ভাদ্রের শেষে ও আশ্বিনের শুরুতে উত্তর – পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়ে উত্তর ওড়িশা- বাংলা ও বাংলাদেশ সংলগ্ন উপকূলে অবস্থান করায় প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প ঢুকেছে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন স্থলভাবে। একদিকে পূর্ণিমার জন্য নদ-নদীতে বিরাজমান ভরা জোয়ার অন্যদিকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ মেঘমালা। উভয়ের যৌথ প্রভাবে ভাদ্রের শেষে ও আশ্বিন মাসের শুরুতে অঝোর ধারায় সারাদেশে ঝরছে বৃষ্টি।
গত একদিনে ১৯ সেন্টিমিটারেরও বেশী বৃষ্টিপাত হয়েছে যশোর জেলায়।ফলে যশোর জেলার যশোর সদরের কিছু এলাকা, মনিরামপুর, অভয়নগর, কেশবপুরের বিস্তৃর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলের মাঠ,রাস্তাঘাট, পুকুরজলাশয়, মাছের খামার,স্কুল-কলেজ, মসজিদ,মন্দিরের আঙিনা পানিতে তলিয়ে গেছে এবং সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা।

ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দূর্ভোগ।সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছের খামার/ ঘেরগুলি।রাতের আঁধারে বৃষ্টিতে মাছের খামার/ ঘেরগুলি ভেসে যাওয়ায় মাছ চাষের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েক শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অভয়নগর, মনিরামপুরের সুন্দলী,মশিয়াহাটী, ধোপাদী, সড়াডাঙ্গা, সরখোলা, ডুমুরতলা, হাটগাছা, সুজাতপুর, বাজেকুলটিয়া, ডহরমশিয়াহাটী, আন্ধা, বেদভিটা, বলারাবাদ, পায়রা, কোটাসহ ৫ শতাধিকের আধিক গ্রাম বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে এবং জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দূর্ভোগ।

ভবদহ এলাকা সংশ্লিষ্ট ভবদহ স্লুইস গেট দীর্ঘদিন অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকায় ৫ টি উপজেলায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘদিন যাবত চলমান জলাবদ্ধ সমস্যা। বছরের নয় মাসই থাকতে হয় জলবন্ধী। ফলে এলাকার শিক্ষা,স্বাস্থ্য,চিকিৎসা,বাসাস্থানসহ জনজীবন আজ চরম বিপর্যের মুখে। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য শক্তি,ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষমতার দম্ভে ভবদহের স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহন না করায় যুগের পর যুগ ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোগ করছে দূর্বিসহ ও অমানবিক জীবন যন্ত্রণা।
//নিজস্ব প্রতিনিধি//
বরিশাল জেলা প্রশাসক ১০৪ অসহায় মানুষদের মাঝে আর্থিক সহায়তা বিতরণ

