দেশের তৈরি পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জুন মাসের বেতন আগামী সোমবার (১২ জুলাই) বা মঙ্গলবারের (১৩ জুলাই) মধ্যে হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে খাত সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তবে ঈদ ঘনিয়ে এলেও এখনও বোনাসের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। ঈদের আগেই পোশাক শ্রমিকদের সময়মত বেতন পাওয়া নিয়ে কোন সন্দেহ থাকবেনা।
নেতারা বলছেন, সরকারের নির্দেশনা মেনে ঈদের আগেই শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করা হবে। তৈরি পোশাক খাতের প্রধান বাণিজ্য সংগঠনের মধ্যে- বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৬৪৩টি, বিকেএমইএ’র ৮১৬টি, বিটিএমএ’র ৩১০টি বেপজা’র ৩৬৯টি এবং অন্যান্য ৪ হাজার ৭৫৪টি কারখানা রয়েছে। এ শিল্পে ৪৪ লক্ষ শ্রমিক কর্মরত আছে, যার প্রায় ৬০ শতাংশ নারী। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেতন-বোনাস কারখানার নিয়মিত কাজের অংশ।
এ নিয়ে এখন পর্যন্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তবে ঈদের আগে শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য বুঝে পাবে বলে বিজিএমইএ জানিয়েছে। অন্যদিকে এই খাতের অপর গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন বিকেএমইএ তাদের সদস্য কারখানা মালিকদের চিঠি দিয়ে জুন মাসের বেতন ও ঈদের বোনাসের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে।
এছাড়া যে কোনো ধরনের অসন্তোষ বা অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বা সৃষ্টি হওয়ার ইঙ্গিত পেলে তাৎক্ষণিক বিকেএমইএ কন্ট্রোল রুমে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। ঈদের বোনাস ও জুন মাসের বেতনের বিষয়ে বাংলাদেশে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনার কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রম রবিবার বন্ধ থাকছে। আশা করছি সোমবার ও মঙ্গলবারের মধ্যে শ্রমিকরা বকেয়া পেয়ে যাবেন।
এছাড়া ঈদের বোনাস মালিকদের দিতেই হবে। এটি শ্রমিকদের অধিকার। সরকারের সঙ্গে খাত সংশ্লিষ্টরা বসে ঠিক করবেন, কবে- কীভাবে বোনাস দেওয়া হবে। কোনো কারখানা যদি জুলাই মাসের অগ্রিম বেতন দিতে চায়, তা শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে দিতে পারবে।’ বিজিএমইএ’র ঢাকা অঞ্চলের সহসভাপতি শহীদউল্লাহ আজিম বলেন, ‘জুন মাসের বেতন আগামী দুই এক কার্য দিবসের মধ্যে হয়ে যাবে। মালিকগণ ইতোমধ্যে ব্যাংকের সঙ্গে তাদের কার্যক্রম শেষ করেছেন।
ব্যাংক খুললেই বেতন হয়ে যাবে।’ বোনাসের বিষয়ে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এটি রুটিন কাজ। ঈদে বোনাস দিতে হবে। রোজার ঈদে ১০০ ভাগ বেতন বোনাস দেয়া হয়েছে। এই ঈদেও একই প্রক্রিয়ায় দেয়া হবে বলে। তবে, সরকারের প্রণোদনা না পাওয়ায় বেতন ও বোনাসের ক্ষেত্রে ব্যাংক মালিক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চেয়েছে কারখানা মালিকরা।
তাদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে এবছর কোনো প্রণোদনা না থাকায় বেতন-বোনাসের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। যেসব কারখানায় সমস্যা হতে পারে বা হবে তাদের পাশে থাকতে হবে। (খবর : রাইজিংবিডি) বিকেএমইএ সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘জুন মাসে ব্যাংক ক্লোজিং, চলমান লকডাউন এবং করোনা মহামারীর কারণে এখনও অনেক কারখানা জুন মাসের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করতে পারেনি।
কিন্তু ঈদের মাস হওয়ায় আমাদের অবশ্যই শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জুন মাসের বেতন ভাতাদি পরিশোধ করতে হবে।’ তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই জুন মাসের বেতন বকেয়া রাখা যাবে না। তাই যেসব কারখানা এখনও জুন মাসের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করতে পারেননি, তাদেরকে অবশ্যই শ্রম আইন অনুযায়ী যথা সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধ করে বিকেএমইএকে ই-মেইলে লিখিতভাবে অবহিত করতে বলা হয়েছে।’
‘ঈদের সময় শিল্প কারখানায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে বিকেএমইএ এর তিনটি কার্যালয়েই (নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম) মনিটরিং সেল (কন্ট্রোল রুম) খোলা থাকবে। কারখানায় যে কোনো ধরনের অসন্তোষ বা অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বা সৃষ্টি হওয়ার ইঙ্গিত পেলে তাৎক্ষণিক বিকেএমইএ কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিকে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

