ঈদের দিন ভারতের হুগলিতে হিন্দু পড়শির দেহ সৎকার করলেন মুসলিম প্রতিবেশীরা

ঈদের দিন ভারতের হুগলিতে হিন্দু পড়শির দেহ সৎকার করলেন মুসলিম প্রতিবেশীরা

 

বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সুনামি বইছে ভারত জুড়ে। করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে লাগামহীনভাবে।করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি এখনও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়।তাছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে তো অবস্থা আরও খারাপ। মৃত ব্যক্তিটির  স্বাভাবিক সৎকার করার লোকও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।তেমনি একটি ঘটনা ঘটছে হুগলি জেলার পোলবা- দাদপুর ব্লকের বাবনাম গ্রামে।

 গ্রামের হরেন্দ্র সাধু খাঁ(৭২) নামক ব্যক্তিটি গত তিনদিন যাবত জ্বরে ভুগছিলেন।করোনা পরীক্ষার আগেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের কারো মৃত্যুর পরে সেই পরিবারের লোকেরা কতটা শোকাতুর থাকে সেটা যেকারো কাছে অনুমেয়। কিন্তু ঐ পরিবারের নিকট এই শোকের পরে আরও অপরিসীম  শোক হয়ে দেখা দিল যখন তারা দেখলেন, করোনা সংক্রমনের ভয়ে কেউ তাদের বাড়ির চৌকাঠে পা রাখছেন না। মৃতের একমাত্র ছেলে চন্দন দিশেহারা হয়ে সৎকারের জন্য প্রতিবেশী হিন্দুদের সহযোগিতা চেয়েছেন কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি সৎকারের কাজে সাহায্য করতে।

 

 হিন্দু পড়শির দেহ সৎকার করলেন মুসলিম প্রতিবেশীরা

 

গতকাল ছিল মুসলমানদের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ইদুল- উল- ফিতর।ইদের নামাজ পড়ে উৎসব পালনের জন্য সকলে যার যার মতো বের হচ্ছিলেন তারা। এরই মধ্যে মুসলিম প্রতিবেশীরা হঠাৎ খবর পেলেন মৃতের সৎকার করার জন্য কোন লোক পাচ্ছেন না তার ছেলে চন্দন।

মৃতের ছেলের এই অসহয়তার কথা শুনে উৎসব শিকেয় তুলে ধর্মীয় সংকীর্ণতা ভুলে পাশে দাঁড়াতে বেরিয়ে পড়েন মুসলিম প্রতিবেশী আশিক মোল্লা, গোলাম সুবানী,গোলাম সাব্বার,শেখ সানিসহ আরও অনেকে।

করোনার ভয় উপেক্ষা করে হাজির হলেন মৃতের বাড়িতে। নিজেরা খাট বেঁধে, ফুলের মালা দিয়ে সাজিয়ে তোলেন মৃতের দেহ। চার ভিন্নধর্মী মানুষের কাঁধেই শেষ যাত্রায় যান হরেন্দ্রনাথ সাঁধুখাঁ। শ্মশানে কাঠ জোগাড় থেকে শুরু করে দাহ করার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পিতৃহারা সন্তানের পাশে ছিলেন তারা।

 

এযেন মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত। আমরা যদি সকলেই ধর্মীয় শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারতাম তাহলে হয়তো ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সত্যিকারের মানুষ হয়ে হিংসা বিদ্বেষ ভুলে একে অপরের বিপদ- আপদে,সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে পারতাম।আর তাহলে হয়তো  আগামী প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব হতো।

//স্বীকৃতি বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক// 

————————————–

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

সিরিয়া থেকে রকেট হামলা….

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *