লিটন কি হাফেজ নাকি ডাকাত সর্দার

লিটন কি হাফেজ নাকি ডাকাত সর্দার

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

গোপালগঞ্জ সদরের উলপুর উত্তরপাড়ার হাফেজিয়া শামসুল উলুম মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে হয়েছেন হাফেজ। কেউ ডাকেন লোকমান হাকিম, কেউ বলেন লিটন শেখ। এরপর গোপালগঞ্জ ও নড়াইলের দুটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও করেন ৪৪ বছর বয়সী লিটন। সমাজে তিনি সম্মানীয় ব্যক্তি। তবে পুলিশের অভিধানে তিনি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ‘বস’।

শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে কীভাবে ভয়ংকর ডাকাত হয়ে উঠলেন লিটন শেখ? ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হাতে দলবলসহ গ্রেপ্তারের পর সেই তথ্য জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, অসৎ সঙ্গে হয়েছে তার সর্বনাশ। মাদ্রাসায় ছাত্র থাকা অবস্থায় এক বন্ধুর প্রেমিকাকে কয়েকজন মিলে তুলে এনেছিলেন। সেই ঘটনায় বন্ধুর প্রেমিকার বাবা তাদের নামে ডাকাতির মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন। গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়ে পরিচয় হয় ডাকাত দলের সঙ্গে। ধীরে ধীরে ডাকাতিই হয়ে যায় তার পেশা।

ডিবি জানায়, ৫ মার্চ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা রোডের স্বপ্নধারা হাউজিং এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল লিটন শেখের দল। গোয়েন্দা তথ্য নিশ্চিত হয়ে ওই রাতেই সেখানে অভিযান চালিয়ে লিটন শেখ ছাড়াও দলের সদস্য ইব্রাহীম চৌধুরী, রিপন খান ও মাহবুব মিয়া ওরফে মাবুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসে ডাকাতির চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাদের কাছ থেকে পাওয়া পরিচয় ও তথ্যে কিছুটা বিব্রত হন গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও।

ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহাদত হোসেন সুমা বলেন, লিটন শেখের গ্রুপটি রাজধানী ঢাকাসহ কেরানীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে বলে তাদের কাছে তথ্য ছিল। পুলিশ লিটনকে ডাকাত সর্দার হিসেবেই জানত। সেই লিটন শেখকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তার পড়ালেখা ও মাদ্রাসায় শিক্ষকতার বিষয়ে জেনে গোয়েন্দাদের চোখও কপালে ওঠে।

ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, লিটন শেখের দলটি বাসাবাড়ি, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ডিবি পুলিশের ছদ্মবেশে বিভিন্ন জেলা সড়কে স্বল্প সময়ে কথিত চেকপোস্ট বসিয়ে ডাকাতি করত। একটি ব্যাংক ও মন্দিরে ডাকাতির অপচেষ্টা করছিল ডাকাত দলটি- এমন তথ্যেই গ্রুপটিকে খুঁজছিলেন গোয়েন্দারা।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির আরেক কর্মকর্তা জানান, লিটন শেখের গ্রুপটি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছিল। রেকিও করেছিল ব্যাংকটির শাখা অফিসে। এ ছাড়া মুকসুদপুরের একটি মন্দিরে ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল তাদের।

লিটন শেখের ভাষ্য, মা-বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি হাফেজ হয়েছেন। পরে তিনি বিয়েও করেন। সন্তান প্রসবের সময় মারা যান স্ত্রী। তখন তিনি মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও করেন। একপর্যায়ে তার মাথায় সমস্যা দেখা দেয়। চাকরি চলে গেলেও তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। পরে তিনি ভ্যান চালাতে শুরু করেন। হঠাৎ কারাগারে পরিচয় হওয়া ডাকাত দলটির সঙ্গে তার দেখা হয়ে যায়। তার ভ্যানে করেই চলত ডাকাতির কাজ। এতে ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা পাওয়া শুরু করেন। ধীরে ধীরে লোভে পড়ে নিজেই ডাকাতিতে অংশ নেন। একপর্যায়ে তিনি সর্দার বনে যান।

লিটনের দাবি, এখন আর তিনি ডাকাতি করেন না। ইব্রাহীমসহ অন্য সাগরেদরা ‘কাজ করে’ তাকে একটা ভাগ দেয়। তবে তিনি তাদের নানা কৌশল শেখান।

গ্রেপ্তার হওয়া ইব্রাহীম চৌধুরী জানান, ২০১৮ সালে বাস থেকে ব্যাটারি চুরির দায়ে কারাগারে যান। ফরিদপুরের জেলা কারাগারে দেখা পান লিটন শেখের। এরপর তার শরণাপন্ন হন। কারাগার থেকে বেরিয়ে লিটনের দলের হয়েই শুরু করেন ডাকাতি।

ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহাদত হোসেন সুমা জানান, গ্রেপ্তার চারজন এর আগেও চুরি-ডাকাতি করে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন। জামিনে বেরিয়ে ফের একই অপরাধে যুক্ত হন। ডাকাত দলটির সর্দার লিটনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় পাঁচটি, ইব্রাহীম চৌধুরীর নামে পাঁচটি, রিপন খানের নামে তিনটি ও মাবুদ মিয়ার নামে দুটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

নিজের মেয়েকে হত্যা চেষ্টা…! বরিশালের এই দুর্ঘটনার কারণ অবৈধ সম্পর্ক

মহান স্বাধীনতা দিবস।। জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *