//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//
এখন থেকে প্রায় ৫০০০ বছর আগে থেকেই স্বর্ণ ও রৌপ্য বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে bank Cheque এর মত করে প্রথম Promissory Note ছাড়ে ইউরোপে ইহুদীরা। ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে Receipt প্রদান প্রথা চালু করে। বাইবেলে সুদ নিষিদ্ধ ছিল। ইহুদী কারবারিরা বাইবেলে নিষিদ্ধ সুদ প্রথাকে সংশোধন করে ইহুদী ছাড়া সবার কাছে সুদকে বৈধ ঘোষণা করে। উদ্দেশ্য ছিল বেশী বেশী ঋণ সৃষ্টির মাধ্যমে অধিকহারে মুনাফা লুন্ঠন করা। ক্রমে এই Receipt গুলো নির্দিষ্ট মূল্যের অর্থে রুপান্তরিত হয়।
১৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে Bank of England প্রতিষ্ঠিত হয়। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে তারা নোট ইস্যু করে। ১৬৯৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে এইসব নোটে টাকার অংকটা হাতে লিখা থাকতো। ১৭৪৫ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ২০ হতে ১০০০ পাউন্ড পর্যন্ত printed Note চালু হয়ে যায়। ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের পর হতে নোটে কোন স্বাক্ষরের প্রয়োজন হোতনা। ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে England এ “Bank Charter Act” এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন নূতন নোট ইস্যু করার ক্ষমতা Bank of England এর উপর বর্তায়।
অন্যদিকে ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার Federal States সমূহে প্রথম bank Note চালু হয়। ১৯১৩ সালে “The Federal Reserve Act, 1913” এর মাধ্যমে ডলার এর জন্ম হয় । তখন ডলারে লিখা থাকতোঃ This certifies that there have been deposited …..dollar in the treasury in gold coin payable to the bearer on demand.
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত US Dollar এর Gold Standard মানা হোত। এক পর্যায়ে এরা ইহুদীদের মত বেশী পরিমাণে কাগুজে নোট ছাপতে শুরু করে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা Redemption Right বা কাগুজে নোট জমা দিয়ে Gold উত্তোলনের প্রথা বাতিল করে দেয়।
১ম বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা কোন পক্ষে না থাকায় তাদের পোয়া-বারো সুযোগ সৃষ্টি হয়; তাদের স্বর্ণের মজুদ বিপুল পরিমাণে বেড়ে যায়। কিন্তু ২য় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার স্বর্ণের মৌজুদ দারুনভাবে হ্রাস পায়। তবে তার আগেই আমেরিকা অন্যান্য দেশে সোনার পাহাড় গড়ে তুলে।
১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে সারা বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানগণ Breton Woods Hampshire-এ মিলিত হয়ে নূতন Monetary System চালুর পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। ফ্রাঁ, পাউন্ড স্টারলিং ও মার্ক ব্যতিত সকল কারেন্সী ইউএস ডলার দ্বারা ০.৩৫ হারে backed থাকবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। Breton Woods Hampshire সম্মেলনে ক্ষমতা পাওয়ার পর হতে আমেরিকার নৈতিক অধ:পতন ত্বরান্বিত হয়, কাগুজে ডলারের বিপরিতে ট্রেজারীতে স্বর্ণ জমা না রেখে, ইচ্ছামত ডলার Print করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমেরিকা Deficit Spending শুরু করে। উদ্দেশ্য ছিল অস্ত্রের জোরে নিজেকে বিশ্বের ১নং সেরা মোড়ল হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করা।
১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের দ্যগল আমেরিকার এ জালিয়াতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেন। ফ্রান্স ইস্যুটি তাদের আইন সভায় পাশ করিয়ে কাগুজে ডলারের বিনিময়ে Gold দাবি করে বসে। ফ্রান্সের দেখাদেখি ব্রিটেন ও জার্মানী একই কাজ করে ফলে আমেরিকার স্বর্ণের মওজুদ অর্ধেকে নেমে আসে।
ডলারের এই ভয়াবহ দূর্নীতি ঠেকাতে নিক্সন সরকার বেপরোয়া হয়ে উঠে। বাধ্য হয়ে ১৫ আগষ্ট, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে “আপাতত: অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে” ডলারের Gold Standard বাতিল ঘোষণা করে। ফলে অপকর্মকে ধামাচাপা দিতে, “Currency জমা দিয়ে আর Gold নয়” মর্মে ঘোষণা দেয়। তার মানে নিজেদের দুষ্কৃতির বিচার নয়, বরং চোরকে রক্ষা করাই যেন প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়াল। অদ্যাবধি কাগুজে ডলারের মান নির্ধারনের কোন নীতিই আর প্রবর্তন করা হয় নি। তবে এমন বিশ্বাসঘাতকতার পর ডলারকে আর কেহই নিজেদের বিনিময় মুদ্রা হিসেবে গ্রহন করতে রাজি হল না। এমনি অবস্থায়, আমেরিকা প্রমাদ গুণলো। প্রতারণা কার সাথে করবে, এমন পার্টনার খুঁজে পাচ্ছিল না। সুযোগের অপেক্ষায় রইল।
১৯৬৭ সালের আরব ইজরাইল যুদ্ধে আরব রাষ্ট্রগুলোর প্রথম পরাজয়ের ঘটে। ১৯৭৩ সালে ইজরাইলের সাথে দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধ শুরু হয়। মিশর ও সিরিয়া ইজরাইলকে দুইদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এ সময় সৌদি সিংহাসনে বাদশাহ ফয়সাল আসান ছিলেন। তিনি ঘোষণা করলেন “ইজরাইলের পা-চাটা গোলাম আমেরিকা যুদ্ধে জড়ালে ওপেক বিশ্বব্যাপী (সৌদি, কুয়েত ও লিবিয়া) তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিবে”। এর প্রভাবে বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্য ৪০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৩ ডলারের পরিবর্তে ১২ ডলারে উন্নীত হয়।
আমেরিকা ঠিক এমনি একটি দূর্লভ সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার সৌদি আরব এসে গোপন চুক্তির মাধ্যমে তেলের বাজারে যাদুর কাঠি ধরিয়ে দিলেন। এতে ডলারও বাঁচলো, তেলও উঠলো স্বর্ণের পাহাড়ে। চুক্তি হল “এখন থেকে ওপেক তেল বেঁচবে শুধু ডলারে”। এত্থেকেই জন্ম হয় ‘Petrodollar’ শব্দের। চুক্তির শর্ত আরেকটা ছিল। তবে তা অদ্যাবধি প্রকাশ করা হয়নি। তবে সৌদী রাজকুমারদের লাম্ফট্যপনা আর তাদের সাথে আমেরিকার মাখামাখি দেখে তা সহজেই অনুমান করা যায়। তা হোল ‘হাজারো অযোগ্যতা সত্ত্বেও এই সৌদী শেঠদের যুগ যুগ ধরে ক্ষমতার মসনদে বসিয়ে রাখা’। আর এটাই ছিল বিশ্বব্যাপী ‘ডলার’ এর সার্বভৌমত্ব অর্জনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আর এর সাথেই শুরু হয়েছিল আমেরিকার প্রিন্টেড কাগজ বিক্রি করে সমগ্র পৃথিবী হতে সম্পদ শোষণের সর্বগ্রাসী নির্মম কাহিনী। সূত্র: Quora
বাগেরহাটের ফকিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত

