পটুয়াখালীর গলাচিপায় ঝুমুর আক্তার দ্বৈত পরিচয়ে লাখ লাখ টাকার  প্রতারণা

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ঝুমুর আক্তার দ্বৈত পরিচয়ে লাখ লাখ টাকার  প্রতারণা

 

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার আমখোল ইউনিয়ন এর আমখোলা গ্রামের ৩নং ওয়ার্ডের মোঃ দেলোয়ার হাওলাদারের কন্যা ঝুমুর আক্তার এর বিরুদ্ধে দ্বৈত পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ঝুমুর আক্তার এর দ্বিতীয় স্বামী পটুয়াখালী জেলার রাঙাবালি উপজেলার দক্ষিণ কাজীর হাওলা গ্রামের মৃতঃখালেক মল্লিক এর পুএ মোঃ সেলিম মল্লিক গত ১৮ই অগাষ্ট ২০২১ঝুমুর আক্তার এর বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ সুএে জানা যায় ঝুমুর আক্তার দীর্ঘ দিন যাবত দ্বৈত পরিচয় পএ এবং ইউনিয়ন পরিষদ কতৃক বাবার নাম ঠিক রেখে ভিন্ন নামে ২ টি নাগরিক সনদ গ্রহণ করে বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্হাপন করে লাখ লাখ টাকা, সোনা গয়না হাতিয়ে নিচ্ছে। একাধিক পুরুষের সাথে বিবাহের কথা বলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে সর্বশান্ত করে লাপাত্তা হয়ে যায়।

জেলার গলাচিপা উপজেলার নির্বাচন অফিসের সীলমোহর এবং ১২-৮-২০২১ সনের জাতীয় পরিচয় পএের আবেদন পএে দেখা যায় ঝুমুর আক্তার নাম পরিবর্তন করে আছিয়া বেগম উল্লেখ করেছেন, জাতীয় পরিচয় পএ নং-৮৬৬৬৪১৬৪৫১,জন্ম তারিখ ১০-১০-১৯৮৫,স্বামীর নাম মানিক, বাবার নাম মোঃদেলোয়ার মায়ের নাম রসনছা।মে ২০১৯ প্রদত্ত জাতীয় পরিচয় পএে(স্মার্ট কার্ড)এ দেখা জায় জন্ম তারিখ ১৫ই মে ১৯৯৬ নং ৭৭৭২৫০০৮০২,বাবার নাম মোঃ দেলোয়ার হাওলাদারের মায়ের নাম রওশন আরা।

ভিন্ন ভিন্ন নামের কারনে দীর্ঘ দিন যাবত সুকৌশলে প্রতারণা করে আসছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতারক ঝুমুর আক্তার নামে ভকেশনাল থেকে পাশ করে ঢাকার সোনারগাঁও ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (টেক্সটাইল এ্যান্ড ইন্জিনিয়ারিং) থেকে বি এস সি পাশ করে।অধ্যায়নরত অবস্থায় তার সহ পাঠী পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলার স্বরগ্রামের মোঃদুলাল ফকির এর পুএ সোহান(২৫)এর সাথে প্রেম এবং বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে এবং ঢাকায় এক সাথে বসবাস করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

সোহান ঝুমুর আক্তার কে বিয়ের জন্য চাপ দিলে গত ১০-৯-২০১৮তারিখে বেলা ৩টার সময় ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সামনে থাপ্পড় মারে। বিষয় টি উভয় পক্ষের মধ্যে মিমাংসা হলেও তিন মাস পর সোহান গত ৬-১২-২০১৮ তারিখে ঢাকায় আত্মহত্যা করলে ঝুমুর পরের দিন ৭-১২-২০১৮ তারিখে ঢাকার বনানী থানায় সোহানের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করে (নং৪২২/৭-১২-২০১৮। সোহানের মা সুরাইয়া বেগম (৪০) মুঠোফোনে (০১৭৩৫১৩৩৩৭৫) কান্না জড়িত কন্ঠে এ প্রতিবেদক কে বলেন ঝুমুরের জন্য আমার ছেলে পাগল ছিলো।

আমি ওদের সম্পর্কের বিষয় টি জানতাম।সোহানের আত্মহত্যার পর পুলিশ সোহানের হাতের লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করে যাতে লেখা ছিলো(আত্মহত্যা মহা পাপ,আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়,আমার মৃত্যুর খবর ঝুমুরের কাছে পৌঁছে দিও।)যা পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানা পুলিশের কাছে রক্ষীত আছে বলে তিনি জানান। অভিযোগ কারী ঝুমুর আক্তার এর দ্বিতীয় স্বামী মোঃ সেলিম মল্লিক জানায় ঝুমুরের প্রতারণার বিষয় টি তার জানা ছিলোনা।আমি গত ৯ জুলাই ২০২০ নোটারী করে এবং ১১ ই জুলাই ২০২০ শরীয়ত সম্নত ভাবে ঝুমুর কে বিবাহ করি।

ঝুমুর আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে বাড়ীতে মাছের ঘের, পাকা দালান এবং নগদ ১৫ লাখ টাকা নিয়ে এখন নিখোঁজ রয়েছে। সরেজমিনে আমখোলা গ্রামে ঝুমুরের বাবার বাড়ীতে গোলে সাংবাদিকদের দেখে ঝুমুরের বাবা -মা গা ঢাকা দেয়।স্হানীয়রা জানায় বিগত দিনে ঝুমুর অনেকের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। এমন কি তার বাবা অনৈতিক সম্পর্কের কারনে ধর্ষণ মামলার আসামী(পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালে মামলা চলমান(মামলা নং১৬৪/২০) ইউনিয়ন পরিষদ কতৃক কিভাবে একই ব্যাকত্তিকে দুই টি নাগরিক সনদ পএ দেওয়া হলো জানতে চাইলে ১নং আমখোলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান মনির বলেন আমরা জাতীয় পরিচয় পএ দেখে নাগরিক সনদ পএ প্রদান করে থাকি।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঝুমুর আক্তার এর ব্যবহৃত মোবাইল নং(০১৬৪২৪৪৪১০৯)বন্ধ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগীরা ঝুমুর আক্তারের প্রতারণার কারনে অন্য কেউ যাতে আর সর্বশান্ত না হয় তাঁর জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং তদন্ত পুর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।

//মোঃ তুহিন শরীফ, পটুয়াখালী//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

১০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার উধাও হয়ে গেছে বরিশাল শেবাচিম থেকে

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *