদের সংসার কীভাবে চলবে ভেবে পাই না।’

যাত্রাপুর এলাকার মনোয়ারা বেগম, তাঁর চাচা ও ফুফু মিলে ২৩ লাখ টাকা রেখেছেন ব্যাংকটিতে। মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আজ এসে ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে দেখি, হিসাবে কোনো টাকা নেই। এত টাকা হারিয়ে পরিবারের সবাই এখন খুবই চিন্তিত। কী হবে জানি না।’

বাগদিয়া এলাকার আজিজুল হক নামের একজন কৃষক ৫০ হাজার টাকা রেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এসে শুনছি, টাকা নেই। এভাবে হলে কীভাবে আমরা টাকাপয়সা সঞ্চয় করব?’

উপ সচিব পরিচয়ে এমপির অফিসে প্রতারণায় আটক

//আ: রাজ্জাক শেখ//

উপ সচিব পরিচয়ে খুলনা-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আব্দুস সালাম মূর্শেদীর অফিসে প্রতারণার অভিযোগে এক প্রতারককে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে মো: দ্বীন ইসলাম হোসেন (২২) ওরফে সুমন নামে এক প্রতারক প্রধানমন্ত্রী বরাবর কিছু কাগজ-পত্র নিয়ে এমপি সালাম মূর্শেদীর অফিসে আসেন এবং নিজেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তার পদবি জানতে চাইলে তিনি প্রথমে নিজেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর সহকারী হিসেবে পরিচয় দেন এবং তার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে সেখানে দেখা যায় “উপ সচিব অর্থ ও উন্নয়ন, জন প্রসাশন মন্ত্রণালয়” লেখা।

তাৎক্ষণিক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই নামে তাদের কোন কর্মকর্তা নেই। পরবর্তিতে ডিএমপির কলাবাগান থানার পুলিশের নিকট তাকে সোপর্দ করা হয়।