বরিশাল নগরীর ভাটিখানার প্রধান সড়কটির বেহাল দশা: ভোগান্তিতে হাজার হাজার মানুষ

বরিশাল নগরীর ভাটিখানার প্রধান সড়কটির বেহাল দশা: ভোগান্তিতে হাজার হাজার মানুষ

 

বরিশাল নগরীর ভাটিখানা প্রধান সড়কটি বছরের পর বছর যাবৎ মেরামত না করায় এখন সড়কটি মৃত্যু ফাঁদে পরিনত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ মেরামতের কোন উদ্যোগ না নেয়ায় এ সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

৪ ও ৭ নং ওয়ার্ডের  ভাটিখানা প্রধান সড়কটি বছরের পর বছর মেরামত না করায় গত কয়েক বছর যাবৎ সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। এতে সাধারন মানুষ ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভাটিখানার প্রায় সড়কই এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃস্টি হয়ে সড়কটি এখন পুকুরে পরিণত হয়েছে। খোদ ৭.৮.৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর নিজ বাসা এল কে ভবনের গেটে মূখে সড়ক যেন পুকুরে পরিণত হয়ে আছে। ঝুঁকি নিয়ে বছরের পর বছর ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে গাড়ি উল্টে যাত্রীরা প্রতিদিনই কোননা কোন দূর্ঘটনার শিকার  হচ্ছে।

উপোরক্ত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী সহ সাধারন বাসিন্দারা চলাচল করতে গিয়ে চরম বিরাম্বনার মধ্যে পড়েছেন। সড়কগুলো বিসিসি বছরের পর বছর যাবত মেরামত না করায় বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সত্তার শরীফ, ইমাম আবু হানীফ সায়েস্তাবাদী, ফার্মিসি ব্যবসায়ী রেজাউল সহ ভাটিখানা এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন। আমাদের ভাটিখানা এলাকায় ক্ষমতাশীন দলের প্রথম সারির ডজন খানেক নেতা থাকা সত্তেও বছরের পর বছর সড়কটির বেহালদশা হলেও এতে তাদের কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই !

আমাদের মহল্লা ভাটিখানায় উপজেলা চেয়ারম্যান, বিসিসি প্যানেল মেয়র, মহানগর আওয়ামীলীগ সম্মানিত সভাপতি, মহানগর আলীগ প্রভাবশালী নেতা শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক , আলীগ দপ্তর সম্পাদক, তিন তিনবার নির্বাচিত ৭.৮.৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর,মহানগর মহিলালীগ সহ ক্ষমতাশীন দলের আরো অনেক নেতৃবৃন্দরা এই ভাটিখানা বসবাস করেন। তাদের কাছে সাধারন মানুষের প্রানের দাবী ভাটিখানা প্রধান সড়কটি মেরামত কবে হবে।

এই দাবীর মূখে বেশ কয়েক মাস পূর্বে সড়কটি নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্হাপন করেন বিসিসির মেয়র যুবরত্ন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। ভাটিখানাবাসী আশায় বুক বাধে তাদের  দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রুপনিচ্ছে তাদের দূর্ভোগের অবশান ঘটতে যাচ্ছে।  কিন্তু না আজ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করার কোন পদক্ষেপ বাস্তবে দেখা যাচ্ছেনা!

ভাটিখানার বেশিরভাগ সড়কের বেহাল দশার কোনই পরিবর্তন আসছেনা! রাস্তা গুলো সংস্কার না করায় কয়েক দিনের ভাড়ি বর্ষার পানিতে রাস্তা এখন পুকুরে পরিনত হয়েছে। বৃস্টির পানি খানাখন্দকে ভরে থাকায় রিকশা- গাড়ি যাতায়াত করতে গিয়ে কোননা কোন দূর্ঘটনার শিকার  হচ্ছে। শহিদ আরজু মনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী তাবিয়া ভূমি জানায়, প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে রেডি হয়ে ভাটিখানা পূজা মন্দিরের পিছনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি যেতে ছিল।

এসময় রাস্তার গর্তে জমে থাকা পানির উপর দিয়ে গাড়িটি গেলে আমার পুরো শরীর রাস্তার নোংরা পানি ছিটে ময়লা হয়ে যায়। স্কুলছাত্রী আরো বলেন প্রাকৃতিক দূর্যোগ করোনার কারনে আমাদের স্কুল কলেজ দির্ঘদিনবন্ধ ছিলো এখন আমাদের স্কুল কলেজ খোলার হয়ছে  আর স্কুল- কলেজে যাতায়াতের জন্য ভাটিখানা মূল সড়কটি আমাদের একমাত্র ভরসা সড়কটি অনতিবিলম্বে মেরামত করা দরকার। স্কুলছাত্রী ভূমিরমত অসংখ্য সাধারন মানুষ প্রতিদিনই রাস্তায় বেড় হয়ে এভাবে অনাকাঙ্খিত ঘটনার শিকার হচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, বছর খানেক আগে বিসিসির ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র এ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন নিজের ব্যাক্তিগত অর্থয়ানে সাময়িকভাবে কয়েকটি শাখা  সড়ক সংস্কার করে দিয়ে ছিলেন। তবে বেশ কয়েক দিনের ভারি বর্ষণের ফলে ভাটিখানার প্রায় সড়কই এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যা সংস্কার করা জরুরী হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবী।

এবিষয়ে বিসিসি’র জননন্দিত মেয়র যুবরত্ন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুলাহর হস্তক্ষেপ   কামনা করেছেন ভাটিখানার বাসিন্দারা। তাদের দাবী দ্রুতই ভাটিখানার সড়কগুলো বিসিসি মেয়র পরিদর্শন করে সংস্কার করার নির্দেশ দিবেন বলে আশায় বুক বেধে রইলাম। এবিষয়ে ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র এ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়র মহোদয় যতেষ্ট আন্তরিক ভাবে বিসিসির রাস্তা গুলো টেকসই এবং পাচঁ বছরের গ্যারান্টি নিয়ে ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।

বর্তমানে আমানতগন্জ সোনালি আইসক্রিম মোড় থেকে মহাবাজ ব্রিজ পর্যন্ত শায়েস্তাবাদ সড়কের কাজ নির্মানাদিন। বর্ষা মৌসুম  শেষ হওয়ার পরপরই আমাদের রাস্তাগুলো পূর্ন নির্মান করা হবে। বর্ষা মৌসুমে  জন্য রাস্তার উন্নয়ন কাজ হাতে নেওয়া যাচ্ছে না।

সাময়িক অসুবিধার জন্য ওয়ার্ড বাসীর কাছে দু:খ প্রকাশ করে এ জনপ্রতিনিধি আরও বলেন, প্রাণপ্রিয় ওয়ার্ড বাসির সুখ দু:খের ভাগিদার আমরা বিসিসি প্রতিনিধিরাও  । তাদের কষ্টে আমরাও কষ্ট পাই।

//পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল প্রতিবেদক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

Dainik Biswa News

মাগুরার কৃতি সন্তান মিরাজুল সরকারি চাকরিজীবী জাতীয় ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সভাপতি

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *