মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ বরিশাল নগরী কাজ করছেনা ঔষধেও

মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ বরিশাল নগরী কাজ করছেনা ঔষধেও

//পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল//

বর্ষা শুরুর আগেই মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বরিশাল নগরীর বাসিন্দারা। মশকনিধনে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) তেমন কার্যক্রম না থাকায় মশা বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বর্ষা শুরুর আগেই মশা নিধনে আগাম ব্যবস্থা না নিলে করোনার সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ৫৮ বর্গকিলোমিটারের বরিশাল সিটিতে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। ৩০টি ওয়ার্ডে বিভক্ত এ সিটির মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন মাত্র ৭০ কর্মচারী। আধুনিক সরঞ্জাম বলতে রয়েছে ১০টি ফগার মেশিন।

আর রয়েছে ৭০টির মত হস্তচালিত স্প্রে। যারা এসব পরিচালনা করেছেন, তাদের নেই কোনো প্রশিক্ষণ। ফলে তারা জানেন না কোথায় কোন প্রজাতির মশা রয়েছে। কোন মশার জন্য কী ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। আর কীটনাশক প্রয়োগের মাত্রার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা কতটুকু। নগরীর ৭ নং ওয়ার্ডে মশার উপদ্রব অনেক বেশি বলে জানান সেখানকার বাসিন্দারা।কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এলাকার  বাসিন্দা মো মামুন বলেন।  চারতলায় একটি ফ্লাটে স্ত্রী ও দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকি।

মশার উৎপাত এতই বেশি যে সন্ধ্যার পর ছেলে মেয়েকে মশারির মধ্যে রাখতে হয় মশার জ্বালায় বাসায় কোথাও একটানা বসে থাকা যায় না। মশার কামড়ে স্বাভাবিক কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু মশা মারতে কর্পোরেশনের লোকজনের দেখা মিলে না। ৪নং ওয়ার্ড ভাটিখানা বাসিন্দার নির্মল বর্নিক বলেন নগরীর অন্য এলাকার তুলনায় এটি নিম্নাঞ্চল সারা বছরই এ ওয়ার্ডে পানি জমে থাকে। এর মধ্যে নতুন নতুন বহুতল ভবন গড়ে উঠছে।  পাশের ড্রেন ও নালায় অসংখ্য প্লাস্টিকের কাপ, পানির বোতল, কর্কশিটের বাক্স, ডাবের খোসা, ঠোঙা জমে আছে।

এখানে প্রচুর মশা জন্মায়। কিন্তু এ এলাকায় সিটি কর্পোরেশন মশার ওষুধ ছিটানো হয় না। নগরীর ১৯ নং ওয়ার্ডের নতুন বাজার  বাসিন্দা সজিব ঘোষ জানান, নতুনবাজার হলো মশার কারখানা। সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলে মশা যেভাবে ঘিরে ধরে মনে হয় উড়িয়ে নিয়ে যাবে দিনেও মশা কামড়ায় ২৪ ঘণ্টা কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। বিকেল হলেই মশার উৎপাত শুরু হয় সন্ধ্যা নাগাদ তা চরমে পৌঁছে সন্ধ্যার পর কয়েল বা স্প্রে ছাড়া ঘরে থাকা যায় না। এরপরও মশক নিধনের কোনো কার্যক্রম দেখা যায় না তিনি আরও বলেন সামনে বর্ষা মৌসুম বৃষ্টি হলে এডিস মশা বাড়বে।

আবার গরমে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেও মশা বাড়বে তাতে ডেঙ্গুর প্রকোপও বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে। সাধারণত জুন-সেপ্টেম্বর সময়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি এ সময়কে ডেঙ্গুর মৌসুম বলা হয়। তবে সিটি কর্পোরেশন যে ওষুধ ছিটাচ্ছে, তা মশা মারতে কতটা কার্যকর তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার। নগরীর ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বলেন নগরীর সবখানেই মশার উৎপাত  সিটি কর্পোরেশনের মশকনিধন কার্যক্রম চললেও মশা কমছে না। মশা নির্মূলে আগাম ব্যবস্থা না নিলে করোনার সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রদুর্ভাব বেড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি নিয়মিত ট্যাক্স দেই নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া আমার অধিকার। সেই জায়গা থেকে মশার থেকে রেহাই পেতে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানাচ্ছি।

English Dainikbiswa

রাশিয়ার বিশেষ বাহিনী ইউক্রেনের নির্যাতনকারীদের ধরেছিল

সারা বিশ্বে করোনা সনাক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *