বিএনপি শিক্ষাবান্ধব সরকার, তাই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে …… রূপসায় এমপি আজিজুল বারী হেলাল

//এম মুরশীদ আলী//

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিএনপি শিক্ষাবান্ধব সরকার, শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিএনপি বিশ্বাস করে, একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা। তাই শিক্ষার্থীদের মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে বিএনপি সবসময় কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করুক, এটাই আমাদের লক্ষ্য নয়। তারা যেন প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করে জ্ঞান, মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীদের নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে।

তিনি বলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া সবসময় শিক্ষার গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণই বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য। শুধু জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, অর্জিত জ্ঞানকে শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষা মানুষের মধ্যে বিনয়, বিবেক ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে। একজন শিক্ষার্থী যখন প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, তখন সে শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নয়, পরিবার, সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎও পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সুবিধা বৃদ্ধি, নিরাপদ ও সুপেয় পানির জন্য ওয়াটার রিফাইং মেশিন স্থাপন, সমৃদ্ধ লাইব্রেরির জন্য প্রয়োজনীয় বই-পুস্তক সরবরাহসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

শুধু বইয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আটকে রাখলে চলবে না। খেলাধুলা তাদের মন ও মানসিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিদ্যালয়ের মাঠ উন্নয়ন ও খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি। শিক্ষার্থীরা যাতে নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমাদের সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আজ ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সকালে রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের কিশোর কল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কতৃক আয়োজিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তন ও সীমানা প্রাচীর উদ্বোধন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন রূপসা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএ আনোয়ারুল হক, প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, মেহেদি হাসান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য আনিছুর রহমান, আরিফুর রহমান আরিফ, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম, আছাফুর রহমান, রূপসা উপজেলার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র,টিএসবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক খান আনোয়ার হোসেন, সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফুজ্জামান জমাদ্দার (বাদশা) এবং সঞ্চালনায় ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নকিব উদ্দীন আজাদ।

বক্তৃতা করেন জেলা মহিলাদল নেত্রী শাহনাজ ইসলাম, বিএনপি নেতা হুমায়ূন কবীর, এসএম আঃ মালেক, মহিউদ্দিন মিন্টু, দিদারুল ইসলাম, মিকাইল বিশ্বাস, খন্দকার শরিফুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম কচি, ফিরোজ মাহমুদ, মহিতোষ ভট্টাচার্য, শিক্ষক খায়রুল জমাদ্দার, খালেদ মাহমুদ, ইশমতআরা ইয়াসমিন, গোবিন্দ প্রসাদ দাস, লুবনা আক্তার, ওয়াসিম সানা, আ: কাদের জমাদ্দার, আঃ করিম মোড়ল, বিধান চন্দ্র রায়, রবিক জমাদ্দার, রানা আহম্মেদ, সুকুমার ঘোষ, রুমা আক্তার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, বিএনপি নেতা শ,ম হাসিবুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা মুন্না সরদার, খান আলিম হাসান, মাসুদ খান, আরিফ মোল্যা,  শাহজামান প্রিন্স, কামরুজ্জামান নান্টু, মহিলা দল নেত্রী রহিমা আক্তার নয়ন, বিএনপি নেতা জহিরুল হক শারাদ, তরিকুল ইসলাম রিপন, ইসরাইল বাবু, শিহাবুল ইসলাম, এসএম আবু সাঈদ, রাজু দাস, জাহাঙ্গীর হালদার, মোকাররম হোসেন, টিটো জমাদ্দার, শফিক ঢালি, ইউনিয়ন সহযোগী সংঠনের নেতা নাঈম আহম্মেদ, খান ওলিয়ার রহমান, হাফিজুর রহমান, বিএনপি নেতা জিএম হিরোক, জাহিদ শেখ, সাবু জমাদ্দার, শাহিনুর রহমান,  গোলাম রসুল, ইব্রাহিম শেখ, ওয়ালিদ শেখ, লাভলু শেখ প্রমূখ। এরপর এমপি আজিজুল বারী হেলাল গোয়ালবাথান-গিলাতলা ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন। পরিশেষে তিনি নৈহাটি ইউনিয়নের অচিনতলা মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিলে অতিথি হিসাবে উপস্থিত হন।

রূপসায় সাক্ষরতা দিবস পালিত ; হাতের লেখা বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

//এম মুরশীদ আলী//

‘মানুষ, পৃথিবী এবং সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে রূপসায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে  আলোচনা সভা গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষরতা দিবসে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম স্থানে শাহরিয়ার ইসলাম সাফা, দ্বিতীয় স্থানে জায়মা হায়দার এবং তৃতীয় স্থানে জামিলা খাতুনদের পুরস্কৃত করা হয়।

রূপসায় সাক্ষরতা দিবস পালিত ; হাতের লেখা বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) মুহা. আবুল কাশেম। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মাসুদ রানার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, ভেটেরিনারি সার্জন বৃষ্টি ইসলাম, সমবায় কর্মকর্তা জান্নাতুন নেছা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম আলী আকবর,  এসআই নাজমুল হুদা।

সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের জ্ঞান, সচেতনতা ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান মাধ্যম। শিক্ষার আলো একজন মানুষের জীবনকে যেমন পরিবর্তন করতে পারে, তেমনি একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নিরক্ষরতা দূর করার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে শিক্ষার সুযোগের আওতায় আনা প্রয়োজন।

একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ গড়ে তুলতে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও বাস্তবজীবনমুখী শিক্ষায় গড়ে তুলতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি সচেতন, দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিরক্ষরমুক্ত ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই হতে পারে একটি উন্নত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- প্রধান শিক্ষক সজীব কুমার মহলী, শেখ লুৎফর রহমান, শ্যামল দাস, শাবানা, মাসুদ আলম, আবু বক্কর সিদ্দিক, কামরুল ইসলাম, শেখ সালাউদ্দিন আহম্মেদ, নাজমা পারভিন, জাবেদা পারভিন, শিপ্রা রানী, পারভিন সুলতানা, আঃ সত্তার, নাসরিন সুলতানা, মোতাহার হোসেন, মোঃ নজরুল ইসলাম, এসএম রাকিবুল ইসলাম, আ: সত্তার খান, সুলতানা জাহান, এসএম কামরুল ইসলাম, লক্ষ্মী রানী, শিক্ষা দপ্তরের মোঃ ফয়সাল, আল মামুন গাজী, মুরাদ শেখ, প্রদীপ দত্ত, শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম সাফা প্রমূখ।

ডুমুরিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি পরিক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি পরিক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। ১৩ আগষ্ট   বৃহস্পতিবার স্কুলভবনে অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আব্দুস ছালাম মিয়া।

জানা গেছে ডুমুরিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজটি ২০২১ সালে ৬ষ্ট ও নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও পাঠদানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে।  যারা এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম ব্যাচ ২০২৬ সালে এস এস সি পরিক্ষায় অংশ নেয়। যাদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১১ জন। পাসের মোট হার ৭৩ দশমিক ৮৫। জিপিএ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ১১ জন তারা হলেন , সিভিল কন্সট্রাকশন এন্ড সেফটি, জুঁই তরফদার, সীমান্ত বিশ্বাস,  সাকিব মোল্লা, মো: সানিম হোসেন শেখ,  শুভজিত রায়, মো: মাহামুদুল হাসান, মো: সামিউল ইসলাম সিয়াম,  শেখ রওনক গালিব, শুভজিত দাস, মেশিন অপারেশন বেসিকস, জেনারেল ইলেক্ট্রিক্যাল ওয়ার্কস, সৈকত বিশ্বাস ও মাহামুদুল হাসান মাহিম

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আব্দুস ছালাম মিয়া জানান, প্রতিষ্ঠানে যাত্রার শুরু পর  শিক্ষকদের ঐকান্তিক চেষ্টা এস এস সির প্রথম ব‍্যাচ প্রাপ্ত ফলাফল ৭৩.৮৫  পাশ করেছে । বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট শিক্ষার্থী রযেছে ৬৭৭ জন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান বিভাগেও শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

 

 

ডুমুরিয়ায় দলিত শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরন

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

বে-সরকারি সেচ্ছাসেবী সংস্থা  দলিত-এর আয়োজনে ১৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার দিনব‍্যাপী  চুকনগর দলিত হাসপাতাল মিলনায়তনে  দলিত শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের চিত্রাংকন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ওপুরষ্কার বিতরন অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

দলিতের শিক্ষা প্রোগ্রাম ম্যানেজার  মিসেস ধরা দেবী দাস  এর সভাপতিত্বে উক্ত  প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি শাহপুর মধুগ্রাম কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক  সুবীর আরো  উপস্থিত ছিলেন স্পন্সরশিপ  অফিসার বিপ্লব মন্ডল , প্রোগ্রাম অর্গানাইজার নেপাল দাস, বিপ্লব দাস সহ ১২টি দলের শিক্ষা কেন্দ্রের  শিক্ষক বৃন্দ । প্রতিযোগিতায় চিত্রাংকন নাচ-গান ও অভিনয় বিষয়ে ১২ টি দলিত শিক্ষা কেন্দ্রের ৭০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে । প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় ।

 

“কিচির মিচির” — রূপসায় শিশুদের স্বপ্নের ঠিকানা’র শুভ উদ্বোধন

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্লে-জোন “কিচির মিচির” রূপসা উপজেলা পরিষদ অভ্যন্তরে উন্নয়ন তহবিল থেকে নির্মিত করা হয়েছে। গত ৩ আগষ্ট বিকেলে শুভ উদ্বোধনের পাশাপাশি পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণে বর্তমান সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রি্কতা রূপসায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। তিনি সভাপতির বক্তব্যে বলেছেন, আমি যখন এ উপজেলায় প্রথম যোগদান করি, তার কিছু দিনপর এ পথ দিয়ে হেঁটে চলার মধ্যে হঠাৎ একটি বাচ্চা এসে বললো, ম্যাম আপনিতো আমাদের নতুন নির্বাহী, আমাদের একটা পার্ক করে দিবেন। যেখানে আমারা দোলানায় দোল খাবো, ষড়াত খাবো, হাঁসের পিঠে নড়াচড়া করবো এবং হেসে-খেলে আনন্দ উপভোগ করতে পারবো। তার এ কথাগুলো অবশ্য কারোর শেখানো বুঝতে পারছিলাম। তারপরও ওর কথাগুলি আমার মনে মায়ার স্বরে জায়গা করে নেয়। ঐসময় শিশুটিকে আশ্বস্তী করি তোমার মনের আশা অল্পদিনের মধ্যেই পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। ঐ ছোট শিশুর কথা মনে রেখেই ‘কিচির মিচির’ পার্কের সৃষ্টি হয়েছে।

"কিচির মিচির" --- রূপসায় শিশুদের স্বপ্নের ঠিকানা'র শুভ উদ্বোধন

শিশুদের জন্য পার্ক নির্মাণ করাতে স্থানীয় অভিভাবকরা সন্তুষ্ট প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকায় শিশুদের নিয়ে ঘোরার মতো ভালো কোনো স্থান ছিল না। বাচ্চাদের একটু আনন্দ দিতে হলে শহরের দিকে যেতে হতো। ছোট শিশুদের নিয়ে দূরে যাওয়া কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কিচির মিচির প্লে-জোনটি হওয়ার পর সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে। শিশুরা একসঙ্গে খেলাধুলা আর আনন্দ করে নিজেদের মধ্যে মিশছে। শিশুদের মুখের এই হাসির চেয়ে একজন বাবা-মায়ের কাছে বড় শান্তি আর কী হতে পারে। এটি শুধু একটি প্লে-জোন নয়, এটি আমাদের সন্তানদের আনন্দময় শৈশবের একটি সুন্দর ঠিকানা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, রূপসা থানা ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর, কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আহসান হাবীব প্রামাণিক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্রকৌশলী নাজমুল হুদা, ইউআরসি ইনসট্রাক্টর এহতেশামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বুরহান উদ্দীন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. বজলুর রশীদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আলী আকবর, সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইমরান হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইমরান হোসেন, আইচগাতী ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাসুম, শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল হক বিশ্বাস, নৈহাটি ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস, টিএসবি ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাফুর রহমান, ঘাটভোগ ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, প্রধান শিক্ষক সাবানা, শিক্ষক চন্দ্র শেখর পাল, শিক্ষক শামীমা নাসরিন, দিলারা খানম, সঙ্গীত শিক্ষক নীলমনি বিশ্বাস, ব্যবসায়ী ওবায়েদ ফারাজী প্রমূখ।

রূপসায় বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনীতে এমপি হেলাল

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

রূপসায় এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজনে মেধা বিজ্ঞান উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিজ্ঞান প্রকল্প শুরু ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী কর্মসূচি গত ১২ জুন (শুক্রবার) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞান প্রদর্শনীযে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। কেবল বইয়ের পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান, গবেষণাধর্মী মানসিকতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তা গড়ে তুলতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বদানকারী শক্তি। তাই তাদের মেধা বিকাশের জন্য প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সুযোগ-সুবিধা। সরকার ও সমাজের সকল স্তরের মানুষ যদি একসাথে কাজ করে, তাহলে রূপসা উপজেলা শুধু নয়, পুরো দেশই একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

