বাগেরহাটে ডিআইজির ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাসী হামলা, চার নারী আহত

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদাইড় গ্রামে ডিআইজি ভাইায়ের ভয় দেখিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বাবু নামের এক পাতি নেতা। শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কুলিয়াদাইড় গ্রামে বাবু সরদারের নেতৃত্বে অনন্ত রাজবংশীর বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর জখম হন মৃত্তিকা রাজবংশী নামে এক গৃহবধূ। মৃত্তিকা রাজবংশী বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের অনন্ত রাজবংশীর স্ত্রী। হামলায় বাকি আহতরা হলেন অহনা রাজবংশী, কল্পনা রাজবংশী ও চন্দনা রাজবংশী।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মৃত্তিকা রাজবংশীর স্বামী অনন্ত রাজবংশী বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত বাবু সরদারের ভাই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রতিনিয়ত এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে থাকেন বলে অনন্ত রাজবংশী অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, অনন্ত রাজবংশীর ছোট ভাই সুকুমার রাজবংশীর স্ত্রীর সাথে শুক্রবার দুপুরে পরিবারের সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। এতে সুকুমারের স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয় ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি প্রদান করে। এর কিছুক্ষণ পরেই বাবু সরদারের নেতৃত্বে স্থানীয় সামাদ, জাহাঙ্গীর, আশিস, মিলন, খোকন, ভগিরথ, হৃদয় ও জয় কৃষ্ণ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেআইনিভাবে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে। তারা বাড়িতে মহিলাদের উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। হামলাকারীরা গৃহবধূ মৃত্তিকাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে এছাড়া অহনা, কল্পনা ও চন্দনাকে মারধর করে ও পরনের কাপড় ছিড়ে ফেলে। পরে সন্ত্রাসীরা বেআইনিভাবে বসত ঘরে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহতদের বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবু সরদারের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তাকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি। বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খুলনা রূপসায় সাব্বির নামে এক যুবককে গুলি, এলাকায় আতঙ্ক

//বিশেষ প্রতিনিধি//

খুলনা রূপসায় সাব্বির (২৭) নামের এক যুবক সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারাত্মক আহত হয়েছে। গতকাল রাতে রূপসা উপজেলার জয়পুর গামের হেলার বটতলা ঈদগাহ ময়দান রোডে এই গুলির ঘটনা ঘটে। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, শনিবার রাত আনুমানিক ৭টার সময় স্থানীয় কৃষক কাদেরের পুত্র সাব্বির মোটরসাইকেল যোগে তার বাড়ি সামনে পৌঁছাইলে দুটি মোটরসাইকেলের চারজন যুবক প্রথমে তার প্রতিরোধ করে এবং তাকে তাদের গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করে। সাব্বির বিষয়টি বুঝতে পেরে মোটরসাইকেল ছেড়ে পাঠানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে ১টী গুলি করে। গুলিটি তার শরীরের পিছনে লেগে সে মারাত্মক যখম প্রাপ্ত হয়। স্থানীয়লোকজন তাকে প্রাথমিক অবস্থায় রূপসা থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতিতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রেরণ করা হয়েছে। আহত সাব্বির ইতিপূর্বে ডেইলি ভিত্তিতে কাজ করতো অতি সম্প্রতি যে ব্যবসা করছে বলে স্থানীয় জানান ,তবে তিনি কিসের ব্যবসা করেন সে ব্যাপারে তারা কিছু জানাতে পারেননি।

খবর পেয়ে রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মনিরুল ইসলাম ও কিসমত খুলনা ফাঁড়ির আইসি এস আই শফিকুল ইসলাম সহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গুলির প্রকৃত ঘটনায় কেউ কোনো কিছু স্পষ্ট করে বলতে পারেনি। তবে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে মাদক বিকিকিনি নিয়ে এই গুলির ঘটনা ঘটতে পারে।

কচুয়ায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আটক -১

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট//

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মঘিয়া গ্রামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় এক জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে মঘিয়ার আইউব আলী শেখের ছেলে নাইমুল শেখকে আটক করেছে কচুয়া থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার উপজেলার মঘিয়ার গোলাম মোস্তফার ছেলে রায়হান বাদী হয়ে ওবায়দুল শেখ (৩৫), আইয়ুব আলী ফকির (৪৫), সাখাওয়াত ফকির (৫৬) নাইমুল শেখকে (৩০) ও সপ্না বেগম (৫৫)কে আসামী করে কচুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে মঘিয়া ইউনিয়নের ওবায়দুল শেখ এর নেতৃত্বে নাঈম শেখসহ স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় হামলা, চাঁদাবাজ, ঘের দখল, লুটপাটসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ১৩ ডিসেম্বর সকালে মঘিয়া ইউনিয়নের গোলাম মোস্তফার (৬৮) স্ত্রীর নামে সম্পত্তি দখল করার উদ্দেশ্যে জমিতে চাষাবাদ করতে আসে ওবায়দুল শেখের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল সন্ত্রাসী। এতে গোলাম মোস্তফা ও তার দুই ছেলে জমিতে চাষাবাদের কাজ করতে নিষেধ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আসামী মোঃ ওবায়দুল শেখ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে গোলাম মোস্তফা তার বড় ছেলে আল ইমরান ও ছোট ছেলে রায়হান রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গোলাম মোস্তফাকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় গোলাম মোস্তফার মেজো ছেলে গোলাম মর্তুজা বলেন, আমার পিতা ও বড় ভাইকে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে যখন করেছে। এখনো আমার পিতা গুরুতর মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি জানান, আমার পরিবার কোন রাজনীতির দলের সাথে সম্পৃক্ততা নয়। সন্ত্রাসীরা আমার মায়ের নামের সম্পত্তি দখল করতে এসে বেআইনিভাবে আমাদের উপর হামলা করে। এর সঠিক বিচার ও বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ রাশেদুল আলম বলেন, হামলার ঘটনায় মামলায় আমরা নাইমুল শেখকে আটক করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। আরো জানান, আটক নাঈম শেখের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

Daily World News

কচুয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩ যুবক আটক

রামপালে হামলায় ১৬ ভূমিহীন আহত

রামপালে হামলায় ১৬ ভূমিহীন আহত

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

রামপালে কথিত ভূমিহীনের হামলায় প্রকৃত ভূমিহীন নারীসহ ১৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

আহতরা হলেন, উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ওমর ফারুক (৩৫), নজরুল পাটোয়ারি (৬৫), রিপন শেখ (৩২), মতলেব শেখ (২২), সোহেল শেখ (২২), আহমদ আলী ((২২), শরীফা বেগম (৩০), মনিরা বেগম (২৫), মতিরুল ইসলাম (৫৫), খাদিজা বেগম (২৪), নিলুফা বেগম (২৪), রিক্তা বেগম (৩০), সুমাইয়া বেগম (২০), জেসমিন বেগম (৪৫), রিজিয়া বেগম (৫০) ও জাহাঙ্গীর মোড়ল (৪০)। তাদের রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের প্রায় ৮৩ জন ভূমিহীন পরিবারের সদস্য গোবিন্দপুর মৌজার চরভরাটি জমি সরকারিভাবে বন্দোবস্ত পান। সরকারিভাবে ১৯৯৪-৯৫ সালে প্রত্যেক ভূমিহীন পরিবারকে ৪৪ শতাংশ করে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতা সাবেক বাইনতলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ ফকিরের হস্তক্ষেপে ৮৩ জন ভূমিহীন জমি থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন।

গত জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পর প্রকৃত ভূমিহীনেরা তাদের বন্দোবস্ত পাওয়া জমি ফিরে পাওয়ার জন্যে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও যৌথবাহিনীর নিকট আবেদন করেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফতাব আহমেদ সরোজমিনে গিয়ে মাপজোক করে লাল নিশান টানিয়ে দেন ও চিহ্নিত দাগের জমি ভূমিহীনদের বুঝিয়ে দেন। ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা তাদের জমিতে গেলে কথিত ভূমিহীনরা বাধা দেন। ওই ভূমিদস্যুরা জমি দখলে রেখে উল্টো বিএনপি নেতা আলী আকবার সম্রাট ও জামায়াত নেতা বাদশাহ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন।

আহত ভূমিহীন মতিরুল ও রিপন শেখ জানান, ৩০ বছর আগে আমরা সরকারিভাবে ৪৪ শতাংশ করে চরভরাটি জমি প্রকৃত ভূমিহীন হিসেবে বন্দোবস্ত পাই। ওই জমি দখল নিতে গেলে প্রভাবশালী বাইনতলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ ফকির বাধা দেন। পরে গত ৫ আগস্টের পর আমরা জমিতে যাওয়ার জন্যে প্রশাসনের শরণাপন্ন হই। তারা আমাদের জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করে দেন। আমরা বৃহস্পতিবার বিকেলে জমিতে গেলে আমাদের ওপর তারা হামলা করে। তেলীখালী গ্রামের ভূমিদস্যু শিফার শেখ, শেখ হাসান, আলামিন, ফিরোজা বেগমসহ প্রায় দুই শতাধিক গ্রামবাসী হামলায় অংশ নেন। আমরা তখন নিরুপায় হয়ে ফয়লা পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনা ক্যাম্পকে অবহিত করি।

অভিযুক্ত শিফার শেখ, শেখ হাসান ও আলামিন বলেন, আমরাও ভূমিহীন। আমাদের কোন জমি নেই। আমরা তাদের ওপর হামলা করিনি।

এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি মো. সেলিম রেজা জানান, আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি।

Daily World News

বিগত সরকার পতনের পর বাংলাদেশে এখন শান্তির সুবাতাস প্রবাহিত হচ্ছে….. রূপসায় আজিজুল বারী হেলাল

বাগেরহাটে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

বাগেরহাটে মোড়লগঞ্জে ঘর থেকে স্বর্না আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন পুলিশ।

রবিবার (১৫ ) ডিসেম্বর সকালে মরদেহ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ বেড হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত কিশোরী উপজেলার বিশারীঘাটা গ্রামের হেমায়েত শেখের প্রথম পক্ষের সন্তান। নিহত স্বর্না আক্তারের বাবা হেমায়েত শেখ ও সৎ মা রাশিদা বেগম জানান, বাড়ির একটি ফাঁকা ঘরে স্বর্নার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায় বলে দাবি করেছেন ।

তবে, ডালিয়া বেগম স্বর্না মৃত্যু রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন। মোড়লগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ রাকিবুল ইসলাম জানান, স্বার্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে । তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহের ময়না তদন্ত করা হচ্ছে।

ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।।

মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নে গ্রামপুলিশ নাসিম খান কালুর অপকর্ম যেনো থেমেই নেই

//বিশেষ প্রতিনিধি:জেনিভা প্রিয়ানা//

রামপাল উপজেলাধীন মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে। শিশু নির্যাতন মামলার আসামি গ্রামপুলিশ নাসিম খান কালুর অপকর্ম যেনো থেমেই নেই। গ্রামে একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছেন তিনি।

রবিবার দুপুর ২.৫০ মিনিট এর সময় পারিবারিক কোলহলে তাহার আপন বড় ভাই মোঃ দেলোয়ার খানের ছেলে ঝিলাম খানকে বাঁশ ও দাও দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। নাসিম খান কালুর আঘাতে ঝিলাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মাথার আঘাত গুরুতর হওয়ায় বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দাও এর আঘাতে তাহার মাথা কেঁটে যায় ক্ষত স্থানে ছয়টি সেলাই লাগে। বর্তমানে তিনি বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ভুক্তভোগী ঝিলামের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে, তিনি বলেন যে, আমাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিবে এইকথা বলে আমাকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন এবং পরে দাও দিয়ে মাথার পিছনে কোপ দেন। আমি প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার চাই।

নাসিম খান কালুর মুঠোফোনে কয় একবার ফোন দেওয়া হলেও তাকে পাইয়া যায় নাই।

বাগেরহাটে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে শিশু শিক্ষার্থী আহত

//বিশেষ প্রতিনিধি : জেনিভা প্রিয়ানা//

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেয়ায় শিক্ষক সোহাগ মোল্লার বেদম প্রহারে আব্দুল্লাহ আল প্রিন্স নামে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে ওই শিক্ষার্থী শরীরচর্চা’র অমনোযোগী লক্ষ্য থাকার কারণে প্রধান শিক্ষকের বেত্রাঘাতের শিকার হয়। আহত শিক্ষার্থী উপজেলার আডুয়াবনী গ্রামের মো. শহীদ শেখের ছেলে। আব্দুল্লাহ আল প্রিন্স স্থানীয় এক চিকিৎসকের তত্তাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক উপজেলা সদরে অবস্থিত সানসাইন কিডস কেয়ার কিন্ডার গার্টেনের

পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে আব্দুল্লাহর পিতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে আহত শিশু শিক্ষার্থীর বাবা মো. শহীদ শেখ জানান, আব্দুল্লাহ আল প্রিন্স সানসাইন কিডস কেয়ারের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র। আনুমানিক দেড় মাস পূর্বে একদিন স্কুলে

অনুপস্থিত থাকার কারনে সানসাইন কিডস কেয়ারের পরিচালক সোহাগ মোল্লা তাকে অনুরুপ বেত্রাঘাত করেন। এ বিষয়ে ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তখন আব্দুল্লাহর পরিবার ওই শিক্ষককে কোন কিছু বলেননি। গত ২ ডিসেম্বর শরীরচর্চা করার সময় আব্দুল্লাহ শিক্ষক সোহাগের নির্দেশনা শুনতে পায়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সানসাইন কিডস কেয়ারের পরিচালক সোহাগ মোল্লা হ্যান্ডমাইক দিয়ে তাকে আঘাত করে। এ সময় সে ভয়ে দৌড় দিলে সোহাগ মোল্লা তার পিছু পিছু পিটাতে থাকে। ওই শিক্ষার্থী ঠেকাতে গেলে তার ডান হাতের কনুইয়ে মারাত্মক চোট লাগে। খবর শুনে আব্দুল্লার ফুফাতো বোন দৌড়ে গিয়ে আব্দুল্লাহকে জড়িয়ে ধরে শিক্ষক সোহাগের হাত থেকে রক্ষা করেন। বর্তমানে আব্দুল্লাহ ব্যাথায় হাত দিয়ে কোন কিছুই ধরতে বা কিছুই করতে পারছে না। আমি ছেলেকে চিকিৎসা জন্য নিলে ডাক্তার তাকে এক্স-রে করে হাতের ব্যান্ডেজ দিয়ে দিয়েছে। শিশুদের সাথে ধরনের অমানবিক আচারণ আমি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না। শিশু শিক্ষার্থীদের সাথে এ ধরনের আচরনের বিচার দাবি করছি। শুধু আমার ছেলেই নয় সে অন্য শিক্ষার্থীদের সাথে একই আচারণ করেন। তার ভয়ে কেহই মুখ খুলতে সাহস পায় না। সানসাইন কিডস কেয়ার কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক সোহাগ মোল্লা মারপিটের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সাথে আমরা খেলধুলা করি। হয়তো তখন কোন আঘাত লাগতে পারে।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, অভিযোগকারী ও আহত শিক্ষার্থী আমার কাছে এসেছিল। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পালের অফিসিয়াল মুঠোফোনে ফোন একধিকবার দিলে তিনি কলরিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডুমুরিয়ায় আততায়ির গুলিতে কলেজ ছাত্র গুলিবিদ্ধ

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি //
ডুমুরিয়ায় দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে নাঈম সানা (১৯) নামে এক ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত ওই যুবক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা সাতটায় উপজেলার শরাফপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মইখালী এলাকার খোশদেল সানার ছেলে নাঈম তার সহোদরকে নিয়ে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ধানিবুনিয়া কফি হাউজে ঘুরতে যান।এ সময় কফি পান শেষে মটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে শরাফপুর -কৈয়া সড়কের শরাফপুর বাজারের অদুরে শাহিনুর রহমানের অটো রাইস মিলের সামনে আসলে পিছন দিক থেকে ২টি দ্রুত গতিতে আসা মটরসাইকেল তার গতিরোধ করে এবং নঈম কে লক্ষ্য করে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলি তার মাজা ভেদ করে সে গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ওই রাতেই খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে কফি হাউজে নাঈমের সাথে কয়েক বন্ধুর সাথে  একটি বিষয় নিয়ে অনেক তর্কাতর্কি হয়েছিল বলে একটা সূত্র জানিয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে ওসি মোঃ মাসুদ রানা বলেন, খবর পেয়ে আমি সহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং অস্ত্রধারীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় এর আদ্যোপান্ত

//বিশেষ প্রতিবেদক//

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর বুকে গড়ে ওঠা সর্বপ্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সবচেয়ে প্রাচীন উচ্চ শিক্ষা কেন্দ্র।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় কে ধ্বং-স করেছিলো?

ঐতিহাসিক বিচারে নির্মোহ সত্যান্বেষণ।।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, গুপ্ত সাম্রাজ্য তথা ভারতীয় উপমহাদেশের এক সুপ্রাচীন নিদর্শন এবং প্রাচীন বিশ্বের জ্ঞানবিজ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা হয় ৪১৩ খ্রিস্টাব্দে। সেসময় এমন সুসজ্জিত ও পূর্ণাঙ্গ আর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব ইতিহাস ঘেটে পাওয়া যায় না। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, সেসময় এই অঞ্চলে গুপ্তদের শাসনামল চলছিল। সেই অনুযায়ী, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সম্রাট কুমারগুপ্তকেই ধরে নেওয়া হয় যা পরবর্তীতে স্কন্ধগুপ্তের হাত ধরে আরও বিস্তৃত হয়। পরবর্তীতে পাল রাজাদের আমলে শিক্ষা-দীক্ষায় বেশ অগ্রগতি লাভ করে নালন্দা। ধর্মপালের সময়ে বিক্রমশীলা, সোমপুর ও ওদন্তপুরী প্রতিষ্ঠিত হলে তা নালন্দা মহাবিহারের জ্ঞানচর্চার গতিকে আরও ত্বরান্বিত করে৷ পাল রাজাদের আমলে বৌদ্ধ দর্শনের প্রভাবও বাড়তে থাকে।

নালন্দা ধ্বংসের আদ্যোপান্ত:

জ্ঞানবিজ্ঞানের পীঠস্থান নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বহি:শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে একাধিকবার তবে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ধ্বংসাত্মক আক্রমণ একবার-ই হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় উল্লেখযোগ্য তিনটি আক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। তথ্যানুযায়ী নালন্দা প্রথম আক্রান্ত হয় মিহিরকুলের নেতৃত্বে হুনদের দ্বারা, তারপর আক্রান্ত হয় বঙ্গাধীপতি শশাঙ্কের সেনাবাহিনী দ্বারা এবং পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় আফগান দস্যু বখতিয়ারের সেনাবাহিনী দ্বারা।

চলুন এবার ধারাবাহিক তথ্য বিশ্লেষণ করি। আমাদের মূল অভিপ্রায় থাকবে মোটামুটি প্রাইমারি সোর্স থেকেই সত্যানুসন্ধান করার।

১/ হুনদের দ্বারা আক্রান্ত: প্রথমবার নালন্দা আক্রান্ত হয় গুপ্ত সম্রাট স্কন্দগুপ্তের সময়ে। হুনরা মিহিরকুলের নেতৃত্বে ৪৫৫-৪৫৬ খ্রিষ্টাব্দে নালন্দা আক্রমণ করেছিলেন। সেই সময় শক, হুন, ইত্যাদি বহিরাগতরা প্রায়শই ভারত আক্রমণ করত। তবে স্কন্দগুপ্ত ও তার পরবর্তী রাজারা নালন্দাকে পুনরায় নির্মাণ করে আরও সমৃদ্ধ করেছিলেন। কারণ তিব্বতীয় চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং (জুয়ানযাঙ্গ) সপ্তম শতকে যখন ভারত ভ্রমণে আসেন তখন নালন্দা হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষকে পরিপূর্ণ ছিলো।

২/ বঙ্গাধীপতি শশাঙ্ক দ্বারা আক্রান্ত: দ্বিতীয়বার নালন্দা আক্রান্ত হয় বঙ্গাধীপতি শশাঙ্কের সেনাবাহিনী দ্বারা৷ সম্ভবত বঙ্গরাজ শশাঙ্ক মগধ আক্রমণের সময় নালন্দা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে নালন্দা ধ্বংস হয় নি। তাছাড়া শশাঙ্কের উদ্দেশ্যও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করা ছিলো না। যদি তা-ই হতো তবে বঙ্গের রাজধানী কর্ণসুবর্ণের নিকটে “রক্তমৃত্তিকা” মহাবিহারও ধ্বংস করে দিতেন। সপ্তম শতকেই ভারতে আসেন তিব্বতীয় চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাঙ (জুয়ানযাঙ্গ) এবং শীলভদ্রের অধীনে পড়াশোনাও করেন। তাঁর বর্ণনায় পাওয়া যায় সেসময় নালন্দার ১০০টি শ্রেণিকক্ষে প্রায় ২,০০০ শিক্ষকের অধীনে ২০,০০০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতো। হিউয়েন সাং ভারত থেকে ফেরার সময় শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ তে যান এবং এর পর উড়িষ্যা দিয়ে চীনে ফিরে যান। শশাঙ্ক যদি বৌদ্ধ বিদ্বেষী হতেন তবে হিউয়েন সাং কর্ণসুবর্ণে প্রবেশ করতে পারতেন না। উল্লেখ্য যে শশাঙ্ক যদি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসই করে দিতেন তবে হিউয়েন সাং ভারত থেকে ফেরার সময় ছয় শতাধিক ভারতীয় গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি নিয়ে যেতে পারতেন না। স্যামুয়েল বিল হিউয়েন সাঙের মূল রচনার ইংরেজি অনুবাদ করে “Si-Yu-Ki: Buddhist Records of the Western World” নামে প্রকাশ করেন। তাছাড়া বঙ্গাধীপতি শশাঙ্ক নালন্দা আক্রমণ করেছেন এমন কোন ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না প্রাথমিক সোর্স থেকে।

৩/ আফগান দস্যু বখতিয়ারের সেনাবাহিনী দ্বারা আক্রান্ত: তৃতীয় আক্রমণ তথা ভয়ংকর ধ্বংসলীলা সংগঠিত হয়েছিল তুর্কী দস্যু বখতিয়ারের সেনাবাহিনী কর্তৃক। নালন্দা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়, প্রচুর পুস্তক ও ভিক্ষুদের আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। কিছু ভিক্ষু তিব্বত/নেপালে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করে। এই জন্যই বাংলার প্রাচীনতম পুস্তক চর্যাপদ বাংলা/বিহারে পাওয়া যায় না; চর্যাপদ উদ্ধার করা হয় নেপাল থেকে। তুর্কী দস্যু বখতিয়ারের সেনাবাহিনী যে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পুড়িয়েছিলো তার প্রমাণ মোটামুটি সকল প্রাথমিক সোর্স থেকেই পাওয়া যায়।

★ বখতিয়ার খিলজির সেনাবাহিনীর হাতেই যে নালন্দা মহাবিহার ধ্বংস হয়েছিলো তার প্রমাণ হিসেবে ফারসি ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ তাঁর তাবাকাত-ই-নাসিরি গ্রন্থেই নথিভুক্ত করেছিলেন। এই বইটি ত্রয়োদশ শতকে রচিত, পরবর্তীতে ১৮৭৩ সালে সেটা মেজর এইচ.জি. রাভেট্রি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। মিনহাজ লিখেছেন,

“মুহাম্মদ-ই-বখত-ইয়ার দুর্গটি দখল করে এবং ভীষণ লুট করে। সেখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দা ছিলো ব্রাহ্মণ এবং সকলের মাথা ছিলো মুণ্ডিত যাদের সবাইকেই হত্যা করতে৷ সেখানে বিশাল সংখ্যক পুস্তক ছিলো৷ যখন সবগুলো বই মুসলমানদের হাতে এলো এই বিষয়ক তথ্যের জন্য অনেক হিন্দুদের আনা হলো এবং সবাইকে হত্যা করা হলো। পরে, জানা গেলো এই দুর্গ এবং শহরটি ছিলো একটি কলেজ এবং হিন্দু ভাষায় এই কলেজকে বিহার বলা হতো৷ সেখানকার হাজার হাজার সন্ন্যাসীকে পুড়িয়ে মারা হলো এবং জীবতদের শিরোচ্ছেদ করা হলো। খিলজি তলোয়ারের মুখে বৌদ্ধদের উৎখাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলো৷ সেখানকার লাইব্রেরি মাসব্যাপী পুড়েছিলো এবং দগ্ধ পুস্তকের ধোঁয়ায় আশেপাশের পাহাড়গুলো অন্ধকার হয়ে গিয়েছিলো।”

★ দ্বিতীয় সোর্স হিসেবে রয়েছে সুব্রহ্মণ্য রচিত “নালন্দাদহন” নাটিকা। তিব্বতীয় বজ্রযানী বৌদ্ধদের শাস্ত্র “পিটক” এ এই নাটিকাটি সংকলিত আছে। বজ্রযানী সকল পিটক উরগ্যেন লিংপার হাত ধরেই পূর্ণতা পেয়েছিলো। উরগ্যেন লিংপা বহু হারিয়ে যাওয়া শাস্ত্রগ্রন্থের পান্ডুলিপি সংগ্রহ করে সংকলন করতেন, তিনি চতুর্দশ শতকের ব্যক্তি। তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে “নালন্দাদহন” নাটিকাটি অবশ্যই ত্রয়োদশ শতকের হবে যা প্রাথমিক সোর্স হিসেবে গ্রহণ করা যায়। নাটকের দ্বিতীয় দৃশ্যে দেখা যায়, তুরষ্ক সেনাসমুদ্র নালন্দার রাজদ্বারে প্রবেশ করিল। তাহাদিগের যত অশ্বারোহী তরবারির অগ্রে ভিক্ষুদের কাটিতে ও পুড়াইতে লাগিল।

এক বরিষ্ঠ ভিক্ষু সেই ঘোর জঘন্য কার্য্যের বর্ণনা করিলেন : —

“তুরষ্কবর্গ বায়ুবেগে আসিল এবং তদীয় শত্রু চূর্ণ করিতে লাগিল। সহস্র সহস্র ভিক্ষুকে কাটিয়া তাহারা যেন হত্যাযজ্ঞব্রত ধারণ করিয়াছে।”

সেনাপতি পুস্তকালয় দহনে উদ্যত দেখিয়া পুস্তকালয়ের অধ্যক্ষা ভিক্ষুণী ভাগেশ্বরী তাঁর কাছে প্রার্থনা করিলেন : —

“হে মহামতি মহাসেনাপতি! পুড়াইও না! শত সহস্র বিদ্বানের সাধনধনসঞ্চিত এই জ্ঞানভাণ্ডার পুড়াইও না। আমরা স্বল্পায়ু মানুষ, সাধন‌ও স্বল্প; তথাপি কোটি কোটি জ্ঞাননিমগ্ন বিদ্বানের জ্ঞান দ্বারা বর্ধিত এই ভাণ্ডার অখিলহিতকারী। তোমাদিগের দেশের পণ্ডিতরাও এইসকল খণ্ডন করিতে পারেন। এ যে শাস্ত্রের অকৃত্রিম ভাণ্ডার!”

(নাটিকার অনুবাদক: Koyel Writes)

★ তৃতীয় সোর্স হিসেবে আচার্য ধর্মস্বামীর বায়োগ্রাফি ব্যবহার করা যায়। উনার বায়োগ্রাফী “Upasaka Chos-dar” এর মূল তিব্বতীয় পাণ্ডুলিপি ইংরেজি অনুবাদ করেন Dr. George Roerich যেটা ১৯৫৯ সালে জয়সাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, পাটনা থেকে প্রকাশিত হয়। ধর্মস্বামী ১২৩৩/১২৩৪ সালে ভারতে আসেন এবং ওদন্তপুরীতে গিয়ে দেখেন সেটা একজন তুর্কী (এক আফগান সম্প্রদায়) সেনা কমান্ডারের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তুর্কী সেনারা বিক্রমশীলা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। তুর্কীদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত নালন্দার ৮০টি ছোট বিহার বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় রাজা বুদ্ধসেনার অর্থায়নে মাত্র দুটো বিহারের কার্যক্রম চলমান ছিলো। এগুলো পরিচালনা করতেন ৯০ বছর বয়স্ক সন্ন্যাসী রাহুল শ্রীভদ্র, আচার্য ধর্মস্বামী উনারই শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। আচার্য ধর্মস্বামী চাগ লোতস্বা নামেও পরিচিত ছিলেন।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে বখতিয়ার খিলজির সেনাবাহিনী দ্বারাই নালন্দার বড় বড় বিহারগুলো ধ্বংস হয় এবং খিলজি মারা যাওয়ার পরও তুর্কী সেনাবাহিনী নালন্দার সম্পূর্ণ এলাকা দখল করে রেখেছিলো। অনেকে বলার চেষ্টা করে তুর্কী আক্রমণের পরও নালন্দা টিকে ছিলো। আচার্য ধর্মস্বামী ১২৩৩/১২৩৪ সালে যখন নলন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণে আসেন তিনি দেখেন যে ৯০ বছর বয়স্ক রাহুল শ্রীভদ্র মাত্র ৭০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা করছেন। তার উপস্থিতিতেই তুর্কী সৈন্যদের দ্বারা নালন্দা আবার আক্রান্ত হয় এবং সকল শিক্ষার্থী পলায়ন করে।

মন্তব্য: এই ছিলো মোটামুটি নালন্দা ও তার পার্শ্ববর্তী বিহারগুলোর ধ্বংসের প্রাথমিক ইতিহাস যেখানে ঘুরেফিরে বখতিয়ার ও তার সেনাবাহিনী এবং তার উত্তরসূরীদের জড়িত থাকার ইতিহাস স্পষ্ট। অনেকে বলে নালন্দা মহাবিহার কেবল বৌদ্ধ স্থাপনা, হিন্দুদের কোন অধিকার নেই। অথচ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় হিন্দু রাজা কুমারগুপ্তের সময় এবং নালন্দা চুড়ান্ত উৎকর্ষতা লাভ করে স্কন্দগুপ্তের হাত ধরে। পরবর্তীতে অষ্টম শতকে পাল রাজা ধর্মপাল আরও কিছু বিহার স্থাপন করে নালন্দাকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা নালন্দায় রাখা হিন্দু দেববিগ্রহগুলোরও অনাদর করতেন না। নালন্দার প্রত্নতাত্ত্বিক খননে গণেশ, চামুণ্ডা, উমা-মহেশ্বর, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, বুদ্ধ ও সূর্য বিগ্রহ পাওয়া যায়। কলমে: অনিক কুমার সাহা

Daily World News

এনআইডি কার্ড জালিয়াতি করে ও বোনের জেএসসি সনদপত্র ব্যবহার করে খুর্শিদা আক্তারের ডিপ্লোমা নার্সিং ডিগ্রী

কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণের পর শ্বাস রোধ করে মারা হয় চিকিৎসক মৌমিতাকে

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার নারী চিকিৎসককে শ্বাস রোধ করে মারা হয়েছিল। তাঁর শরীরের বহিরাংশে ১৬টি ও ভেতর ৯টি ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যৌন নির্যাতনেরও আলামত পাওয়া গেছে।

৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে ৭টা ১০ মিনিটের মধ্যে এই ময়নাতদন্ত করা হয়। আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসকেরাই এই ময়নাতদন্ত করেন। আজ সোমবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়ে খবর প্রকাশ করে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাক-মুখ বন্ধ করে শ্বাস রোধ করার কারণেই (ওই চিকিৎসকের) তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। হত্যার ধরনটি নরহত্যার পর্যায়ে পড়ে। ভুক্তভোগীর যৌনাঙ্গে কোনো কিছু জোর করে প্রবেশের আলামত পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের ধারণা, সম্ভবত তাঁকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছিল।

গাল, ঠোঁট, নাক, ঘাড়, বাহু, হাঁটু ও যৌনাঙ্গে বাহ্যিক ক্ষত পাওয়া গেছে। অভ্যন্তরীণ ক্ষত পাওয়া গেছে ঘাড়, মাথার ত্বক ও অন্যান্য অংশের পেশিতে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, সব আঘাত মৃত্যুর আগের। এর অর্থ হলো, মারার আগে তাঁকে সীমাহীন কষ্ট দেওয়া হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আরজি কর হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন ও টক্সিকোলজি বিভাগের অধ্যাপক অপূর্ব বিশ্বাস, একই হাসপাতালের একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রিনা দাস এবং এনআরএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মলি ব্যানার্জি।

গত শুক্রবার উত্তর কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাকক্ষে এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ পাওয়া যায়। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন শেষে ওই দিন রাতে তিনি সেখানে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন। ৩১ বছর বয়সী ওই শিক্ষানবিশ নারী চিকিৎসকের মরদেহটি ছিল রক্তাক্ত, শরীরের নানা জায়গায় জখমের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় কলকাতার পাশাপাশি ভারতজুড়ে চিকিৎসকেরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এখনো আন্দোলন চলছে।

প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কলকাতা পুলিশকে। তাঁদের তদন্ত সমালোচনার মুখে পড়ে। এরপর তা ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়।