ইলন মাস্ক – টেসলা –  টুইটার // অতীত ও বর্তমান

ইলন মাস্ক – টেসলা –  টুইটার // অতীত ও বর্তমান

//আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

গত কয়েক দিন আগে লিখেছিলাম বিশ্বের ধনীদের সারিতে ইলন মাস্কের নাম প্রথমে। আজ এই মুহূর্তে হয়ত সেটা সঠিক নয় কারণ বিশ্বায়নে সারাক্ষণ চলছে পরিবর্তন।

ইলন মাস্ক টুইটার কেনার ঘোষণা দেবার পর থেকে শুরু হয় নানা ধরনের জল্পনা কল্পনা যেমন উদ্বেগ শুরু হয়েছে মাস্কের নিজের কোম্পানি টেসলার বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও। এতে কমতে শুরু করেছে টেসলার শেয়ারের দামও।

কয়েক দিন আগে ৪৪ বিলিয়ন ডলার দিয়ে টুইটার কিনে নেওয়ার সমঝোতা করেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। এর পরপরই টেসলার শেয়ারের দাম ১২ দশমিকের নিচে কমতে থাকে।

আর টুইটার কেনার ঘোষণার পর সেটার শেয়ারের দামও কমেছে, এতে করে টুইটার এবং টেসলার বাজার মূলধন কমেছে ফলে হয়ত ইলন মাস্ক এখন বিশ্বের ধনীদের সারির প্রথম স্থানটিতে নেই।

অনেকের ধারণা টুইটার কিনতে গিয়ে ইলন মাস্ক টেসলার থেকে তার ব্যক্তিগত শেয়ার বিক্রি করতে পারেন। এ ধরনের আশঙ্কা যখন টেসলার অন্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঢুকেছে তখন তারা টেসলা থেকে সরার চেষ্টা করছে ফলে সবাই এখন টেসলা বিক্রি করতে শুরু করেছে। যদিও টুইটার কেনার দরপত্রে টেসলা সরাসরি যুক্ত না থাকলেও শেয়ারের দাম কমেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে টেসলার প্রধান নির্বাহী ও বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার ইলন মাস্ক নিজেই।

এ মুহূর্তে বিশ্বে তেল এবং গ্যাসের সংকট চলছে তারপর জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে বিশ্বের সকল ইন্ডাস্ট্রির উপর চাপ পড়েছে তা নিয়ন্ত্রণের। এমন একটি সময় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার দিনগুলো ভালোই চলছে। এখানে ইলন মাস্কের একটা বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া টেসলায় মাস্কের যে শেয়ার রয়েছে তার বিপরীতে নিশ্চিত বড় ধরনের একটি ঋণ আছে। এসব কারণে অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, মাস্ক হয়তো এসব অর্থ টুইটার কেনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করবেন। শেয়ারবাজার এমন একটি জায়গা যেখানে সারাক্ষণ কিছু ঘটে এবং কিছু রটে। মাস্কের টুইটার কেনার ঘোষণার পরপরই শুরু হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ, যার ফলে বড় আকারে প্রভাব পড়েছে টেসলার শেয়ারের দামের উপর।

আমি নিজে জীবনের একটি সময় শেয়ার বাজারের সাথে বেশ জড়িয়ে পড়ি। দীর্ঘ সাত বছর এর সঙ্গে লড়াই করেছি। আমি একজন পরাজিত বিনিয়োগকারী। আমি লাভবান হতে পারিনি তবে পরাজয়ের সারিতে কোন এক সময় আমিও প্রথম ছিলাম তাই জানি ওই পজিশনটার যন্ত্রণা কতটা। তারপর কেউ লুজারের গল্প শুনতে চায়না সবাই জানতে চাই উইনারের গল্প কারণ দি উইনার টেকস ইট অল। আমি যেহেতু ভালো এবং মন্দ দুটো দিকটার সাথে ছিলাম আছি তাই এতটুকু বলতে চাই সেটা হলো “লাইফ উইল নেভার বি দি সেম লাইফ ইজ চেঞ্জিং”।

যারা শেয়ারবাজারে নতুন তাদের উদ্দেশে বলছি- ঢুকে যখন পড়েছ হঠাৎ বড়লোক হবার চেষ্টা না করে বরং চেষ্টা কর টিকে থাকতে তাহলে হয়ত ইউ উইল সার্ভাইব। শেয়ারবাজারে কোনটা সঠিক বা কোনটা বেঠিক বলে কিছু নেই, এটা এমন একটি জায়গা যেখানে দেখা যায় অনেক সময় না পাইতেই চাওয়া আবার না চাইতেই পাওয়ার মতো। আমি যখন এর উপরে শতভাগ সময় দিয়েছি তখন একটি গানের কথা মনে পড়ত প্রায়ই সেটা হলো “চেয়ে চেয়ে দেখলাম তুমি চলে গেলে আমার বলার কিছু ছিল না”! ওই যে বলছি আমি হলাম লুজারদের দলের একজন সাকসেসফুল বিনিয়োগকারী।

রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com

English Dainikbiswa

এআইআইবি ১হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশকে

ইউক্রেনের অস্ত্র সরবরাহের একটি উৎস হলো রাশিয়ান সেনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *