২০০০ সালে কোটালিপাড়ায় বোমা রাখা ছদ্দবেশী আজিজুল ২১বছর পর গ্রেফতার

২০০০ সালে কোটালিপাড়ায় বোমা রাখা ছদ্দবেশী আজিজুল ২১বছর পর গ্রেফতার

//অনলাইন নিউজ//

গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা ও বোমা বিস্ফোরণের মামলায় ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। তার নাম মো. আজিজুল হক রানা ওরফে শাহনেওয়াজ ওরফে রুমান।

পুলিশ বলছে, সে মুফতি হান্নানের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী। আজিজুল হক দীর্ঘ ২১ বছর বিভিন্ন পেশায় ছদ্মবেশে নিজেকে আত্মগোপন করে রাখে এবং গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত থানার খিলক্ষেত বাজার মসজিদের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে জিহাদী বই, ২ টি মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ ও কম্পিউটারের হার্ডডিক্স উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান।

গ্রেপ্তারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিটিটিসি প্রধান জানান, গ্রেপ্তার আজিজুল হক রানা ১৯৮৭ সালে গাজীপুরের শ্রীপুরে জামিয়া আনোয়ারিয়া মাদ্রাসায় নূরানী বিভাগে ভর্তি হয় এবং এই মাদ্রাসার ওস্তাদ ও হরকাতুল জিহাদের সক্রিয় সদস্য মুফতি হান্নান এর অনুসারী মাওলানা আমিরুল ইসলাম এর সংর্স্পশে আসে। মাওলানা আমিরুল ইসলাম তাকে হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশে যোগদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।

তিনি বলেন, উক্ত মাদ্রাসায় মুফতি হান্নান, আব্দুর রউফ, আব্দুস সালামসহ হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ এর বিভিন্ন সিনিয়র সদস্যদের যাতায়াত ছিল। এছাড়া হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ (হুজি-বি) সদস্যদরা ওই মাদ্রাসায় গোপন বৈঠকে বসতো।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার আজিজুল হক সংগঠনে যোগদানের পর অন্য ছাত্রসহ প্রশিক্ষণ ও তালিম নেয়ার জন্য হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি ইজহারের চট্টগ্রামের লালখান মাদ্রাসায় যায় এবং তালিম গ্রহণ করে। তালিম শেষে সেখানে সে বোমা তৈরি, আত্মরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। মুফতি হান্নান সংগঠনের অপারেশনাল কার্যক্রমের জন্য সাহসী, জিহাদী ও বিশস্ত কয়েকজন লোক সংগ্রহ করার জন্য মাওলানা আমিরুল ইসলামকে দায়িত্ব দিলে মাওলানা আমিরুল ইসলাম আজিজুল হককে নির্বাচন করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার আমিরুল ইসলাম তাকে একটি চিঠি লিখে দিলে চিঠি সহকারে গোপালগঞ্জ বিসিক এলাকায় সোনার বাংলা সাবান ও মোমবাতি তৈরির কারখানায় পাঠায় এবং মুফতি হান্নানের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে মাওলানা আমিরুল ইসলামের দেয়া চিঠিটি দেয়। মুফতি হান্নান তাকে সংগঠনের নিয়মকানুন সম্পর্কে বুঝিয়ে দেয় এবং আজিজুল হকের নাম পরিবর্তন করে ছদ্মনাম ‘শাহনেওয়াজ’ নাম রাখে।

সিটিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, আজিজুল হক নতুন নাম শাহনেওয়াজ পরিচয়ে প্রায় ১৫ দিন মোমবাতি প্যাকিং এর কাজ করে। বিশ্বস্ততা অর্জন করলে কারখানার পিছনে একটি কক্ষে গোপন বৈঠকে উপস্থিত থাকার অনুমতি পায়। কারখানায় মোমবাতি ও সাবান তৈরির আড়ালে বোমা তৈরির কাজ চলতো।

তিনি আরও জানান, বোমা তৈরির কাজে আজিজুল হকসহ মো. ইউসুফ ওরফে মোসহাব, মেহেদী হাসান ওরফে আ. ওয়াদুদ, ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক হোসেন, মো. মহিবুল ওরফে মফিজুর রহমান, শেখ মো. এনামুল হক, আনিসুল ইসলাম ওরফে আনিস জড়িত ছিল।

সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সফরসঙ্গীদের হত্যার উদ্দেশ্যে কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে অবস্থিত সভামঞ্চের পাশে মাটির নিচে একটি ৪০ কেজি ওজনের বোমা এবং হেলিপ্যাড (ডহর পাড়া)’র পাশে মাটির নিচে একটি ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখে। আজিজুল হক মুফতি হান্নানের সাথে বোমা পুঁতে রাখার দায়িত্বে ছিল। ঘটনাটি প্রকাশ পেলে বোমা দুইটি উদ্ধারের পর আজিজুল হক কোটালীপাড়া থেকে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসে এবং মাওলানা আমিরুল ইসলামের সাথে দেখা করে।

আজিজুল হক দীর্ঘ ২১ বছর বিভিন্ন ছদ্মপেশার আড়ালে নিজেকে আত্মগোপন করে রাখে এবং অত্যন্ত গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যায়। সে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখতে টেইলারিং, মুদি দোকানদার, বই বিক্রেতা, ড্রাইভ্রার এবং সবশেষ প্রিন্টিং ও স্ট্যাম্পপ্যাড বানানোর কাজ করত বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। সূত্র: বিডিজার্নাল।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

জাতীয় ভোটার দিবসে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও র‍্যালী

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *