//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। দেশটির বিরোধী দলগুলো জাতীয় সংসদে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করতে যাচ্ছে। প্রস্তাবটি পাস হলে পতন হতে পারে ইমরান সরকারের। ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর আরও একবার এমন অনাস্থা প্রস্তাবের মুখোমুখি হলেও এবারের ধাক্কা ভিত নড়িয়ে দিয়েছে ইমরানের। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার এই পদক্ষেপের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)।
সংসদের অধিবেশন অনুযায়ী, অনাস্থা প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করার জন্য গতকাল শুক্রবার নির্ধারিত ছিল। কিন্তু অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন না করেই গতকাল জাতীয় পরিষদের অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার আসাদ কায়সার। জাতীয় পরিষদের সদ্য প্রয়াত সদস্য খায়াল জামানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুক্রবার অধিবেশন শুরুর পরপরই আগামী সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত তা মুলতবি করেন তিনি। সোমবারের পর আবার বিরোধী দলগুলোর আনা অনাস্থা প্রস্তাবের সম্মুখীন হবেন ইমরান খান। যদিও অনাস্থা ভোটকে সফলভাবে এড়ানোর দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ করে কেন ইমরানের বিরুদ্ধে এই অনাস্থা প্রস্তাব আনল বিরোধীরা।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সংস্কারের পক্ষে ও দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্য দিয়ে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসে ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। এরপর থেকে বরাবরই বিরোধীদের সমালোচনায় মুখর ছিলেন ইমরান। প্রায়ই তিনি ভাষণে বিরোধীদের ‘চোরের দল’ বলে নিন্দা করেছেন। এ ছাড়া যখনই সুযোগ পেয়েছেন, তখনই বিরোধী নেতাদের দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন।
বিরোধীদের আনা এই অনাস্থা প্রস্তাব শুধু নিজেদের বাঁচানোর জন্য বলে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার কাছে মন্তব্য করেছেন পিটিআইয়ের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় সেক্রেটারি আন্দালিব আব্বাস। এ কথা বলে তিনি পিপিপির নেতৃত্বে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও পিএমএলএনের নেতা শরিফ ভাতৃদ্বয়ের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, তারা (বিরোধীরা) জানে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাদের দুর্নীতি ক্ষমা করবেন না এবং ধীরে ধীরে তাদের চারপাশের জাল গুটিয়ে আনা হচ্ছে।
তবে বিরোধী দলগুলো আন্দালিব আব্বাসের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছে, এই সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। বিশেষ করে অর্থনীতিতে সরকারের করুণ অবস্থা প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে। দেশবাসী এই অকর্মঠ সরকারের কাজকর্ম স্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছে। অনাস্থা ভোটে জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে পিপিপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও বিরোধীদলীয় সাংসদ নাভিদ কামার বলেন, ‘ইমরান খানের নিজ দলের সদস্যরাই এখন তাকে ত্যাগ করছেন। তারা তাকে ঘৃণা করেন। দলের সদস্যরা ইমরানকে ত্যাগ করায় তার পক্ষে আর ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।’
ইউক্রেন থেকে ২৫০কোটি টাকা নিয়ে পালাল রাজনীতিবিদের স্ত্রী, অতঃপর….

