লোকমুখে শোনা যায় ১২০ বছরেরও অধিক সময় ধরে এই মেলা প্রথমে মাগুরা সদর উপজেলার গোপাল গ্রাম ইউনিয়নের বাহারবাগ গ্রামে অনুষ্ঠিত হতো। দূর–দূরান্তের গ্রাম গুলো থেকে ঘোড়া নিয়ে আসতো প্রতিযোগিতার জন্য। কোন এক বছর বড়রিয়া গ্রামের লোকদের সাথে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার পুরস্কার নিয়ে মেলার আয়োজকদের সাথে দ্বন্দ্ব হয়।আর সেই দ্বন্দ্বের জের ধরে মূলত পরবর্তী বছর মেলাটি ঐ একই দিনে বড়রিয়া গ্রামেও শুরু হয়।
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় মেলা প্রতিবছর পৌষ মাসের ২৮ তারিখে শুরু হয়ে থাকে এবং ৩–৫ দিন ধরে চলতে থাকে মেলার মূল আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রায় ১৫–২০ দিন ধরে বিভিন্ন জেলা হতে আগত কাঠের ফার্নিচার ক্রয়/বিক্রয় চলতে থাকে । আর ঐ তারিখেই বাহারবাগ গ্রামে ১দিনের জন্য মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের মাধ্যমে জানা যায় প্রায় ১২০ বা ১৫০ বছর ধরে ব্যাপক আয়োজনে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মেলার অন্যতম আকর্ষণ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। মাগুরা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে ঘোড়া আসে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে।
এছাড়া এই মেলায় ইতিপূর্বে পুতুল নাচ, যাত্রাপালা, নাগরদোলা, লাঠিখেলা খেলা হতো বলেও জানা গেছে।
মেলায় বিভিন্ন ধরনের কাঠের ফার্নিচার, বাঁশ–বেতের সামগ্রী, মাটির তৈরী নানা ধরনের মৃতশিল্প, চুড়িমালা, কসমেটিক, পিঠা, মিষ্টি, মাছ, সবজীর দোকানও বসে থাকে।এছাড়াও বিনোদনের জন্য নাগরদোলা,চড়কি,চলন্ত ঝুলন্ত নৌকা সহ হরেকরকম জিনিসের আগমন ঘটে এই মেলায়।
মেলা উপলক্ষ্যে বড়রিয়াসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির মেয়ে জামাইদের দাওয়াত করে আপ্যায়ন করার রেওয়াজ রয়েছে। এ মেলা উপলক্ষ্যে বড়রিয়াসহ আশেপাশের প্রায় সব বাড়ীর মেয়ে জামাইয়েরা ব্যাগভর্তি বাজার নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসে।এছাড়াও মেলাস্থলে লক্ষাধিক দর্শক/দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।
এবছর মেলায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত খাজনা নেওয়া হচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন।যার ফলশ্রুতিতে সমস্ত জিনিসপত্র চড়া দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।মজার ব্যাপার হলো এই মেলার কোন প্রচার প্রচারণা চালানো হয় না,ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীরা বাংলা মাসের হিসাব অনুযায়ী ২৮ শে পৌষের ১০/১৫ দিন আগে থেকেই মেলার প্রস্তুতি নিতে থাকে এবং যথাসময়ে মেলায় সকলের অংশগ্রহণ চোখে পড়ে।
//সুজন মাহমুদ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি//
বাগেরহাটের রামপালের ডাকরা গণহত্যার ইতিহাস বিকৃত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