এছাড়াও তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ছোট ছোট উদ্ভাবনী ধারণাও ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে নতুন কিছু চিন্তা করতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। বিজ্ঞানই পারে একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে এবং আত্মনির্ভরশীল করতে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রূপসা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস. এ. আনোয়ারুল কুদ্দুস।

মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মণ্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর, খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ।

উপস্থিত ছিলেন- অধ্যক্ষ হিল্লোল মুখার্জি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য আনিসুর রহমান বিশ্বাস, আরিফুর রহমান আরিফ, আছাফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র, সমাজসেবক জাকির হোসেন জমাদ্দার, বিএনপি নেতা কবীর শেখ, রয়েল আজম, রবিউল ইসলাম রবি, জিয়াউল ইসলাম বিশ্বাস, ইলিয়াজ হোসেন, খান আনোয়ার হোসেন, মহিউদ্দিন মিন্টু, শরিফুল ইসলাম বকুল, মিকাইল বিশ্বাস, আজিজুর রহমান, দিদারুল ইসলাম, এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মোট ১৫টি স্টলে তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রকল্প ও আইডিয়া প্রদর্শন করে। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তার প্রকাশ ঘটে।

প্রাথমিকে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন; রূপসায়- ৯৬৮৩ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহন

//এম মুরশীদ আলী: রূপসা//

রূপসা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন স্ব স্ব বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণী ও ২য় শ্রেণী পরীক্ষা সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এবং ৩য় শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণীর পরীক্ষা দুপুর ১.৩০ মি: শুরু হয়ে বিকেল ৪ টায় শেষ হবে। এ পরীক্ষা গত ৯ মে থেকে আগামী ১৪ মে পর্যন্ত চলবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহা: আবুল কাশেম জানান- কয়েক বছর ধরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের শ্রেণী পাঠদান চলাকালীন ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শ্রেণীর প্রমোশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত। দীর্ঘকাল পর প্রাথমিকে শুরু হয়েছে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা। ১ম ও ২য় শ্রেণীর ৫০ নম্বরের লিখিত (যা প্রশ্ন পত্রের উপরে উত্তর দিবে) এবং ৫০ নম্বরের ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে করে শিশুরা নিজেকে যাচাই বা মূল্যায়ন করে পরবর্তী লেখাপড়ার উন্নয়ন সাধনে সচেষ্ট হবে। তাতে শিক্ষকদের পাঠদানের প্রতি আন্তরিকতা ও দায়িত্ব বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষার্থীরা আনন্দচিত্তে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে এবং অভিভাবকগণ পরীক্ষা ব্যবস্থা ফিরে আসাতে সন্তুষ্ট প্রকাশ করছেন।

রূপসা উপজেলায় ৬৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রান্তিক মূল্যায়নে প্রথম শ্রেণীতে ১৮৭৪ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ২০২৮ জন, তৃতীয় শ্রেণীতে ২১৩১ জন, চতুর্থ শ্রেণীতে ১৯১৯ জন এবং পঞ্চম শ্রেণীতে ১৭৩১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ দিনের রবীন্দ্র জয়ন্তী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজ্ সিফাত

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মিজ্ সিফাত মেহনাজ বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন শান্তি, মানবতা ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর জীবন ও সাহিত্য আজও মানবতার পথচলায় এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলছে। রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলার কবি নন, তিনি ছিলেন বিশ্বমানবের কণ্ঠস্বর। তাঁর লেখনীর ছোঁয়ায় বাংলার মাটি, মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ যেমন জীবন্ত হয়ে উঠেছে, তেমনি বিশ্বমানবতার চিরন্তন আহ্বানও প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ দিনের রবীন্দ্র জয়ন্তী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজ্ সিফাত

তিনি বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যকে কখনো নিছক বিনোদনের উপকরণ হিসেবে দেখেননি। তাঁর কলম সবসময় অন্যায়, অবিচার, হিংসা ও সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষায় উচ্চারিত হয়েছে। মানুষের মুক্তচিন্তা, সাম্য ও সম্প্রীতির পক্ষে তিনি আজীবন ছিলেন সোচ্চার। তাঁর কবিতা, গান, গল্প ও প্রবন্ধে বারবার ফুটে উঠেছে মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ এবং এক শান্তিময় পৃথিবীর স্বপ্ন।

তিনি আরও বলেন, যুগ পেরিয়ে গেলেও রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের এই সময়ে তাঁর সাহিত্য নতুন প্রজন্মকে সত্য, সুন্দর ও মানবতার পথে চলার প্রেরণা জোগায়।

শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ দিনের রবীন্দ্র জয়ন্তী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজ্ সিফাত

শুক্রবার (৮ মে) বিকালে রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য মূলত মানবমুক্তির সাহিত্য। তাঁর প্রতিটি রচনা মানুষের অন্তরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়। তিনি সবসময় অন্যায়, অবিচার, সংকীর্ণতা ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর কবিতা, গান, গল্প ও প্রবন্ধে মানবতার জয়গান এবং বিশ্বশান্তির আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে। ন্যায়, সত্য, সৌন্দর্য ও মানবতার পক্ষে আজীবন সংগ্রাম করায় তিনি আজও বিশ্বমানবতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয় ছিল শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ।

খুলনা স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মোঃ মেহেদী হাসান,জান্নাতুন নাঈম, রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর, রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক,ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এসএম আঃ মালেক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মঙ্গলদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ।

সঞ্চালনা করেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মন্ডল এবং সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তরুন কুমার বালা, হিসাবরক্ষক মদন কুমার দাস, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ, সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফদার, অধ্যক্ষ অজিত সরকার, হিল্লোল মুখার্জি, বিএনপি নেতা মিকাইল বিশ্বাস, রবী ঠাকুরের বংশধর গোপাল কুশারি, প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ রায়, রূপসা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু, প্রকৌশলী সুখেন রায়, মহিতোষ ভট্টাচার্য, সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত কুমার মহলী, প্রধান শিক্ষক যশোমন্ত ধর, সহঃ অধ্যাপক পূর্নেন্দু মন্ডল, সঞ্জিব সরকার, পলাশ চন্দ্র রায়, অরুন কুশারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রূপসায় নারীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সমাপনি সার্টিফিকেট বিতরণে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ঢাকা কর্তৃক পরিচালিত ৩ মাস মেয়াদী নারীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সমাপনি ও সার্টিফিকেট বিতরণী গত ২ মে বিকেলে, রূপসায় আঞ্জুমান দলিল হারুন স্বাস্থ্য সেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

সার্টিফিকেট বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব আনিচ মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তা, রূপসা থানা ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতা করেন আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম সংস্থার পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান (অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব) এস, এম হারুনার রশিদ। তিনি বলেন, রূপসা আঞ্জুমান দলিল হারুন স্বাস্থ্য সেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে একেরপর এক জনসেবা ও প্রশিক্ষণ সেবা পরিচালিত হয়ে আসছে। যেমন- প্রতি শনিবার বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাসহ ঔষধ বিনামূল্যে বিতরণ করেছে সংস্থাটি। এখানে প্রতিমাসে প্রায় ২০০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নেয়। এছাড়াও এলাকার অসহায় নাজুক মহিলা ও পুরুষ রোগীর মধ্যে সপ্তাহে ৩ দিন অর্থাৎ রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার ”প্রশিক্ষিত থেরাপিষ্ট” দ্বারা ফিজিওথেরাপী সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এ ধরনের অসুস্থ রোগী প্রতিদিন প্রায় ৫০ জন থেরাপী সেবা নিতে আসেন। তাছাড়া উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে বাংলাদেশের গ্ৰাম অঞ্চলের মানুষেরা যাতে কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারে, সেদিক বিবেচনা করে নারীদের ক্ষমতায়ন ও সাবলম্বী করতে ২৬ সালের ১ জানুয়ারী হইতে আরো ২টি নতুন প্রকল্প যুক্ত করা হয়েছে। এখানে- বিবাহিত নারী ও মেয়েরা বিনামুল্যে ৩ মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ক্লাসে ২০ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। এখানে একটা হাসপাতাল করা যায় কিনা তা পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রূপসা আঞ্জুমান তদারকি কমিটির আহবায়ক এডভোকেট সফিউল আলম সুজনের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন- রূপসা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শহিদুল হক, বিআইডাব্লিউটিএ কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন, প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী, মাওলানা মো. আইয়ুব, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- তাসমিনা তাম্মি প্রমূখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন লিপন, ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ আল আমিন, সেলিম শেখ, ছাত্র নেতা হান্নান শেখ, জিহাদ মোল্লা রনি, বক্কার সেখ, জাহিদুল ইসলাম বাবু, সেচ্ছাসেবক দলের এনায়েত সহ রূপসা আঞ্জুমান তদারকি কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান ডিকেন (সমাজ সেবক), কোষাধক্ষ্য- শাহ আব্দুল হাই কচি (সাবেক অডিটর), সদস্য- প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার আলী, এম এ আজিম (সাংবাদিক), এম মুরশীদ আলী (সাংবাদিক), এস এম মিজানুর রহমান, গোলাম রসুল এবং সদস্য সচিব- এস এম আরিফুল ইসলাম রিপন প্রমূখ।

শিক্ষামূলক কার্যক্রমই প্রাধান্য পাবে, কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম নয় – আজিজুল বারী হেলাল এমপি

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক এই ভার্চুয়াল যুগে প্রবেশ করতে হলেও প্রথমে আমাদের পুঁথিগত শিক্ষায় সমৃদ্ধ হতে হবে। কারণ বই-ই আমাদের সঠিক জ্ঞান, মূল্যবোধ ও চিন্তাশক্তি গড়তে হবে। শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জীবনের জন্য শেখাই প্রকৃত শিক্ষা আর সেই শিক্ষার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে বই। তাই সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের পবিত্র কেন্দ্র। সেখানে শিক্ষামূলক কার্যক্রমই প্রাধান্য পাবে, কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সর্বদা সার্বজনীন রাখতে হবে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে সবার অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত থাকবে।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নির্মাতা। তোমাদের মধ্য থেকেই গড়ে উঠবে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। তাই এখন থেকেই নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং নৈতিকতার সমন্বয়েই একজন সত্যিকারের মানুষ তৈরি হয়। তাই তোমাদের মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থেকে নিজেদের লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে চলতে হবে, তাহলেই তোমাদের কাছে সফলতা অবশ্যই ধরা দেবে। তোমরাই একদিন সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের উন্নয়ন, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের দায়িত্ব তোমাদের কাঁধেই বর্তাবে। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়াটাই জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য এই চেতনাই তোমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এসময় তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আপনারা আমাকে ভোটের মাধ্যমে যে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। এই ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান দিতে আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকতে চাই। আপনাদের উন্নয়ন, এলাকার অগ্রগতি এবং মানুষের কল্যাণেই আমার সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আপনাদের সহযোগিতা ও দোয়া থাকলে আমি ভবিষ্যতেও আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যেতে পারবো।

তিনি গত ১৭ এপ্রিল সকালে রূপসা উপজেলার নৈহাটী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা, পুরষ্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বক্তৃতা করেন- রূপসা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ার উল কুদ্দুস, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান।

নৈহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জিব সরকারের সভাপত্বিত্বে ও অত্র বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোল্যা খায়রুল ইসলামের পরিচালনায় আমন্ত্রিত অতিথির বক্তৃতা করেন- খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক সজল,রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হারুন অর রশীদ, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য আনিসুর রহমান বিশ্বাস, আরিফুর রহমান আরিফ, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র, বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন মিন্টু, দিদারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সন্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল, প্রকৌশলী সুখেন রায়,মোঃ শরিফুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা হেলাল,মোঃ মোজাফফর হোসেন,লিয়াকত আলী।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ আতাউর রহমান ফকির, প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী,উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রয়েল আজম,রবিউল ইসলাম রবি,মিকাইল বিশ্বাস, এ্যাড মোস্তাফিজুর রহমান,শিক্ষক তাপস ভট্টাচার্য,মোঃ হযরত আলী, মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, সেহেলি নাসরিন,সুচিত্রা দাস, মোঃ জামাল উদ্দীন, উত্তম কুমার চ্যাটার্জী, সৌমেন দেবনাথ, সরজিত মন্ডল, প্রবীর দেবনাথ, আমেনা পারভিন,খুলনা জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক তানভির আহম্মেদ সুমন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা  আসাদুজ্জামান বিপ্লব, জাহিদুল ইসলাম রবি,  জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, নয়ন মোড়ল,যুবদল নেতা শাহজামান প্রিন্স, বশির হায়দার পল্টু, রাজু দাস, মিকাইল হোসেন,অন্তর হোসেন মাসুম,মো: রয়েল,রহিমা আক্তার নয়ন প্রমূখ।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান লগ্ম থেকে যারা অবদান রেখেছেন এবং প্রয়াত হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় একমিনিট নীরবতা পালন করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। এরপর এমপি আজিজুল বারী হেলাল তেরোখাদা উপজেলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।