প্রাথমিকে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন; রূপসায়- ৯৬৮৩ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহন

//এম মুরশীদ আলী: রূপসা//

রূপসা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন স্ব স্ব বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণী ও ২য় শ্রেণী পরীক্ষা সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এবং ৩য় শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণীর পরীক্ষা দুপুর ১.৩০ মি: শুরু হয়ে বিকেল ৪ টায় শেষ হবে। এ পরীক্ষা গত ৯ মে থেকে আগামী ১৪ মে পর্যন্ত চলবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহা: আবুল কাশেম জানান- কয়েক বছর ধরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের শ্রেণী পাঠদান চলাকালীন ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শ্রেণীর প্রমোশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত। দীর্ঘকাল পর প্রাথমিকে শুরু হয়েছে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা। ১ম ও ২য় শ্রেণীর ৫০ নম্বরের লিখিত (যা প্রশ্ন পত্রের উপরে উত্তর দিবে) এবং ৫০ নম্বরের ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে করে শিশুরা নিজেকে যাচাই বা মূল্যায়ন করে পরবর্তী লেখাপড়ার উন্নয়ন সাধনে সচেষ্ট হবে। তাতে শিক্ষকদের পাঠদানের প্রতি আন্তরিকতা ও দায়িত্ব বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষার্থীরা আনন্দচিত্তে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে এবং অভিভাবকগণ পরীক্ষা ব্যবস্থা ফিরে আসাতে সন্তুষ্ট প্রকাশ করছেন।

রূপসা উপজেলায় ৬৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রান্তিক মূল্যায়নে প্রথম শ্রেণীতে ১৮৭৪ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ২০২৮ জন, তৃতীয় শ্রেণীতে ২১৩১ জন, চতুর্থ শ্রেণীতে ১৯১৯ জন এবং পঞ্চম শ্রেণীতে ১৭৩১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ দিনের রবীন্দ্র জয়ন্তী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজ্ সিফাত

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মিজ্ সিফাত মেহনাজ বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন শান্তি, মানবতা ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর জীবন ও সাহিত্য আজও মানবতার পথচলায় এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলছে। রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলার কবি নন, তিনি ছিলেন বিশ্বমানবের কণ্ঠস্বর। তাঁর লেখনীর ছোঁয়ায় বাংলার মাটি, মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ যেমন জীবন্ত হয়ে উঠেছে, তেমনি বিশ্বমানবতার চিরন্তন আহ্বানও প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ দিনের রবীন্দ্র জয়ন্তী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজ্ সিফাত

তিনি বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যকে কখনো নিছক বিনোদনের উপকরণ হিসেবে দেখেননি। তাঁর কলম সবসময় অন্যায়, অবিচার, হিংসা ও সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষায় উচ্চারিত হয়েছে। মানুষের মুক্তচিন্তা, সাম্য ও সম্প্রীতির পক্ষে তিনি আজীবন ছিলেন সোচ্চার। তাঁর কবিতা, গান, গল্প ও প্রবন্ধে বারবার ফুটে উঠেছে মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ এবং এক শান্তিময় পৃথিবীর স্বপ্ন।

তিনি আরও বলেন, যুগ পেরিয়ে গেলেও রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের এই সময়ে তাঁর সাহিত্য নতুন প্রজন্মকে সত্য, সুন্দর ও মানবতার পথে চলার প্রেরণা জোগায়।

শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ দিনের রবীন্দ্র জয়ন্তী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজ্ সিফাত

শুক্রবার (৮ মে) বিকালে রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য মূলত মানবমুক্তির সাহিত্য। তাঁর প্রতিটি রচনা মানুষের অন্তরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়। তিনি সবসময় অন্যায়, অবিচার, সংকীর্ণতা ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর কবিতা, গান, গল্প ও প্রবন্ধে মানবতার জয়গান এবং বিশ্বশান্তির আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে। ন্যায়, সত্য, সৌন্দর্য ও মানবতার পক্ষে আজীবন সংগ্রাম করায় তিনি আজও বিশ্বমানবতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয় ছিল শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ।

খুলনা স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মোঃ মেহেদী হাসান,জান্নাতুন নাঈম, রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর, রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক,ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এসএম আঃ মালেক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মঙ্গলদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ।

সঞ্চালনা করেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মন্ডল এবং সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তরুন কুমার বালা, হিসাবরক্ষক মদন কুমার দাস, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ, সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফদার, অধ্যক্ষ অজিত সরকার, হিল্লোল মুখার্জি, বিএনপি নেতা মিকাইল বিশ্বাস, রবী ঠাকুরের বংশধর গোপাল কুশারি, প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ রায়, রূপসা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু, প্রকৌশলী সুখেন রায়, মহিতোষ ভট্টাচার্য, সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত কুমার মহলী, প্রধান শিক্ষক যশোমন্ত ধর, সহঃ অধ্যাপক পূর্নেন্দু মন্ডল, সঞ্জিব সরকার, পলাশ চন্দ্র রায়, অরুন কুশারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রূপসায় নারীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সমাপনি সার্টিফিকেট বিতরণে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ঢাকা কর্তৃক পরিচালিত ৩ মাস মেয়াদী নারীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সমাপনি ও সার্টিফিকেট বিতরণী গত ২ মে বিকেলে, রূপসায় আঞ্জুমান দলিল হারুন স্বাস্থ্য সেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

সার্টিফিকেট বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব আনিচ মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তা, রূপসা থানা ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতা করেন আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম সংস্থার পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান (অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব) এস, এম হারুনার রশিদ। তিনি বলেন, রূপসা আঞ্জুমান দলিল হারুন স্বাস্থ্য সেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে একেরপর এক জনসেবা ও প্রশিক্ষণ সেবা পরিচালিত হয়ে আসছে। যেমন- প্রতি শনিবার বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাসহ ঔষধ বিনামূল্যে বিতরণ করেছে সংস্থাটি। এখানে প্রতিমাসে প্রায় ২০০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নেয়। এছাড়াও এলাকার অসহায় নাজুক মহিলা ও পুরুষ রোগীর মধ্যে সপ্তাহে ৩ দিন অর্থাৎ রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার ”প্রশিক্ষিত থেরাপিষ্ট” দ্বারা ফিজিওথেরাপী সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এ ধরনের অসুস্থ রোগী প্রতিদিন প্রায় ৫০ জন থেরাপী সেবা নিতে আসেন। তাছাড়া উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে বাংলাদেশের গ্ৰাম অঞ্চলের মানুষেরা যাতে কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারে, সেদিক বিবেচনা করে নারীদের ক্ষমতায়ন ও সাবলম্বী করতে ২৬ সালের ১ জানুয়ারী হইতে আরো ২টি নতুন প্রকল্প যুক্ত করা হয়েছে। এখানে- বিবাহিত নারী ও মেয়েরা বিনামুল্যে ৩ মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ক্লাসে ২০ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। এখানে একটা হাসপাতাল করা যায় কিনা তা পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রূপসা আঞ্জুমান তদারকি কমিটির আহবায়ক এডভোকেট সফিউল আলম সুজনের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন- রূপসা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শহিদুল হক, বিআইডাব্লিউটিএ কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন, প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী, মাওলানা মো. আইয়ুব, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- তাসমিনা তাম্মি প্রমূখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন লিপন, ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ আল আমিন, সেলিম শেখ, ছাত্র নেতা হান্নান শেখ, জিহাদ মোল্লা রনি, বক্কার সেখ, জাহিদুল ইসলাম বাবু, সেচ্ছাসেবক দলের এনায়েত সহ রূপসা আঞ্জুমান তদারকি কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান ডিকেন (সমাজ সেবক), কোষাধক্ষ্য- শাহ আব্দুল হাই কচি (সাবেক অডিটর), সদস্য- প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার আলী, এম এ আজিম (সাংবাদিক), এম মুরশীদ আলী (সাংবাদিক), এস এম মিজানুর রহমান, গোলাম রসুল এবং সদস্য সচিব- এস এম আরিফুল ইসলাম রিপন প্রমূখ।

শিক্ষামূলক কার্যক্রমই প্রাধান্য পাবে, কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম নয় – আজিজুল বারী হেলাল এমপি

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক এই ভার্চুয়াল যুগে প্রবেশ করতে হলেও প্রথমে আমাদের পুঁথিগত শিক্ষায় সমৃদ্ধ হতে হবে। কারণ বই-ই আমাদের সঠিক জ্ঞান, মূল্যবোধ ও চিন্তাশক্তি গড়তে হবে। শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জীবনের জন্য শেখাই প্রকৃত শিক্ষা আর সেই শিক্ষার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে বই। তাই সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের পবিত্র কেন্দ্র। সেখানে শিক্ষামূলক কার্যক্রমই প্রাধান্য পাবে, কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সর্বদা সার্বজনীন রাখতে হবে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে সবার অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত থাকবে।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নির্মাতা। তোমাদের মধ্য থেকেই গড়ে উঠবে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। তাই এখন থেকেই নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং নৈতিকতার সমন্বয়েই একজন সত্যিকারের মানুষ তৈরি হয়। তাই তোমাদের মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থেকে নিজেদের লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে চলতে হবে, তাহলেই তোমাদের কাছে সফলতা অবশ্যই ধরা দেবে। তোমরাই একদিন সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের উন্নয়ন, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের দায়িত্ব তোমাদের কাঁধেই বর্তাবে। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়াটাই জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য এই চেতনাই তোমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এসময় তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আপনারা আমাকে ভোটের মাধ্যমে যে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। এই ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান দিতে আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকতে চাই। আপনাদের উন্নয়ন, এলাকার অগ্রগতি এবং মানুষের কল্যাণেই আমার সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আপনাদের সহযোগিতা ও দোয়া থাকলে আমি ভবিষ্যতেও আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যেতে পারবো।

তিনি গত ১৭ এপ্রিল সকালে রূপসা উপজেলার নৈহাটী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা, পুরষ্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বক্তৃতা করেন- রূপসা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ার উল কুদ্দুস, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান।

নৈহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জিব সরকারের সভাপত্বিত্বে ও অত্র বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোল্যা খায়রুল ইসলামের পরিচালনায় আমন্ত্রিত অতিথির বক্তৃতা করেন- খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক সজল,রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হারুন অর রশীদ, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য আনিসুর রহমান বিশ্বাস, আরিফুর রহমান আরিফ, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র, বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন মিন্টু, দিদারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সন্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল, প্রকৌশলী সুখেন রায়,মোঃ শরিফুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা হেলাল,মোঃ মোজাফফর হোসেন,লিয়াকত আলী।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ আতাউর রহমান ফকির, প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী,উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রয়েল আজম,রবিউল ইসলাম রবি,মিকাইল বিশ্বাস, এ্যাড মোস্তাফিজুর রহমান,শিক্ষক তাপস ভট্টাচার্য,মোঃ হযরত আলী, মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, সেহেলি নাসরিন,সুচিত্রা দাস, মোঃ জামাল উদ্দীন, উত্তম কুমার চ্যাটার্জী, সৌমেন দেবনাথ, সরজিত মন্ডল, প্রবীর দেবনাথ, আমেনা পারভিন,খুলনা জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক তানভির আহম্মেদ সুমন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা  আসাদুজ্জামান বিপ্লব, জাহিদুল ইসলাম রবি,  জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, নয়ন মোড়ল,যুবদল নেতা শাহজামান প্রিন্স, বশির হায়দার পল্টু, রাজু দাস, মিকাইল হোসেন,অন্তর হোসেন মাসুম,মো: রয়েল,রহিমা আক্তার নয়ন প্রমূখ।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান লগ্ম থেকে যারা অবদান রেখেছেন এবং প্রয়াত হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় একমিনিট নীরবতা পালন করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। এরপর এমপি আজিজুল বারী হেলাল তেরোখাদা উপজেলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

উপকূলীয় অঞ্চলের কিশোরী শিক্ষার্থীদের STEM ও ICT শিক্ষা বৃদ্ধি কর্মশালা অনুষ্ঠিত

//এম মুরশীদ আলী //

উপকূলের মেয়েদের STEM শিক্ষায় সুযোগ ও সম্ভাবনা নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগে অ্যাডভোকেসি কর্মশালা গত ১০ জানুয়ারি সকাল ১১ টায় খুলনা আভা সেন্টারের অনুষ্ঠিত হয়।

কিশোরী মেয়েদের জন্য (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণিত) এবং ICT শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (BDOSN) ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (BFF) এর উদ্যোগে এবং “স্টেম এন্ড আইসিটি স্কিলস ফর দ্যা গার্লস অফ কোস্টাল এরিয়া” প্রকল্প কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল, উপকূলীয় অঞ্চলের কিশোরী শিক্ষার্থীদের STEM ও ICT শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি করা এবং তাদের ক্ষমতায়নে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলা।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে বিএফএফ এর নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী বলেন- “উপকূলীয় অঞ্চলের মেয়েদের STEM ও ICT শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে নীতি নির্ধারক ও অংশীদারদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সংযোগ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। আজকের কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখব”। উল্লেখ্য- ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (BDOSN)- এর উদ্যোগে ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (BFF)- এর সহযোগিতায় এবং মালালা ফান্ডের পৃষ্ঠপোষকতায় স্টেম এন্ড আইসিটি স্কিলস ফর দ্যা গার্লস অফ কোস্টাল এরিয়া প্রকল্পটি উপকূলের মাধ্যমিক স্কুলের মেয়েদের বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তিতে আগ্রহ তৈরী ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। যার অংশ হিসেবে উক্ত কর্মশালার আয়োজন। এই কার্যক্রমকে টেকসই করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার, স্থানীয় সরকার, এনজিও এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

অতিথির মধ্যে বক্তৃতা করেন- খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যাল অধ্যাপক ড. হেলাল আন নাহিয়ান, মালালা ফান্ডের এডুকেশন চ্যাম্পিয়ন নেটওয়ার্ক মুনির হাসন, মাচাটোনিস কুয়েট দেব প্যান্ট হেড প্রফেসর ড. হেলাল নাহিয়ান, রূপসা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম তরফদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস.এ আনোয়ার-উল কুদ্দুস, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ মো. জাকারিয়া, সংবাদকর্মী এম মুরশীদ আলী, মো. আজিজুল ইসলাম প্রমূখ।

কর্মশালায় দলগত আলোচনা ও প্যানেল সেশনে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও এনজিও নেতৃবৃন্দ উপকূলীয় মেয়েদের STEM শিক্ষায় অংশগ্রহণের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে মতামত দেন।রূপসা উপজেলার ৪ টি মাধ্যমিক হলো-১.  কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২. পিঠাভোগ ডি.জি.সি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩. কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল, ৪. নৈহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া উপকূলের মেয়েদের ক্ষমতায়নে কাজ করা ৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তা সহ ৭০ জন উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিকে বার্ষিক পরীক্ষা; রূপসায়- ৯৫৬২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্ৰহন

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা, খুলনা//

রূপসা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা-২০২৫, শুরু ১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। স্ব-স্ব বিদ্যালয়ের ১ম ও ২য় শ্রেণীর পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এবং ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দুপুর ১.৩০ মি: থেকে ৪টা পর্যন্ত।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়- সমগ্র উপজেলায় প্রথম শ্রেণীতে ১৮১৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১৮৯০ জন, তৃতীয় শ্রেণীতে ২০০১ জন, চতুর্থ শ্রেণীতে ২০৪১ জন এবং পঞ্চম শ্রেণীতে ১৮১৫ জন। সর্বমোট- ৯৫৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাঃ আবুল কাশেম জানান- এ উপজেলায় ৬৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতি বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে।

প্রাথমিকে প্রান্তিক মূল্যায়ন; রূপসায়- ৯৯০৯ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহন

//এম মুরশীদ আলী: রূপসা//

রূপসা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রান্তিক মূল্যায়ন স্ব স্ব বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণী ও ২য় শ্রেণী পরীক্ষা সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এবং ৩য় শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণীর পরীক্ষা দুপুর ১ টায় শুরু হয়ে বিকেল ৩.৩০ মিঃ শেষ হবে। এ পরীক্ষা গত ৬ মে থেকে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চলবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম জানান- কয়েক বছর ধরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের শ্রেণী পাঠদান চলাকালীন ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শ্রেণীর প্রমোশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত। দীর্ঘকাল পর প্রাথমিকে এ বছর শুরু হলো প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা। ১ম ও ২য় শ্রেণীর ৫০ নম্বরের লিখিত (যা প্রশ্ন পত্রের উপরে উত্তর দিবে) এবং ৫০ নম্বরের ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে করে শিশুরা নিজেকে যাচাই বা মূল্যায়ন করে পরবর্তী লেখাপড়ার উন্নয়ন সাধনে সচেষ্ট হবে। তাতে শিক্ষকদের পাঠদানের প্রতি আন্তরিকতা ও দায়িত্ব বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষার্থীরা আনন্দচিত্তে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে এবং অভিভাবকগণ পরীক্ষা ব্যবস্থা ফিরে আসাতে সন্তুষ্ট প্রকাশ করছেন।
রূপসা উপজেলায় ৬৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রান্তিক মূল্যায়নে প্রথম শ্রেণীতে ১৮৮৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১৯৬০ জন, তৃতীয় শ্রেণীতে ২০৭৩ জন, চতুর্থ শ্রেণীতে ২১১০ জন এবং পঞ্চম শ্রেণীতে ১৮৭৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

এসএসসি রূপসায় ৮টি কেন্দ্রে  ২০৩২ জন পরীক্ষার্থী

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

রূপসা উপজেলায় ২১ টি মাধ্যমিক ও ১০টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী নিয়ে ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২০৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করছে। পরীক্ষার জন্য ৮টি কেন্দ্র করা হয়েছে। এসএসসি (সাধরণ) প্রথম দিন বাংলা ১ম পত্র পাঠ্য বইয়ের লিখিত পরীক্ষা, মাদ্রাসা দাখিল পরীক্ষার্থী’র জন্য ১টি কেন্দ্রে কুরআন মাজিদ ও তাজবীদ লিখিত পরীক্ষা এবং ভোকেশনাল ১টি কেন্দ্রে বাংলা- ২ (১৯২১) বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ১০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) শুরু সকাল সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রের ভিতর প্রবেশ এবং দুপুর ১ টায় পরীক্ষা শেষ হবে।

পরীক্ষার কেন্দ্রগুলি হচ্ছে- কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (মূল কেন্দ্র) ৩৪০ জন পরীক্ষার্থী। নৈহাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (ভেনু কেন্দ্র) ১০১ জন পরীক্ষার্থী’র অংশগ্রহন। মোট-৪৪১ জন শিক্ষার্থী। ভোকেশনাল- কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে- ১৭৬ জন পরীক্ষার্থী’র অংশগ্রহন। শিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় (মূল কেন্দ্র) ২৮৪ জন পরীক্ষার্থী। এস,জি,সি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ (ভেন্যু কেন্দ্র) ১৬৭ জন পরীক্ষার্থী। মোট- ৪৫১ জন শিক্ষার্থী। বেলফুলিয়া ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে (মূল কেন্দ্র) ৩৫৫জন পরীক্ষার্থী। জে, কে, এস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (ভেন্যু কেন্দ্র) ৩০৮ জন পরীক্ষার্থী’র অংশগ্রহন।  মোট- ৬৬৩ জন শিক্ষার্থী। সামন্তসেনা দারুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদ্রাসা ৩০১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করবে।

পরীক্ষা তদরকি বিষয়ে- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. জাহিদুর রহমান সার্বিক তত্বাবধায়নে থাকবেন। তিনি বলেন- শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস/১০০ নম্বরের পরীক্ষা হচ্ছে। এসএসসি এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল পরীক্ষা শেষ হবে ১৩মে। তাছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৪ মে থেকে ২২ মে মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শুরু থেকে শেষ সময় পর্যন্ত পরীক্ষার কেন্দ্র নজরদারি ও নকল মুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কেন্দ্রে একজন সরকারি ভিজিলেন্স কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন। প্রতি কেন্দ্র সমূহে প্রধান শিক্ষক, পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

পরীক্ষার কেন্দ্র নিরাপত্তার বিষয়ে- কেন্দ্র কমিটির সভাপতির দায়িত্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকাশ কুমার কুন্ডু। তিনি বলেন- পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেন্দ্র পরিদর্শন সহ সার্বিক খোঁজ-খবর রাখা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে পরীক্ষা শুরুর আধ ঘণ্টা আগে প্রবেশ করতে পারে। কেন্দ্র এলাকায় কোন প্রকার যানজট বা লোক জমায়েত না করতে পারে, সে দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রগুলোর ১০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরীক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সার্বক্ষনিক খেয়াল রাখবেন।

ডুমুরিয়ায় মওলানা ভাষানী কলেজের সহকারী অধ‍্যাপকের অবসর জনিত বিদায় সংবর্ধনা

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ার বানিয়াখালী মওলানা ভাসানী মেমোরিয়াল ডিগ্রী  কলেজের সহকারী অধ্যাপক (অর্থনীতি বিভাগ)  তপতী রানী বিশ্বাসের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজের হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়।

এ লক্ষ্যে এক  আলোচনা সভা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হাই এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে  বক্তব্য রাখেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও ডুমুরিয়া  মহাবিদ‍্যালয়ের সভাপতি শেখ মশিউর রহমান লিটন, শিক্ষক প্রতিনিধি ইউসুফ আলী, সহকারী অধ‍্যাপক কে হয়রত আলী পরিচালনায় আরো বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক গোবিন্দ মন্ডল,  এইচ এম আমিনুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, প্রভাষক ইলিয়াস হোসেন শান্তিলতা মন্ডল,  অলকেশ মন্ডল  প্রমুখ।

বাগেরহাটের চিলতমারী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার সাথে ওলামা লীগ সভাপতির জাতীয় পতাকা উত্তোলন

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ধারায় যখন দেশ চলছে- তখন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা সদরের একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে অমানবিক আচরণের ঘটনা ঘটেছে।

ঘন্টার পর ঘন্টা শিক্ষার্থীরা রোদ-তাপে দাড়িয়ে অসুস্থ হওয়ার পর অবশেষে অতিথিরা আসেন। এক মঞ্চে ইউএনওর পাশে থেকে ওলামা লীগের উপজেলা সভাপতি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। উপস্থাপক তৃপ্তির ঢেকুর তুলে নীতিবাক্যের বক্তব্য দিয়ে অতিথিদের নানা অলংকরণ-উপাধিতে ভূষিত করে মঞ্চে ডাকেন। ততক্ষণে ক্ষিদেয় অনেক শিক্ষার্থীর পেটে ব্যাথা শুরু হয়। মাথা ঘুরে মাটিতে বসে পড়ে মেয়ে শিক্ষার্থীরা। উপজেলার একমাত্র সরকারি বিদ্যালয়ে অতিথি বরণের এমন অমানবিক ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহীসহ অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দদের খুশি করতে আয়োজকদের সময়জ্ঞান বহির্ভূত এই অমানবিক আচরণ ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। চিতলমারী সরকারি সামছুন্নেছা মেমোরিয়াল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে দুইদিন ব্যাপি বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

৭ম শ্রেণি, ৮ম শ্রেণি, ৯ম, শ্রেণীসহ ভুক্তভোগী অন্যান্য শিক্ষার্থী জানায়, অনেক ইচ্ছে ছিল বিদ্যালয়ের দুইদিন ব্যাপি অনুষ্ঠানে অনেক আনন্দ হবে। কিন্তু এখন সব আনন্দ হারিয়ে গেছে। কারণ- সকাল ০৯টার আগে স্কুলে এসে অতিথিদের বরণ করার জন্য লাইনে দাড়িয়ে আছি। এখন বাজে প্রায় সোয়া ১১টা। কিন্তু ইউএনও কিংবা অতিথিদের দেখা নেই। আর দাড়িয়ে থাকতে না পেরে মাটিতে বসে পড়েছি। এই যদি হয় সময়ানুবর্তীতার শিক্ষা- তাহলে ভবিষ্যতে আমরা কেমন মানুষ হবো?

৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, শুনেছি এই স্কুলের সভাপতি ইউএনও সাহেব। তিনিই যদি সময় মতো অনুষ্ঠানে না আসেন। আর ঘন্টার পর ঘন্টা আমরা রোদে-তাপে অভুক্ত অবস্থায় দাড়িয়ে থেকে কষ্ট পাই- তাহলে কী শেখার আছে? কী করার আছে? আমরা তো অসহায়- একদিকে স্কুলের এই অনুষ্ঠানের নিয়ম অমান্য করলে খারাপ হবে। আরেকদিকে বাড়িতে বসেও থাকতে পারিনা।

ভুক্তভোগী ৭ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী  বলে, এই অনুষ্ঠানের চিঠিতে সকাল ০৯টায় শুভ উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। সেজন্য আটটার দিকে বাড়ি হতে শুধু চা-বিস্কুট খেয়ে স্কুলে আসি। কিন্তু এখন ১১টা বাজে। অতিথিরা আসেননি। প্রচন্ড খিদেয় পেটে ব্যাথা করছিল। বার বার পানি খেয়েছি। আর সহ্য হচ্ছে না। এটাও এক ধরণের অত্যাচার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাইকে বার বার অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আগমনের কথা ঘোষণা করেন বিদ্যালয়ের আওয়ামীঘেষা সহকারী শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান। এইকথা বলে তিনি ঘন্টার পর ঘন্টা শিক্ষার্থীদের রোদে-তাপে এসেম্বলী ও গেটের দুইপাশে দাড়িয়ে থাকতে নির্দেশনা দেন। এই অবস্থায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এছাড়া, বাংলাদেশ ওলামা লীগের চিতলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ইদ্রিসুর রহমানকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইউএনওর পাশে দাড়িয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উদ্বোধন করতে দেখা যায়। তখন উপজেলা বিএনপির কোন নেতৃবৃন্দকে দেখা যায়না। জানা যায়, এলাকার অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিকে কৌশলে বাদ রেখে এই অনুষ্ঠানসূচি তৈরী করেন, সহকারী শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান।

এই বিষয়ে চিতলমারী সরকারি সামছুন্নেছা মেমোরিয়াল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্রনাথ মল্লিক বলেন, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে দুব্যর্বহার- কৌশলে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন, সরকারী অর্থ আত্মসাৎ, কোচিং বানিজ্য, গাইডবই বানিজ্য সহ অসংখ্য অনিয়ম রয়েছে। তার বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ বা অভিযোগ করলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে মিছিল সহ নানাভাবে লেলিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ বিষয়ে চিতলমারী সরকারি সামছুন্নেছা মেমোরিয়াল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান এর কাছে জানতে ফোন দিলে তিনি পোন রিসিভ করেননি।

এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার খান জানান, কত ঘন্টা ধরে শিক্ষার্থীরা দাড়িয়ে কষ্ট পাচ্ছিল সেটা তার জানা নেই। কোন শিক্ষার্থী অসুস্থতার বিষয়ে তাকে জানায়নি বলে জানান।

চিতলমারী সরকারি সামছুন্নেছা মেমোরিয়াল মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল জানান, আমি এই বিষয় জানিনা কিছু তবে ব্যাবস্থা নিচ্ছি আমি।

Daily World News

বাগেরহাটে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়ে বৃত্তি প্রদান

নির্বাচন শেষে ভেদাভেদ ভুলে যান- তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করুন, লায়ন ডঃ শেখ ফরিদুল ইসলাম

বাগেরহাটের রামপালে স্মার্ট ক্লাইমেট কৃষি মেলায় পণ্য প্রসাধনী আলোচনা সভা