বরিশাল নগরীর মাদক নিরাময় কেন্দ্র হলি কেয়ারে রোগী নির্যাতনে হত্যার পর দেড় লাখ টাকার প্রলোভনে দেখিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে । রোগীর স্বজনদের চেকের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা দেয়া হবে বলে আপোষ করে তাদেরকে মামলা করা থেকে দুরেসরিয়ে এনেছে হলি কেয়ার কর্তৃপক্ষ ।
অপরদিকে মামলা না হওয়ায় পুলিশ কাউকে আটক করেনি। যার ফলে এবারেও চিকিৎসার নামে হত্যা করে পার পেয়ে যাচ্ছে সিরিয়াল কিলার প্রতিষ্ঠান হলিকেয়ার মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান সুমন। নির্যাতনে নিহত চন্দন সরকারের পরিবারের সদস্যরা জানান ,বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর হলিকেয়ার কার্যালয় বসে তাদের সঙ্গে মামলা না করার শর্তে সমঝোতা করা হয়। তাদেরকে দেড় লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করা হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই পরিবারের সদস্যদেরকে কোন চেক প্রদান করা হয়নি বলে তারা জানান ।
নিহত চন্দনের মামা নিবাস মুহুরী জানান, আমরা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্য। হলি কেয়ার এর মালিক মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের সঙ্গে মামলা করে আমাদের টিকে থাকা সম্ভব নয় । এরপর তারা বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফলে আমরা এ মুহূর্তে মামলা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি । মামলা করা না হলে আমাদের দেড় লাখ টাকা দেয়া হবে বলা হয়েছে কিন্তু কোন টাকা কিংবা চেক দেয়া নি। এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি । ধারণা করা হচ্ছে অর্থ আর ক্ষমতার বিনিময় এবারেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পার পেয়ে যাবেন একাধিক হত্যাকান্ডের অনুঘটক মোস্তাফিজুর রহমান সুমন।
এ ঘটনায় হলি কেয়ার কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করে উপ-পুলিশ কমিশনার আলী আশরাফ বলেছেন সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করা হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ঘটনার রাতে সাড়ে দশটার সময় চন্দন কে মারধর করে পা দিয়ে পৃষ্ঠ করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী অন্যান্য রোগীরা অভিযোগ করলেও এ বিষয়ে কাউকে আটক করেনি পুলিশ । ফলে নগরবাসীর মনে অমানবিক এ হত্যাকান্ড নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায় প্রায়ই এখানে নির্যাতনে রোগীদের কান্নার ও চিৎকারের আওয়াজ পাওয়া যেত। এর আগেও একাধিক রোগীর সঙ্গে এসব নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে রোগীর অভিভাবকদের সঙ্গে সালিশ বৈঠকের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও অনেকে আরো ৪ জন রোগী পিটিয়ে হত্যা করার খবর আমরা পেয়েছিলাম ।
এখন রোগী আত্মহত্যা করলেও কতৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। এমনকি কোনো ধরনের মানসিক চিকিৎসার লাইসেন্স না থাকার পরেও কিভাবে এখানে মানসিক রোগী ভর্তি করা হলো এ বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাল করে তদন্ত করে দেখা উচিত ।
এদিকে টর্চার সেল হলিকেয়ারে রোগী রাখার জন্য নেই কোনো ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা । সবকিছু দেখেও রহস্যজনক কারণে পুলিশের নিরাবতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপ-পুলিশ কমিশনার আলী আশরাফ বলেন, তদন্তকরে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু রাত সাড়ে দশটায় নিহত চন্দনকে বেঁধে রেখে মানসিক নির্যাতন করার ভিডিও ফুটেজ রেকর্ড থাকলেও পুলিশ কাউকে আটক করেনি।
অপরদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এর অতিরিক্তপরিচালক পরিতোষ কুমার কুন্ডু বলেন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উল্লেখ্য এর আগেও একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়ে হলি কেয়ারে একাধিক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং একাধিকবার রোগীরা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে হলি কেয়ার কার্যালয় ভেঙে পালিয়ে গিয়েছে।
১৯৯১ সালে পুলিশ লাইন্স এলাকায় পুলিশ হত্যা মামলার আসামি এবং এক সময়ের শহরের চিহ্নিত মোটরসাইকেল চোর মুস্তাফিজুর রহমান সুমন ওরফে হিটলার সুমন বারবার মিডিয়ার শিরোনাম হলেও অবৈধ কালো টাকা এবং ক্ষমতার ব্যবহারে সবকিছু ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে চলাফেরা করছেন।
//পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল//
বরিশাল নগরীতে ১৪দিন দুই নারী রহস্যজনক নিখোঁজ

